৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ০৬২০১৭
 
 ০৬/০১/২০১৭  Posted by
গৌরাঙ্গ মোহান্ত

গৌরাঙ্গ মোহান্ত

১৪ জন কবির ২৫ টি ভাষান্তরিত কবিতা – গৌরাঙ্গ মোহান্ত


ব্রুস বিভার

অস্ট্রেলীয় কবি ব্রুস বিভার ম্যানলির সমুদ্র তীরবর্তী শহরতলিতে ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলো নিরানন্দে কাটে। তিনি মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে জীবনধারণ করেন। গোপালক, করণিক, ফলসংগ্রাহক, মুদ্রণশোধক, সাংবাদিক হিসেবে কর্মনিযুক্ত থেকে শেষাবধি লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ তিনি তাঁর প্রথম কাব্য Under the Bridge ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করেন। বাইপোলার ডিসঅর্ডার ভুক্তভোগী কবি বিয়ে করে পূর্ণকালীন লেখকসত্তা অর্জনের সুযোগ লাভ করেন এবং সাহসের সাথে কাব্যসাধনা করে ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তাঁর কাব্যের মধ্যে Seawall and Shoreline (1964), Open at Random (1967), Letters to Live Poets (1969), Lauds and Plaints : Poems (1968-1972) (1974), Odes and Days (1975), Death’s Directives (1978), Headlands: Prose Sketches (1986), Charmed Lives (1988), New and Selected Poems 1960-1990 (1991), Anima and Other Poems (1994), Poets and Others (1999), The Long Game and Other Poems (2005) উল্লেখযোগ্য। বিভারের কবিতা তীক্ষ্ণ, শাসনবিমুখ এবং কখনো অসংলগ্ন। শিশুরা (Children) কবিতাটি Les Murray সম্পাদিত The Best Australian Poems (2005) গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

শিশুরা

আমি শিশুদের কাছে পক্ষপাতপূর্ণ নই;
জননযন্ত্রের উপহাররাশি হয়নি আমার ভাগ্য
বিধাতাকে ধন্যবাদ — এবং ক্ষমা করুন আমার
সমস্ত পিতৃসুলভ প্রবৃত্তির অভাব। আমার কবিতাগুলো
কখনোই বংশধর হিসেবে হয়নি বিবেচিত
তবে হয়েছে ডেইমনের থেকে অবারিত উপহাররাশি হিসেবে।
সক্রেটিসের কি সন্তান-সন্ততি ছিলো
অধিকন্তু ডিসকোর্স? আমি ধরে নিতে পারি
তাঁর ছিলো কেননা তাঁর আচরণ
ছিলো পিতৃসুলভ। মহৎ প্লেটো
ছিলেন বালকের সাথে যৌন সর্ম্পক স্থাপনকারী–আর নয়
শ্রেয়োনীতি, নীতিবিদ্যা ও যৌন
প্রবণতার প্রসঙ্গ। আমি সর্বদা
মধ্যবয়সী মহিলার জন্য অধিকতর
অনুরাগ দেখিয়েছি। তাঁরা সুন্দর
সুরতির জন্য কৃতজ্ঞ। পুরুষেরা জীবনের পরিবর্তনে
কেবল যুক্তি দেখাতে চান
কৈশোরপ্রাপ্ত বালিকা বা বালকদের
জন্য তারা ছিলেন অভীষ্ট। যে-কোনো
লিঙ্গের একজন ভালো বক্তা দিন আমাকে সারাক্ষণ।


এমটিসি ক্রোনিন

অস্ট্রেলীয় কবি মার্গি ক্রোনিন এমটিসি ক্রোনিন নামে কবিতা লিখছেন; তিনি নিউ সাউথ ওয়েলস এর মেরিওয়াতে ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং কুইন্সল্যান্ডস সানসাইন কোস্টের ক্যালান্ড্রায় বেড়ে ওঠেন। শিক্ষাজীবনে তিনি আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ গ্রহণ করেন। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে আইন শাস্ত্রীয় কর্মে যুক্ত থেকেও তিনি নিজেকে কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি সিডনির প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃজনধর্মী লিখনশিল্প বিষয়ে পাঠদান করেন এবং তাঁর পিএইচডি গবেষণাপত্রে আইন ও সাহিত্যের উজ্জ্বল সংগমস্থলকে উন্মোচন করেন। তাঁর প্রথম কাব্য Zoetrope: We See Us Moving ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়। এরপর এক ডজন কাব্য অস্ট্রেলিয়া, ইউকে, ইউএসএ থেকে মুদ্রিত হয়। তাঁর প্রবন্ধের বই Squeezing Desire Through a Sieve: Micro Essays on Judgement and Justice (2009) গবেষক হিসেবে তাঁর খ্যাতিকে প্রোজ্জ্বল করে। সবকিছুতেই ধুলো (The Dust in Everything) কবিতাটি পিটার পর্টার সম্পাদিত The Best Australian Poetry (2005) গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

সবকিছুতে ধুলো

সবকিছুতে স্মরণ করুন ধুলো?
তারা-প্রাণী, হৃদয়-প্রাণী, ব্যক্তি-প্রাণী।
আপনার মৃত্যুর পরে সময় থাকবে এমন কোনো গ্যারান্টি নেই।
দুনিয়ার সাথে আপনার মৃত্যুকে ভাগ করে নিতে হবে।
বিষ বা ফুল এবং তাদের এক হওয়ার জ্ঞানের মতো।
আপনার মুখের উজ্জ্বল বেগুনি মাঢ়ি বিবর্ণ হবে এবং তারপর কালো।
‘তারপরও করতে হবে’ ধারণ করবে এর মুকুট ও বিনাশ।
যে ভাত খান নি তা আর হবে না খাওয়া।
থালায় পড়ে-থাকা খাবার ভুখা বনে যাওয়া আপনার মনে বার বার আসবে ফিরে।
দরজার পাশে পড়ে আছে আপনার ব্যাগ।
তখন থেকে অল্প সময়ের মধ্যে এটি ঝাড়া হবে ও রাখা হবে ঝুলিয়ে।
কখনো শূন্যতর ব্যাগের ছিলো না অস্তিত্ব।
একজন মৃতের বিবিধ জিনিস দিয়ো ছিলো পূর্ণ।
সেগুলো ধুলোর মতো।
আপনার হাতে মাননসই ছিলো যা, ধুলো।
আপনার কাঁধের আকার অনুসরণ করেছিলো যা, ধুলো।
আপনি যা খুলেছেন ও পড়েছেন এবং যার জন্য কেঁদেছেন, ধুলো।
ধুলো, চাঁদ; ধুলো রডোডেনড্রন।
অন্যের চোখের দৃষ্টি ধুলো।
এবং আপনার রয়েছে শূন্য মাথা।
এর মধ্যে আপনার মৃত্যুর পর পুরো প্রথম রাত দিয়েছে উড়াল।
ওই সমস্ত তারা এবং তাদের অভিজ্ঞান-অভ্যাস
আলো ব্যবহার করে কবর পেরিয়ে তাদেরকে রাখছে জীবিত।
তাদের সাথে আপনি চিন্তা করুন এবং সবকিছুতে স্মরণ করুন ধুলো।
ধৈর্য ধরে ও চাহিদা ছেড়ে আপনি এবার হয়ে ওঠুন।
কোনো গোপন রহস্য একবার আপনি প্রকাশ করতে চেয়ে থাকতে পারেন।
একটা বাড়ির ইট, রস-ফোঁটা।
বাস্তবতা রসালো ফল, কানে দেবতার হারানো ভ্যা ভ্যা ডাক।
আপনার নিজস্ব চিন্তাভাবনার একটানা শক্তি।
আপনার মৃত্যুর আগে সময় থাকবে এমন কোনো গ্যারান্টি নেই।
সবকিছু অদৃশ্য হতে পারে, ভ্রমণের মতো।
ধুলো প্রতিভাধরের মনে কিছু ঘটাবার জন্য থেকে যেতে পারে।
এবং মৃত কখনো জীবনধারণ না করে থাকতে পারে।
না জাত, না অজাত, পরিবর্জিত আত্মত্যাগ।
যে ভাত তারা খেয়েছেন তা কখনো হয় নি ভুক্ত।
ভাত হচ্ছে ধুলো।
না, ধুলোর শাখাপ্রশাখা।
ছোট কণার মতো এটি বেড়ায় ভেসে।
সেভাবে আপনি নাচতে শিখেছেন এবং সবকিছু করতে।


