৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুন ১৭২০১৭
 
 ১৭/০৬/২০১৭  Posted by

উমাপদ কর-এর দীর্ঘ কবিতা : কাল কল

 

তারের দুদিকে কথার ঢিবি ও শোনার ডোবা

          মাঝে ঝোলা লেজে তুরুক-তারুক

     ক্যামেরা নামে ক্যামেরা ওঠে বশ করে

                         সচল    

   অচলও নেমে যায় পশ্চিমে বা উঠে পড়ে পূবে

             যাবে, বেড়িয়েছে, শুরুটা তৃণাদপি

                         চলছে অনাদির নাদ বেয়ে

                                        হালকা পুলকা স্লিম

                           ধরো দেখি!

নাচ লো নাচ, পিছলে যাচ্ছে?

       ওই ন্যাংটো পুতুলের হাতে

       খঞ্জনী ধিতাং চাইলে

                এক চামচ চাবি পিয়াও

          ঘাটে ঘাট মিলাও গো তিন্নি তুতুন

     আরেকটু সময় দাও, জাঁক করে বলুক, নাচাবি নাকি?

              বগলে হ্যাঙারে ঝোলানো পেন্ডুলামে দোলন

       গোটাটা ওঠেনা একটা হাত ‘মম চিত্তে’

              আরেকটা টাইম কাম মাইম

      চায়ে চিনিতে কী-বোর্ডের স্পেস, সিফট-এ

                   ন্যালনেলে

                          ফ্যালফ্যালে

                                  চলেচলা চরকি পাক…

                                ধরোই না!

আলবিদা না বলেও

   বল্গা ছুটি চায় হরিণের কাছে

              সময়ের তুড়িতে

তার বগলে কেশের বদলে থার্মোমিটার

                                                                                                   

                                                             

            ষাট সেকেন্ডের টুকরো                                                         

      আরও ভাঙতে পারো আরও আরও

                    ভাঙলেও কাল কুচি

কালের বগলে সময়ের একটু একটু ঠমক যাওয়া

             বিপ বিপ বিপ বিপ বিপ বিপ

                             কদমে কদমে তুন তা

কলঘরে কলের ফাঁদে পড়া ইঁদুর

                 ঘুরছে ফিরছে, কিন্তু আর খাচ্ছে না

          তুলপুলে একেকটি নব্বই ডিগ্রি ভয়

                    একশ আশি চোখ

        সময়ের বিটে বিটে ছুটছে তালের সঙ্গে বেতাল মিশিয়ে

পড় পড় গেল গেল হয়ে উঠছে প্রাণ বনাম হত্যা

                 পিছলে যেতেও পারে ধুকপুক সুখলুক

                              ধরো, ধরো হে

                           ধরাই পড়ল না

                                        বায়ু, জব্দ থেকেও…

নামছে উঠছে, উঠছে নামছেও ধরা যায়

              ও কে? চার্লি না?

   এ কি, এ কি! ডুমো হাসি গোঁফ টার্নস্‌ টু ডাঁশ ভয় হ্যাট?

          যা চ্চলে, টুঁটি টিপে ধরে আছে তবু এফোর ওফোর চোখ

                                   লাঠিটা লাফাঙ্গে

                         মাঝদরিয়ার জল সতীন

                             হাল বৈঠা তুলে নোঙর চাই যে

                                     হয় না হয় না, তবু হয় মনে হয়

         এবারো ধরতে পারলে না?

                             দৈর্ঘ প্রস্থ বেধ মাপতে পারলে না?

                   পিছলে যাওয়ার আগে খোলশ ছেড়েছে বুঝি!

                                                                                                  

 কত চোখ যে লুকিয়ে রাখে ঘড়ি

                 তিনটে মাত্র দেখায়                                                                         

    তার তাড়াতেই স্নান সায়ং শিথান

             এগরোলে মোরগডাক মাছের ডিমে ধানী

      পেট্রোল সেনসেক্স শীতকালীন অধিবেশনে

                   সেক্স মাস্টারবেশন

        জোড়া গাছ ‘হেলিতে দুলিতে’ চুমু, অর্গাজম

                   চোখ থামে ফুয়েল না থাকলে

                           সে থামে না থামতে না জানায়

                    সে মানে ওই আর কি

                                ঘড়ি যাকে রিফু করতে করতে

                     সুতো হয়ে যায়

                           ছাড়ে ছাড়ে, ছাড়তেই থাকে

                                   শ্বাস অব্দি…

জটিলতম যন্ত্রের খোলশে যে ললিত ওম

                         যে জ থেকে ম পর্যন্ত ছুট গোল্লা

             যার ঝুমঝুমি শুনতে শুনতে

                                  শ্মশান চু-কিৎ-কিৎ খেলে

                         তার ২০৬ এর সাজ লোহিত কণিকার দৌড়

                      শ্লেস্মা পিত্ত মাস মজ্জার দাঁড়িয়াবান্দায়

                                       কতই না তোয়াজ শুশ্রূষা

                        আর ওই যে ‘অচিন পাখি’…

                   ধরতে পারো!

