৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
নভে ১৫২০১৬
 
 ১৫/১১/২০১৬  Posted by
কবি সোহেল হাসান গালিব

কবি সোহেল হাসান গালিব

কবি পরিচিতি

সোহেল হাসান গালিব। জন্ম : ১৫ নভেম্বর ১৯৭৮, টাঙ্গাইল। বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা
চাখার ফজলুল হক কলেজ, বরিশাল।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ— চৌষট্টি ডানার উড্ডয়ন (সমুত্থান, ২০০৭) ;  দ্বৈপায়ন বেদনার থেকে (শুদ্ধস্বর, ২০০৯) ; রক্তমেমোরেন্ডাম (ভাষাচিত্র, ২০১১) ; অনঙ্গ রূপের দেশে (আড়িয়াল, ২০১৪)।

সম্পাদিত গ্রন্থঃ— শূন্যের কবিতা (প্রথম দশকের নির্বাচিত কবিতা) (বাঙলায়ন, ২০০৮) ; কহনকথা (সেলিম আল দীনের নির্বাচিত সাক্ষাৎকার) (শুদ্ধস্বর, ২০০৮)।
 
সম্পাদনা [সাহিত্যপত্রিকা] : ক্রান্তিক, বনপাংশুল। ই-মেইল : galib.uttara@gmail.com

সোহেল হাসান গালিব -এর কবিতা-ভাবনা

পাগলের চোখে পাগল কেমন? আফতাবকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। ও অসীমকে পাগল বলেছিল। শেষবার ওরা দুজন যেদিন তাকিয়েছিল নিজেদের দিকে, বাতাসে ফরফর করে উড়ে যাওয়া পলিথিন খপ করে ধরে আমি ঐ দৃষ্টিপাত আরও নিঃশব্দ ও নিরুপদ্রব হতে দিয়েছি। একটা ছোট্ট বাইনোকুলার নিয়ে হয়তো সেদিন ওদের দৃষ্টিকে অনুসরণ করা যেত, কিন্তু ভাবনার ভেতর ঢুকে পড়ে কোনোভাবেই কি পারতাম ওদের ভাষাকে অনুবাদ করতে? পাগলের কাছে পাগলামির ব্যাখ্যা দাবি করার চেয়ে আমার মনে হয় ঘুমের ভেতর দিয়ে জ্ঞানকে টপকে যাওয়ার চেষ্টা ভালো।

কবিতা লিখবার পর আলাদা করে কবিতা-ভাবনা লিখে জানাবার দরকার আছে বলে মনে করি না। কারণ, একটি কবিতার মধ্যেই কবির ভাবনা সম্পূর্ণরূপে ব্যক্ত হয়। অন্যভাবে বলা যায়, কবিতা লেখার মাধ্যমেই কবি শিল্প ও জীবন সম্পর্কে তার অনুধাবন ও অনুমোদন বা সংস্কার ও সম্মতি হাজির করেন, এমনকি অসম্মতিও।  কবিতা লিখবার বাইরে যা-কিছুই বলা হোক না কেন, তা বাহুল্য, সেটি আর শিল্পীর বা কবির বিষয় নয়, হয়তো সমালোচকের উপাত্ত। একই কথা খাটে কবির সমাজ-ভাবনার ক্ষেত্রেও।

কিছু ছেঁদো কথা তো বলাই যেতে পারে, আদৌ কবিতার সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে। এমনকি সেসব কথার মানবিক মূল্য থাকায় তা কবিকে এনে দিতে পারে লৌকিক মহিমা। কেননা আমরা ভুলে যাই, কবি একজন ব্যক্তিমানুষও বটে। ব্যক্তি হিসেবে অনেক দায় বহন করেও কবিতায় তিনি আশ্চর্যভাবে সেসব দায় থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেন। সেটি অপ্রয়োজন বা অক্ষমতা—দুইই হতে পারে। যদি অপ্রয়োজনীয় হয়, তবে ব্যাপারটি সক্ষমতার। ভেবে দেখবার বিষয়, একজন অ্যাক্টিভিস্ট, অনেক প্রপাগান্ডার পরও কেন কবিতার দ্বারস্থ হন, যেখানে মত প্রকাশের সমস্ত দ্বারই খোলা তার সামনে।

ঠিক সেই কারণে একজন কবি এমনকি নৈতিকতা-বিবর্জিত হতে পারেন, সমাজবিচারে। একথার মানে চারিত্রিক স্খলন, পতন ইত্যাদি নয়। নীতি দ্বারা পরিচালিত না-হওয়া বা নীতিপ্রতিষ্ঠার মহান ব্রত পালন না-করাকেই বুঝাতে চাইছি। আমি আমার কবিতাকে দর্শনের স্কুল, রাজনীতির সংগঠন ও সামাজিক সংস্থার কার্যোপযোগিতার হাত থেকে সতত বাঁচাতে চাই। কিন্তু চাই বা না চাই, এও জানি, কবিতার ঐতিহাসিক, নৃ-তাত্ত্বিক, ভৌগোলিক পাঠ এড়াবার সুযোগ নাই। নাই বলেই হয়তো তাৎপর্যহীন কবিতাও একটা বিশেষ কাল-পরিসরে অন্য এক তাৎপর্য তৈরি করে ফ্যালে।

সোহেল হাসান গালিব -এর কবিতা


জ্ঞান

নারী না পুরুষ? কে প্রথম আয়নায় দেখেছিল মুখ? আগুন কার আবিষ্কার কিংবা চাকা?