এস. কে. কেলেন

অস্ট্রেলীয় কবি এস. কে. কেলেন (স্টিফেন কেনেথ কেলেন) ১৯৫৬ সালে সিডনিতে লেখক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা স্টিফেন ইস্টভ্যান কেলেন ছিলেন একজন নাট্যকার এবং সাংবাদিক; তাঁর ভাই ক্রিস্টোফার কেলেন কবি হিসেবে সুবিদিত। বাল্যকাল থেকেই কেলেন কবিতা রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে তরুণ কবিদের জন্য Poetry Australia পুরস্কার লাভ করেন। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দর্শন ও সাহিত্য বিষয়ে পাঠ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে ক্যানবেরায় স্থায়ী হয়ে কমনওয়েলথ পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে কর্মব্যাপৃত থাকেন। তিনি Canberra Times এর গ্রন্থসমালোচক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। কেলেন সৃজনশীল লিখনকর্মে সফলতার সাথে শিক্ষা দান করেন এবং দক্ষিণ ডাকোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৬ সালে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভিয়েতনামে তিনি ১৯৯৮ সালে এশিয়ালিঙ্ক লেখক হিসেবে কর্মনিযুক্ত থাকেন। সৃজনশীল লিখনকর্ম ও ইংরেজি সাহিত্যে ২০০৫ সালে এডেলেইড (Adelaide) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর রচিত কাব্যের মধ্যে The Gods Ash Their Cigarettes (St Lucia, Qld: Makar Press, 1978), Zen Maniacs: Modern Life Studies (Modular Press, 1980), To the Heart of the World’s Electricity (Broadway, NSW: Senor Press, 1980), Atomic Ballet (Sydney: Hale and Iremonger, 1991), Dingo Sky (Sydney: Angus and Robertson, 1993), West of Krakatoa: Poems (Ainslie, ACT: Limestone Press, 1994), Trans-Sumatran Highway and Other Poems (Cook, ACT: Polonius Press, 1995), Postcards from the Universe (Cambridge, UK: Folio/Salt, 1998), Dragon Rising: Poems (Hanoi: The Gioi Publishers, 1998), Shimmerings: Poems (Wollongong, NSW: Five Islands Press, 2000), Goddess of Mercy: Poems (Blackheath, NSW: Brandl and Schlesinger, 2002), Earthly Delights (Canberra: Pandanus Books, 2006) উল্লেখযোগ্য। Earthly Delights কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি যৌথভাবে ২০০৭ সালে ACT’s Judith Wright Award -এ ভূষিত হন। তাঁর কবিতায় প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের ইতিহাস এবং পুরাণতত্ত্বের সাথে অস্ট্রেলীয় অভিজ্ঞতার মিশেল পাঠককে গভীর উদ্দীপনা দান করে। শহর (A City) ও সাবানফেনা চক্র (Suds Cycle) কবিতা দুটি Earthly Delights কাব্যগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

শহর

কর্দমিত লোহিত নদী সিক্ত করে খামার ভূমি,
নগরনিবাসীর প্রিয় শহরের মাঝ দিয়ে চলে ধীরে এঁকে বেঁকে।
পুনর্নিমিত বাড়িগুলোর ছাদে স্থাপিত হচ্ছে টাওয়ার
এবং আকাশচুম্বী ঘোরানো সিঁড়ি, ও মূর্তিরাজি,
পুনরাবর্তী দেবদূত ও প্রসন্ন দানবেরা আকাশ-প্রহরী।
পূর্ব জানালা পর্দাচ্ছাদিত, ভোরের সূর্য
লেজার-নিয়ন্ত্রিত বোমার প্রভাস্ফুরনের মতো হয় দগ্ধ।
শুভ্র প্রাচীর প্রতিবিম্বিত করে মার্বেল পান্ডুরতা
(নিয়তি ও বিপর্যয়) যা হয়ে ওঠে শুভ্র প্রদীপ্তি,
অনুরঞ্জিত হয় উজ্জ্বল মানবিক জীবন যাপন, মার্কেট স্থল।
ঋদ্ধ রাজপথ জীবন, শিশুরা খেলে, আকাশ হতে
মৃত্যু অবতরণ করবে না প্রত্যাশায় তারা প্রমোদিত।
প্রাচীন পস্থায় শিক্ষিত হয়ে বিকশিত-মুক্ত হবার
কিংবা ইচ্ছেমতো আধুনিক হবার প্রার্থনা করে কেউ কেউ।

সাবানফেনা চক্র

অনাবৃষ্টি স্থায়ী ছিলো সাত বছর
বছরগুলো কেবল বৃষ্টির ক্ষুদ্র কণার

মেঘ উড়ে চলেছিলো যতক্ষণ না একদিন
ওয়াশিং মেশিন

কথা বলেছে, নদী সত্তার মতো বাকদক্ষ
অথবা সাগরের স্বচ্ছ তরঙ্গের মতো

সতেজ, স্বচ্ছ আমাদের সকলের
মাঝে এক অদৃশ্য জল শক্তি,

জল বৃক্ষকে শক্তিময় করে
উদ্ধার করে তোমার ভেতরের মৎস্যকে

মেঘ সমলয়ে ঘূর্ণি তোলে
প্রক্ষালন চক্রের অভিকর্ষ – আহা!

ঝঞ্ঝা পেছন দরজাকে এক ধাক্কায় বন্ধ করে দেয়
পূর্ণ হয় অশনিসম্পাত আর বৃষ্টির নৃত্য।


শেমাস হিনি

শেমাস হিনি (Seamus Heaney) উত্তর আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ডেরিতে এক রোমান ক্যাথলিক পরিবারে ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করনে। বাবা কৃষক ছিলেন বিধায় তাঁর শৈশব কেটেছে খামার বাড়িতে। অ্যানাহরিশে প্রাথমিক পাঠ গ্রহণের পর তিনি লন্ডন ডেরির সেন্ট কলাম্বস কলেজ ও বেলফাস্টের কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং মাইকেল লংলে ও ডেরেক মাহোন প্রমুখ তরুণ কবির সঙ্গে স্বয়ং কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ডে তিনি কাব্যের অধ্যাপক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কবি ২০১৩ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন। Death of a Naturalist (1966), Field Work (1979), Station Island (1984), The Haw Lantern (1987), Seeing Things (1991), The Spirit Level (1996) হিনির উল্লেখযোগ্য কাব্য। তাঁর কাব্যে `Words of lyrical beauty and ethical depth’ এর জন্য তিনি ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। ‘খনন’ কবিতাটি Death of a Naturalist কাব্যের অন্তর্ভুক্ত। ‘ডব্লিউ. বি. এর জন্য ক্ষুদ্র উদ্ভট শিল্পকর্ম’ কবিতাটি জন গ্রস সম্পাদিত The Times Literary Supplement Companion: The Modern Movement (1992) গ্রন্থ এবং অ্যানাহরিশ কবিতাটি Wintering Out (1972) কাব্য থেকে সংগৃহীত।

খনন

আমার আঙুল ও আমার বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের মধ্যে
খর্ব-স্থুল কলম বিশ্রাম করে; বন্দুকের মতো দৃঢ়াবদ্ধ।

কঙ্করময় খেতে যখন নিমজ্জিত হয় কোদাল
আমার জানালার নিচে, স্পষ্ট ঘ্যাসঘ্যাসে শব্দ:
আমার বাবা, খুঁড়ে চলছেন। আমি নিচে তাকাই

যতক্ষণ না তার খাটুনিদুর্বল পাছা কুসুমকেয়ারিগুলোর মধ্যে
অধোনমিত হয়, উত্থিত হয় কুড়ি বছর দূরে
ছন্দে আনত হয়ে আলুর খাতগুলোয়
যেখানে তিনি খুঁড়ে চলছিলেন।

ঢ্যাপসা বুটজুতো কোদালের অতিবর্তী অংশে সংবিষ্ট, হাতল
ভেতরের হাঁটু ঘেঁষে দৃঢ়ভাবে ছিল উত্তোলিত।
তিনি লম্বা পত্ররাজি নির্মূল করেন, উজ্জ্বল তীক্ষ্ণাংশ পুতে রাখেন
নতুন আলু ছিটিয়ে দেয়ার জন্য, আমাদের হাতে তাদের
শীতল কঠিনতা ভালোবেসে আমরা সেগুলো কুড়িয়ে নিই।

