৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ১২২০১৭
 
 ১২/১০/২০১৭  Posted by

কেন লিখি কবিতা
– যশোধরা রায়চৌধুরী

যশোধরা রায়চৌধুরী

যশোধরা রায়চৌধুরী

[কবি যশোধরা রায়চৌধুরীর জন্ম ১৯৬৫, কলকাতা শহরে। বাবা অকালপ্রয়াত কল্প বিজ্ঞান সাহিত্যিক দিলীপ রায়চৌধুরী। মা সুগায়িকা ও চিত্রশিল্পী অরুন্ধতী রায়চৌধুরী। দর্শন নিয়ে প্রেসিডেন্সি র স্নাতক যশোধরা ভারতের কেন্দ্র সরকারি অডিট দপ্তরে পদাধিকারী। বিবাহিত লেখক ও ফরাসি ভাষাবিদ তৃণাঞ্জন চক্রবর্তী’র সঙ্গে।

লেখালেখি র প্রকাশ ১৯৯৩ থেকে। ১৯৯৬ থেকে আজ অবধি কবিতার বই ১৩ টি, তার ভেতরে পণ্যসংহিতা, পিশাচিনীকাব্য, আবার প্রথম থেকে পড়, ভারচুয়ালের নবীন কিশোর, ভবদেহে স্বর্গীয় সংগীত উল্লেখ্য। ইদানীং দেজ থেকে প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কবিতাও।

অনুবাদ করেন মূল ফরাসি থেকে। অনুবাদ গ্রন্থ তিনটি। উল্লেখ্য সার্জ ব্রেমলির লিওনার্দো দা ভিঞ্চি।

গল্প গদ্য নভেলা গ্রন্থ পাঁচটি।

পুরস্কার ও সম্মাননা : কৃত্তিবাস; পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি অনিতা সুনীলকুমার বসু পুরস্কার; বর্ণপরিচয় শারদ সম্মান; সাহিত্য সেতু পুরস্কার।]

একদা এক কবিতা-অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়েছিল, কবিতা কাকে বলে।
বিখ্যাত অনেকের মধ্যে বিখ্যাততম উক্তিটি করেছিলেন তারাপদ রায়। বলেছিলেন, কবিতা কী, এই নিয়ে অনেক আলোচনা করেছেন আগের কবিরা। কেউ কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেন নি। সুতরাং আমি বরং এ আলোচনায় নীরব থাকব, বাড়ি ফিরে আর দুটি কবিতা লিখব। হাসির গল্পও লিখতে পারি।
সত্যিই কিছু শব্দ সংকলনই কবিতা নয়, কবিতা নয় মৃত শব্দের এলোমেলো কংকালের আবর্জনামাত্র। অথচ, কোন লেখায় কতটা কবিতা আছে, তা মাপার কোন থার্মোমিটার নেই। সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে শ্লেষচ্ছলে বাংলাদেশের কবি সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ উল্লেখ করেন কবিতা আলোচনার কয়েকটি নির্দিষ্ট পন্থার দিকে, আমাদের চিরাচরিত কবিতা আলোচনার পথটিও সেরকমই পূর্ব নির্ধারিত। দুলাইন লিখে তিন লাইন উদ্ধৃতি।
অথচ সত্যিই কি কবিতা আলোচনার যোগ্য? কাকে বলে কবিতা, কী এই নিয়ে বইয়ের পর বই আছে, পাতার পর পাতা আলোচনা আছে। তথাপি, শেষ সিদ্ধান্ত বলে কিছু হয় না। বরঞ্চ কবিতার সংজ্ঞা দিতে দিতে কবিরা পৌঁছে যান নানা উপমা রূপকে, যা নিজেই কবিতার ধারক… অর্থাৎ সংজ্ঞায়নের চেষ্টা করতে করতে সংজ্ঞার থেকে আরো দূরে সরে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।