পৃথিবীর প্রথম-ফোটা ফুলের নামটি লিখে দেই অনায়াসে, এসব কথার উত্তরে। সর্বৈব মিথ্যা। সেও উত্তীর্ণ তবু। ভূষিত হয় পুরস্কারে।

প্রেমের চিঠিখানাও তবে ডাক-মাশুল ছাড়াই কি পৌঁছুবে তার কাছে? বাকবাকুম পায়রাগুলিই ভালো জানে।

হাসির বদলে, বন্ধু, পাঠালাম ওষ্ঠামৃত। এক কিস্তি। ভিস্তি ভ’রে। ওই মেঘের চিবুক লক্ষ্য ক’রে।

এর বেশি কী করণীয়! বেতালবংশের জাতক এসে কোনোদিন ভুল ধরবে না ছন্দে। ভুলের ভাণ্ডার নিয়ে এসেছি তাই। এসেছি মলভাণ্ডদেহে, বসন্ত-তোরণ—

নিজেকে বরণ করে নিতে।


নাগরদোলা

নাগরদোলা—নাগরকে দোলানো। দ্বিতীয়া তৎপুরুষ। হতে পারে নাগরের দোলা—ষষ্ঠী। নাকি, নাগরকে দোলায় যে নারী—বহুব্রীহি!

হি হি করে হেসে ওঠে ঘোড়া। যদিও সে কাঠের। বলে: যেটুকু পেরুবে তুমি কামবর্ত্মে, কামাখ্যার দেশে নাম তার নাম বৃত্ত।

তবু, বাক্যে, যেভাবে নিষ্পন্ন হয় সমাস, স্বপ্নের মধ্যে সময়, তেমন নয় তো কৃষ্ণগহ্বরের জন্ম, অভ্যুদয়। তবু ভয়। কেননা চংক্রমণের বাইরে চলে যেতে চায় দেহ। কেবল ঘাপটি মেরে পড়ে থাকে বেড়ালের মন।

অনুসন্ধানেরই উষ্ণশ্বাসে, মিথ্যায় রচিত সত্যের সঞ্চারপথ। সেও আবর্তন। গোষ্ঠগান। ভ্রমণের মধ্যে ‘ভ্রম’ লুকিয়ে থাকা।

কাঠের ঘোড়ায় বসে পিতা-পুত্র একই ভাবনা ভাবে। ভাবে কি না—জেনে নেবার আগে চড়তে নেই নাগরদোলায়। তড়িঘড়ি গিয়ে যারা উঠে পড়েছিল, দ্যাখো, কেমন ছিটকে পড়েছে!


যে মাছ সাঁতার শেখে নি

কিভাবে স্তব্ধতা ভেঙে খান খান হয়, পেতলের ঐ ফুলদানি জানে। আমিও নিটোল এ নিতম্বের গাম্ভীর্য আর দম্ভ চূর্ণ করতে পারতাম, কিছুটা সময় পেলে। কাঁচুলি মোচনমাত্র স্ফীত সব অহংকারও নুইয়ে পড়ে বিনয়ে, নারী বোঝে সেই পরিণতি।

মানুষের সন্ন্যাসব্রত ভাঙবার অনন্য আয়োজন এই পৃথিবীতে। এই পৃথিবীরই এক জল-কাদা-জংলার দেশে থাকি আমি। আর টুলে বসে পাঠ দেই শিশুদের, এর নাম টোল।

সুষ্ঠু সম্পাদনা মানে সৎ নিষ্ঠা। ব্যর্থতা মানে বেখেয়াল ভ্রষ্টাচার। এইসব কথা আমি শিশুদের নয়, একটি কালো ভ্রমরের মতো গুনগুন স্বরে বলতে চেয়েছি স্বর্ণচাঁপার ভ্রমে আচ্ছন্ন দুর্দান্ত এক নাভির নরকে নেমে। আহাম্মকের স্বর্গে বসে থাকা সেই মূর্খ বালিকাটিকে। দুয়ার-দেয়া ঘরের দাওয়ায় বসে তার, আজ সারাদিন আমি তাই মাটির ওপর জাদুর জাল বুনে গেলাম।