হাতের তালুতে মাছ বাঁচানো মিথ

               ফিপটি ফিপটি লয় প্রলয়

            ওসবের চিনচিনে থেকে

                        বীজ ধরে রাখা হয় খামারে

                      লকারে গয়না

     বাতাস পালায় না ভূ- লাগোয়া ছেড়ে

                                                                                                     

                        

                       জল পেঁচানো আষ্ঠেপৃষ্ঠে

                         তবেই না সসাগরা

          সময়ের খেল-এ জন্ম একটা শুরুর মোহব্বতে                                      

   খেল খিলাড়ির তা বলে শুরু নেই,

            জন্ম নেই মাইনাস প্লাস মাঝের শূন্য নেই গ্রাফে

                   রাখলে থাকে না, থাকলে ধরে না

                             পিচ্ছিল খেয়ালি

                       ধরতে পারো? ছুঁতে…

তুতুন মোটেও সময় পাচ্ছে না

              তিন্নির রোবট মেশিনটা বিগড়েছে

         রিমোটের নির্দেশে টাইম-স্প্যান মানছে না সে

               আবার তাকে চালু করতে হবে

        শুধু মাত্র সময় মাপার জন্য

                       অংক কষে বাঁচার জন্য

         আর নিজের আয়ু সংক্রান্ত

             মেয়াদ জানার জন্য…

বোকা মেশিনের মধ্যে সময় প্রাণ হয়ে উঠলে

                    সময়ের মধ্যে একটা শঙ্খ রেখে দিও…                                       

       

 

 

আগষ্ট-২০১৫

 


কবি পরিচিতি

উমাপদ কর

উমাপদ কর

উমাপদ কর। পিতা- প্রয়াত সতীশ চন্দ্র কর। মা- প্রয়াতা সিন্ধুবালা কর। (যাঁদের বাসস্থান ছিল বর্তমান বাঙলাদেশের কিশোরগঞ্জে। এবং যাঁরা ১৯৪৬-৪৭ এ পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন।)। জন্ম- ডিসেম্বর ১৯৫৫। স্থান- বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। বর্তমান ঠিকানা- ২৩ এ/৪ ডি, পি, পি রোড। নাকতলা। কলকাতা- ৭০০০৪৭। শিক্ষাগত অবস্থান- অনার্স গ্র্যাজুয়েট, ফিজিক্স। পেশা- রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মচারী। (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত)। অল্পদিনের জন্য হলেও একসময় পারফর্মিং আর্টের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। নাটক, থিয়েটার, আবৃত্তি, ভাবনাট্য, নৃত্যনাট্য । অংশগ্রহন করতেন বিতর্ক, সেমিনার, অপূর্বকল্পিত ভাষণ ইত্যাদিতে। একসময় এসব করা নিজেই বন্ধ করে দেন। ভালবাসেন ঘুরতে, থিয়েটার দেখতে, গান শুনতে, চিনে বাদাম খেতে, ছোট মাছ খেতে, বন্ধুদের সঙ্গে দেদার আড্ডা সপান। মনে করেন কবিতাই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে শত বিয়োগেও। কবিতা ছাড়াও লেখেন গদ্য, সামান্য কিছু ছোটগল্প, আর নাটক।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ ঋতুপর্বের নাচ, কয়েক আলোকবর্ষ দূরে, পরিযায়ী চলো, ভাঙা পিয়ানোর পা, অপর বসন্ত, ধনুক কথায় স্বর, নদীতে সায়ং ভেসে যায়, আলোর হাঁসুয়া, বালুমানুষের ঝুনঝুনাৎ (দীর্ঘ কবিতার সংকলন)।

প্রকাশিতব্য গদ্যগ্রন্থঃ কবি রবীন্দ্রনাথ, আজকের উঠোনে। (আরেকটির নাম ঠিক হয়নি)।

ক্ষুদ্র পত্র-পত্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক- যৌথ সম্পাদনা, ‘শ্রাবস্তী’ (অবলুপ্ত)। কর্মী, ‘রৌরব’ (আর প্রকাশ পায় না)।

 

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E