বিধাতার দোহাই, বৃদ্ধ মানুষটি কোদাল চালাতে পারতেন।
ঠিক তার বৃদ্ধ মানুষের মতন।

টোনারের জলাভূমিতে যেকোন মানুষের চেয়ে
আমার পিতামহ দিনে অনেক বিক্লিন্ন উদ্ভিদ কেটেছেন।
তাকে আমি একবার কাগজের শিথিল কর্কে আঁটা বোতলে
দুধ এনে  দিয়েছিলাম। তিনি ঋজু হয়ে দাঁড়িয়ে
তা পান করেন, তারপর তড়িঘড়ি
নিপুণভাবে টুকরো ও ফালি করতে, উদ্ভিদ-আঁটি
তাঁর কাঁধে তুলে নিতে, চমৎকার বিক্লিন্ন উদ্ভিদের জন্য
নিচে আরো নিচে নামতে শুরু করেন। খুঁড়ে চলেন।

আলুর ঝুরঝুরে মাটির ঠান্ডা গন্ধ, ক্লিন্ন উদ্ভিদের
প্যাচপ্যাচে শব্দ ও পীড়ন, তীক্ষ্ণাংশের নির্দয় আঘাত
জীবন্তশেকড়রাজির মধ্য দিয়ে আমার মাথায় জাগ্রত হয়।
কিন্তু তাদের মতন মানুষকে অনুসরণ করার কোন কোদাল আমার নেই।

আমার আঙুল ও আমার বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের মধ্যে
খর্ব-স্থুল কলম বিশ্রাম করে।
সেটি দিয়ে আমি খুঁড়ে চলবো।

ডব্লিউ. বি. এর জন্য ক্ষুদ্র উদ্ভট শিল্পকর্ম  

প্রাণসত্তা কোথায় করে বাস? স্মরিত বস্তুরাশি,
নির্মিত বস্তুরাশি, অনির্মিত বস্তুরাশির ভেতরে কী বাইরে?
কী এসেছে আগে, সামুদ্রিক পাখির ক্রন্দন, অথবা আত্মা

ভোরের ঠান্ডায় কল্পিত ও ক্রন্দিত?
কোথায় শেষে করে তা বিশ্রাম? সমল ডালপালায়
দাঁড়কাকের বাসায় পুরোনো কোনো পাথর চূড়ায়

অথবা বাগানের সমতল ভূমির নিয়ন্ত্রণে থাকা মর্মর আবক্ষ মূর্তির র্শীষে?
কীভাবে বাসযোগ্য হয় উৎকৃষ্ট অবয়ব?
এবং কীভাবে ঝোড়ো আলো করছে বসতি?

কী শিক্ষা হয়েছে অর্জিত ধাত্রী ও জল্লাদের কাছ থেকে?
কী রয়েছে উপযোগিতা আদৃত টোকা বা আদৃত পঙক্তির
যা আশ্বাসের জন্য হতে পারে না আক্রান্ত

অ্যানাহরিশ

আমার ‘স্বচ্ছ জলের জায়গা’,
পৃথিবীতে প্রথম পাহাড়
যেখানে ঝরনা বয়ে গেছে
গলির তলদেশের

উজ্জ্বল ঘাস
আর কৃষ্ণ নুড়ির ভেতর দিয়ে।
অ্যানাহরিশ, ব্যঞ্জনবর্ণ
স্বরবর্ণ-ভূমির কোমল ঢাল,

শীত সন্ধ্যায়
উঠোনের মধ্য দিয়ে ঝোলানো
বাতির অনু-রূপকল্প।
বালতি আর হাতগাড়ি নিয়ে

কোমর সমান কুয়াশায়
সেই টিলাবাসীগণ
কুয়ো আর গোবর-গাদায়
হালকা বরফ ভাঙতে যায়।


ড্যানা গিয়োইয়্যা

ড্যানা গিয়োইয়্যা (Dana Gioia) কবি, সমালোচক, সম্পাদক ও অনুবাদক হিসেবে সমাদৃত। তিনি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের লস এনজেলসে ভূমিষ্ঠ হন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে নিউ ইয়র্কে উপজীবিকা হিসেবে ব্যবসাকে অবলম্বন করেন; পনেরো বৎসর এ বৃত্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে ব্যবসাক্ষেত্র থেকে মুক্তি নিয়ে সার্বক্ষণিক সাহিত্যসাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর কাব্যগ্রন্থ Daily Horoscope (গ্রেউলফ প্রেস, ১৯৮৪), The Gods of Winter (গ্রেউলফ প্রেস, ১৯৯১) প্রাকৃত প্রাণশক্তিতে পরিপূর্ণ। Interrogations at Noon (গ্রেউলফ প্রেস, ২০০১) গ্রন্থের জন্য তিনি মার্কিনি গ্রন্থ পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর সমালোচনামূলক সংগ্রহ Can Poetry Matter? Essays on Poetry and American Culture (গ্রেউলফ প্রেস, ১৯৯২), The Barrier of a Common Language: Essays on British and American Poetry (মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৯৬) ধোপদুরস্ত কাব্য-বিশ্লেষণের জন্য প্রাণোচ্ছল বাগযুদ্ধের সুত্রপাত ঘটায়। গিয়োইয়্যা Nosferatu শীর্ষক একটি অপেরা লিব্রেটো প্রণয়ন, ইউজেনিয়ো মন্টেলের Mottetti অনুবাদ এবং দুটি ইতালিয় কাব্য-সঙ্কলন সহ-সম্পাদনা করেন। কবিতাকে সমাজগ্রাহ্য করে তোলার জন্য তিনি কবিকে জনলোক (Public realm)-এ পুনর্প্রবেশের সংগ্রামে অটল থাকার মন্দ্রণা দেন। নিষ্প্রভ প্রথার চিতায় আগুন জ্বালিয়ে চিতাভস্ম থেকে অ-হননীয় কবিতা-ফিনিক্স উদ্ধারে তিনি সমুদ্যত। কাব্যপ্রকৃতি সম্পর্কিত তাঁর ঋজু উচ্চারণ: “Poetry is not a branch of analytical philosophy. It is a primal, holistic kind of human communication”. ‘প্রত্যাশা করো না…’ (`Do not Expect…`) কবিতায় বস্তু ও বস্তুর দুর্জ্ঞেয় স্বরূপ সম্পর্কিত রূপকল্পের নন্দন বিন্যাস লক্ষণীয়। ‘স্মরণ করার জন্য ধন্যবাদ’ (`Thanks for Remembering Us`) কবিতায় অনধিগত বস্তু অনবজ্ঞেয়- এ সহজ দর্শন রূপায়িত। ‘সেকোয়া রোপন’ (Planting A Sequoia`) কবিতায় কবির পুত্র-বিয়োগজনিত অন্তর্লীন বিষাদ প্রতীকী ব্যঞ্জনায় অভিব্যক্ত। এ কবিতার সাথে রবার্ট ফ্রস্টের ‘Home Burial’  কবিতার বিষয়গত সাযুজ্য পরিদৃশ্যমান।

প্রত্যাশা করো না…

এমন প্রত্যাশা করো না যে তোমার বই দৈবাৎ
মেলে ধরবে একটা বিশেষ পৃষ্ঠা, কোনো বাগধারা
যা তুমি পাঠ করবে, অর্থবহ হয়ে উঠবে আজ,
অথবা শরতের হলুদ-হরিৎ ও সোনালি
তাঁবুর মধ্য দিয়ে যখন বাতাস বয়ে যাবে
তুমি আড়ি পেতে শুনতে পাবে কণ্ঠমালা, তোমার সাথে তারা কথা বলবে।

বস্তুরাশি পাকে বা শুকিয়ে যায়। আলো
লেকের অন্ধকার বহির্ভাগে খেলা করে। প্রত্যেক বিকেলে
তোমার পাশে তোমার প্রচ্ছায়া দেয়ালে পদচারণা করে, আর দিনগুরো ফসল কাটার দুরবর্তী গুজবের নিচে
পড়ে থাকে লম্বা ও ব্যস্ত। আরো
একটি গ্রীষ্ম বিদায় নিলো,
এবং তুমি কোনো রকমে বেঁচে আছো,
নিষ্প্রভ, অনুতপ্ত, জানো না যে
পৃথিবীর স্পষ্ট পরিবর্তনরাজির মধ্যে
কিছুই লুকিয়ে নেই, এমনকি
লম্বা, শুকনো ঘাসে সূর্যের মৃদু প্রতিফলন
তোমার নিরন্তর উপলব্ধিরও অধিক।

এবং শুধু হ্রস্বাকারে তখন
অভেদ্য বস্তুরাশির তলকে
তুমি স্পর্শ করো, অবলোকন করো, চাপ দাও।