একজন লেখক একবার বলেছিলেন, আমি গদ্য লিখি সর্বসাধারনের জন্য, প্রবন্ধ লিখি পণ্ডিতদের জন্য, আর কবিতা লিখি নিজের জন্য। কবিতার জন্যেই এই যে আলাদা তাকটা তৈরি করলেন, লেখক, তিনি তো মূলাধারে কবিই। আমরা দেখেছি, নিজে অনেকরকম লেখা লিখলেও, নিজেকে কবি বলেই পরিচয় দিতে ঢের ঢের বেশি পছন্দ করেন অনেক লেখক। হয়ত মানুষ তাকে ছাপ দিয়েছে অন্য কিছুর।

কেন কবিতার জন্য এই একটু বাড়তি, তুলে রাখা ভালবাসা? কেন এত মায়া আমাদের, কবিতার প্রতি? যার বাজার মূল্য, সর্বজনগ্রাহ্য ভাবেই, সবচেয়ে কম, প্রায় ব্যস্তানুপাতিকভাবে যার পাঠকপ্রিয়তা হ্রাস পায়, যত বেশি কবি হয়ে ওঠেন মুখচোরা ও আত্মচারী?

গভীরতম, গোপনতম কথাগুলি কবি লেখেন তাঁর কবিতায়, এবং হ্যাঁ, সত্যিই নিজের জন্য। জনগণের জন্য লেখা কবিতাকে ঠিক কবিতা বলেই মনে হয় না। সেগুলোকে কেউ কেউ বলেন অকবিতা, কেউ কেউ বলেন পদ্য, কেউ কেউ পোস্টার। জনগণ অবশ্য সেগুলোকে কবিতা ভেবেই ওয়াটস্যাপে ওয়াটস্যাপে শেয়ার করেন। তাতে দোষও কিছু নেই। শব্দ তো, হাজার হোক, পেটো বা চোরাই মদ তো নয়। তবু, কিছু কবির মন খারাপ হয়, কেননা তাঁর কবিতা এতটাই গোপনচারী শব্দমালা যে এভাবে জনে জনে শেয়ার হবে না কোনদিন।

মুশকিল হল, কবিতার এই বিশেষ জায়গা, এর মূলে ঠিক মানুষের কোন অনুভূতি কাজ করছে, তাকে তুলে রাখার এই অদ্ভুত বাসনা, শেয়ার না হলেই তাকে ভাল ভাবার মতই, দুর্লভের আনন্দ, এগুলো বোঝানো প্রায় অসম্ভব। ঠিক যেমন অসম্ভব, বলা, একজন মানুষ কেন কবিতা লেখে।

ইন্টারনেটে দেখেছি ‘হাউ টু রাইট পোয়েট্রি’ দিয়ে গুগলালেই একগুচ্ছ সাইট বেরোয়ে আসে। আচ্ছা তাহলে কবিতা শুধুই কারুকর্ম বা স্কিল? নাহ, আমার তা মত নয়। আমার মতে, কবিতাপ্রক্রিয়া ব্যাখ্যাতীত। মগজের নানা কোণা থেকে নানা স্মৃতি অনুষঙ্গ অ্যাসোসিয়েশন এসে যায় শব্দ আকারে। আর সেটাকে আন এডিটেড ভাবে বসান কোন কোন কবি। যত বেশি যুক্তি শৃঙ্খল তত বেশি কবিতার হত্যা, এভাবেই হয়ত তথাকথিত আধুনিক, ইভোকেটিভ, অনুষঙ্গপ্রধান কবিতার কথা বলা যায়।

