৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ১৯২০১৬
 
 ১৯/১০/২০১৬  Posted by

কবি সোনালি বেগমের সাক্ষাৎকার
প্রশ্নবিন্যাসে কবি সুবীর সরকার

সুবীর সরকার: কবিতা লেখার শুরুর দিনগুলির কথা কিছু বলো আপা।

কবি সোনালি বেগম

কবি সোনালি বেগম

সোনালি বেগম: আমি তখন খুব ছোটো। আমার জ্যাঠামশাই-এর একটি ক্লাব ছিল। নাম ছিল  জলি ইউনিয়ন ক্লাব। ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। সেখানে ইংরেজদের বয়স্কাউট ও এদেশের ব্রতচারী ছাড়াও আরো নানা ধরনের খেলা ও শিক্ষামূলক ক্রিয়াকলাপ শেখানো হত। মহাপুরুষদের বাণী শেখানো হত। মানুষকে মানুষের মর্যাদা দেওয়ার কথা শেখানো হত। ধর্ম-বিভেদ না করতে বলা হত। সাহিত্যচর্চা, ছবি আঁকা, গান, নাচ, নাট্যাভিনয় সব হত। আমার বড়োদাদা ‘মুকুল’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন যেখানে ক্লাবের ছেলেমেয়েদের কবিতা, গল্প ও রচনা থাকতো। সেই ক্লাবে কিছুদিন খেলেছি, মনে আছে। আর যেটা মনে দাগ কেটেছিল সেটা হল বাড়ির পরিমণ্ডলে সাহিত্যচর্চা, ছবি আঁকা ও নাট্যাভিনয়। ক্লাবটিকে সেই অর্থে আমি আমার সরাসরি অভিজ্ঞতায় পাইনি। আমার জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত হওয়ার আগেই সেটি বন্ধ হয়ে যায় নানা কারণে। তবে তার পরোক্ষ প্রভাব তো ছিলই। আমার দুই দাদা আমার থেকে বেশ কিছুটা বয়সে বড়ো, তাঁদের লিখতে দেখতাম। বিশেষ করে বড়োদাদা খুব অল্প বয়সেই বিভিন্ন ম্যাগাজিনে লিখতেন

এবং এইসব লেখালেখির জন্য সেই বয়সেই বেশ কিছু পুরস্কারও পেয়েছিলেন। দুই দাদাই আঁকতেন, তবে ছোটোদাদা ছবি আঁকতেই সময় দিতেন বেশি। বাবা-মায়েরও এসবে খুব উৎসাহ ছিল। বাবা প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টে অনুবাদ বিভাগের প্রধান ছিলেন। পরে সেখানেই আইন পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হয়েছিলেন। এরপর বাবা কলকাতা হাইকোর্টে চিফ কমিশনার হয়ে ছিলেন। বাবা কয়েকটি ভাষা জানতেন। আমাদের ভাইবোনদের পড়া দিয়ে যেতেন, এসে পড়াতে বসতেন। কলকাতা থেকে কত সুন্দর-সুন্দর বই আর পত্রিকা নিয়ে আসতেন, আর পড়ে পড়ে শোনাতেন। সেইসব বই-এর মধ্যে ইংরেজিতে লেখা বই-ও থাকতো। বাবার কণ্ঠে সেইসব ইংরেজি ও বাংলা কবিতা ও গল্প শুনতে-শুনতে আমি সাহিত্যসৃষ্টিতে আগ্রহী হই। একইসঙ্গে দুই দাদার উৎসাহপ্রদানও ছিল। স্কুলে পাঠরত অবস্থাতেই বিভিন্ন পত্রিকায় আমার কবিতা প্রকাশ হতে থাকে। কলেজে ও ইউনিভার্সিটিতে পাঠরত অবস্থাতেও কবিতা লিখেছি কিছু পত্রিকায়। সেই পর্যায়কে আমি ‘শুরু’ হিসেবেই ধরছি। আমার প্রকৃত কবিতালেখার ‘চর্চা’ শুরু হল নব্বই-এর দশকে প্রভাত চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত ‘কবিতাপাক্ষিক’ প্রকাশিত হওয়ার পর।