এক বৈষ্ণবী ভিক্ষা চাইতে এসে বলল, এ জালে কী মাছ ধরে গো? আমি বললাম, যে মাছ সাঁতার শেখে নি।  


ঘাট

এই সেই ঘাট। শান-পাথরের। জলেরও নিচে নেমে গেছে সিঁড়ি। পাতালের দিকে যেভাবে নেমেছে পৃথিবীর গল্প। স্নানঘাটে এসে কিছু গান গেয়ে ফিরে যায় লোক। মেয়েরাও আসে। সাতটি ধাপ পেরোয় তারা; ঠিক জানে, কোন ডুবন্ত সিঁড়িতে দাঁড়ালে বুকজল হয়। বুক ধোয়া জল তন্দ্রাবর্ণ—ছড়ায় চতুর-পাশে মন্দাক্রান্তা ঢেউ। কেমন পিছল ভাঙা সেই সিঁড়ি—এ খেয়াল করেছিল শিবমন্দিরের সাধুটি। সাধুবাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে অজুহাত নিয়ে আমিও এসেছি আজ। এসেছি আচমনহেতু। পারলে, একবার ডুব দিয়ে দেখে আসি, কী করে ফোটে টলমলে একটি টগর জলের গভীরে। সেখানে বেলফুলের সুবাস কীভাবে ছড়ায়? মাছেরা ঘুমায় না-কি বাসনাবুদ্বুদে!

কতটা সময় কেটে গেল তন্দ্রামগ্ন এই ভুবনের ঘাটে, ঘড়ি শুধু জানে। যে ঘড়ির ডায়াল মুছে গিয়ে জেগেছে দণ্ডী, পেছনে তার কাঁপাকাঁপা, ঘূর্ণমান দণ্ডকারণ্য।


পুথি

তার মুখ যেন এক গ্রন্থের মলাট, নামহীন, একরঙা প্রচ্ছদের পৃষ্ঠা। কাহিনি আড়াল করে রেখেছে যত না, তার চেয়ে অনেক মুদ্রণ। অবধারণের কাছে অনুমান হাঁসের ঠোঁটের নিচে শামুকের মতো। ঐ স্মিত মুখ এই কথা বলে খুব সাবধানে।

আমি তারে ডাকি পুথি বলে। যে পুথির মর্ম থেকে বের হয়ে আসে জল-কামানের গাড়ি, মিছিল-ভঙ্গের পণ। পারে না যদিও কোনো আগুন নেভাতে। অথবা চায় না সে, চায় না শিখাটির নাচ থেমে যাক ঐ শীতের বস্তিতে। কেবলই জাহির করে, শত্রুতা ছাড়াই হলো তার সাথে পাখি ও পাতার পরিচয়।

নিষ্ঠুরতা মানে বুঝি গম্ভীর গম্বুজ। তার মুখ চেয়ে কেন আসে মনে? ভ্যাবাচেকা খেয়ে সারাদিন ওড়ে কাচপোকা। দরদালানের ঠাণ্ডা ভিত শ্যাওলা-সুরভিত। অতীত ও ভবিষ্যের মাঝখানে বসে দুইদিকে মেলে ধরেছি মলাট।

আজ ডাকিনির চশমা, প্রেত-বর্ণমালা, পিশাচের হাসি রেখেছি সঞ্চয়ে।


সম্পর্ক

এখনই যেন দেখতে পাচ্ছি তাকে, যে-মেয়েটির জন্ম হবে আমার মায়ের ক্লোন থেকে। কেননা তার সাদৃশ্য তো মায়েরই সঙ্গে। ভাবছি, তাকে বোন বলে ডাকব না মা? অথবা খালা? নাকি সে হবে অন্য কেউ—অপর, অনাত্মীয়? তবে কি সম্পর্ক লুকিয়ে থাকে সম্বোধনের ভেতর! এমনও তো হতে পারে, বাবা তার প্রেমে পড়ে গেলেন। তারপর যেভাবে একটি দীর্ঘ বাঁশের গোড়া থেকে উঠে আসে করুল, সেভাবে আমারও প্রেম, উদ্ভিন্ন মুগ্ধতা একদিন নিমেষে হতচকিত করে দিতে পারে সকলকেই।

শোনো তবে ঐ প্রতিধ্বনি—ফুটছে ধ্বনির কোরক হতে, পাহাড়ের গায়। বিম্ব-স্রোতে প্রতিবিম্ব।

গাছগুলো না হয় দাঁড়িয়ে থাক রৌদ্রে, মূর্খপ্রায়, দূরে দূরে। ছায়াকে আলিঙ্গন করতে একটু পরেই নেচে উঠবে ডালপালা। ভূমিদস্যুর আড়ালে সে হাওয়া বয়। প্রান্তরে কোথাও কোনো তৃণ-ঘাস নেই, তির-বল্লমের মতো মাথা উঁচু ক’রে। নেই আর গোত্রপ্রেম।