তার সেই আপাত-ব্যাখ্যাতীত কবিতার শব্দগুলো ঘেঁটেঘুঁটে যদি বার করে আনতে চাই তার অর্থ, কাজটা প্রচন্ড বিফলতায় পর্যবসিত হতেই পারে খুব শীঘ্র।
প্রথমত, কবিতা প্রজাপতির মত। যার উড়ান ও সৌন্দর্য আমাদের বিনোদ করে, কিন্তু যাকে সাঁড়াশি ও আঙুলের ব্যবহারে ব্যবচ্ছেদ করা, চটকাচটকি, খুঁটে খুঁটে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখাটা, আমার মতে মঙ্গলজনক হয় না, তবু রামকৃষ্ণ কথিত “লোকশিক্ষে”র জন্য, এমন করাই হয়। দ্বিতীয়ত, আমার তো মাঝে মাঝে এই ব্যাখ্যা করা, টীকা টীপ্পনি করাকে বেশ অশ্লীল লাগে। একজন কবির অভিপ্রায় তো আমার অভিপ্রায় না-ই হতে পারে, তখন আমি কীভাবে বুঝব, যে ওই ঐ শব্দ কবি কেন তখন লিখেছিল! এই গোটা ব্যাপারটায় একটা ক্ষমতা প্রদর্শনও মাঝে মাঝে কাজ করে। সমালোচক, বা ব্যাখ্যাকারী হয় কবিকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেন অথবা তুলো ধুনে মহাশত্রু হন। এতটা সময় নষ্ট কেন করা বাপু! মনে হয় ওই সময়ে আরো দুটি কবিতা লেখা হয়ে যেত।

তবুও কবিতাকে খুলে খুলে আবার জোড়া দিয়ে দিয়ে বোঝার নিবিড় সন্ধানী চেষ্টায় আমাদের অন্ধ বিশ্বাস যায় না। এই বিষয়ে আমার জানা এক অনেক পুরনো গল্প বলি। এক কারিগর জন্ম ইশতক লেখাপড়া না শিখে, মোটরসাইকেল ও স্কুটার শিখেছে। সে তার শিক্ষানবিশি করেছে যন্ত্র সারাবার কারখানায়। ধরা যাক, সেটা একটা স্কুটারের কারখানা। বাইকের কারখানা।
লোকটা আজন্ম যন্ত্র শিখেছে, যন্ত্র পড়েছে, বাইক জুড়েছে, বাইক বলেছে। ইয়ামাহা স্কুটারের প্রতি তার লোভ একটাই কারণে। ওটা সে ভাঙা পায়নি, ওটা সে জোড়া দেয়নি। তাই ইদানীং একটু টাকা হাতে পেয়েই সে একটি ইয়ামাহা স্কুটার কেনে। না, তাতে সে চড়ে না, চালায় না সে স্কুটার টা। সে শুধু প্রতি অংশ খোলে, নাটবল্টু এবং সমস্ত জোড়। খুলে খুলে এই স্কুটারকে পরিণত করে একটি যন্ত্রাংশের জাঙ্ক-এ। তারপর আবার জোড়া দেয়। জোড়া দিয়ে যেটা পায় তাকে কি আর অবিকল আগের ইয়ামাহা স্কুটারটা বলা যায়? এটা একটা দার্শনিক প্রশ্ন।
তবে এভাবে খুলে ও জোড়া দিয়ে অনেকে শিখে যায় আরো একটি ইয়ামাহা তোইরির ছক ও সিদ্ধি। যদি ভেতরের ম্যাজিক হাপিশ হয়ে যায়, তাহলে বলব, আসল ইয়ামাহার ম্যাজিক তার করায়ত্ব নয়। এখানে ইয়ামাহা শব্দটির জায়গায় কবিতা শব্দটি বসান পাঠক। কবিতাকে খুলে ও জোড়া দিয়ে সেভাবেই কি কবিরা আয়ত্ত করেন তাঁদের শিল্প?


