৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
নভে ২৪২০১৬
 
 ২৪/১১/২০১৬  Posted by
 শিমুল জাবালি


শিমুল জাবালি

পরিচিতি
শিমুল জাবালি। জন্মঃ ২২শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১ । চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ।
সম্পাদনা । গাড়িয়াল ছোটকাগজ
যোগাযোগ । ০১৭১৬৭৮২৪২২
ইমেইল । shimulshil6@gmail.com

শিমুল জাবালি’র কবিতা-ভাবনা

পাতা দোলে। দুলতে থাকে। আমি দেখি। দেখতে দেখতে একসময় পাতাকে বিছানা মনে করে শুয়ে থাকি। ওদিকে বংশী বাজায় কবুতর, নৃত্য করে পেখম ভাসিয়ে। উজানে আমার চিন্তাই হানা দেয় কবিতা আকারে। বাস্তবতাকে ক্রুশবিদ্ধ করে স্বার্থপর এক অনন্য জন্ম হয় আমার। নিজের হৃদয়কে নিংড়ে ভাঙচুর করা প্রতিদিনের কর্মযজ্ঞ হয়ে যায়।

কবিতা নিয়ে ভাবতে গেলে প্রতিনিয়ত কবিতাকেই জন্ম দিয়ে ফেলি। স্বত্বাকে বিকিয়ে দেই পরম মায়ায়, দোয়াতের তুলিতে। তবুও অপূর্ণতা থেকে যায়। আর সে অপূর্ণতাই আমার কোঠায় কবিতা ভিন্ন অন্য কিছু বসত গড়ে না।

লাঙল টানি উত্তর-দক্ষিণে। ফলা ভেঙে যায়। রথী সেজে বোঝাপড়া চলতে থাকে শব্দের সাথে। শব্দ আমাকে আশ্রয় দেয়, আমি মাথা গুঁজে লুটিয়ে পড়ি শব্দের ক্রোড়ে। কুঞ্জমিলনে হয়তবা নাড়িছিঁড়ে জন্ম হয় আমার কবিতার। আমার আমি।

রাত্রির হতভম্ব প্রেয়সী ঘন্টি বাজায় বাতাসে। সে শব্দ কবির কর্ণকুহরে পৌঁছায় না। কবি তরুলতা পেঁচিয়ে ঘ্রাণ শুকে নেয় কবিতার কলসি নিতম্বে। সঙ্গম করে শিরা-উপশিরায়। সম্ভবত এটাও আমার কবিতা। কামার্ত প্রেয়সী ঘন্টির সুর বন্ধ করে না। ওদিকে কবির সেতার সুর তোলে কৃষ্ণাঙ্গ সংগীতের। শাড়ির আঁচল খুলে দিলে ঈশ্বর জেগে উঠেন। হীমক্লেশ বহন করে আমাদের উঠোন। আমার উঠোন। আমার কবিতা। আমার বানপ্রস্থ।

শিমুল জাবালি’র কবিতা


হাত থেকে উলটকম্বল পড়ে যাবার আগে

চুনখোঁচা বটের পাতায় মন্দিরার ব্ল্যাক মেটাল জামা আঁকলে ফুলশার্টও মানুষ হয়।
পান খাওয়ার রহস্যময় হাসির গন্ধ উতরিয়ে পাখি নৃত্য করলে জাহাজবাড়ি ভেঙে যায়। পাখি বটফুলের বাড়িতে ফিরে আসে।

সহ্যকার মেঘের খবর নিশ্চিত হলে বেগম রোজ সকালে মোচড়ানো শহরকে বর্ষার কোকিল ভেবে ভুল করে। আমরা ভুলকে সঙ্গম করতে দেখি।

ছাইরঙা ছিটকিনি পাশে রেখে মা হাতাকাটা শার্ট শুকাতে দেন। পেয়ারা নারীরা শার্টের কলারে চুমু নিতে জানে। মা কলার নামিয়ে রাখেন। আমরা প্রেমিকার গতরে মাংস খসাই।


শেষ দিকের রাস্তাঘাট

পুরনো রাস্তাঘাটের দোকানে দিব্যি বাঁচার আনন্দে একটা বুক, বিড়াল চাঁটে। বাঁশের কোপ্তা, গ্রামের বালতিতে আড়ম্বর। আড়ালে বসে থাকা শিং, প্রকোপ গোত্তা পর্যন্ত দুলতে জানে। বালক বয়সের দৌড়ঝাঁপ সম্মেলন শুরু হয়।