স্মরণ করার জন্য ধন্যবাদ

ভুল করে যে ফুলগুলো পাঠানা হয়েছে এখানে,
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেগুলো, স্বাক্ষরিত নাম যার
তাকে চেনে না কেউ। কী আছে করার?
প্রতিবেশিনী বলেন সেগুলো নয় তার জন্য,
আর কারো জন্মদিন নয়তো অত্যাসন্ন।
কাউকে ধন্যবাদ জানানো দরকার এ ভুলের জন্য।
আমাদের কেউ কি হৃদয়-বন্ধনে হয়েছেন ধন্য?
আমরা হাসছি আর হচ্ছি বিস্ময়াপন্ন।

অসুখী-মধুর ও দীর্ঘস্থায়ী
সৌরভে আচ্ছন্ন আইরিস
আগে ঢলে পড়লো। এক সময়
ঝরে পড়লো গোলাপের পাপড়ি,
ফার্নগুলো এবার যাচ্ছে শুকিয়ে।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো ঘরে,
কিন্তু তারা বসে রইলো সেখানে, বেশ স্বচ্ছন্দ,
বিস্মৃত প্রেমের মতো ছোটখাটো অপরাধের জন্য,
তারা আমাদের অভিযুক্ত করে চলে, আর আমরা
যে উপহারের অধিকারী নই তা ছুঁড়ে ফেলতে পারি না।

সেকোয়া রোপন

গর্ত খুঁড়ে তোমাকে শুয়ে দিতে, সযতেœ মাটি ভরাট করতে
সারা বিকেল সকল সহোদর মিলে ফলবাগানে কাজ করেছি।
বৃষ্টি দিগন্তকে কৃষ্ণময় করেছে, তবে ঠান্ডা বাতাস এ অবস্থার সৃষ্টি করেছে প্রশান্ত মহাসাগরে,
আর আমাদের ওপরের আকাশ ফুরিয়ে আসা পুরনো বছরের
নিষ্প্রভ ধূসরতা নিয়ে স্থিত থেকেছে।

সিসিলিতে পিতা তার প্রথম পুত্রের জন্ম বৃক্ষ রোপন করে উদযাপন করে-
জলপাই বা ডুমুর তরু-পৃথিবীর ধারণের জন্য আরো একটি জীবনের প্রতীক হয়ে ওঠে।
আমার এমনই করার কথা ছিল, বাবার বাগানে সগর্বে গাছ লাগানো,
আপেলের পাকানো শাখার মধ্যে জেগে ওঠা সবুজ চারা,
অন্য শরতে নতুন ফলের প্রতিশ্রুতি।

পূর্বপুরুষের ব্যবহারিক প্রথা উপেক্ষা করে
তোমার শেকড়রাজি মাথার চুল, শিশুর টুকরো জন্ম রজ্জুতে ঢেকে,
আজ ঠান্ডায় নতজানু হয়ে রোপন করছি তোমাকে, দেশোদ্ভূত তরুরাজ,
প্রথম-ভূমিষ্ঠ পুত্রের পৃথিবীতে পড়ে থাকলো
প্রাকৃতিক শক্তির নিকট প্রত্যাবৃত্ত কিছু পথভ্রষ্ট পরমাণু।

আমরা যা দিতে পারি তোমাকে দেবো- আমাদের শ্রম ও আমাদের মৃত্তিকা,
সমূদয় আকাশ ব্যর্থ হলে পৃথিবী থেকে উত্তোলিত জল,
সাগর কুয়াশা সুরভিত রাত্রি, মধুকর প্রদক্ষিণ-পেলব অযুত দিবস।
পশ্চিমা আলোয় স্নাত তরুবীথির কোণে আমরা রোপন করছি তোমাকে,
সূর্যাস্তের পটভূমিকায় এক কোমল অঙ্কুর।

যখন আমাদের পরিবার আর থাকবে না, তার সকল অজাত সহোদর মৃত,
প্রত্যেক ভ্রাতুষ্পুত্রী ও ভ্রাতুষ্পুত্র বিচ্ছিন্ন, গৃহ ভূপাতিত,
তার মাতার সৌন্দর্য ভস্ম আকাশচারী,
নীরব তোমার জন্ম রহস্য গোপন রেখে
দাঁড়াও তখন আগন্তুক, শিশু আর স্বল্পজীবীদের ভিড়ে।


ক্রেগ পাওয়েল

অস্ট্রেলীয় কবি ক্রেগ পাওয়েল নিউ সাউথ ওয়েলসের ওলংগং-এ ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। সিডনি বিশ^বিদ্যায় থেকে ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি মনঃচিকিৎসক হিসেবে পেশায় নিযুক্ত হন। কানাডায় ১৯৭২ থেকে ১৯৮২ কালপরিসরে অবস্থানকালে তিনি টরোন্টো মনঃসমীক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি স্থায়ীভাবে সিডনিতে ফিরে মনঃসমীক্ষণবিদ হিসেবে কর্মে ব্যাপৃত হন এবং প্রিন্স অভ ওয়েলস হসপিটালে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অবদান রাখেন। বিগত মধ্যষাটের দশকে Twentieth Century, The Realist, Poetry Australia প্রভৃতি জার্নালে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রথম পর্যায়ের কাব্যকর্মে ব্রুস বিভার ও ফ্রান্সিস ওয়েবের প্রভাব লক্ষণীয়। তাঁর প্রথম কাব্য A Different Kind of Breathing (1966) ব্রুস বিভার এবং দ্বিতীয় কাব্য ও I Learn by Going (1968)  ফ্রান্সিস ওয়েবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। ক্রেগ রচিত কাব্যের মধ্যে A Country Without Exiles (1972), Rehearsal for Dancers(1978), Selected Poems 1963–1977( 1978), A Face in Your Hands (1984), The Ocean Remembers It Is Visible (1989) উল্লেখযোগ্য। ক্রেগের কবিতায় মনোবীক্ষণিক চেতনার গভীর দীপ্তি পাঠককে আলোড়িত করে। কবি বস্তুত মানসিক ব্যধিগ্রস্ত মানুষের সংস্পর্শে এসে যে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করেন তার শৈল্পিক পরিস্ফুটন ঘটান কবিতার দৃপ্ত অবয়বে। তাঁর জেমস ডিকে স্মরণ, ১৯৬৮ (Remembering James Dickey, 1968) কবিতাটি Les Murray সম্পাদিত The Best Australian Poems (2005) গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

জেমস ডিকে অনুস্মৃতি, ১৯৬৮

বেশ, তিনি ছিলেন বিখ্যাত কবি, পর্বত মানব, তিনি
সে বছর পরিদর্শনে আসেন। গিটারে তোলেন তিনি ঝংকৃতি,
সংগীতে আমাদের সংগে একাত্ম হন এবং যুদ্ধের গল্প বলেন —
সিডনির আর ও আরে ছিলেন যোদ্ধা পাইলট,
ভালোবেসে এক তরুণীকে এখানে করেন বিয়ে, পরে নিঃশঙ্কচিত্তে

প্রিয়ার বাহুডোর কেটে নিউ গিনিতে তার
স্কোয়াড্রানে ফিরে যান। আমরা মৌনতা-মগ্ন হয়ে পড়ি
মেয়েটির অব্যাখ্যেয় মৃত্যুকথা তিনি যখন বোঝাতে থাকেন,
কীভাবে তিনি ছুটি পেতেন না, তার পরিবার চিঠি লিখতেন না,
এবং সারাক্ষণ মেয়েটি তার মন ও কবিতা আচ্ছন্ন করে রাখতেন।

তিনি বয়োবৃদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরন করেন, এবং সবকিছুই আবিষ্কার করে ফেলেন,
সিডনি তরুণী, বিয়ে, তার হৃদয়ভেদী মৃত্যু।
পাইলট নন, রাডার পর্যবেক্ষক, তার ছিলো
শাশ্বত কাহিনির জন্য অনবদ্য কাব্যিক অনুভব-গাঢ়তা,
আকাক্সক্ষা ও ব্যর্থতা যা বিকাশ করে মহত্ত্ব।

জেনের জন্য দুটি কবিতা

তুষার

মহিলা প্রেমিককে অধিকার করে রেখেছেন।
প্রেমিকের চুম্বন সোহাগ ছলকে ফেলে তার
মুখের ভেতরকার কালো বিচি। কালশিটাকীর্ণ টিপছাপে
তার স্তন কোঁকাতে থাকে।

কোনো দিন তিনি অনুকূলতার জন্য নিশ্চিত
ব্যাকুল আগ্রহে আঁকড়ে ধরবেন তার স্বামীকেঃ “কীজন্যে
আসছি আমি? চাই না যেতে ছেড়ে।”
তারপর পুনর্বার তিনি এমন নাও করতে পারেন।