সম্পূর্ণ শূন্য থেকে শুরু হয় না কোনকিছুই। এই মুহূর্তে, সাদা কাগজের বুকে কলম ঠেকিয়ে কোন অনাস্বাদিত, অপূর্ব অনুভূতি, যা আকাশ থেকে নেমে এসেছে – তাকে যে সম্পূর্ণ নতুন জন্ম দিতে পারব এমন কোন আশা নেই। অনুভব করি প্রতি মুহূর্তে পুরনোর পুনর্জন্ম ঘটে চলে আমাদের ভেতরে। সেইসব পুরনো, পুরনো, পুরনোতম বোধ ও অনুভূতির, একই গল্পের, একই ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি।
তবু তো লিখি। শত পুরনো, খুব একঘেয়ে কিছু লিখছি হয়ত, হয়ত চিন্তাহীন ট্র্যাশ লিখে চলেছি, হয়ত স্বভাবকবিতাই, যার কোন চেতনাগত স্ফুরণ বা ভাবগত গভীরতা নেই, মুহূর্তিক আবেগে ক্ষুৎকাতর কিছু লাইন হয়তবা। তবু তাৎক্ষণিকভাবে তো মনে হচ্ছে নতুন কিছু লিখছি! দরকারি কিছু লিখছি। আমাকে যা ছোঁয়, সৎভাবে তাইই তো লিখছি। তার বাইরে, বানিয়ে বানিয়ে কিছু তো লিখছি না। এনজয় করে লিখছি। দায়ে পড়ে লোককে খুশি করার জন্য, বা সমাজ সংস্কারের জন্য আগামুড়োহীন কোন উপদেশাবলী তো লিখছি না!

আসলে আমার কাছে লেখা একটা তড়িৎমোক্ষণ। লেখার মধ্য দিয়ে জীবনে অনেক অনেক খারাপ সময়কে কাটিয়ে উঠেছি। লেখা সাহায্য করেছে অনেক ব্যথা ভুলতে, অবিচার সইতে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে। লেখা না লিখলে হয়ত এতদিনে জীবন অন্য হত, হয়ত মরে যেতাম, হয়ত পাগল হয়ে যেতাম, হয়ত সুখে শান্তিতে সংসার করতাম… কে বলতে পারে!

লেখা আমার কাছে ছোটবেলায় এসেছিল আশা-আকাঙ্ক্ষার একটা মুখ হয়ে। হয়ত সবার কাছে ভাল শুনতে পাব, প্রশংসা করবে সবাই, তাই লিখতে চেয়েছি। তারপর একটা সময় একাচোরা, মনের গলিঘুঁচিতে হারিয়ে যাওয়া মানুষ আমি লেখাকে ঘিরে বাঁচতে চেয়েছিলাম। আর এখন, সেই আমার পরকীয়া, আমার গোপন প্রেম, আমার উড়াল, আমাকে বাঁচিয়ে রাখার চাবি। কী থেকে বাঁচায় আমাকে, আমার লেখা? কী থেকে বাঁচায় না? অফিসের পলিটিক্স, বসের ধ্যাতানি, টাকা–না–থাকার দুঃখের থেকেও যা ভয়াবহ, টাকা থেকেও পৃথিবীর কোন কাজে না লাগতে পারা…আর তাচ্ছিল্য, অপমান, শরীর-মন-এ পণ্যায়িত হয়ে যাওয়া, অথবা আত্মীয়–কুটুম্বের কানাকানি, স্বজনের নিরুত্তাপ ব্যাখ্যাহীন ব্যথা দেওয়া, ভালবাসার অত্যাচার, না-ভালবাসার অন্ধকার, পরিপার্শ্বের অবোধ, অমানবিক আক্রমণ, জীবনের অর্থহীনতা, পড়শির নিরুত্তাপ। সব থেকে নিজের স্যানিটি, নিজের স্বস্থতা ফিরে পাওয়া শুধু লেখারই সাহচর্যে। লেখা ছাড়া আমি বুনো জন্তুর মত হিংস্র ও অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠি।

এ প্রসঙ্গে কারো কারো কথা বলি, যেসব কথা মনে আজো দাগ কেটে বসে আছে। কথাগুলো শুনতে হয়ত বা খুব রগরগে, খানিক নিষিদ্ধ, হলুদ মলাটের মত লাগবে। তবু বলি। কারণ তার অভিঘাত আছে।

