৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুলা ১৯২০১৭
 
 ১৯/০৭/২০১৭  Posted by

শিশির আজমের একগুচ্ছ কবিতা


মোদ্দা কথা

সমালোচকদের থোড়ায় কেয়ার করি
কবিতা আমাদের মতোই হবে।
কী লিখবো কীভাবে লিখবো
তা কি আমাদের চেয়ে বেশি কেউ জানে?


নীল কুকুরটা

প্রতিযোগিতায় টিকে আছে হাসপাতালের দীপ, ঘুমছাঁপ নেই।
পায়ে পায়ে এলো কালো রক্ত, কি করবো,
টবের নিবিড় ফুলগাছ, হাসপাতালের কোলাহল, নীল কুকুরটা
হয়তো বীজের ভিতরেই ছিল, ছোট্ট বীজ।
ঋতুবিবর্তন কে দেখেছে – কুয়ো তৈরি।


নদী ও গ্রামের দ্বন্দ

গ্রাম যদি ইচ্ছা করে তবে নদী দুহাতও না।
গ্রামের সগর্ব মূর্তি অক্ষরসম্পন্ন। নদীরও জানা আছে পাহাড়ের
বেশ কিছু দুর্বলতাচিহ্ন
ইস্পাতবাড়িতে সন্যাসযাপন কেউ কেউ দেখেছে, হচ্ছে না
আর পথে পথে ফুল, প্রতিটি ঢেউয়ের শীর্ষে লেগে আছে।
গ্রাম যদি অন্ধ হয় গ্রামের শ্রবণশক্তি যদি শূন্য
তবে গুচ্ছ গুচ্ছ কাশে কেন হাঁসের লুকোনো ডিম
গোপিনীবস্ত্রের নতুন পুরনো সব গাছ কেন
ডালপালাসহ শ্বাস ফেলছে নদীর কাঁধের পরে?
শ্রীধর কথক স্মৃতিচিত্রে, তলে তলে
আমি যে তোমার পা ধুইয়ে দি
একে ভাবো বিবর্তনপথ –
ঝিনুকের কষ্ট, ইলিশ সুরত স্তরভেদী,
সাধ্য হলে
প্রতি বিন্দু মাটি মিশিয়ে নিতাম আমার পাঁজরে।


নির্বোধ আবহাওয়া দপ্তর

মেয়ে কত বড় হয়ে গেছে।
আবহাওয়া দপ্তর বলছে তিন দিন বৃষ্টি থাকবে – বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ।
আমাদের সময়ে বারান্দা ছিল না, নৌকো চলতো শব্দ হতো না –
ঝাঁপশা লাইনটা, আশ্চর্য এইমাত্র যেই বসিয়ে দিয়েছি
মেয়ের নেভানো খাতার অসমাপ্ত লাইনের পাশে
কি বলবো, আবহাওয়া দপ্তর – ওর মা – আমি আর মেয়ে
একই উত্তপ্ত নৌকোয়


ফিদেল

আমার প্রেমিকা ফিদেলের নাম শোনেনি
আমার মা জানে না বিপ্লব কি জিনিস
আমাদের চাষীরা জানে না কিউবা দেশটা আসলে কোথায়
আমাদের শ্রমিকেরা পুঁজির সংজ্ঞা শেখেনি
কিন্তু
যেহেতু আমাদের রাষ্ট্রের মালিক মূলত কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানি
যেহেতু আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা সরবরাহ হয়
ওয়াশিংটনের অফিস থেকে
যেহেতু সেচকাজের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলেরর দাম
আরেক দফা বাড়ছে
যেহেতু শিশুদের পুষ্টিহীনতা মারাত্মক পর্যায়ে পৌছেছে
আমাদের সবার বুকে উচ্চারিত হয় একটি নাম
ফিদেল


নিজেকে আমি প্রেসিডেন্টই মনে করি

নিজেকে
আমি
প্রেসিডেন্টই মনে করি
কুয়াশার পাহারাদারদের ভিতর
আমি আর হাঙর
পিঁপড়ের জালে
পায়ের তালুতে ফোটা পেরেক
তাজা
যা নীল দেয়ালকে পরিশুদ্ধ করে তোলে
কে বলতে পারে
ঘাসের বীজের ভিতর দিয়ে
কীভাবে
রাগী চওড়া নদীটা
বেরিয়ে গেল
সূর্যের কোন আচ্ছাদন লাগে না
কুয়াশা কুয়াশাই
আমি
সত্যিকার আমি


ইবলিস

স্বর্গের
খুব কাছে
পৃথিবী
ইবলিস জানতেন
ঈশ্বর
কী
ইবলিস ছাড়া
আর কার পরিষ্কার ধারণা ছিল
মানুষ
ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি
পৃথিবী
মানুষের জগৎ
ঈশ্বরের প্রিয়পাত্র
ইবলিস
পৃথিবীতে এলেন
মানুষের কি
দাসত্ব মানায়