অনন্ত ঘৃণাবর্ষে পড়ে আছি শতাব্দীর ম্লান পাণ্ডুলিপি, কর্কট-ঘর্ঘটে এক মুদ্রণযন্ত্রের কাছে।


পাপ

পাপীরাই পারে খোলাশা করতে নিজেকে পরস্পরের কাছে। পুণ্যার্থীরা পারে না। যেমন, পরস্ত্রীকেই পাওয়া যায় উদারভাবে। বলো, সে কবে তার স্বামীর চিবুক ও নাসিকার কাছে এমন উজাড় হয়েছিল!

এই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে টগর পালালো তার মামীকে নিয়ে। পালাবার প্রয়োজন ছিলো বুঝি! টগরের মতো আমরা পারি নি। খুনের মামলা পেছনে ফেলে রেখে সে টেনে নিয়ে গেছে জীবন, আমাদের সব ত্রিকোণমিতির বাইরে। সে-ই প্রকৃত পুষ্প বটে, মাল্য তার লাগে না।

যেদিন আমরা কারামুক্ত হবো, জানি ঐ টগরই আসবে জেলখানার গেটে। বেপরোয়া ভালোবাসার পাশে নিচুস্বর বাবামা’রা আসবে না।

পাপ কি তবে কোনো চাবি, পাসওয়ার্ড—গুম্ফার গায় লেখা? সুড়ঙ্গ পেরুতে গেলে ওকে ছাড়া মাকড়-বিছাও কি অসহায়? এই জিজ্ঞাসার ভেতর যে হেঁয়ালি আছে, দেখলাম তাতে খর্বকায় এক জাদুকর হেসে হেসে বলছে কথা ভীরু বালিকার সাথে। সরু গোঁফে তা দিতে দিতে।


ভুল

একটি শব্দ লিখতে গিয়ে কবি যে মুহূর্তে বানান ভুল করে, ঠিক তখনই ব্যথায় বিকৃত হয়ে পড়ে ঐ শব্দের মুখ। আমি লক্ষ করি চুপচাপ বসে। আর শুদ্ধ করে গোপনে তা লিখে রাখি হাতের তালুতে। যাতে কবিকে সে অভিশাপ না দেয়।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনর্গল বক্তৃতায়, বাগ্মী নেতাটিও যখন ভুল করে বাক্য, বাক্যের আর্তনাদ আমি শুনি। মনে মনে আউড়ে নেই ঠিক করে। যেন জনমত বিরুদ্ধে না যায় তার।

এত যে ভুলের হুল আমাকে বিঁধে, তার থেকে ঝরে পড়া এক বিন্দু রক্ত যদি দেই তোমার তিলকে সেও কি ভুল হবে?

পরিশোধনের জন্য প্রক্ষালন কত না সহজ! কতবার আচমন তুমি করেছ এই হেতু, এ জীবনে, জানতে ইচ্ছে হয়।


প্রেম

প্রেম এক মায়াবী ম্যাকিয়াভিলিজম। নৈশ স্কুলে ভর্তি হওয়া গুটিকয় শাদা ফুল এই পাঠ শিখেছে। শিখছে নিরন্তর। না হলে নিদ্রার ভার, সুরভি ঘুচায় কেন—যখন ঝিমায় মেট্রোপলিটন? সন্দেহ-সাঙাৎ হয়ে মেকুরও চিনেছে মেকি, মুকুরের কাছে। পড়েছে সে ঢুকে সাজঘর-মুখে। পৃথিবী দেখছে তার বেকুব বোনের হাসি, একটি অতল অনিচ্ছার পাশে মিউ শব্দ তুলে।

দেবো তবে ঘৃণার ঘৃতাহুতি ঢেলে, যদি জ্বলে ওঠে এমন আগুন টগবগে এক টমেটোর গায়ে আলতো আঙুল ছুঁলেই—এই পণ ছিল কার স্বপ্নে পাওয়া? পণ ভেসে যায় সিন্ধুনীরে, পণ্যের চালান খর্ব ক’রে। নড়ে ওঠে বাতিঘর। আছড়ে পড়ে জাহাজঘাটায় ঘড়েল ঢেউয়ের ফণা ও ফিশফাশ।

খালাশি-মহল তারে বলে কারবারি, বলে ‘সুমুন্দির পুত’—হয়তোবা নয় বড় সমাদরে। ঈর্ষার ইশারাময় অস্তিত্বের দিশা, সেই জানে ভালো। তাকে ছাড়া কাকেইবা দরকার, রতি-বিরতির সম্বন্ধ পাতাতে—গাছের পাতাও যদি আজ থেকে থেকে রাধা-নাম বলে।

কথার কার্পাস ফাটিয়ে কেউ বাতাসে ছড়িয়েছে বুজরুকি। তা-সব নিয়ে উড়ে যাচ্ছে তুলা। সকল দিগভুলার কথা এইবার বুঝি জানা যায়।

আর কী কী যায় তবে?—কাচারি ডিঙিয়ে—তারপর পেরিয়ে বাথান…এবং কে কে ফিরে আসে—সুগন্ধ ও সান্ত্বনা ছাড়া?