পাকুড় গাছ মাঝেমাঝে কেউ কেটেকুটে ছাইরঙা শহর বানাতে ঔদ্ধত্য। গাছটির বিলাসিতা একটু বেশিই। আর্ট গ্যালারিতে রোজ ঝুলতে দেখি। চোখের সামনে আত্মহত্যার পেটিকোর্ট ওড়াতে দেখি।

বগল কাটে কাঁচা মনের কাঁচুমাচু। মানুষের গন্ধ ধুম্রজাল। অজানা বাগানে যেসব কাঁদুনি মেলা বসতো, তারা মানুষের সংসারে।

সংসার- শুধুমাত্র কাঁঠাল আর ঝাউপাতার অদ্ভুত আনন্দ।
মানুষ- শুধুমাত্র দুগ্ধপোষ্যের অদ্ভুত সৎকার।


শব্দদূষণের কবিতা- লেজার ট্রিট

অর্জুন থেকে অ ফেলার দিনে সোজাসুজি দাগ কাটি সেমিজের টসটসে বুকে। অর্জুন বসন্ততের বেসিনে আগুনের চামচ নিয়ে দৌড়াতো। যে টগবগে বায়ুতে বাতাবি সুর মেখে নিতো তাকে সমুদ্রের তীরে বসে থাকতে দেখেছি। আদতে সে হোয়াইট ফ্যাঙ।

ধেয়ে আসা আলগা চুলের হলুদ রিবন দারুণ সাঁতরাতে জানে। হাতের ঠাউরে অনুভূতিসমগ্র।

হারিয়ে গেছে প্রস্তাবিত খুন। বাসস্টপের হুইসেলগুলো জমাট বাঁধে খুনীদের নখে। তব্দা। খুনি হতে পারিনি।

রাইজোম আত্মার কিলবিল হুড়োহুড়ি গাছের ডালে আটকে যায়।


ভাঁট ফুল

পুকুর ধারে যে অর্জুন গাছটি দেখো তারই বারান্দায় বসে ভাঁট ফুলের ঘ্রাণের ভেতর ঢুকে যেতে পারো। আবিষ্কার করো পিঠের নিচে চাপা পড়া কাপড়কে।

চুমু দেবার পর হারিয়ে গেছে আমাদের বন্ধুসম তুমি। আমরা তুমির ভেতর তুমুল সহবাস করি।

ঐ ভাঁট ফুলের আগুন দেখতে অনেকটা টসটসে আলোর মতোন। ভাঁট ফুল কখনো আলো দেখেনি। চাঁদের বেসিয়ারে যেসব আলো আটকে আছে তাদেরকে শব্দ বলে জানি।


দুধ-সারেঙ্গা

দুধের খাঁজ জলস্তরে নামার আগে…
বাজানের হুমকি স্বরুপ এলিয়ে বেলিয়ে হুড়মুড় এলাকা। ঘরের আদল খুলে হাসুন। হলুদের সমস্ততা উড়ে গেছে।

পেটের বাকল লেতিয়ে শুতে গেলে পানের বরজের গল্প হাই তোলে। জিভের যোনি কোড়মড়া দেবার চেষ্টা করে। দরোজার খিলিতে সুর্যশোকের সংসার। সুর্যরা পৃথিবী হয়ে জন্মাবে।

শুকনো তোয়ালের প্রশংসা যথারীতি উষ্মা রাখে। মাদুলিকন্ঠ তোয়ালের ঘ্রাণ-বাজনাসমিত আঙুল ঘষে। আমার মৈথুন সারেঙ্গা বীর্যপাতের কিনারায়।


তেঁতুলবাস

শহরপাখির তুলোধুনো দেখতে দেখতে
প্রবল ধ্বনিরাগ, কন্ঠে জমে
বাৎসরিক গণিতার টইটম্বুর হাসি, ফসকে যায়-
আরোহী টিফিনব্যাগ


তুমি- জোড়াসাঁকোর বিদ্রুপাত্মক নারী

তোমার ঐদিককার বিছানা লাল রঙে সাজলো বলে রসুন বাটা মেখে দিছিলে গোল পেটে।
আলোর কর্পোরেশন চুমুক দিলে তোমার হাতকে নিতম্ব ভেবে দেখতে বলছিলাম। আর নিতম্বকে জোড়াসাঁকো।

নিজেদের গাছটি কেটে লাশ পোড়াতে গেলে পানের ডিব্বা রং ছড়িয়ে খিস্তিমৈথুন করে। দরোজার নিচে রেখে দেয়া ঘুম জেগে উঠলে তোমাকে যেসব কথাবার্তা আলিঙ্গন করবে, তুমি তাদের পানের বোঁটা খেতে দিও।


