৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
এপ্রি ১৯২০১৭
 
 ১৯/০৪/২০১৭  Posted by
সুকুমার মণ্ডল

সুকুমার মণ্ডল

সুকুমার মণ্ডল-এর কবিতা-ভাবনা

কবিতা কাউকে কোনো জয় এনে দিতে পারে না, কিন্তু পরাজিত মানুষকে অনেকদূর পর্যন্ত আলো দেখাতে পারে। আমার কাছে কবিতা হল সেই অলীক ধ্রুবতারা, যাকে দেখা যায়, কিন্তু ধরা যায় না কিছুতেই… ধোঁয়ার স্পর্শ যেমন, উবে উবে যায়।

সুকুমার মণ্ডল-এর ছোট কবিতা


শিরোনামহীন

এইখানে কোলাহল, কামুক সমুদ্রের মতো
খুলে দেওয়া পিঠ
আর বাকি থাকে গভীর দূরবর্তী জল
থৈ থৈ ব্যথার মতো রঙিন স্থবিরতা
                অসংখ্য প্রদীপ-জ্বলা চোখ

সম্মুখে নোঙর ফেলেছে কেউ। আমি
সেই দাঁড়িয়ে রয়েছি একা – সূক্ষ ব্যবধান

মৃত্যু অথবা ঘুম, এর কোনো নাম নেই


ফুলগাছ

সমস্ত দিন ফুলগাছ। তোমাকে ছুঁয়ে বসে আছি

পরিচ্ছন্ন টব
কোথাও একটিও আগাছা নেই

সমস্ত বাগান জুড়ে সন্ধে নেমেছে
তোমাকে ছুঁয়ে বসে থাকব অনন্তরাত, যতক্ষণ না
ফুটে উঠছে ফুল


ঝাউগাছ     

হাতে ধরে ঝাউগাছ লাগানো বিপদ
পাঁচিল উঁচিয়ে ওই অভিসারে সে-ও
অজানা বনের দিকে চুপিসারে চায়

কতটা গোবর, সূর্য আর বালিমাটি
আঙুল-স্খলিত জল— রোপণরসিক  
ঘুমের প্রহরগুলি উড়ে চলে যায়

নিজেকে শোনাই গান রবি ঠাকুরের
সুদূরে বাঁধন খোলা শামুকের সুখ
নিচু হয়ে তুলে নিই পাতাঝরা ঢের
নতুন বোঁটায় যেন ফুটে ওঠে মুখ


অভিমান

জনপথ ছেড়ে যাই, ছেড়ে যাই আলো
জঙ্গলে ঢাকা ছিল কালভার্ট। আর সন্ধেবেলা
সুড়ঙ্গ আঁধার ছিল। ভেজা তার লতা-পাতা
ঝিঁঝি ডাক – আরও আরও একা –

কাঁটাবৃক্ষ নিশি…
সব শেষে এক কৃষ্ণচূড়া ভোর
যাব না ফুলের কাছে
একদিন সকল শূন্য করে ফুটেছিল ফুল


জলজ কবিতা

উঁচু জমি থেকে গড়িয়ে নামছে
                                                      জল
সব জল যেখানে জমেছে, তাকে
আমি পুকুর বলি না। সে-ও
এক জলের আশ্রয়


শ্মশানভূমি

স্বপ্ন নয়, পার্থিব। ঘুমের ভেতর
থৈ থৈ করছে পথ

পৃথিবীর সব রাস্তাগুলি
এক নদীশ্মশানের কাছে গিয়ে
আটকে পড়েছে
কোথাও আর পথিক নেই। শুধু তার
পদচিহ্নগুলি…


মন

অদৃশ্য মেঘের মতো
কোথাও যেন জমেছিল মন

মন কোথায়, খুঁজতে খুঁজতে চলে গেছি
দূর কুয়াশায়। খুঁজতে খুঁজতে
একদিন সর্বাঙ্গ ছুঁয়েছি তোমার


চিঠি

চিঠি লিখতে বসে
           চোখে জল
সব জল শুকিয়ে গেলে
           চিঠি লেখা শেষ


মুদ্রণপ্রমাদ

মেটাফিজিক্সের মতো চলে গেল চিত্রকর
তারপর আলস্য থামিয়ে দিল শিহরন, সমস্ত শরীর
মুদ্রণপ্রমাদ জড়িয়ে একা বসে থাকল কবি

“বৃষ্টি দাও, বাক্য দাও”— আমি বোবা বিধবা আকাশ

কার আকুতি?
চারিদিকে কেউ নেই, মেঘ নেই— শূন্য পটভূমি
তীব্র মনখারাপের মতো শুয়ে আছে বিস্তীর্ণ দুপুর

১০
পথ-ছায়া

ছায়া-ছায়া রোদ্দুর। কেউ যেন
জ্বালিয়ে দিয়েছে মোম, দূরে ওই
একলা হাঁটাপথ, অনাগত পথিকের জন্য
অপেক্ষা
কোথাও আর পা নেই, প্রণাম নেই

সাদা পৃষ্ঠা জু্ড়ে শূন্যতা
চারিদিকে মহাকাশ
বট গাছের নিচে কেউ আর বসে নেই
শুধু তার বিচ্ছিন্ন শিকড়     হাহাকার
 

১১
লন্ঠন

কে ওই বালক রাখাল
           উদাসীন লন্ঠন জ্বালে
মায়ের ঘরে নিয়ে গেলে
           বাবা অন্ধকার
বাবার ঘরে নিয়ে গেলে
           মা অন্ধকার

১২
উঠোন

সম্ভবত মাঝরাত। আলুথালু চোখ
ঘুমের বিছানা ছেড়ে
নিজস্ব উঠোনে দাঁড়াই। দেখি
ঘন হয়ে আসে
তুলসীপাতার গন্ধ। আর
নিমগাছ থেকে খসে পড়ে অন্ধকার

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E