৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
আগ ১৯২০১৭
 
 ১৯/০৮/২০১৭  Posted by

তুহিন মঙ্গল
– জিললুর রহমান

মাথা ন্যাড়া করে ছেড়ে দিলে চৌরাস্তার মোড়ে
মনে হচ্ছে যেন কোনো শ্রমণ বালক শিক্ষা শেষে
মস্তক মুণ্ডন করে ভীত চকিত সন্ত্রস্ত দৃষ্টি ফেলে দেখে নিচ্ছে –
পৃথিবীতে কতো মায়া জমে আছে গলিতে ঘুপচিতে
আলো অন্ধকারে আজ মানুষের কতো প্রেম জাগে

কে আজ মুণ্ডিত মাথার সেই বালকের জামার আড়াল
খুলে নিয়ে প্রশ্ন টানবে সে নারী কিংবা বালিকা কিনা!
কে খুঁড়ে দেখতে জানে হৃদয়ের পলি প্রাণের জৌলুশ?
আমরা সকলে আজ ন্যাড়া মাথা মা ও মেয়ের মতো
চৌরাস্তায় ভীত হরিণ শাবক যথা কম্পমান প্রতিদিন

আমাদেরই মতো কোনো মা কিংবা মেয়ের গোপন গোলাপে
চোখ রাখবার কতো যে সভ্যতা জেগে আছে কতো না তুহিন
যতো তাকে বলি হীন – ক্ষমতা বলবে তাকে তুহিন তুহিন
কতো সভাপতি কতো সম্পাদক এসে ডেকে নেবে –
নকল হায়েনা কেড়ে নেবে প্রেম আর শরীরের লালসার ঠোঁট

যেন তাকে বিধাতার অমেঘ নির্দেশ – রচে যাও কাম-উপাখ্যান
পৃথিবীর মোড়ে মোড়ে শিরি লাইলি জুলেখারা থাকে
তাদের ভেতরে থাকে প্রেম – যতো সব ঠুনকো আহ্লাদ;
কেবল শাড়ির গিঁটে লটকে আছে সভ্যতার অমোঘ সন্ধান-
তাই তাকে জাপটে ধরা চাই – যেন কোনো ঘাই হরিণীর
তাজা মাংসের ঘ্রাণ, কাঁচা রক্তের স্বাদ বার বার
পুরুষকেই জাগিয়েছে – বলেছে তুহিন তুই হীন তুই হীন

তাই সব সভ্যতা বগলদাবা করে ট্রাঙ্কে আলমিরায় ভরে
কেবল আলিফ নিয়ে সামনে এগিয়ে চলে দণ্ডধর প্রবল পৌরুষ
এমন সুদিনে আজ যেন এক পবিত্র সলিলে স্নান সেরে
নির্দেশিত নয়া উপাখ্যান – নতুন বয়ান হবে-
এখন তো মায়ের সম্ভ্রম রেখা সন্তানের আকাঙ্ক্ষায়
ভরে যায়

কে বলবে সেই প্রতাপাদিত্য গ্রিক রাজার দৈব দুর্দশার গল্প-
যখন সে জেনেছিল দেবতা-নির্দেশে নিজেই মায়ের
স্বামী হয়ে সম্ভোগে রত সে যে আপন জননীকে
নিজেই নিজের চোখ লৌহ শিকে গেলে দিল
অন্ধকার করে দিলো নিজ চরাচর

এখন সেসব কথা অর্থহীন রঙধনুর রঙের মতোই
সেদিনের পৃথিবীর চারদিকে পরাক্রম সূর্য ঘুরে যেত
জিউস স্বর্গ থেকে ছুঁড়ে দিতো বজ্র অভিশাপ
তিন ডাইনির ভবিষ্যৎবাণী সত্য হতো
ফলে যেত অক্ষরে অক্ষরে অদ্ভুত সকল সম্ভাবনা
ইডিপাস জন্মেছিল রাণীমা’রগর্ভে।
হায়! ফলে যায় দৈব ভবিষ্যত! হায় রাণী!
কালক্রমে নির্বাসিত ইডিপাস বিবাহ বন্ধনে
ভোগ করে নিজ মাতা রাণীকে দৈবের দোষে!

সেই কি জানতো গর্ভে ধরা ছেলে তার নতুন মালিক –
পুত্র তার করেছিল রাজ্য ত্যাগ চক্ষু ত্যাগ তবু
এখনো তো তার নামে ঘৃণার বলক ওঠে সভ্যতার পাঠে
অথচ সকলি দৈবলীলা।
এ রুচি কখন তুমি অর্জন করবে তুহিন
কখন বুঝবে তুমি মাতৃ সম্ভোগ কেবল পাপ – পাপেরও অধিক
জন্মজন্মান্তরে পাপ শুধু জমা হবে ঘরে ও জঠরে

নারীকে পাবার জন্য কে কবে করে নি লড়াই
পৃথিবীর যতো প্রেম যতো সংঘাত গ্রিসে কী লঙ্কায়
সকলে চেয়েছে প্রেম – চেয়েছিল জয় হোক
হৃৎকমলের টান – কখনও ডোবেনি কারও
পৌরুষের দুরন্ত অহম জবরদস্তির জংঘায়

আজ থেকে তবে শুরু
আজ থেকে নতুন ধারাপাত – অথবা তুহিন বীর্যপাত
শক্তি আজ কেড়ে নিচ্ছে নারীর সম্ভ্রম
শক্তি দিয়ে জয় নয় জুলুম নির্মাণ

 


জিললুর রহমান

জিললুর রহমান

জিললুর রহমান। চট্টগ্রামে জন্ম, নিবাস, কর্ম। পেশায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষক। আশির দশকের শেষ দিকে থেকে লিখালিখি। লিটল ম্যাগাজিন ‘লিরিক’ এর সম্পাদনা পরিষদ সদস্য। উত্তর আধুনিক কাব্য চর্চার পথিকৃৎদের একজন। মূলত লিরিক, নিসর্গ সহ বিভিন্ন ছোট কাগজে লিখে আসছেন দীর্ঘদিন। গ্রন্থ সংখ্যা-৫ঃ- অন্য মন্ত্র (কাব্যগ্রন্থ, ১৯৯৫), উত্তর আধুনিকতাঃ এ সবুজ করুণ ডাঙায় (প্রবন্ধ সংকলন, ২০০৩), শাদা অন্ধকার (কাব্যগ্রন্থ, ২০১০), অমৃত কথা (প্রবন্ধ সংকলন, ২০১০), আধুনিকোত্তরবাদের নন্দনতত্ত্বঃ কয়েকটি অনুবাদ (২০১০)।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E