ছেলেগুলো সেলোয়ারের ফসকা গীট

তোমার গন্ধগুলো একপাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা অনেকটা স্কুলবার্তার মতো লাগে। মাটির ফিসফিস কোলে তুলে নিলে তুমি কানাবাজি খেলো। ছেলেগুলো সেলোয়ারের ফসকা গীট।

সন্ধ্যা বিক্রির বাজারে আধার কার্ড বিলি করার সময় ঘুঙুরের আত্মহত্যার খবর কবিরা জানে। শেষ মাথায় গন্ধের দোকানে বাসমতি চাল ফুরিয়ে যাবার আগে কবির কবিতা লেখা শেষ হয়।


হাইকু

আদরের দৌড়ঝাঁপ খুলতে গেলে মেয়েদের ঘুম ভাঙে। রেলের লাল টনক আগে কখনো ট্রাম্প কার্ড ছোড়েনি। গোয়ালারা রেল থেকে নেমে মেয়েদের পশম রোদে শুকাতে দেয়। কারো চুম্বনেই লালা ছিলনা।

দক্ষিণের গন্ধ মৃত্যুর সাথে সহবাসকালে আমাদের কন্ঠ, বিরতি নিতে পারতো। হাই তুলে রাঙতা লেপে দিতে পারতাম পাতাদের সংসারে।
এবার যা হবে,
তার সবই দিন-রাত্রির স্ক্রীনপ্রিন্ট

আমরা গোত্তা খেয়ে জন্ম খুঁজি, অথচ
মেয়েদের স্তনেই হাইকুদের জন্ম

১০
ঋতুকাল

নরম বাতাস কাটাকুটি করতে গিয়ে আমরা আমাদের উৎসব হারাই। লাল কাপড়ে মোড়ানো গন্ধরাস রেখে ঝড় সইতে গিয়েও উন্মাদ হই।

উৎসব- পাতাদের সংসারে কোণঠাসা
উম্মাদ- ঋতুকালের অবসর

যে ঋতুকালে সাঁতরায়
তার ডানা নেই
যে ভরামাসে ম্যারাথন করে
তার অস্তি নেই
আমরা ফ্রকের ঘ্রাণ শুকতে শুকতে বাতাস কাটি
কানতামাশা দেখে দেখে ঝপঝপ আনন্দ করি

১১
আঙুলের গন্ধ

তোমরা যাকে ঝাঁরবাতি বলো
তাকে আমরা বলি আত্মহত্যার সিম্পনি
তুষোর মাঠে লাল বল হাতে নিয়ে চিমটি কাটি-
তোমরা চোখ বন্ধ করো।

মলাটমাখা কানকোতে প্রতিবেশীর আঘাত ঠেস মারলে ঘটনাস্থলেই জন্ম নেয় মৃত্যুর।
লিরিক্যাল বাতাসে ওসব মৃত্যু সাঁতার কাটতে কাটতে হলদে হয়। আমাদের হলুদকে মাঝে মাঝে আঙুলের গন্ধ মনে করে হাই তুলি। হাসপাতাল গিয়ে জানা যায় তোমরা কখনো চুইঙ্গাম চুষে দৌড়াওনি।

১২
বেঁচে থাক হলুদগ্রাফ

রাঙপথ ঘুমালে উপুড় করি হাতপাখা
মায়ের কবচ হাতের কড়ে রেখে দিলে
সরষেপাতার রস খন্ডিত জানালা!
নিকানো ছায়ার যেসব বংশপরিচয়
অমৃতে দৃম দৃম মাদল বাজাতো
তাদের দেখভাল সহজ নয়।
শুধু অন্ধকার চিনতে পারে প্রোটেক্ট মুণ্ডু।

১৩
সামার ক্যাম্পে চিন্তার শ্বাস

বেকারের আঁচড় মধ্যদিনে কমলার
গোড়ালি রচনা করে ট্র্যাকের ঝাড়ুদার

সামার ক্যাম্পে চিন্তার শ্বাস
যৌথ অবকাঠামো ভেঙে ভেঙে ভাড়াটে কবিতা
জবার পেস্ট আদৌ কি খাবার যোগ্য?
গভীর রাতে শ্যাম্পু করুন
চুল এলেবেলে।

বুকের ভিতর ঝড় বইছে
হরিণের তনিমা ঘষানো ঝড়।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E