প্রবোধ-প্রাচীর দিয়ে ঘেরা যে দুর্গ, তার নাম সুপ্তি। তারই সুড়ঙ্গপথে গোপন সম্পর্কের মতো গুপ্তধন কেবলই পাচার হয়ে যায়।

১০
প্রতিধ্বনি

পাহাড় থেকে একদিন ঝর্নাজলের মতো লাফিয়ে পড়ে হারিয়ে গেছে সে। হারিয়ে যাওয়ার নেই কোনো উচ্চতা ও ভর। চিরবিষণ্ন ভার শুধু আছে। যে ভারে নুইয়ে পড়ে আকাশ ও আলমান্ডা। তবু কার জন্যে এইসব ফেলে যাওয়া—এই উৎকণ্ঠার চকিত রঙধনু আর ঘুঘু-শূন্যতা, উপল-বন্ধুর পথ…

সঙ্গী-পুরুষ সেদিন তার নাম ধরে ডাক দিয়েছিল মেঘবিদারী কণ্ঠে। সেই প্রথম, মানুষের উচ্চকণ্ঠী উতরোল হাহারব। কিন্তু কী আশ্চর্য! শুনতে পেল, ঐ নামে আরও একজন ডাকছে তার সঙ্গিনীকে দূরের পাহাড় থেকে।

তবে কি আর কাউকে সে ভালোবেসেছিল, গোপনে, শাখাজটিল বুনো পাহাড়ের ছায়াভাঁজে লুকিয়ে নিঃশব্দে? আজ তার মৃত্যুতে বেরিয়ে এল শেষে, আড়ালের সেই স্বর?

এ মৃত্যু না পলায়ন! তারা নয় একই সমীকরণ দিগন্ত ও সীমান্তের? নিগূঢ় অহম ভেদ করে আরও কত সরল জিজ্ঞাসা উলঙ্গ হয়ে পড়ে। যেন খশে পড়ে বাকল, শীত আর অপরাহ্ণের আলতো টোকায়।

এক পাহাড় থেকে নেমে অন্য পাহাড়ের দিকে অমনি লাগালো ছুট। উন্মাদ যুবকের প্রিয়াহারা ডাক দূরে সরে সরে যায়। মাঝখানে পড়ে থাকে উপত্যকা, গিরিখাদ। ওপার থেকে ডাক দেয় তার নারীটিকে আরেক উন্মাদ।

১১
কথাকাহিনির দেশে

যেন আমি এক সূচকুমার। কঙ্কণদাসীটির সাথে আছি। অথচ জানি না, কাকে রানি ভেবে করেছি প্রাসাদ রচনা। এ দালানদুর্গ দাঁড়িয়ে আছে নির্ঝরিণীর গীতরোল বিভ্রমের পাশে, রৌদ্রতেজ-মাখা ভুল স্তম্ভের উপর। এইখানে কাজলরেখা নান্মী বাঁদিটির সাথে প্রতিদিন দেখা হয়। প্রতিদিন মুগ্ধতার মুখোমুখি আমি। সে বলে না কিছুই। এমনকি শুকপাখিটির কথাও কোনোদিন।

তাহলে এই পাথরপ্রাঙ্গণে বসে দূর্বাদূর পৃথিবীর শেষ বয়ান শুনবো কার কাছে! ঘটনা ব্যাখ্যার দায় তবে কে নেবে আর! নিথর অট্টালিকা হয়ে আমি কি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকব চিরদিন, মৌনভঙ্গ ঝড় ও ঝর্নার পাশে, কার্পাশ তুলোর মতো শাদা, শাল্মলি-দম্ভের উপর!