সুবীর:  তোমার বাল্যকাল, বাবা মা দাদা ও বোনের কথা শুনতে চাই। কেননা তোমার পরিবার তো বরাবরই সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চাকে ধারণ করেছে বলেই জানি।

সোনালিদি: তোমার প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় আমি আমার বাবা-মা ও দাদাদের কথা ও সাহিত্যিক পরিমণ্ডলের কথা কিছু কিছু বলেছি। আমি যখন প্রাইমারিতে পড়তাম ‘কলতান’ ক্লাব আয়োজিত ‘বসে আঁকো’ প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলাম। সত্যজিৎ রায় সম্পাদিত ‘সন্দেশ’ পত্রিকার গ্রাহক ছিলাম আমি এবং আমার ছোটো বোন। ‘সন্দেশ’-এর ‘হাত পাকাবার আসর’-এ আমরা দুই বোন লিখতাম সেই সময়। আমার বোনের লেখা গল্প, ছড়া ও কবিতা কিছু কিছু পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছিল। সত্যজিৎ রায় সম্পাদিত ‘সেরা সন্দেশ’-এ ওর লেখা গল্প  রয়েছে। এরপর আমার বোন লেখালেখির চর্চা সেভাবে করেনি। বড়দা একটি ছাপা পত্রিকা বের করতেন ‘সাথী’। কিশোর পরিচালিত সেই পত্রিকার প্রশংসা বের হয়েছিল ‘দেশ’-এ সনাতন পাঠকের পৃষ্ঠায়। ছেলেবেলায় ছোড়দা ‘কিশোর প্রতিভা’ নামে একটি পত্রিকা করতেন। এইসব টুকরো টুকরো স্মৃতিগুলোই হয়ত কিছুই বলা হল না। তবুও এইগুলো বলার উদ্দেশ্য এই যে এইসবের মধ্যেই আমার শৈশব ধীরে ধীরে কৈশোর ছুঁয়ে যাচ্ছিল। আর কবিতার খাতায় ভরে উঠতে থাকল কিছু জীবন-কথা।

সুবীর:  লেখালেখি করতে এলে কেন?

সোনালিদি: আমার বাড়ির পরিমণ্ডলে লেখালেখি করাটাই স্বাভাবিক প্রবণতা ছিল। হয়তো সে-কারণেই আমার লিখতে আসা।

সুবীর: তোমার কবিতায় অদ্ভূত এক নিরাসক্তি আছে। খুব শান্ত করে কথা বলো তুমি। ব্যাক্তি সোনালির মতন কবি সোনালির কবিতায় হেমন্তের রোদের স্নিগ্ধ উজ্জ্বলতা! বড় মায়াবী কাব্যভাষা তোমার। কিছু বলো আপু।

সোনালিদি: মানুষের বাঁচা ব্যাপারটাই তো তাই। সেই বেঁচে থাকার মধ্যে আসক্তি যেমন থাকে, নিরাসক্তিও তেমনি থাকে। নিরাসক্তিটা এখানে ঠিক পরিপূরক অর্থে নয়। নিরাসক্তিটা হচ্ছে একটা বিচারবোধ। নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকে বিচার-বিবেচনা। আসক্তির পাশাপাশি এই নিরাসক্তিটাও সে-কারণে একটি প্রয়োজনীয় ব্যাপার। হয়তো আমার কবিতার মধ্যে তোমরা ‘নিরাসক্তি’ ব্যাপারটা দেখে থাকবে। কিন্তু ‘আসক্তি’ নেই, একথা বলা যাবে না। স্নিগ্ধতা ও মায়া তো আসক্তির জন্যই।

সুবীর: কবিতায় তত্ত্বের প্রভাব ও গুরুত্ব কতখানি?

