৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
আগ ১৫২০১৭
 
 ১৫/০৮/২০১৭  Posted by

তৈমুর খান-এর প্রত্যুষগুচ্ছ


হাতে পায়ে কোনও জড়তার বেড়ি
চোখ বুজে বুজে এখনও আঁধার খুঁজি
আর্দ্রতা মেশাও আজ দিনে
আমার নেশাও গাঢ় হোক নির্ঘুমে


চুম্বন বিছিয়ে দিই নষ্ট ভাদ্র মাসে
মৈথুন থাকুক পড়ে কুকুর উল্লাসে
রাত কাবাড়ে আমি পাই ভাপ
আমি লিখি এ প্রত্যুষে দিনের হিসাব


ভোর হলেই ছেলে কাঁদা মেঘ
অবর্ষণে ভয় মেপে দেয়
আর একটু আয়ুর প্রান্তে
এগিয়ে যেতে যেতে
দেখি এই সকালে একটিও সকাল নেই আর


আলো আর চতুর সংযম
পরক্ষণ জুড়ে থাকে নতুন সংগম
দ্বিধা ছুঁড়ে মারো মৃত্যুর মতন
অথচ হাসির নিধি তুমি ব্রাত্যজন
নিজেকে রাখোনি বলে প্রত্যহ শয্যায়
আলো এসে তোমাকে জাগায়


চূর্ণ রাতের শিরা বেয়ে
দিনের রক্ত নামে দৈবের চরে
ঢেউ দিলে আমিও আমিষী
চেটেপুটে খেয়ে ফেলি বাউলের বাঁশি


কার মতো কে দেখতে হয়?
নীল যমুনায় একটি সকাল যায়
রমণের সূর্য ওঠে বলে
আমাদের নারীরাও রাধা
রাধাদের রঙ্গ দোলে কলসির জলে


আমাকে ডাকুক কেউ। ডাকুক।
আমাকে লিখুক কেউ। লিখুক।

আমাকে ভুলুক কেউ। ভুলুক।

তুলোর মতো উড়ছে কোনও ফুল
ছুঁয়ে নিচ্ছে এই সকাল আমার মর্মমূল


খুব সহজ গানের মতো ভেসে আসছে সময়
তার স্বরলিপি আমাদের মোহন বিলাপ
কপালের একগুচ্ছ বাসিচুল
সরিয়ে দিচ্ছে হাওয়া
এখন নূপুর পরে দুঃখদের শুধু আসা যাওয়া


কোনও পাকা ফলের খোসা খুলে দেয় দিন
দিনের মোহ
যেমন খুলে ফেলে দেহ
সমস্ত মন

আজ নিরালা ডাকছে
ডাকতে ডাকতে যাচ্ছে

আজও কি শুকুরী হয়ে উঠছে সভ্যতা?
প্রসব যন্ত্রণা তার ধর্ম ও সন্তান?

১০
লুকোচুরি খেলতে খেলতে গড়িয়ে যাচ্ছে বেলা
আমি পাচ্ছি ও প্রেম তোর মুগ্ধ অবহেলা
শয়নকক্ষ কী গুলবাগ ভ্রমরী বাথান
খিদের রতি হা-ফকিরি বাংলাদেশের গান
বাজা রে বগল বাজা
নষ্ট হয়েও পুষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের রাজা

১১
সকাল বলল, আর একটু শুয়ে থাকো
আমি বললাম রোদ উঠল

সকাল বলল, চিনতে পারো?
আমি বললাম, মুখ বাড়াও

কোথায় তোমার স্তনের চুচুক!
রাতে একা ঘুমিয়ে ছিলাম
কী দুর্বহ!

আমার মুখে দুধের গন্ধ
আমার মনে সে সন্দেহ

সকাল বলল, এখনও আছি
ডাকতে এসে দাঁড়িয়ে আছি

সব মানুষই চিরশিশু
কেউ সুকুমার পাগলাদাশু

দেখতে পেলাম চওড়া রাস্তা সরু পথে
কিংবা গলি হাইওয়েতে

১২
ঘুরে ঘুরে ধোঁয়া আসে
আকাশ বানায় মেঘ
মেঘে মেঘে ধূসর আলো
সিঁদুর মাথায় কারা আসে রোজ?
তাদের সবাই ভালো?

একটি জানালা খুলে
বস্তি পাড়ায় দেখি একটি সকাল এল

১৩
একটি নিমেষ আঁকা সূর্যের বলয়ে
শূন্য গ্রাস ঝুলে নামে চোখের উপরে
দু একটি পালক সাদা দিন
এভাবেই উড়ে উড়ে আসে
এভাবেই আমরা সব মায়ার অধীন
সংসারে অপত্য ঢেলে থাকি অর্বাচীন

১৪
কৃষ্ণচূড়া রাধাচূড়া ফোটে
কল্লোলিনী, তুমিও এলে ভিজে চোখের জলে?
আকাশগঙ্গা পেরিয়ে গেল থুবড়ি কোনও আলো
পরকীয়া যেমনই হোক মুগ্ধ দিয়ে যায়
পৃথিবীটা ঝুলতে থাকে কোনও পাখির ঠোঁটে
মৃত্যুকে আমরা সবাই জন্মদিন বানাই

১৫
আমাকে আজ প্রসব করো
কী কুক্ষণ নামল ঘরে
বৃষ্টি হলেও আগুনময়ূর
নাচ দেখাচ্ছে এই শহরে

ভিজতে গিয়ে পুড়ে যাচ্ছি
পুড়তে পুড়তে ভিজছি জলে
রক্তযোনি ভোরের আকাশ
প্রসব হচ্ছি অবাধ্য ছেলে

আজকে আমার হাতে খড়ি
লিখছি আগুন বাতাস জল
আজকে প্রথম পাঠশালা
পাঠশালাতে মিরাকল!

 


তৈমুর খান

তৈমুর খান

তৈমুর খান। জন্ম ২৮ জানুয়ারি ১৯৬৭, বীরভূম জেলার রামপুরহাট সংলগ্ন পানিসাইল গ্রামে। শিক্ষা বাংলা ভাষা সাহিত্য নিয়ে মাস্টার ডিগ্রি ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের কবিতা নিয়ে পি এইচ ডি। পেশা :  উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহশিক্ষক।

প্রকাশিত গ্রন্থঃ আটটি >-  কোথায় পা রাখি, বৃষ্টিতরু, খা শূন্য আমাকে খা, আয়নার ভেতর তু যন্ত্রণা, বিষাদের লেখা কবিতা, জ্বরের তাঁবুর নীচে বসন্তের ডাকঘর, প্রত্নচরিত ইত্যাদি।

পুরস্কারঃ  কবিরুল ইসলাম পুরস্কার, দৌড় সাহিত্য সম্মান এবং সুখচাঁদ সরকার স্মৃতি পুরস্কার ইত্যাদি।

ঠিকানা :  রামরামপুর, শান্তিপাড়া, রামপুরহাট, বীরভূম, পিন কোড ৭৩১২২৪, পশ্চিমবঙ্গ। ফোন নম্বর ৯৩৩২৯৯১২৫০

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E