এবার বাণিজ্যে যাব। ‘বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’—এই লক্ষ্য ভুলে। যাব সপ্তডিঙ্গা বেয়ে সপ্তসিন্ধুপারে। বর্ষ মাস পক্ষ দিবসের বেলোয়ারি ধাঁধা চুরমার করে ভেঙে। যদি ফিরে আসি বা নাই আসি, তুমি আজ অন্তত একটা কিছু চাও। অন্তত বলো, কথাকাহিনির কোন দেশে আছে সেই পাখি—

তির-বেঁধা, অর্ধমৃত। স্বর ফুটেও বেরোয় না তার কণ্ঠ থেকে…

পৃথিবীর কিছু প্রশ্ন বোবা আর নিরক্ষর গাছের পাতায় শুধু লেগে থাকে। এইটুকু জানি। জানি কৃষ্ণসার হরিণের পাঠ্য সেসব। দলছুট হয়ে তারা আসে নদীর কিনার ধরে হেঁটে। নদী যেনবা শুধায় : নৈঃশব্দ্য কি তবে সবুজ শিরোরেখা? শিশিরেরও ভাবনা হয়। ক্রমশ ভোরের দিকে, ঘুমেও কিছুটা শিরশির ভাব জাগে।

১২
মোটিফ

আজ রাতে কেবল গল্প লিখতে ইচ্ছে হয়। কেবলই গল্প, তাসুড়েদের উত্তেজনার নিচে বিছানো ঠান্ডা ছেঁড়া কাপড়ের বোবা আল্পনার মতো। আজ রাতে সকল কিছুই—গুম মেরে থাকা অন্ধকারও—যেন বসে আছে তর্ক ভুলে গিয়ে। নরম টিশু পেপারের যত অনুযোগ হাতের মুঠিতে চেপে হয়তো এখুনি ছুড়ে ফেলবে তাকে বাইরে। ‘সব কিছুই ভেস্তে গেছে’—মুখ ফস্কে বলবার প্রয়োজনও নেই—রাত্রি পৃথিবীর এমনই এক নিটোল ওয়েবসাইট।

আফ্রিকার উজাড় হয়ে যাওয়া বনের শুকনো শিকড়ের ঘ্রাণ আসছে, ঢালাওভাবে, হাহাকারহীন। কলম্বিয়ার দিকে ছুটে চলা জাহাজের মাস্তুল থেকে উথলে উঠে আলো আকাশে তারার গতিপথ বাতলে দিচ্ছে বলে ভ্রম হয়। সেও কোনো ভ্রম না-কি! যেখানে প্রতিটি কাজের শুরু কলহ-কলশ থেকে চলকে-পড়া পানিতে মুখ ধুয়ে, যেখানে প্রতিটি নকশা আঁকা সেই ধারালো ব্লেডে সুচালো পেন্সিলে, সেই মাছের শকল আর মেয়েদের নখর নখরামির মতো শাদা ব্লেড, যে ব্লেডটিকে কদাচিৎ মানুষের দু’ঠোঁটের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতে আমিও দেখেছি।

এখানে ভূমিষ্ঠ হবার আগেই শিশুর কান্নায় মুখরিত হবে দশ দিক, এই স্বাভাবিক। অথচ বাতাসে বাঁশপাতার আওয়াজও নেই। সেইসব ভূর্জপত্র, তালিপত্র—কিচ্ছু নেই। দেয়ালে নাচের মুদ্রা তুলে ফ্রিজ হয়ে গেছে ময়ূরপালক শুধু। রাতভর সেসব পেখম হয়তো খুলে নেয়া যেত। কিন্তু হঠাৎ দশ বছর আগে ঝড়ে মারা-পড়া বাঘের কবল থেকে পালানো হরিণটিকে দেখলাম নড়ে-চড়ে উঠতে, শিংমস্তকে। পান্ডাদের কীর্তি পণ্ড হবার উপক্রম হলো মনে হয়। মনে হয়, বাইসনও ঘুরে দাঁড়াবে এবার, তার হাড়হাড্ডি নিয়ে, ঐ মহিষকুড়ার দিকে।

যারা একদিন ঝাণ্ডা ফেলে চলে গেছে আন্ডারগ্রাউন্ডে, তারা আজ নিশীথের চারদিকে খুলে বসেছে কোচিংসেন্টার। আমি এর পাঠক্রম আর বানাব না। নারী-বিদ্বেষী প্রবচন শেখাব না কোনো বালকেরে। স্বচ্ছ বরফের জানালার পাশে বসে তুহিন-তুফান, চেয়ে দেখব চেরি ফুল, কবরের ভেতর থেকে গোলাপের গন্ধে উন্মনা মৃতের হৃদয়টাকে তুলে এনে। আর তোমার জন্যে, গল্পের গুহায় ঢুকে পড়ে রেখে যাব দুএকটি মোটিফ অন্তত, এস্কিমোদের।

১৩
দ্বিমুখা বাজার

পৌঁছে গেছি দ্বিমুখা বাজার। মুদ্রা-অচল দেশ, ঝনঝন হাওয়া। চলে শুধু সওদা-বিনিময়। পুব দিয়ে ঢুকলে পশ্চিমপথেই বেরুনো নিয়ম এখানে। কেননা দক্ষিণে নদী, উত্তরে জঙ্গল।

এপথে আসার কথা ছিল না আমার। ভুল বাসে উঠে পড়ে এই দশা। কাকে দোষ দেই আর! একই নামে বাস দুই দিকে যায়। কেন যায়? জিজ্ঞেস করলে হেল্পার বিরক্ত হয়। কনডাক্টার বলে, ঘুমের ভিতর থিকা জিগান নাকি! উত্তর দিমু কেমনে?