শীতল চাঁদের রাত
তার শরীরকে করে তোলে নিরবদ্য। প্রেমিকের স্তব্ধতা
তুষারের মতো তাকে রাখে ঢেকে। প্রেমিক
দুর্নিবার।

রেস্তোরাঁ

পড়ন্ত বেলা, শান্ত এবং ইতিপূর্বে বিবাহিত
আমরা পোতাশ্রয় জানালার ধারে খেয়ে নিই।
শঙ্খচিলের দ্রুতলয়।

দুজনেই জানি, আমরা কবছর আগে তুমি নেবে মৃত্যুর স্বাদ।
তিয়েরা দেল ফুয়েগা হতে  জোয়ার ভাটা গতিচঞ্চল হয়ে ওঠে।
স্যুপের দিকে শান্তভাবে ঝুঁকে-পড়া তোমার মুখ লক্ষ করি।
নিরুপায় নিরুপায় প্রেম।


কেরিম সাকিজলে

কেরিম সাকিজলে (Kerim Sakizli – ‘সাকিজলে’ প্রমিত তুরকি উচ্চারণ) তুরস্কের ইজমিতে ১৯৭৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ইলডিজ টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে শিল্প প্রকৌশলে তিনি ডিগ্রিপ্রাপ্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি অস্ট্রেলিয়া ও ভিয়েনায় কিছুকাল অতিবাহিত করেন। তিনি ২০০৪-২০০৬ কালপরিসরে বুলগেরিয়ায় অবস্থানকালে চিত্রশিল্পী ডনচো ডনচেভের সাথে চিত্র ও সাহিত্য সম্পর্কিত তিনটি গ্রন্থ রচনা করেন এবং তুরস্কে তা প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘Fatemate, Love and Affection’ (উপন্যাস), ‘Rebirth of Satyr’ (পৌরাণিক গল্প), ‘Poems through Paintings’ (কাব্য), 3 Scene Poetica, (কাব্য), ‘Eye am Knotted (Elegy to Nicomedia)’ (কাব্য) উল্লেখযোগ্য।
অনূদিত কবিতাগুলো ‘Eye am Knotted (Elegy to Nicomedia)’ কাব্য থেকে সংগৃহীত। ‘গাঢ় সবুজ’ কবিতায় ‘meşin’ এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হিসেবে ‘roany’ শব্দ ব্যবহৃত হওয়ায় কবির সাথে ই-মেইলে যোগাযোগ করি; কেরিম জানিয়ে দেন: ‘The turkish word ‘meşin’ has two meanings. One of them is refined sheep leather, which is a noun. Second meaning is a combination of dimmed and callous, which is an adjective, Exactly as you pointed out….I do not know if it is the best expression but at least was a last decision by me and the translators’ বাংলায় ‘meşin’ এর যথাযথ প্রতিশব্দ না থাকায় আমি ‘মেষচর্মময়’ প্রকাশটি ব্যবহার করি। ইস্তাম্বুলে সুদর্শন এই কবির সাথে আড্ডা দিয়ে তার কবিতাভাবনা ও চিত্রচেতনার ধারণা পেয়েছি। তিনি চিত্রকল্পময় কবিতার মধ্যে অন্বেষণ করেন সংবেদনার শ্রেষ্ঠ দীপ্তি। তাকে বাংলোদেশের ও তাঁর ভাষান্তরিত কবিতা পাঠ করে শুনিয়েছি। বাংলার শক্তি ও উচ্চারণ সৌন্দর্য তাঁকে আপ্লুত ও বিস্মিত করেছে। এখানে  অনূদিত কবিতাগুলোতে তুর্কি অতীত বর্তমানের প্রতিচ্ছবিসহ কবির অন্তর্লীন বেদনার মনোগ্রাহী রূপকল্পের ব্যঞ্জনা বিদ্যমান।

Çiftçiden Adreşi Belirsiz
অজ্ঞাত ঠিকানার উদ্দেশ্যে কৃষক

অজানার উদ্দেশ্যে দেশান্তরী হওয়ার এসেছে সময়, নগ্ন পায়ে
দুর্গত আশীর্বাদের ভার
রয়েছে পশ্চাতে, পোড়োজমির নিশ্চুপ বিদায়সম্ভাষণ
শুকিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর রক্ত

Koyu Yeşil
গাঢ় সবুজ

বিশ্বের মাঝে শিল্পের সুখকর কর্ম
পৃথিবীর কাদায় গড়া বিশাল কবর
এর মধ্যে অন্তর্হিত ভস্মের বৃক্ষরাজি
এবং শাখায় শাখায় মৃত পাখপাখালি

জমাটবাঁধা ঋতুর
বিষ প্রবাহী বায়ু
নরকের বন্দরে
ডুবিয়েছে নোআর পোত
আদম কোথাও পারবেন না পালাতে

নোংরা যুগ গেঁথে আছে মেষচর্মময় গোড়ালিতে
মৃত্তিকায় অসভ্য পদচিহ্ন
সমুদ্রের ক্রুদ্ধ গর্জনের পেশল বাহু বলে
অবলুপ্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত

নিজের রক্তাক্ত কণ্টকিত ছায়ায় আতঙ্কগ্রস্ত
আদম সটকাবার চেষ্টা করবেন না!
বিচারের হাতে কবির থুথুদানিতে
আপনার কোন বিশ্বাস নেই
এবং অভ্যন্তরীণ শুষ্ক কবিতায়…
আপনার শেষ নিশ্বাসের আগে
দোয়াতের সম্মার্জন অবধারিত, অবশ্যকর্তব্য

Dinmek Bilmedi
কঠোর

দীর্ঘশ্বাসের দহনভোগী মৃত্তিকায়
ছুঁড়েছিল নোঙর
যুদ্ধের ঘোষণা এসেছে জীবন্ত
কার্বন ভারাক্রান্ত মেঘরাজির বিরুদ্ধে

বন্ধুর খাড়া পাহাড়ের
ঝোড়ো অঞ্চলগুলোর
বৃষ্টি অগ্নি ঝাঁক
হয়নি বন্ধ

ছত্রাক আচ্ছাদিত
উইলো ডালে ছাওয়া জীর্ণ কুটিরগুলোতে
হিন্দু নারীরা তৈরি করছে
অভিশাপ মোচনকারী মাদুলি

জলবায়ুর সংকীর্ণ হয়ে ওঠা সরণি ধরে
পবিত্র গাভীর বিদায়সম্ভাষণ
না শুনে
বসন্ত, মুছে ফেলা পদচিহ্ন
হারিয়েছে পথ

Tekirdağ Yolunada Mola
টেকিরদাগ রাস্তায় বিরতি

কাঠকয়লা বর্ণ সূর্যমুখী মাঠে
উন্মাদ ক্রোধ তোলে ভস্মের ফসল
ভয়ঙ্কর তেজোদীপ্ত মানুষের ইস্পাত আঁকড়ায়

একটি সবুজ শবাধার
মানুষের পান্না চোখের
বিভ্রান্ত দৃষ্টি হতে
অতলান্ত বন্যার ঘুর্ণাবর্তে
ধীরে হচ্ছে অন্তর্হিত


সুনন্দা ত্রিপাঠি

[সুনন্দা ত্রিপাঠি ওড়িষ্যার রঘুনাথপুরায় ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সংস্কৃত সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ও আইনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সুনন্দা পুরির পিপিলি কলেজে সংস্কৃত সাহিত্য পড়ান; পুরিতে সাংবাদিকতার সাথেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। ‘অভিসার’ (Tryst) কবিতাটি Vinay Dharwadker I A.K. Ramanujan সম্পাদিত The Oxford Anthology of Modern Indian Poetry (১৯৯৪) গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।]

অভিসার

যখন সমস্ত শহর নিদ্রিত
আমি খুলে ফেলি আমার নূপুর
এবং ঢুকে পড়ি তোমার কক্ষে
মৃদ, সংগোপন পদবিক্ষেপে।

তুমি শুয়ে থাকো, অনড়
অগোছালো বিছানায়,
চারপাশে ছড়িয়ে থাকে রাশি রাশি বই।
সেগুলোর মধ্যে, একা, তুমি ঘুমন্ত,
এক অদ্ভুত পরিতৃপ্তির হাসি
তোমার মুখম-লে।
আমি চুপি চুপি বিছানার কাছে বসি,
গুছিয়ে রাখি তোমার অবিন্যস্ত চুল,
তারপর ঝুঁকে পড়ে আমার শাণিত নখগুলো দিয়ে
ছিঁড়ে ফেলি তোমার বুক,
আমার দুহাত দিয়ে তুলে আনি
মুঠোভর্তি স্পন্দিত নরম গোলাপি মাংস।

