৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ফেব্রু ২৭২০১৭
 
 ২৭/০২/২০১৭  Posted by

কবি পরিচিতি

স্বরলিপি

স্বরলিপি

স্বরলিপি। পিতা : আব্দুর রউফ সরদার। মাতা : মাহফুজা বেগম। জন্ম : ২৪ মার্চ, ১৯৮৯। জেলা : ফরিদপুর, থানা : মধুখালী। ডাকঘর : মথুরাপুর। গ্রাম : লাউজানা।  দুই ভাই এক বোনের মধ্যে স্বরলিপি বড়। ইডেন মহিলা কলেজ থেকে সমাজকর্ম বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে দৈনিক মানবকণ্ঠে কর্মরত রয়েছেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ  :  নিষিদ্ধ মুদ্রার ফসিল (গল্প)
সম্পাদনা :  সাহিত্য বিভাগ, মানবকণ্ঠ অনলাইন

যোগাযোগ : swarolipi2011@gmail.com

স্বরলিপি’র কবিতাভাবনা :
আমার মনে হয়, মানুষ  একই সাথে দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান জগৎ-এ বিচরণকারী। এই ভিন্ন জগতে সে দুই রকম ভূমিকা পালন করে। কারণ, দৃশমান জগৎ-এ মানুষ বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। আর অদৃশ্যমান জগতে মানুষ নিজেই নিজের নিয়ন্ত্রক। নিয়ন্ত্রিত এবং অনিয়ন্ত্রিত এই দুই মানুষ-সত্ত্বার কোন কোন সময় একান্তে মেলবন্ধন হয়, অনেক কথার বিনিময় হয়। কিছু কথা পেয়ে যায় ভিন্ন মাত্রা, হয়ে ওঠে নিজেরই প্রতিনিধি। আর সেটুকুই কবিতা!

স্বরলিপি’র একগুচ্ছ কবিতা


বোধের কফিনটা ভেঙেছে

এখন রোদ আসে-
মুছে যায় মিথ্যে পাখি- ছায়া-পথ
জমছে কিছু গন্তব্য…

তোমার প্রশ্রয়ে বুনে নেয়া তাঁতের শাড়ি
পরেছিলাম একবার
আমি আর নারী থাকতে পারিনি
রমনীও নয়।

তখন-
গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বন্ধ ছিল
মানুষের পাঠশালা।

প্রকৃতির ধারাপাত ভুল পড়েছি
ভুল করলে উত্তরমেরুর বরফ গলে
আমিও গলে যাচ্ছি
খুলে গেছে নাভিমূল….


মাটি আমার প্রতিবেশী

একটি বীজ গোপন করি…
একি অপরাধ?
দিন কিবা রাত-
বালিশে হাত দিলে নড়ে ওঠে চেনা-অচেনা শিমূলের বন
জানালার পর্দায় দৃষ্টি দিলে বেয়ে ওঠে রেশম পোকা।

সামনে পা বাড়াই-
ঘরের মোজাইক ফেটে নীল জল হেসে ওঠে;
সময়-সুযোগে আমিও হাসি।

এই হাসি আমার নয়…


বরাবর থারটি সিক্স চেয়ে থাকো রাষ্ট্র

এইতো, আজ সকালে-
নিটোল এক আপেল খেয়ে
মরে গেছে শিশু।
মায়ের দোষ দিয়ে-
শোকবার্তা লিখেছে খাদ্য অধিদফতর।
বিষের দোকান খুলে বসে থাকা কাকা-তাড়ুয়া
বড় বড় বিলবোর্ডে লিখে রাখে রসে ভরা কথা
এখানে, স্তন নিটোল রাখারও বিষ পাওয়া যায়….


সূর্যসেন আমার পুরনো প্রেমিক

‘হরিণী চোখ’ এই কথাটা বলো না তো
মনে পড়ে যায়-তুমি শিকারি ছিলে;
নদীতে ভেসেছিল পূর্ণিমার জ্যোন্সা আর তীরবিদ্ধ মৃতের মিছিল।

‘প্রিয়তমা’ সম্বোধন করবে না
ও নামে তো একজন আরেকজনকে ভালোবাসলেই ডাকে
ছলকরে ডাকে – কখনো কখনো ভালো না বাসলেও ডাকে।
এতো অভিধান খুঁজলেই পাওয়া যায়।

তোমার চিন্তাগুলো মূদ্রীত হলে
কত পৃষ্ঠার বই হতো বলো তো–
মুদ্রীত বই না হোক
একটা নিজস্ব অভিধান তোমার আছে