ঘটনা কি তাই? সর-সর আওয়াজ দিয়ে জেগে ওঠা বাঁশঝাড় আর যেসব শিমুল ও কড়ই গাছ দেখে পথ চিনে নেবার কথা, তারা যেন গভীর কোনো বনের ভেতর হারিয়ে গিয়েছে। সেইসব সাইনবোর্ড তবে কি স্বপ্নে দেখেছিলাম, গন্তব্যের চেয়ে গূঢ় সব দিঙনির্দেশনা? দেখেছিলাম তো গোরস্থানটিকেও, দুপুরবেলার ছায়ায় নিঃশব্দে যার দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়।

গোপনব্যাধির আরোগ্যভরসা, অনারোগ্য ঘুমের ভেতর জানালা দিয়ে ঠিকই ছুড়ে দিয়েছিল কেউ। বোকা লিফলেট। নিরীহ প্রস্তাবের মতো পড়ে আছে কোলের ওপর। স্বপ্নে গিয়ে পৌঁছুতে পারে নি। যেমন পারি নি আমি। গন্তব্য থেকে প্রায় উল্টো পথে চলে এসেছি।

এখন লজ্জা হয় এই কথা জানাতে যে, গন্তব্যই ছিল না আমার। পৃথিবীর ধাতুরাজ্যে, ভাষা ও সংকল্পের মধ্যে কেবল ‘গম-গম’ গানে ঐসব কবেই ফুরিয়ে গেছে। সন্ধ্যার খয়েরমাখা মেঘ হয়ে এখন দাঁড়িয়ে আছে মাঠের শেষে। একটা মঠ তৈরির বাসনাবায়ুতে ফুসফুস ফুলিয়ে।

ফিরতি বাস ছাড়তে খুব বেশি দেরি নেই। বাস থেকে নেমে ফের বাসে উঠে পড়ার ফাঁকে আলতো সময়টুকুই ঘুরে বেড়ানোর জন্য সবচেয়ে ভালো, নিরাপদ। এমন মন্ত্রণা কানে আসে। বিশেষত দ্বিমুখা বাজারে। গন্তব্যের এই পাল্টাপাল্টিতে। কার্যত সবার অগোচরে।

১৪
পিত্রালয়ে

পিত্রালয়ে, কখনোবা মনে হয়, পেয়ে যাবো পূর্ব-পুরুষের দিনপঞ্জি খুলে, উল্টে পাতা ভুলে-ভরা আত্মজীবনীর, গোপন নির্দেশ। পেয়ে যাবো মনে হয়, তাই পড়ে আছি, পরিহাস্য হয়ে।

নাই সেই রাজহাঁস। সোনার ডিমের গল্প শুধু গড়ালো। সোনালি খড়ের স্তূপে আর কিছু নয়, ভাঙা যত খোলশের গায়ে দেখি তাই সাপের চলার দাগ। কোনো পায়ের আওয়াজ নেই, যেমন নেই হারানো উপত্যকায় নেমে আসা ভালুকের গন্ধ। তবু ঐ পথ হেঁটে হেঁটে হৃদয়ের গুপ্ত সাম্রাজ্যের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। যেন মৌর্য সভ্যতার কাছে পাষাণমূর্তির মতো প্রস্তর-জিজ্ঞাসা নিয়ে। কবে যে সবাক হবো চিরনির্বাক নিখিলে মানুষের কলরব হঠাৎ ছাপিয়ে!

পিত্রালয়ে, পিতৃত্ব কি পাব? সেও কি চেয়েছি আমি?

পৃথিবী বলছে কানে কানে, তুমিই অভিভাবকত্ব গ্রহণ করো এবার। যেন এই ‘অভিভাব’ ছিল ভাবনা থেকে পালিয়ে এতদিন। আজ তাকেই ডেকে এনেছে মধুবনের মৌমাছি। এসে বলছে, যারা বিদ্রোহ করে তাদের নাম পাল্টে দাও আর চুপ করে বসে যাও দণ্ডবিধির বৈকুণ্ঠধামে।

পিতার কবরের পাশে পাতাবাহার ও রঙনফুলের গাছ। থোকা থোকা প্রশ্ন ফুটিয়ে চেয়ে আছে ওরা; ‘জল ঢালো আমাদের শিকড়ে শিরায়’—এই আকাঙ্ক্ষামলিন মাটির দিকে। যদিও পিতৃত্বের উষ্ণ আলোকসম্পাতে শিশিরবিন্দুতে এসে ভোর হলো। ধূলি মেখে আর ধূলি মুছে তারপর, মোরগের ডানারঙ গোধূলিকে পার হয়ে না যেতেই, হে উড়ালবাসনা, এ তর্পণভরা সাঁঝে ‘মালতীকে পৌঁছে দিস আড়ি’—এক মুমূর্ষু প্রেমিক আমায় বলে। আমারই ফেরার পথে ছিল তার যাওয়া। বন্ধুত্বের বৈতরণীপারে। সেইখানে সন্ধ্যার দুয়ার খুলে কে আছে দাঁড়িয়ে প্রতীক্ষায়? কার জন্যে?