মাংসের গন্ধে আমি সম্মোহিত,
আমি তা স্তনে আঁকড়ে রাখি।
মুহূর্তের জন্য
শব্দ ও নৈশব্দ্য এক হয়ে যায়-
তারপর আকাশ ও পৃথিবী
এক হয়ে পড়ে

তুমি জেগে ওঠবার আগে
মাংসকে বসিয়ে দিই তার জায়গায়,
অনুরাগে হাত বুলিয়ে দিই তোমার অনাবৃত বুকে।
মুহূর্তেই ক্ষত সেরে ওঠে
যেন কিছুই হয়নি।

তুমি ঘুমোতে থাকো, যথারীতি
আর আমি তোমার কক্ষ থেকে নীরবে বেরিয়ে আসি।


এ. জয়াপ্রভা

[এ. জয়াপ্রভা মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ১৯৫৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন; তাঁর পিতার কর্মাবসরের পর অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপটনমে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানকার অনুকূল পরিবেশে তিনি বর্ধিত ও পরিপূর্ণ হয়ে ওঠেন। তিনি তেলুগু সাহিত্যে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তরুণ তেলুগু কবি সূর্যনারায়ণের সাথে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন; তাঁদের যুগলবন্দি প্রথম গ্রন্থ সূর্যুদু কুদু উদয়িস্তাদু ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়। জয়াপ্রভা ইতিমধ্যে বামানুদি মুদোপাদম (১৯৮৮), কুরিসিনা বর্ষম এক্কাদি মেঘানিদি (১৯৯২) সহ পাঁচটি কাব্য ও দুটি সাহিত্য সমালোচনামূলক গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। তিনি কে. সত্যবথি সহযোগে তেলুগু নারীবাদী মাসিক ম্যাগাজিন লোহিতা সম্পাদনা করেন। ১৯৮৯-৯০ কালপরিসরে তিনি মেডিসনের উয়িস্কন্সিন্ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জয়াপ্রভার পোড়াও এ শাড়ি (Burn This Sari) কবিতাটি Vinay Dharwadker I A.K. Ramanujan সম্পাদিত The Oxford Anthology of Modern Indian Poetry (1994) গ্রন্থ থেকে সংগৃহ করা হয়েছে।]

পোড়াও এ শাড়ি

যখন আমার কাঁধে আমি
শাড়ির
এ আঁচল দেখি
আমি সতীত্বকে ভাবি
কাঠের গুঁড়ি
আমার গলা থেকে ঝোলানো

এটি আমাকে
সোজা দাঁড়াতে দেয় না
এটি তার সমস্ত হাত দিয়ে আমার বুকে চাপ দেয়
আমাকে নত করে
আমাকে লজ্জা শেখায়
আমার চারপাশে ঘুরপাক খায়
এক নিশ্চিন্ত পাখিতুল্য বিভ্রান্তি

এটি আমাকে সম্মোহিত করে
আমাকে বলে, ‘তুমি,
তুমি একটা মহিলা,
আমাকে ভুলিয়ে রাখে আমি মানুষ
নিজ হাতদুটোসহ এটি
আমার উভয় কাঁধকে ঢেকে রাখে
এবং পতপত করে
ঘোষণা দেয়, ‘দেখো, দেখো
এ মহিলা! সতী সে!’

আমি চেঁচিয়ে উঠতে চাই, ‘না, না,
আমি না,’
কিন্তু কণ্ঠ আমার খোলে না
এ শাড়ির কাছে আমি পরাস্ত

পাঁকের মতো এটি আমাকে আটক করে
ঘূর্ণিবায়ুর মতো এটি আমাকে নিচে ছুঁড়ে ফেলে

এটি অপবাদ
প্রজন্মাদি চাপিয়েছে আমার ওপর
অলক্ষ্য পিতৃতান্ত্রিক হাত

সাদা এ শাড়ি
মৃতদেহের কাফন
লুট ও লুণ্ঠনের
সংস্কৃতিতে আমিও তাই

যদি আমাকে বন্ধ করতে হয়
চলন্ত মৃতের অস্তিত্ব
আমাকে পোড়াতে হবে
আগে এ শাড়ি
ঠিক পোড়াতে হবে এ শাড়ি

১০
আগা শহিদ আলি

[আগা শহিদ আলি ১৯৪৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন, দিল্লি ও কাশ্মিরের শ্রীনগরে বেড়ে ওঠেন। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, পেনসিলভ্যানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৮৪ সালে ইংরেজিতে পিএইচডি, এবং আরিজোনা ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৮৫ সালে সৃজনশীল লিখনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দিল্লির হিন্দু কলেজে ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে পাঠদান করেন। পরে আমহার্স্টে ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষাদানে ব্রতী হন। The Half-Inch Himalayas (1987) Ges  A Nostalgist’s Map of America (1991) তাঁর উল্লেখযোগ্য ইংরেজি কাব্য। তাঁর The Rebel’s Silhouette (1991) ফাইজ আহমেদ ফাইজের নির্বাচিত উর্দু কবিতার একটি অনুবাদকর্ম। আগার কবিতায় অনিন্দ্য কোলাজের ব্যবহার লক্ষণীয়। পোস্টমডার্ন কবি হিসেবে সলিম পীরাদিনা, মনোহর শেঠি, বিক্রম শেঠ এবং ইমতিয়াজ ধারকারের মতো আগা শহিদ আলিও প্রতিভাধর। The Half-Inch Himalayas (1987) কাব্যের অন্তর্গত ‘কাশ্মির থেকে পোস্টকার্ড’ (Postcard from Kashmir) কবিতাটি Makarand Paranjape সম্পাদিত  Indian Poetry in English থেকে সংগৃহীত।]

কাশ্মির থেকে পোস্টকার্ড

কাশ্মির গুটিয়ে আসে আমার ডাকবাক্সে,
চার বাই ছয় ইঞ্চির চমৎকার আমার বাড়ি।

সব সময় ভালোবেসেছি পারিপাট্য। এখন আমি
আমার হাতে ধারণ করি আধা-ইঞ্চি হিমালয়।

এই হচ্ছে বাড়ি। এবং এই নিকটতম
বাড়িতেই থেকেই যাবো। যখন ফিরে আসি,
রংরাজি ততো উজ্জ্বল হবে না,
ঝিলামের জল নয় ততো স্বচ্ছ,
ততো অতিনীল। আমার ভালোবাসা
ততো অতিপ্রদর্শিত।

এবং আমার স্মৃতি রশ্মিকেন্দ্র থেকে
কিছুটা বাইরে, এতে
এক অতিবৃহৎ নেগেটিভ, কালো
আর সাদা, এখনও অপরিস্ফুট।

১১
কমলা দাস

কমলা দাস কেরালার পুণ্যায়ুরকুলামে ১৯৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্বগৃহে মালয়লাম কবি মা বালামণি আম্মার কাছে শিক্ষালাভ করেন। ইংরেজি ও মালয়লাম ভাষায় কবিতা, উপন্যাস, এবং আত্মজীবনী ও সাংবাদিকতাধর্মী রচনা প্রকাশ করেন। তিনি মাতামহী মাধবীকুট্টির নামে তাঁর মালয়লাম সৃষ্টি পাঠককুলকে উপহার দেন। তাঁর প্রথম পর্যায়ের ইংরেজি কবিতা Summer in Calcutta (1965), The Descendants (1967) Ges The Old Playhouse and Other Poems(1973) গ্রন্থে সংকলিত হয়। তাঁর আত্মজীবনী My Story ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয় এবং তাঁর একমাত্র মালয়লাম উপন্যাস মানসী ১৯৭৮ সালে Alphabet of Lust  নামে ভাষান্তরিত হয়। তিনি ১৯৬৩ সালে ম্যনিলায় পি.ই.এন. এশীয় কবিতা পুরস্কার, ছোট গল্পের জন্য ১৯৬৯ সালে কেরালা রাজ্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার এবং ১৯৭১ ও ১৯৮৬ সালে সাংবাদিকতার জন্য চিমনলাল পুরস্কারে ভূষিত হন। ‘সৃষ্টিছাড়া’ (The Freaks) কবিতাটি আর. পার্থসারথি সম্পাদিত Ten Twentieth-Century Indian Poets গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