সেখান থেকে একটা নাম দাও
যা আর কারো নেই।

ওই নামে ডাক দিলেই
বাউকুড়ানি উড়বে
ছড়িয়ে পড়বে সময়ের দ্রবণ।
তবেই দেখা যাবে জন্মকাল-মহোৎসব।

মনে পড়ে গেল-
পুরনো প্রেমিক বলতে ওই সূর্যসেন
সে হরিণ শিকার করতো না
রক্ষা করতো প্রিয় মাটিকে
বদলে দিয়েছিল ভালোবাসার সম্বোধন..
বুনে দিয়েছিলো প্রতিশ্রুতির বীজ।
সবগুলোর নাম আমি জানি না।

তার বুক পকেটে পাওয়া এই চিরকুট
পড়ে জেনেছি
আমারই বুকের ভেতর উধ্বমুখী শহীদ মিনার
পাঁজরজোড়া স্মৃতি সৌধ।
এখানে তোমাকে আসতে হলে খালি পায়েই আসতে হবে।

এ আমার পুরোনো প্রেমিকের শিক্ষা
স্বাধীনতার অভিমুখে যার প্রেমের যাত্রা নেই
তাকে ভালোবাসবো না কোন দিনই না।


নখগুলো পেয়ে যাচ্ছে ডানার স্বভাব

আগামী হেমন্তে উড়বো
আনাচে কানাচে বুনে দেবো-বরফের ধারণা
প্রেম ও বিপরীত পৌষে গলে গলে-
ভেসে যাবে যা কিছু উষ্ণতার।
যেদিন ফুটবে মটরশুঁটিফুল
ঝরবো আবার…
আজ এই কথা থাক
নাটর থেকে সামনে এসো ‘জীবনানন্দ’
মুখোমুখী বলতে চাই-
সমুদ্রের নোনা জলে শরীরের ধারণা ক্ষয়িষ্ণু নীল
স্নানপর্ব খুললে মিলে যায় নির্জন দুপুর
খাঁ খাঁ রোদ্দুরের ফাঁদ- রাতের তলপেটে
অন্ধকার মিলছে না..
খুলে দিলাম বারো হাত শাড়ির বহর…
বসো পাতালগামী সীতার আসনে
এইসব পড় ’কবি’-
পড় সেই নারীর নামে
যে তোমাকে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো।


সুরতহাল প্রতিবেদন

কিছু সময়ের জন্য মুখের কাপড়টা সরিয়ে দিলাম
রাষ্ট্র আপনাকে মৃত্যুর কারণ জানাচ্ছে-
শরীরে চিন্তার নিকোটিন পাওয়া গেছে
চোখে জ্যোস্নার কোন দাগ নেই
চোখ থেকে খসে পড়েছে-
চন্দ্রমহলে ঢোকার সেতু
ঠিক যেখানে বনজুঁই ফোটে।
ইচ্ছের ঢেউগুলো উজানে যেতে যেতে
ভুলে গেছে ফেরার পথ
অথচ আপনি ছিলেন ভাটি রাশির লোক।
জেনে খুশি হবেন,
আপনি বেঁচে আছেন।
বেঁচে থাকার সময়ে-
বাঁচতে না পারা গল্পটা রোজ খাবেন একবার।


বৃক্ষ ভেবে শেকড় কেটে দিয়েছে কেউ

বহুতল ভবনের চিলেকোঠায়
দ্রুতগামী লিফটয়ে এসো না
প্রতিটি সিঁড়ি পায়ের চিহ্ণ ধরে রাখুক
তুমি বরং একটু পরেই আসো।

পাথরগুলো খনিজ
পায়ের চিহ্ণগুলো পাললিক
দুইকে তুমি এক করে নাও

চোখ থেকে ঢেলে দেবো
দু’ফোটা নোনা জল।
শূন্যতায় ওজন হারাবে প্রেম
আমরা-
আবহাওয়া সংকেত মেনে
অপেক্ষার সৈকতে উড়িয়ে দেবো লাল পতাকা।


বনসাই আয়না

শুনছো-এই এখন
বুকের ভেতর নড়ে ওঠেছে বুড়িগঙ্গা
দূরে-মেঘগুলো আজ কাঁসার প্লেট
কে যেন বাজিয়ে দিলো…

বৃষ্টি হবে-
বদলে যাচ্ছে আমার শরীরের রং
মুখটা দেখতে পাচ্ছি না
চোখের পলক ফেলো না তুমি

নিজেকে না হোক
ছোট ছোট গল্পের পাখিগুলো দেখতে দাও
শীত মেপে উড়ে গেছে পরিযায়ী আবেগ;

জ্যামে পরে নষ্ট হয়েছে কথার বহর
ভিআইপি রোডে তাদের প্রবেশ নিষেধ।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E