রিরংসার স্বেদকণা যে পথে ঝরে না, যে পথের হাওয়ায় খশে পড়ে শুধু ছল ও ছলম, বাজুবন্ধ্ বেজে ওঠে জানকীর গহনার মতো, সেই পথরেখায় দাঁড়িয়ে পাহাড়কে পুত্র বলে ডাকি, সমুদ্রকে কন্যা।

দ্যাখো মেঘ, শুয়ে আছি আসমুদ্রহিমাচল। ঐ দূরে নিকুম্ভিলা। এইখানে শরশয্যা, এরই নাম শবাসন। মনে আছে স্মার্ত, কালপুরুষের দিকে চেয়ে একদিন কলিঙ্গের ধারে বসে জ্বেলেছিলাম শীতের হোমানল?

১৫
রামপ্রসাদ

চাই না মাগো রাজা হতে—গাইতে গাইতে যখন চলেছেন রামপ্রসাদ এই তরঙ্গাকুল ভবনদী পেরিয়ে, তখন ভোর কি সন্ধ্যা ঠিক ঠাওর করতে পারি নি আমরা।

অথচ মর্মের মন্দির থেকে তাই শুনে ঘুরে তাকালেন জগন্মা। পরম কৌতুকে। অমনি দেয়াল ভেঙে দ্বার খুলে গেল নদীমুখে। দক্ষিনে-মন্দির এক নিমেষে হয়ে গেল পশ্চিমা।

তখনও, আমাদের হাতে বেজেই চলেছে মোহনবেণু। আমরা জানিও না, হোমধেনু কোন গোঠে চরে। দূর থেকে দেখতে সে কেমন।  প্রান্তরের শেষে আছি কি না লোকালয়।

কোথায়বা অহল্যা? ধরিত্রীর হৃদয়ে হারিয়ে যাওয়া কোন বনপথের ধারে?

কেবল বুঝতে পারি দিন ফুরায়, কেননা ক্লান্তি মন্থরার মলিন হাসিটি ছুঁয়ে নেমে আসে পূরবী-কল্যাণের ছায়াপথ ধরে। টের পাই, কখন ভোর হলো, কেননা দুঃস্বপ্ন ঠেলে দেয় আমাদের, ক্ষুধা ও খনিজের অন্বেষণে।

এমনি কত ভোরের আলোর মৃদু সন্তাপের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে দেখেছি দুএকটি দীর্ঘশ্বাস পড়ে আছে আয়ুর গালিচায়। রঙ নেই তার, এমনকি কোনো গন্ধ।

আমরা সবাই তখন বেরিয়ে পড়েছি খুন্তিহাতে। উঠে এসেছি অনুচ্চ পাহাড়ের কোমর বেয়ে প্রাচীন, শ্যাওলাঢাকা পাথরের কাছে। এখানে মিলবে ঝর্না—যারা বলেছিল, হায়, ন্যুব্জপিঠ সেই মানুষগুলির এতদূর আসাই হলো না।

হঠাৎ ছলছল শব্দ শুনতে পাই আর ঘোর কেটে যায় সঙ্গে সঙ্গে।

কী চেয়েছিলাম তবে? এই প্রশ্ন মুহূর্তে আছড়ে পড়ে ঝর্নায়। আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করি, তৃষ্ণা মিটে যাবার পর একটি পাখির ডানার নিচে গোটা পৃথিবীকে মনে হলো বাঁকা দিগন্তের মতো ঈষণ্নীল, অভিশাপের মতো বোবা।

তারায় রচিত রাত্রিটির শেষ কথা যখন মুছে গেছে ভাষাহীন চোখের চত্বরে, হয়তো তখনই, শুধু একবার তাকাতে পারি সেই গুহার গভীরে, যেখান থেকে আকাঙ্ক্ষার জন্ম হয়। কে তাকে বলেছিল অন্ধকার, বলেছিল ভীষংকালো—যে না-কি নিজের ভেতর তাকাতেই শেখে নি, যে আজও শুনতেই পায় নি আপন কণ্ঠস্বর।

সে আছে কংকালের মতো, কামনা-কিংকর হয়ে। মন সরে না তার। ফিরেও সে দেখে না আমাদের।

আমরাও যেন, তাই পারি না ছেড়ে যেতে।

 

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E