সৃষ্টিছাড়া

সে কথা বলে, আমার দিকে সূর্য-রঞ্জিত
কপোল ফিরিয়ে, তার মুখ, অন্ধকার
গিরিগহ্বর, যেখানে অসম দন্তের
চুনদ- দীপ্তি ছড়ায়, আমার হাঁটুর
ওপর তার ডান হাত, আমাদের মন
প্রেমের প্রতি ধেয়ে চলতে সংকল্পবদ্ধ;
কিন্তু তারা কেবল বাসনার বদলে
গর্তে অলসভাবে হোঁচট খেয়ে ঘুরে
বেড়ায়…। এ মানুষটি কি
তার চপল আঙুলের ডগা দিয়ে
ত্বকের অলস ক্ষুধার চেয়ে অধিক জীবন্ত
কিছু পারে না মুক্ত করতে? কে এমন
আমাদের সাহায্যে আসে যে বেঁচেছে দীর্ঘকাল
আর হেরে গেছে ভালোবাসায়? হৃদয়,
একটি শূন্য জলাধার, দীর্ঘ প্রহর
অপেক্ষা করে, নিজেকে পূর্ণ করে
নীরবতার কু-লিত নাগকুল দিয়ে…।
আমি এক সৃষ্টিছাড়া। কেবল
আমার মুখ রক্ষায়, কখনো,
আমি জাহির করি মনোহর, বর্ণোজ্জ্বল কামনা।

১২
ডম মরেস

[ডম মরেস ১৯৩৮ সালে বম্বেতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে কবি ও সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদক স্টিফেন স্পেন্ডার ও কার্ল শ্যাপিরোর সাথে সাক্ষাৎ করেন। স্পেন্ডারের Encounter এবং শ্যাপিরোর Poetry Chicago- তে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ডব্লিউ. এইচ. অডেন ও অ্যালেন টেট কর্তৃক প্রশংসিত হন। ঊনিশ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য A Beginning প্রকাশিত হয় যা ১৯৫৭ সালে হথরডেন পুরস্কার লাভ করে। তখন থেকে Serendip-সহ তাঁর নটি কাব্য প্রকাশিত হয়।  Serendip কাব্যের জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। গীতিময় সৌন্দর্য ও প্রকরণগত নৈপুণ্যের জন্য তাঁর কবিতা পাঠকের কাছে বিশেষভাবে আদৃত হয়। মরেস সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত থেকে পৃথিবীর অনেক নিভৃত ও ভয়ংকর অঞ্চলে পরিভ্রমণ করেন এবং বিপুল অভিজ্ঞতায় নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। কাব্য চর্চার পাশাপাশি তিনি হিব্রু কবিতার দুটি অনুবাদ গ্রন্থ এবং বিশটিরও বেশি গদ্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। Beldam Etcetra(1967) কাব্যের অন্তর্গত Homo Sapiens কবিতাটি কবির Collected Poems (১৯৫৪-২০০৪) গ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে।]

হোমো স্যাপিয়েন্জ

আমাকে এই অন্য দেশ সম্পর্কে বলো
যাকে তুমি মৃত্যুর দেশ বলে অভিহিত করো।
শুনতে সুন্দর লাগে। শুনতে বোঝায় এমন ধরনের জায়গা
যেখানে আমি বাস করতে পছন্দ করি,
কারণ আমি এখানে সুখী নই।

আমি এখানে মুক্ত। আমি কথা বলি। অন্যেরা আমার সাথে কথা বলেন।
প্রতিদিন আমি বেছে নিই কোন টাই আমি পরবো
অথবা টাই পরবো না বলে স্থির করি।
আমি ঈশ্বর অথবা জনগণ বা আমাকে
বিশ্বাস করতে বা না করতে স্থির করি।
আমার সম্পর্কে আমি সন্দিহান।

অন্যরা যখন বলেন, বাব-মার পছন্দ-করা
আমার সে নামে ভীত হয়ে পড়ি কখনো কখনো।
তখন আমি আবেগ সামলে উঠি।
চেয়ার অথবা কবুতর বা আগন্তুকের উদ্দেশ্যে
কোনো একটি কক্ষে অথবা পার্কে বা অন্য কোথাও
আমি আমার কণ্ঠের অনুশীলন করি।
কোনোদিন আমি আর্চবিশপ হতে পারি
সম্ভবত, অথবা প্রধানমন্ত্রী,
অথবা আমি যা তা-ই থেকে যেতে পারি,
পছন্দের ব্যক্তি দ্বারা প্রতারিত এক জুডাস। তোমাকে
সত্য কথা বলার আগে আমাকে থামিয়ে দাও।
আমাকে সেই অন্য দেশ সম্পর্কে বলো
যাকে তুমি মৃত্যুর দেশ বলে অভিহিত করো।
আশ্বস্ত করো আমি সেখানে স্বপ্ন দেখবো না
যেন আমার পাখা রয়েছে, অতঃপর জাগ্রত হয়ে দেখবো আমি বীভৎস
যখন নারীকে নিয়ে ভাবি
আমার ডান হাতের কাজ নিয়ে উৎকণ্ঠিত থাকবো না,
থাকবো না আমার স্বাধীনতার ক্লান্তি নিয়ে।
এগুলো থেকে আমাকে রক্ষা করো।

এক শব্দমাত্রার শব্দে ঘোষণা করো আমার মৃত্যু।
বলো মুক্ত হওয়াকে তুচ্ছ হিসেবে জেনেছি আমি।
আমাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করো না পৃথিবী থেকে
যেখানে আমার বীভৎসতা ভুলে, আমি ঘুমিয়ে পড়ি,
এবং যদি জেগেও উঠি, পছন্দ করি না পরিবর্তন।

১৩
এ. কে. রামানুজান

[আত্তিপ্পাত কৃষ্ণস্বামী রামানুজান ১৯২৯ সালে মাইশোরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ডি. ভানুমাইয়া’স হাই স্কুল এবং মহারাজা’স কলেজে শিক্ষা গ্রহণ করেন। পুনার ডেকান কলেজে ১৯৫৮-৫৯ সালে তিনি ফেলো এবং ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটিতে ১৯৬০-৬২ কালপরিসরে ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ১৯৬২ সাল থেকে কর্মব্যাপৃত ছিলেন এবং সেখানে দ্রাবিড়ীয় স্টাডিজ ও ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর প্রকাশিত সাহিত্যকর্মের মধ্যে Fifteen Tamil Poems (1965), The Striders (1966), The Interior Landscape (1967), No Lotus in the Navel (1969), Relations (1971), Speaking of Siva (1972), Selected Poems (1976), Second Sight (1986), The Black Hen (1995), Collected Poems (1995) উল্লেখযোগ্য। রামানুজান প্রাচীন তামিল কবিতার ইংরেজি অনুবাদকর্মে পুরোধার ভূমিকা পালন করেন। তিনি এই মর্মে আধুনিক কবি ও গবেষকগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে কতিপয় ভারতীয় ঐতিহ্যে অদ্যাবধি বিদ্যমান রয়েছে অনাবিস্কৃত কাব্যসম্পদ। রামানুজান ১৯৯৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন; এ সময় তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দক্ষিণ ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে তিনি একজন স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ। তাঁর কবিতায় শক্তিশালী সংবেদনশীলতার সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক দৃঢ়তার সমন্বয় লক্ষণীয়। The Black Hen (1995), কাব্যের অন্তর্গত পুরাণসংগ্রহ-১ (Mythologies-1) কবিতাটি Collected Poems (1995) গ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে। ]

পুরাণসংগ্রহ-১

যে স্তন সে বাড়িয়ে দিয়েছিলো
তা পূর্ণ ছিলো বিষে আর দুধে।
ঝলকিত চোখ হঠাৎ নিষ্প্রভ,
কণ্ঠ তার ছিলো রেশমি।

শিশু মুখে পুরেছিলো
তার স্তন আর ঠিক তা বক্ষের বাইরে এনেছিলো চুষে।
তার ধড় বিস্তৃত ছিলো উত্তর থেকে দক্ষিণে।

সে রূপান্তরিত হলো, সুপ্রভাবে ধ্বংস হলো,
প্রাণঘাতী মা হলো সুখী রাক্ষসী,
মৃত্যুর ভেতর জীবনের পেলো সন্ধান।

শিশুর মুখভাবধারী হে সন্ত্রাসী,
আমাকে চুষে করো বিশুষ্ক। পান কর  আমার হলাহল।
নবায়িত করো আমার নিশ্বাস।

