৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
আগ ১৬২০১৭
 
 ১৬/০৮/২০১৭  Posted by

সুধীর দত্ত-র কূট-দীক্ষা ও ব্রহ্মনির্বাণ


কূট-দীক্ষা

শব্দগুলি স্বরবর্ণের মতো নিজেদের পায়ে দাঁড়াক
এবং হয়ে উঠুক এক একটা রণ-পা
যেন সুখী গৃহস্থরা তাদের ভয় পায়।
বেশ্যা-মাটি দেখে যজ্ঞতন্তুর মতো তারা উড়ে যাক দ্যুলোকের দিকে
তাদের পা থেকে আমি খসিয়ে দেব ছন্দ
কোমর থেকে মুঞ্জতৃণের মেখলা।
ভাণ্ডারারা শেষে পড়ে থাকা সার সার ভাঁড় ও খুরির মতো
তারা যেন জলের দিনে কাদা-মাটি না হয়ে যায়।
অগ্নিস্নানশেষে কামারশালায় তারা কূটদীক্ষা লাভ করবে।
হে বেধযন্ত্র
কুঁদে কুঁদে প্রতিটি শব্দের ভিতর তুমি তৈরি করো আকাশ
আর বলো, আলো হোক!

 


ব্রহ্মনির্বাণ

চারিদিকে এই আমার ব্রহ্মনির্বাণ। রোমকূপগুলি
মুখগহ্বর।
আহার করি বায়ু —- পাতার মর্মরধ্বনি।
কুলুকুলু জল, এসো
হবিষ্যাণ্ণ হও; বৈশ্বানর অগ্নি
জেগে আছেন প্রাণ ও অপানের সন্ধিস্থলেl
এক ব্রাহ্ম মুহুর্ত।
ভেঙে ফেলা হয়েছে সব কিছু —– সপ্ত ধাতু পঞ্চকোষ ও
নির্মীয়মাণ অভিজ্ঞানসমূহ।
মুছে গেছে দিগন্তের সীমারেখা; আকাশ ও মাটি, বায়ু ও জল
গন্ধ হয়ে উড়ে যাচ্ছে শব্দের দিকে।
আমি আচমন করি।
পিতৃগণ ক্ষুধার্ত। পিণ্ড ও জল বহন করে নিয়ে যাও মেঘ।

 


সুধীর দত্ত

সুধীর দত্ত

সুধীর দত্ত সাত-এর দশকের অন্যতম কবি। জন্ম ১৯৫১ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। ১৯৭৯ সালে তিনি রাজ্য সিভিল সার্ভিস-এ যোগদান করেন। তার প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ : ‘ব্যাবেল টাওয়ারের চূড়া’, ‘আরশি টাওয়ার’, ‘প্রাকপুরাণ’, ‘দাহপুঁথি’, ‘কবিতাসমগ্র’, ‘তাঁবু মই ও শ্রেষ্ঠ কবিতাগুচ্ছ’, ‘হ্রেষা ও ক্ষুরধ্বনি’। প্রকাশিত গদ্যগ্রন্থ: ‘গদ্যসমগ্র ও প্রভু উবাচ’, ‘বোধিবৃক্ষতলে দেবতা ও তস্কর’।

‘তাঁবু মই ও শ্রেষ্ঠ কবিতাগুচ্ছ’ গ্রন্থের জন্য তিনি ১৪২২ সনের আনন্দ পুরস্কারে সম্মানিত।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E