৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ২১২০১৬
 
 ২১/১০/২০১৬  Posted by
কবি সুজাতা পালে

কবি সুজাতা পাল

সুজাতা পাল -এর একগুচ্ছ কবিতা


বিপ্রতীপ

দুজনেই বিপ্রতীপে অতিক্রম করতে চাইছি এই ভঙ্গুর সাঁকো
নিচে পাক খাচ্ছে তীব্র জলরাশি আর

গুমরে

মরছে

নীল

অভিমান ….


বাঁক

জল নেয় শৈল্পিক বাঁক
গাঢ়তম জলের সন্ধানে –
ভাঁড়ারে রয়েছে সব … পরিপূর্ণ
আলো নেই শুধু।
দূর দ্বীপে অপেক্ষারত আপনি
আমার কে?

অন্ধকার আলোর শত্রু


এবং ভূমিকম্প

এবং ভূমিকম্প প্রসঙ্গে বার বার উঁকি দেয় পাতালপুর
হাজার ছ্যাকরা গাড়ি গড়াবার আওয়াজ
বুকের ওপর জমে থাকা জল
উড়াল দিল আকাশে
যেন গ্রহের সব কটি রাজহাঁস পাল তুলে দিল
খুব জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে হাঁড়ির ভেতরে
পোড়া বুকে সেইসমোগ্রাফ ও প্লানচেটের নিবিড় আঁতাত
উঁচু পায়রা খোপগুলোর বিপন্ন নাচ…
এবং এই দোলনা সময় তুমি কল ঘরের আয়নায়
ভেনাসের নগ্ন সৌন্দর্যে বিমোহিত

এ উচাটন সময়ে অতর্কিতে যদি বেরিয়েই এলে দেবী
তবে সৌভাগ্যবানের ভুবন প্লাবনে উজ্জ্বল


ঘোলাটে

লাইফ লাইনগুলো হারিয়ে ফেলছি ক্রমান্বয়ে।
আর আশ্চর্য উপায়ে সরল রেখাটা
বাঁক নিচ্ছে নিরালম্ব বৃত্তের দিকে –
টাইফুন টর্নেডোর একেকটা বেসামাল ধাক্কায়
ছিটকে পড়ছে বল তীব্র ধাতব অনুরণনে …
একটা গোলকধাঁধার থেকে আরেকটায়।
আর এর নির্বাক নিথর দর্শকও তো আমিই
দায়ভারও বলের
হাওয়া তো নয় কার্যত দৃশ্যমান।
ভয়ে ভয়ে আমি ফেরিঘাটে, উঠেছি ফেরিতে
আর ভাবছি সাঁতার তো জানি না!
খর দৃষ্টিতে উড়োজাহাজ উঁচুতে যে
ধুরন্ধর বাজ! তার চোখে ধুলো দিতে হলে
খুব জরুরি এখুনি দক্ষ ডুব সাঁতার
অথচ পায়ে পায়ে অজস্র জলজ শেকল …
ধরা পড়া রুপালি আঁশের ঘোলাটে
অনিশ্চয়তা আর অসহয়তা নিয়ে
খাবি খাচ্ছি কেবল …


ধস

শেকড় উৎপাটনের বীভৎস শব্দে
কেঁপে ওঠে শিলামূল
সশব্দে ফেটে পড়ে উপল স্তম্ভ
দুদ্দাড় নেমে আসি পাহাড়িয়া ধস
আস্ত একটা টাটাসুমো দুমড়ে মুচড়ে যায়

ভেতরে থেতলে পড়ে থাকে রক্তাক্ত লাশ
সেই পথেই অনর্গল ধারা…
বয়ে যায় ক্লেদ গ্লানি পাপ
তৃতীয় নয়ন জ্বেলে দেখ ঈর্ষা নয় ক্রোধ নয়
ফুটে আছে পবিত্র পারিজাত


আলো

পথ জুড়ে উৎকৃষ্ট আঠালো আলো জ্বালো
শুধু কুশল বার্তা বিনিময়
তখনি সূত্র কেটে দাও
নৈঃশব্দ্যের তেলহীন আগ্রাসন …
শীতের রাজ্যপট …

সারাটা পথ গায়ে সেঁটে থাকা সুগন্ধী আলো চাই
অথচ বার বার বদলে নিচ্ছ কক্ষপথ


পিলার

সোনার দুর্গ ভেঙে পড়বার আশঙ্কায়
পিলার সাজাই তড়িঘড়ি
চোখ ছুঁয়ে ফলবতী নারকেল গাছ
মনে মনে বলি – শুভপ্রদ, সব ঠিক থাকবে
স্থলপদ্মের পবিত্র মুখের দিকে তাকিয়েও তাই
লাল বলটা যখন পশ্চিম দিগন্ত থেকে
মুঠো মুঠো আাবির ছড়ায় তখনও
একশো আট বার প্রাচীন মন্ত্র জপ
নিজস্ব ভঙ্গিতে বলি – ঈশ্বর আল্লা গড
রক্ষে কর, বাঁচাও আমার আলোর প্রাসাদ
অলক্ষে কে মুচকি হাসে জানি না
বহুরূপে এক নাকি একের মাঝে বহু
হঠাৎ দেখি অন্ধকার পিছু হটছে


রঙিন স্নান

যদি যাই অগস্ত যাত্রায়
যদি ভেসে যাই দূর বহুদূর
তিন সত্যি সত্যি বল
পুনর্জন্মে রাঙাবে পৃথিবী?
পাতা ঝাঁঝি গুল্মলতার
বাঁধন ছিঁড়ে রাজহাঁস
সবুজে চান করবে দেদার
অপূর্ব দহন জ্বালা জুড়োতে ফের
গোলাপ চারা পুঁতে দেবে বধ্যভূমিতে

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E