১৪
কায়সার হক

যে সমস্ত প্রতিভাধর পুরোগামী বাঙালি ইংরেজি ভাষায় আধুনিক কবিতা রচনার ক্ষেত্রে বিক্রম ও ওজস্বিতা প্রদর্শন করে চলছেন কায়সার হক (Kaiser Haq) তাঁদের মধ্যে অনন্য। তিনি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর এবং কমনওয়েলথ স্কলার হিসেবে ফ্রেডেরিক ম্যানিং (Frederic Manning) এর সাহিত্যকর্মে ওরউইক বিশ্ববিদ্যালয় (Warwick University) হতে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কমিশন্ড কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি আলোকোজ্জ্বল কৃতি। ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ড. হক ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ হতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করছেন। তিনি অনুবাদকর্মে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

কবি, অনুবাদক, সংকলক ও সম্পাদক হিসেবে কায়সার হক দেশে ও বিদেশে সমধিক পরিচিতি। তাঁর প্রকাশিত কাব্যের মধ্যে Starting Lines (1978), A Little Ado (1978), A Happy Farewell (1994), Black Orchid (1996), The Logopathic Reviewer’s Song (2002), Published in the Streets of Dhaka: Collected Poems (2012), Pariah and Other Poems (2013); ভাষান্তরিত গ্রন্থের মধ্যে Selected Poems of Shamsur Rahman (1985), Quartet (Rabindranath Tagore’s Chaturanga (1993, 2011), The Wonders of Vilayet (2002); গদ্য গ্রন্থের মধ্যে The Perfect Model and Other Stories by Anis Choudhury (2010), A Woman Who Flew (2012); সংকলিত গ্রন্থের মধ্যে Contemporary Indian Poetry (1990); এবং সম্পাদিত জার্নাল/ম্যাগাজিনের মধ্যে Form: A Magazine of the Arts (1982-86), The Dhaka University Studies (1999-2001), Six Seasons Review (2001) উল্লেখ্য। কায়সার হকের কবিতা London Magazine, Midland Poetry Worksheet (Leicester), Acumen (UK), Wasafiri (UK) The Min street Journal (UK), The Cambridge Review, Chapman (Edinburgh), Ariel (Canada), The Daily Star (Bangladesh), New Quest (India), Form (Dhaka) প্রভৃতি সাময়িকী/পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

কবি ও মানুষ হিসেবে কায়সার হক প্রাণবন্ত ও হাস্যরসিক। খুশবন্তসিং তাঁকে অভিহিত করেছেন ‘jovial litterateur’ হিসেবে। তাঁর কবিতায় অন্তর্ব্যাপ্ত সংবেগ ও সূক্ষ্মদর্শিতার মেলবন্ধন বিস্ময়াবহ; কবির সংহত রূপকল্প প্রধানত শ্লেষাত্মক। প্রগাঢ় অন্তর্দৃষ্টি ও বৌদ্ধিক ক্ষিপ্র তায় কায়সার কাব্য প্রোজ্জ্বল। ‘দূরবর্তী আকাশ’ (The Distant Sky) কবিতাটি (The Logopathic Reviewer’s Song) কাব্য এবং ‘জাতির উদ্দেশ্যে নাঙ্গা পাগলার ভাষণ’ (Nanga Pagla Addresses the Nation) কবিতাটি Spectrum (July 2013) জার্নাল থেকে সংগৃহীত।

সৃষ্টিতত্ত্ব
(ঋগ্বেদের ‘নাসদীয়’ সূক্ত অনুসরণে)

আদি কালে
না ছিলো অস্তিত্ব, না অনস্তিত্ব,
না মহাশূন্য, না নীলিমা দূরবিস্তৃত,
না মৃত্যু, না অমরত্ব,
না দিবস, না রাত্রি…
(বিপত্তিটা কী!)
না বাতাস, না বাত্যা,
তথাপি কিছু নিয়েছিলো শ্বাস:
তা ছাড়া আর কিছু না…
(বিপত্তিটা কী!)
অন্ধকার আচ্ছাদিত করেছিলো অন্ধকারকে।
এ সমস্ত ছিলো জল।
তাপ প্রাণশক্তিকে করে জাগ্রত
এলো কামনা: মনের প্রথম বীজ…
(সংঘোষণ করে!)
কবি-সহচরগণ তাঁদের হৃদয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন
এবং অনস্তিত্বের মধ্যে অস্তিত্বের সন্ধান পেয়ে যান…
(খোদা!)
কী ছিলো ঊর্ধ্বে?
শক্তি! বীজ-রোপয়িতাগণ।
কী ছিলো নিম্নে?
প্রবর্তনা…
(এবং চাপল্য?)
প্রকৃতপক্ষে জানে না কিন্তু কেউ,
এ সমস্ত হতে পারে আত্ম-সৃষ্ট।
কোনো ঐশিক প্রভু যদি নিম্নে দৃষ্টিপাত করেন
দূরতম ঊর্ধ্বস্থান থেকে
তিনি জানবেন হয়তো।
হয়তো বা না।
বিপত্তিটা কী?
চলুন প্যারাডকসরাজির স্তুপ রচনা করি।

লেখাজোকার বাড়ি
সুমির জন্যে

সকল পাখির নন্দকানন
সাজার ছলনাকারিণী
এ শত একর ভূখ-ে আমি উৎকর্ণ থাকি
ঘুঘু আর কাকের জন্য
যাদের কূজন আর কা-কা ধ্বনি
ঠিক গৃহের শান্তির মতো

রিকসা ঘন্টার উন্মত্ততা আমার মনে পড়ে

আমি চোখ বন্ধ করি
আর আমার বুকে
তোমার মাথার ভার কল্পনা করি।

হথর্নডেন ক্যাসল, স্কটল্যান্ড, জুন ২০০০

দূরবর্তী আকাশ
(হাজং লোক-কাহিনি)
রফিক আজাদের জন্যে

এমন একটা সময় ছিলো যখন আকাশের অসীম নীলিমা আমাদের থেকে ছিলো না অসীম দূরত্বে বিদ্যমান। প্রকৃতপক্ষে বাতাসে স্থির হয়ে থাকতো তা পৃথিবীর কাছে, এতো কাছে যে কখনো কখনো কেউ ছুঁতে পারতো। এবং নিদ্রালু আকাশ রাতে ঝুলে আরো নিকটবর্তী হতো।
একদা ভোরের অন্ধকারে এক বৃদ্ধা তাঁর উঠোন ঝাঁট দিতে শুরু করেন। আকাশ এতো অবনত ছিলো যে তাঁর মাথা এতে লেগে যায়। আকস্মিক সংস্পর্শে বার্ধক্যের ক্রোধিষ্টতা তীব্রতর হয়, এবং সক্রোধে তিনি ঝাঁটা দিয়ে আঘাত করতে উদ্যত হন।
কিন্তু অদ্ভুত এক কা- ঘটে যায়। ঝাঁটা আঘাত হানে না আকাশকে। আকাশের স্থলে থেকে যায় শুধু শূন্য ম-ল।
আলো ফুটলে শিশুরা কুটির থেকে ছুটে এসে দেখে বিস্মিত হয়, এতো চেনাজানা ও নিকটস্থ আকাশ হয়ে গেছে নিরতিশয় দূরস্থ। পাছে ঝাঁটার স্পর্শে অপবিত্র হয়, তাই আকাশ আর পৃথিবীর সমীপবর্তী হলো না। তা সত্ত্বেও, রইলো না কোনো আস্থাবান মানুষ।

জাতির উদ্দেশ্যে নাঙ্গা পাগলার ভাষণ

এসো
আমার প্রিয় দেশের লোক
এবং মহিলাগণ
কাজের জন্য প্রস্তুত হও
চলো নির্মাণ করি
সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক
সেতু
আমাদের নিজস্ব
প্রাকৃতিক সম্পদ
ক্রান্তীয় সূর্য
এবং ক্লান্তিহর বৃষ্টিপাতের পর
মৌসুমী মেঘেদের দিয়ে
আকাশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত বিস্তৃত
সাত রঙের একটি সেতু

এসো
ছুঁড়ে ফেলো তোমাদের পোশাক
এসব ন্যাকড়া আমরা পরবো না
আর
আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার
সঞ্চয় গড়তে
ওগুলো শুধু রপ্তানির জন্য

মহামহিম
সম্রাটের মতো
আমরা পোশাক পরবো
আমরা আকাশ পরিধান করবো
মার্চ করে এগিয়ে যাবো
সাত সাগর আর
প্রশস্ত তেরো নদী
হতে কল্পনার রাজ্য অব্দি এ সেতু বিস্তৃত

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E