সোনালিদি: পৃথিবী জুড়ে সাহিত্য ও শিল্পকলার নানা আন্দোলনে এবং বিভিন্ন দার্শনিক ও ভাবুকদের চিন্তাভাবনায় কত যে তত্ত্ব-র আবির্ভাব ঘটেছে! কোনো-কোনো তত্ত্ব একটু বেশি প্রভাব ফেলেছে, কোনো-কোনো তত্ত্বের প্রভাব কম। পৃথিবীর সমাজ ও মানবমন বিশ্লেষণ করে দেখার জন্য এই সমস্ত তত্ত্বের পাঠ নিশ্চয়ই জরুরি এবং তা আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতাও বটে। তবে কবিতালেখা বা অন্য যেকোনো শিল্পকার্যে সেইসব তত্ত্বের বা নির্দিষ্ট কোনো তত্ত্বের প্রভাব থাকতেই হবে, এরকম কিছু ভেবে সৃষ্টিকার্য করা যায় না। সৃষ্টিকার্য তো স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয়। তা নির্দিষ্ট কোনো তত্ত্বের ভারে কাঠ-কাঠ ও ন্যুব্জ হওয়া ঠিক নয়। তবে, প্রাবন্ধিক ও বিশ্লেষকরা এইসব কবিতা ও সৃষ্টিকার্যের মধ্যে নানা তত্ত্ব বা নির্দিষ্ট কোনো তত্ত্বের প্রভাব খুঁজে পেতে পারেন। সেটা অন্বেষণ করা তাঁদের কাজ, আনন্দেরও।

সুবীর: পোস্টমডার্নিজম নিয়ে তোমার ভাবনা জানতে চাই। ‘কবিতাপাক্ষিক’ পত্রিকা গোষ্ঠীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন তুমি। আর ‘কবিতাপাক্ষিক’ পোস্টমডার্নিজম নিয়ে অনেক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে একসময়। কিছু বলো।

সোনালিদি: ১৯৮৭ সালে বাংলাভাষায় কবি অমিতাভ গুপ্ত ‘উত্তর-আধুনিক’ কবিতার তাত্ত্বিক রূপ দেন। নব্বই দশকের প্রথমার্ধে সমীর রায়চৌধুরী বাংলাকবিতায় ‘পোস্টমডার্ন’ কবিতার তাত্ত্বিক রূপ দিয়েছিলেন। দু-জনের তাত্ত্বিক ভাবনার মধ্যে অনেকটাই মিল রয়েছে। অল্প কয়েকটি অমিল রয়েছে। ‘পোস্টমডার্ন’ শব্দের বঙ্গানুবাদ ‘অধুনান্তিক’ ––– বড়োদাদার বন্ধু প্রবাল দাশগুপ্ত এই শব্দানুবাদ করেছিলেন। ‘পোস্টমডার্ন’ এমনই এক তাত্ত্বিক ভাবনা, যেখানে আধুনিকতার সবটাই বর্জিত হছে না। আধুনিকতার যা-যা কিছু ভালো ও মঙ্গলকর ––– সেগুলোকে গ্রহণ করা হচ্ছে। এমনকী প্রাচীন ও মধ্যযুগের যা-যা কিছু ভালো ও মঙ্গলকর ––– সেগুলোকেও গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিহাসের পরম্পরাকে স্বীকার করেই ––– আধুনিকতার মধ্যে অবস্থান করেই ––– যা-যা কিছু আমাদের বাঁচার পক্ষে ভালো ও মঙ্গলকর সেগুলোকে এবং সেগুলোর ভাবনাকে নিয়েই ‘পোস্টমডার্ন’ ভাবনা। ‘পোস্টমডার্ন’ ভাবনায় বৈপরীত্যকে পরিপূরকরূপে ভাবা হয় এবং কোনো ভাষ্যই অন্তিম ভাষ্য নয়, তা আন-এন্ডিং অর্থাৎ অশেষ। এছাড়াও, আরো নানান দিক আছে ‘পোস্টমডার্ন’ ভাবনার, খুব ইন্টারেস্টিং, সন্দেহ নেই। সমীর রায়চৌধুরীর ‘পোস্টমডার্ন’ ভাবনাকে সত্যিকার যত্ন ও প্রচার দিয়েছিল প্রভাত চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত ও সম্পাদিত ‘কবিতাপাক্ষিক’। কর্মকাণ্ড অনেক। আমি দিল্লিতে বা গাজিয়াবাদের মতো দূরে অবস্থান করে যতটুকু পেরেছি নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখার চেষ্টা করেছি।

সুবীর: কার কার লেখা পড়ে শুরুর দিনগুলিতে প্রাণিত, তাড়িত হয়েছো?