মার্কিন লেখক ও নাট্যকার, ‘ইচ্ছেগাড়ি’র সেই বিখ্যাত লেখক, টেনেসি উইলিয়ামস বলেছিলেন, কোন গল্প তিনি লিখতেই পারেন না, যতক্ষণ না মূল চরিত্রটির প্রতি শরীরী আকর্ষণ অনুভব করেন। চরিত্রটি ছেলে হোক বা মেয়ে হোক, একটা তীব্র ইরোটিক অনুভূতি ছাড়া, লেখক লিখতে পারেন না সেই চরিত্রকে নিয়ে ।
আমার কাছে টেনেসির ওই কথাটি ছিল অনেকদিন। তারপর বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। এই সেদিন আবার বেশ কিছু গল্প পড়ছিলাম বাংলার নানা রথী মহারথীর। ছোট গল্পের দুনিয়ায় আশ্চর্য সব কাজ হয়ে গিয়েছে আমাদের এই বাংলায়। সুবোধ ঘোষের কথা এই সূত্রে না বললেই নয়। আর গৌরকিশোর ঘোষ। এমন সেই টান, চোরাবৃত্ত, দুর্বারগতির কাহিনিবয়ন, বর্ণন আর পরিণতি এঁদের, এমন মিশেল মনন আর আবেগের, ইরোস আর র‌্যাশনালিটির! রতি আর মননের! এঁদের রচনায়, জীবনবোধের ভাইটালিটিতে এমন ভরপুর আর আঁট হয়ে থাকেন এঁরা, এক একটা গল্প এঁদের যেন শুরু থেকে শেষ একটি রতিক্রিয়ার মত। পূর্বরাগ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে উঠে যাওয়া আবেগের চূড়ান্ত শীর্ষ পর্যন্ত।

নিজে যে সামান্য লেখালেখি করি, ক্রমশ অনুভব করি, লেখা মানেই একটা বিপুল শারীরিকতার ভেতরে যাওয়া। লেখার ভেতরে নিজেই একটা শারীরিক পরিশ্রম আছে, একটা কসরত। পরিশ্রম না তো কি? ডানা টনটন করে, ঘাড় জমে যায়, চোখ জ্বালা করে। আবার সমস্ত শ্রম সার্থক বোধ হয়। পিঠ বেঁকিয়ে লিখে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে আমরা নিজেদের জন্ম সার্থক করি। কলম কাগজের ভেতরে বোধকে চালিয়ে দেওয়া বা কমপিউটারের কীবোর্ড টিপে টিপে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করার কসরত। নিজেকে ডিসিপ্লিনড রাখার কসরত ।

তবু সে সব বাহ্য। আসল কসরত বোধ হয়, নিজের ভেতর থেকে ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাওয়া কথাগুলোকে মাপমত কেটে কেটে বসাতে পারার দক্ষতা। যা ক্রমাগত একটা টানাপোড়েনের জন্ম দেয়। স্পিডের বাড়ানো কমানোর জন্ম দেয় আমাদের ভেতরে। এরপর, যদি লেখায় ভেতরের, একেবারে অন্তঃস্থলের কথাগুলি না-ই বললাম, তাহলে আর কি হল। এই ব্যাপারটা কিন্তু ভেবেচিন্তে হয় না, মেপে মেপে হয় না।
আসলে লেখাটাকে ঠিক ঠিক চ্যানেল দিয়ে চালিত করাটা একটা অভ্যেসের ব্যাপার। একটা খাল কেটে নিজের ভেতরের কুমিরকে বের করে দেওয়ার মত ব্যাপার, অনেকদিন ধরে একটু একটু করে অভ্যেসটা করতে হয়। জীবনবোধ, অভিজ্ঞতা, সেসবের দরকার যেমন থেকে যায়, যেগুলো আমার লেখাকে বডি দেবে, শরীর দেবে, ডিটেল দেবে, কাঠামো দেবে, অন্যদিকে ওই একটি জিনিসের প্রয়োজন থেকেই যায়। আমাদের কাছে তাগিদ বা চার্জ এখন সবচেয়ে দুর্লভ জিনিস। যা ছাড়া যে কোন সৃষ্টিকেই প্রাণহীন মাটির কাঠামোর মত মনে হয়।

 

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!

  One Response to “কেন লিখি কবিতা – যশোধরা রায়চৌধুরী”

  1. কবিতা কেন লিখি এ সম্বন্ধে সঠিক ধারণা পেলাম না।

E