লেখকের দোকান

বলুন কোন ফর্মুলায় আপনাকে লেখা দিতে হবে
কতো লাইনের
কতো পৃষ্ঠার
লিখে দিয়ে যান
না না একদম ভাববেন না
কতোটুকু যৌনতা
কতোটুকু রাজনীতি
সে আমি সঠিক পরিমাণে মিশিয়ে দেবো
হ্যা তারিখটা লাল কালিতে লিখুন
সময়মতো লেখা পেতে অসুবিধা হবে না
না না চেকটা আমাকে না
ওটা আমার সেক্রেটারিই দেেখ


দুটো মহিলা

দুটো মহিলা বাগানে অনেকক্ষণ গল্প করছিল
তাদের সাদা ব্রা
বাচ্চারা বিকেলে খেলা করছিল
মহিলা দুটো খেয়াল রাখছিল বাচ্চাদের দিকে
আর আতঙ্কিত হচ্ছিল এই ব্যাপারটা জেনে
যে এক কোটি বছরেও খরগোশ প্রজাতি বিলুপ্ত হবে না
দুটো মহিলা বাগানে অনেকক্ষণ গল্প করছিল
তাদের ব্রা সাদা

১০
নিমগ্ন

১|
তোমার স্তন
আগের চেয়ে এখন খানিকটা ভারী
আর ঘন
তবে আমাকে তা বহন করতে হয় না
স্তনে মুখ রেখে
কেবল কথা বলে চলি
আমার আত্মার সঙ্গে

২|
ভোরে শুয়ে আছে শিশু।
তোমার স্তনের বৃত্ত
আশ্রয় দিয়েছে দুজনকে।

১১
এলোমেলো নকশার কারুকাজ

তুমি কি চলে যাবে
যাও
আমি বাতাসে ধরে রেখেছি ঠোঁট
আঁধারে আশা
হয়তো কেউ কেউ পথে বেরোয়
মন ছাড়াই
আমি কোথাও কখনও জয়ী হইনি
কোথাও হারিনি
ধারনা করা সহজ আমার ফুলের টব বাতাসে উড়ছে
আমার সাদামাটা নাম যা নিয়ে খেলছে কুয়াশা
সময়ের ওপর জোরাজুরি চলে না
তবে জানা-অজানা কোন কিছু থেকেই
আমি মুখ ফিরিয়ে নিইনে
সাদা কাগজের দেখা পাওয়া কত কঠিন
তুমি কি চলে যাবে
যাও
আমি দেখেছি শালিখের বুকের ওঠানামা
সবুজ ধানে দুধ
জীবন এক ভাবে গড়ে ওঠেনি
জীবন এক ভাবে চলে না
জীবন এক ভাবে থেমে থাকে না
তুমি কি ফিরে যেতে পার
তোমার নিরবতা থেকে তুমি কি বাঁচতে পার
ভোরের উঠোনের আবছা ছায়া
আগুনের চেয়ে কঠোর
তোমার তৃতীয় চোখ
তোমার পৃথিবীতে শোধ নিতে
মরিয়া
আমি দেখেছি একটি রাত
ছিঁড়ে পড়েছে আরেকটি রাতের বোঁটা থেকে
আমি দেখেছি সেই বোঁটায়
পেঁচার পাখনার ছাই
ছোট ব্যাথা হারিয়ে যায় বড় ব্যাথার কাছে
পুরনো সকাল থেকে হঠাৎ ঘ্রাণ ছড়িয়েছে
দেয়ালের লাল কালি
চাষীর উঠোনে পায়রা
পানপাতাদের ক্ষোভে জ্বলছে পানের বরজ
ঘাস কথা বলছে শিশিরের সাথে
সরষের ক্ষেতে নিচু পায়ে হাঁটছে চাঁদ
মা দেখেছে মেয়ের নবিন খোঁপায় প্রজাপতি
তোমার মতো
আমি ওদেরও সব জেনেছি
যত বাহানা তা লুকোনো হাসিতে সহায়
তুমি কি চলে যাবে
যাও
বেঁচে থাকা খুব সহজ না
পাগলামোর দাম আছে
আমি বাতাসে ধরে রেখেছি ঠোঁট
আঁধারে আশা
হয়তো কেউ কেউ পথে নেমেছে
মন ছাড়াই

 

শিশির আজম

শিশির আজম

শিশির আজম

জন্ম : ২৭ আক্টোবর, ১৯৭৮
ঠিকানা : এলাংগী, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ।
পছন্দ : চায়ের দোকানে আড্ডা

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :
ছাই (২০০৫)
দেয়ালে লেখা কবিতা (২০০৮)
রাস্তার জোনাকী (২০১৩)
ইবলিস (২০১৭)

Mail: shishir01978@gmail.com
88-০১৭১৭ ৩৮৭৯০৭.

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E