সোনালিদি: প্রখ্যাত সব কবির কবিতা ও গল্পকার ঔপন্যাসিকদের লেখা ও প্রাবন্ধিকদের বিভিন্ন বিষয়ের প্রবন্ধ পড়ে নিজেকে প্রাণিত ভেবেছি। এরই সঙ্গে ছিল আমার অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার বিষয় ––– পদার্থবিদ্যা। বেশ কিছু নাম । রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, আলোক সরকার, শামসুর রহমান, আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুণ, প্রভাত চৌধুরী, কালীকৃষ্ণ গুহ, সমীর রায়চৌধুরী, মলয় রায়চৌধুরী ––– প্রত্যেক কবিই একেকটি পৃথক সৌরজগতের কবি। আরো বেশ কিছু কবি। প্রত্যেকেরই নানা রকম গুণ আমাকে টানে। প্রত্যেকেই নমস্য।

সুবীর: বাংলা কবিতার সাম্প্রতিক প্রবণতা কি? কবিতার আগামী ভবিষ্যৎ কি?

সোনালিদি: বাংলা কবিতার সাম্প্রতিক প্রবণতা হচ্ছে ––– প্রথমত ও শেষত ––– অন্তরাত্মার সঙ্গে বিশ্বের মানুষ ও বিশ্বের প্রকৃতির সংযোগসাধন। কবিতার আগামী ভবিষ্যৎ হচ্ছে আরো-আরো বিভিন্ন সব কবিতার উদঘাটন।

সুবীর: কামাল হোসেন তোমার বড়দাদা এবং নাসের হোসেন ছোটোদাদা। ছোটোবোন রুপালিও লিখতেন একসময়। দাদাদের লেখার প্রভাব তোমার ওপর কতখানি? দাদাদের পরামর্শ লেখার বিষয়ে কিভাবে পেয়েছো? জানতে চাই।

সোনালিদি: দাদাদের লেখার প্রভাব এসেছে কিনা আমি বলতে পারবো না। আমার পাঠকেরা তো দাদাদের কবিতার সঙ্গে কোনো মিলই খুঁজে পান না! কোনো-কোনো বিষয়ে যখনই দরকার পড়ে, দাদাদের অবশ্যই জিজ্ঞেস করি, আলোচনা করে থাকি। তবে নিজের লেখাটা ভিতর থেকেই উৎসারিত হয়ে আসে। সৃষ্টির ব্যাপারটাই তো তাই।

সুবীর: তরুণদের লেখা নিয়ে কি বলবে? তাদের কি বার্তা দেবে?

সোনালিদি: নবীন যারা লিখতে এসেছে, তাদের সকলেই তাদের লেখায় নানা ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ও অনুভুতির প্রণয়নের প্রচেষ্টায় আমার শ্রদ্ধা কেড়ে নিচ্ছে। কাকে ছেড়ে কার কথা বলি। নবীনদের একটাই বলবার, সেটা হচ্ছে ––– নিষ্ঠার সঙ্গে তোমাদের লেখা চালিয়ে যাও। অনেক সেরা কাজ করতে পারবে তোমরা।

সুবীর: ব্যক্তিগতভাবে জানি, তোমার ব্যাপ্তি বিশাল। প্রচুর পাঠক রয়েছে সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে। বাংলাদেশে তুমি বেশ আদরণীয়। কেমন লাগে? তোমার অনুভূতি?

সোনালিদি: বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি, এটা ঈশ্বরের দান। আমার কাজ শুধু কবিতা লিখে যাওয়া ––– একাগ্রভাবে এবং নতুন-নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নিবিষ্ট পরিচর্যায়।

সুবীর: তুমি গদ্যও তো লেখো। উপন্যাস লিখবে কি? কি ভাবছো?

