৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ২২২০১৬
 
 ২২/১০/২০১৬  Posted by
কবি তনুশ্রী পাল

কবি তনুশ্রী পাল

কবি তনুশ্রী পাল -এর কবিতাগুচ্ছ


শব্দ
১.

গেরস্থালি শব্দগুলি নামে
আমির ভিতর –
টুপ-টাপ
পাখির পেটের নিচে নরম আরাম!

২.

কিছু শব্দ ক্যামন ধারালো
আমার নৌকো থেকে –
খুলে নিল কাঠ ও কীলক
ঠেলে দিল দক্ষিণের বনে!

৩.

কিছু শব্দে
ভেজা ভেজা জিভ
বার বি-কিউ এর চিকন আগুন
শুষে নেয় অস্থিরস
ফোঁটায় … ফোঁটায় …


মাঝরাতের কবিতা

আপনিও কি শেষপর্যন্ত অভ্যাস?
গোলগাল সোনালি ফ্রেমের চশ্মা?
বাইফোকাল – পড়তে পারা না-পারার
ফারাকটুকু!
সাদা প্যান্ট মেরুণ সার্টের একঘেয়েমি?
আমি তো দুরন্ত বাদামি ঘোড়ার ফেনায়
মরুভূমি পেরোই,
বর্ষায় নগ্নস্নান নুড়ি-পাথরের
আপেল ক্ষেতে টুঁ দিই।
নক্ষত্র পাঠ করি মাঝরাতে
সাদা গোলাপের চাষী;
গোয়াল ও উঠোন নিকোই
হেমন্তে ধানকাটি!

আর … শ্বেতপাথরের সেই ঘর
ধস্ … ভাঙাচোরা চলছবির পাশে
নির্বিকার চুরুট ও লাল টেলিফোন
রোজ রাত এগারোটায়
আর কোনো কল নয় – প্লিজ্ …


তোমার তিতাস বুকে

যাবে বলেই আসা
ছিলে বলেই নেই
এসেছো এটাই সত্যি – ছিলে যে সেটাও।
তোমায় ‘থর’ মরুর গল্প লিখলাম
তুমি লিখলে লাল-গোলাপের বন
গোধূলিতে –
বলো পাগল না হয়ে পারি?
আমিই তো সেই
রাত চোঁয়ানো জল
তোমার তিতাস বুকে ঢেউ হয়ে যাই –
বেহাগ হয়ে বাজি!


ভাতফুলের গন্ধ

উদ্বায়ু অস্তিত্ব –
কাজে যাই – হাট ও বাজারে – কাছেও তো যাই
পাশে বসলেই বা দোষ হবে কেন ?

হিজাব আঁচল-শাড়ি বসন-ভূষণ
ব্যবহার রংচটা ছেঁড়া-ফাটা
আমার মতন!

সম্পর্কের সন্ত্রাস আজ মুখস্থে বসেছি
প্রতিদিন পাঠ করি এ বইয়ের পাতা –
প্রতিদিন চামড়া পুরু হয়;

হৃদয়-ওপর কোনো ছাদ নেই কেন?

আমার আঙুল যদি শিশার গরল –
কি ভাবে তা হলে আমি
মেখে দেবো ভাত – ব্যাকুল থালায়?
ফুলের নরম দেবো
ভিজে ওঠা
হৃদয়ের হাতে ……..


কবিতা ঈশ্বরী

ডাক আসে –
কবি ঈশ্বরী হয়ে ওঠেন,
সবাই স্তব্ধ হয়ে তার কথা শোনে;
আকাশে তর্জনী ছোঁয়ালে,
ঝড় গুটিয়ে ফেলে ডানা –
মেঘেরা কি যে করবে ভেবেই পায় না !
আকাশের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দিন ও রাত
মুখ চাওয়া – চাওয়ি করে!

কবি তখন ঈশ্বরীর মতো
সূর্যের মতো – চাঁদের বুক ধোয়া আলোর মতো
প্রতিটি তৃণ ও বৃক্ষ, অনু ও পরমাণুর মধ্যে
নিজেকে ভাগ করে দেন;
তারপুর মুঠোয় ভরে ন সাতরঙের বাতাস,
সোনালি মৃত্তিকা – কঠিন পর্বত …

তখন ঈশ্বরী আবার
কবিতা লেখেন …
অথবা কবিতা ঈশ্বরীকে …


উড়ন্ত কার্পেট

ডুবে গেছে শীৎকার মন্ত্রপাঠ
কবে সেই দুপুরেরও আগে
ঘুড়ির হুল্লোড় ছিঁড়ে সুতো বোনে
জটিল বুনন –
কানাগলি বুকের ওপর
কণ্ঠনালীতে চাপ
সুচতুর গিঁট ছিঁড়ে
মুঠোয় ধরেছি আজ
উড়ন্ত কার্পেট!


ভোর

ঠোটের ভাঁজে দৃশ্যমান লাল
কাঁপিয়ে দিল –
আপাদমস্তক,
কুঁড়ি জানে অমোঘ কৌশল
ইশারার – আর শেখে
সেই নিষিদ্ধ মেয়ে
বালু খুঁড়ে খুঁড়ে তোলে
নিভে যাওয়া ভোর –


শিকার

শুনতে পেয়েছি মোহনা পাগল
নদীটির শীৎকার
জলজ জরায়ুগর্ভে তখন
বৃক্ষভ্রুণের সাড়া
আলতামিরার গোপন গুহায়
শিকার শিকার খেলা –

বেজে উঠল জল
তোমার উড়ন্ত আঁচল
ঢেকে দিল আকাশ
মাথার ওপর প্রাচীন মেঘের মিথ-কথায়
ঝম্ ঝম্ বেজে উঠল জল
যতই চলে যাচ্ছো
শেষ সিগন্যাল পেরিয়ে
জড়িয়ে ধরছো আমার গর্ভফুল;
সাদা পালকের রূপকথার মতোই
নেমেছে তোমার ঠোঁটের নরম –


বান

যখন তখন নেমে আসে স্নানে
মাটি চাটে চুপে –
স্বৈরিণী-চান সারে গা-খুলে
আষাঢ়ি জ্যোৎস্নায়
ঘর ভাঙে এর ওর তার
জ্বরের তাড়সে কাঁপে একা

নৈঋতে কালচে ত্রিভুজ
জ্বলে নেভে
নেভে জ্বলে
সেও একা একা
তার জন্যে দরজা খুলে বসি

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E