সোনালিদি: গদ্য লিখি। গল্প লিখি। যদিও খুব কম লিখি। উপন্যাস? ভাবনার মধ্যে মাঝে-মাঝে আসে। দেখা যাক।

সুবীর: তোমার কবিতায় নিরুচ্চার এক বিষাদবোধ রয়েছে। একাকীত্বের অতলান্ত হাহাকার টের পাই। কি বলবে এই নিয়ে আপু? দীর্ঘদিন প্রবাসে আছো, বাংলার বাইরে। কোনো কষ্টবোধ? প্রবাসজীবন নিয়ে বলবে কি?

সোনালিদি: আমার কবিতায় বিষাদবোধ হয়তো থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু একাকীত্ববোধ বা হাহাকারবোধকে তো আমি প্রশ্রয় দিতে চাই না। আমার মনে হয়, তা নেইও আমার কবিতায়। তবে যে-কোনো সম্পূর্ণ শিল্পকর্মে সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বিষণ্ণতা আপনাআপনিই উঠে আসে, সেরকম কিছু হলে তা থাকতে পারে। সেরকমভাবে এসে থাকলে থাকতে পারে। জানি না। আমি নন্দনতত্ত্বের যে আনন্দ-সন্ধান সেই আনন্দের রচনাই করে যেতে চাই।
প্রবাসে আছি ১৯৯১ সাল থেকে। দিল্লিতে দশ বছর, তারপর থেকে এই গাজিয়াবাদে। বাংলার বাইরে থাকাটা নিঃসন্দেহে কষ্টের। আবার এটাও বুঝতে পারি, যে কবিতার মাধ্যামে বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের সঙ্গে সংযোগ করতে পারে, তাদের ভালোবাসতে পারে, তাদের ভালোবাসা পেতে পারে, সে বাংলার বাইরে থাকলেও একা নয়, সকলের সঙ্গেই তার অহরহ দেখাসাক্ষাৎ ঘটে চলেছে। এই দেখাসাক্ষাৎ-টা কি আনন্দের নয়, অবশ্যই আনন্দের।

সুবীর: তথ্যপ্রযুক্তি তোমাকে লেখাপড়ায় কিভাবে সহায্য করেছে?

সোনালিদি: প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ––– দুটোই খুব প্রয়োজনীয়। এখনকার নেটের তথ্যপ্রযুক্তি অবশ্যই নানাভাবে আমাকে সাহায্য করে থাকে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে যোগাযোগ সহজ হয়ে গেছে এবং নানান বিষয়ের বই, পত্রিকা পড়তে পাওয়া কোনো সমস্যা নয় এখন।

সুবীর: রোশনি ইসলাম। ভালো ছবি আঁকে। কবিতা লেখে। বই আছে রোশনির। মেয়ের কথা শুনতে চাই।

সোনালিদি: আমার কন্যা, রোশনি ইসলাম যখন নিতান্ত শিশু, তখন থেকেই বিভিন্ন রাগ-সংগীত শুনতে পছন্দ করতো। শৈশব থেকেই সাহিত্য ও শিল্পকলা তার আগ্রহের বিষয়। ফোটোগ্রাফিতেও। খুব অল্প বয়সেই তার লেখা বাংলা এবং ইংরেজি কবিতাগুলি, দিল্লি বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গের বইপত্রে তার করা প্রচ্ছদগুলি ––– সবটাই সকলের ভালোবাসা পেয়েছে, পুরস্কৃতও  হয়েছে। তার কবিতা ও ছবির মধ্যে সারল্য, মমত্ববোধ ও রহস্যময়তা বিদ্যমান। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বইপত্রও প্রচুর পড়ছে, অসুখ-বিসুখের মধ্যেও। তার এই একাগ্রতা আমার ভালো লাগে।

সুবীর: তোমার স্বপ্ন, আগামী পরিকল্পনা?

সোনালিদি: স্বপ্ন নিয়েই মানুষ বাঁচে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বপ্নগুলোকে রচনা করতে-করতে এগিয়ে যেতে হয়। অনেক পরিকল্পনা ফলপ্রসূ হয়, অনেক পরিকল্পনা ফলপ্রসূ হয় না। কিন্তু মানুষ থেমে থাকে না। মানুষের স্বপ্নও থেমে থাকে না। সেইসব স্বপ্ন নিজেকে যেমন উদ্বুদ্ধ করে, অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয়।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E