৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
এপ্রি ১১২০১৭
 
 ১১/০৪/২০১৭  Posted by

কবি পরিচিতি

শিবলী মোকতাদির

শিবলী মোকতাদির

নাম : শিবলী মোকতাদির। জন্ম : ১১ জুন ১৯৬৯ বগুড়া, বাংলাদেশ।

প্রকাশিত গ্রন্থ : ধানের রচনা দিলে পত্রে (কাব্যগ্রন্থ); ছন্দের নান্দনিক পাঠ (প্রবন্ধগ্রন্থ); নিষিদ্ধ পুষ্টির কোলাহল (কাব্যগ্রন্থ); সোনার কার্তুজ (কাব্যগ্রন্থ); রৌদ্রবঞ্চিত লোক (মুক্তগদ্য); ব্যবহারিক বিস্ময় (কাব্যগ্রন্থ); দুর্ভিক্ষের রাতে (কাব্যগ্রন্থ)

মোবাইল : ০১৭৫১-৫৮০৬২২
e-mail : kobi.shiblymoktadir@gmail.com

 

শিবলী মোকতাদির-এর কবিতা ভাবনা

কবিতার পথে পড়ে থাক অজস্র পাগলামী

কবিতাকে হওয়া উচিত- যেমন, সুঠাম নারীর নগ্ন কোমরের মতো তীক্ষ্ম- তেমনি, প্রশস্থ নিতম্বের মতো দায়িত্বশীল। লোভনীয় টকের রসায়নে রসসিক্ত প্রকৃত কবিতা, যেন- জল আসা জিভের জৈব হন্তারক। প্রকৃত কবিতার সমস্ত ভূগোলজুড়েই ছড়িয়ে থাকে অনাকাক্সিক্ষত সঙ্গমে সাড়া দেওয়ার ন্যায় চরম এক উত্তেজনা। গৃহযুদ্ধের দেশে যেমন অতর্কিত ঘুমের মাঝেও জেগে থাকে অতি বিপ্লবীরা…

কবিতা- কখনো সে ঝিলিক দেয় নিত্য কিরিচের মতো। কখনো বা জং-ধরা ভিখিরির থালার ন্যায় পড়ে থাকে অচেনা ধুলোয়। নানান ম্যাজিক আর মেঘ এসে ভর করে আমার এইসব কবিতার পথে। আমার দেখা, না-দেখা, বোঝা, না-বোঝার ত্রিশঙ্কু এই ভুবনে তবু সে প্রবেশ করে। কাজেই অজাত সতীনের ন্যায় সে এসে হানা দেয় রোজ। নানান উস্কানিতে, নানান মশকারাতে নিষিদ্ধ প্রলোভনে সে কেবলই ডাকে। তারে রচিতে বলে। আমি লিখি, কাটি। গ্রহণে, প্রত্যাখানে অস্থির এক ঝড় বয়ে যায় মগজে, মনে, কোষে, কণিকায়, হাড়ের অভ্যন্তরে। কখনো সে জিতে যায়। কখনো বা হারে। আমি ঘুমিয়ে পড়ি সদ্য লেখা কবিতার আশেপাশে। প্রতিটি পঙ্ক্তিকে সজোড়ে সাপটে ধরে।

কবিতা চিরকালই রহেস্যের। সে আমাদের হাতছানি দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়, যাবে।  শয়তানের ন্যায় ঘরছাড়া করবে শান্ত সুবোধ সেইসব বালক কিংবা বালিকাকে। গোপনে গোপনে সে নিরাকারের রূপ ধরে হানা দেয় আমাদের সমস্ত আর সামগ্রিক ইন্দ্রিয়তে। আর তখনই আকার হয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় প্রতিটি জনের বুকে আর বাহুতে। আমি সেই কবিতার চারায় পানি ঢালতে রাজি, যে কিনা হয়ে ওঠে প্রতীকে প্রজ্জ্বলিত। যার স্তরে স্তরে নানান বিভঙ্গে ফুটে থাকে চিত্র আর কল্পনার জটিল মিথষ্ক্রিয়া। যে কিনা আততায়ীর রূপে নিঃশব্দে ছুরির ছোবল হানতে পারে সরাসরি আমাদের মেধার মর্মমূলে। কবিতা তখনই যখন সে হয়ে উঠে নানান দ্যোতনার। নানান চিহ্ন আর সংকেতে যে কেবল অজর-অমর জিজ্ঞাসার দিকে নিজেকে ধাবিত করে। পল হতে পলকে, চূর্ণ হতে বিচূর্ণর দিকে ।

শিবলী মোকতাদির-এর কবিতা

আতর

সে এক আতরবিক্রেতা। বিক্রি করে ঝাঁঝালো পুষ্পসার
অভিমানী আর অন্ধ। ভিড় চিরে ছুটে চলে দ্বার হতে দ্বার।

দিন ভেঙে রোজ রাতে— বহে অন্তরালে কতো খোশগল্প
মিলনকেন্দ্র থেকে ছিটকে আসে ঘাম, ঘূর্ণির ঘোরে অল্প।

সে হাঁকে তির্যক রাসুলের বাণী। ভূমিষ্ট ও মৃত্যুর কালে;
এ-আতর সর্বশ্রমে ছুঁয়ে দাও আনন্দে ব্যথিত ব্যাক্তির গালে।

এই শুনে, মেঘের আড়াল থেকে পলাতক এক অরণ্যচর
জ্ঞানগ্রাহ্য করে বলে— গুরু, এই নাও চাবি, ভেঙে ফেলি ঘর।

ভ্রমণকাণ্ড

বনে, পাহাড়ে, সাগর কিংবা মরুভূমিতে আমরা— লোকেরা
কারণে, অকারণে ঘুরে-ঘুরে বেড়াতে যাই।
এইসব খবরে আমার ইচ্ছা মাঝেমাঝেই ঈর্ষিত হয়।
কিন্তু অশ্ব আমার নিরুপায়।
এইরূপ ভ্রমণে কতিপয় ছোলা সে বেশি চায়।
আমি তো গরীব চাষী। অঙ্কে ফেল।
এই যে নাইন-টেন— শোন, সূত্র সদাই শুয়ে।
দু-মুঠো ছোলার হিসাব এই দুর্দিনে,
দুর্ভিক্ষের রাতে কী করে মিলাই?

এই শুনে বনের এক পরিচিত বাঘ
পাহাড় থেকে অনেক পাথর এনে, বিক্রিত অর্থে
সাগর থেকে উচ্চাঙ্গের সুরা এনে দিয়ে
বললো— যা, মরুভূমিতে যা।
এত এত সুরা সারাদিন শোষণ করে
মরুভূমিতে মাতাল হয়ে পড়ে আছি আমি, অবশেষে।

ভ্রমণে ক্লান্তি থাকে—
এই কথা, প্রিয় হিউয়েন সাং, কেন তবে বলোনি আগে!

সোনা

খনির আয়তন তুলে ধরি, এসো হে খননকারী
গেঁথে রাখি কয়লায় কলরব।
দূরে গৃহপালিত সূর্যের রূপ দেখি অস্তগামী
দেখি আভায় উদ্ভাসিত জাতি সব।

এরা জিপসি, জেগে থাকে রাতের নিকটে দিন।
কূট ধার্মিকের মতো হঠকারী। যেন ধূর্ত জলে মীন।

এত যে প্রযুক্তি, এত বারুদ আর বিজ্ঞাপন
তবু এই ধাতু— সোনা, কলহপ্রবণ,
যতটা তুমি হও খনি আর খননে হিংসাপরায়ণ।

রামপাল

যাচ্ছি আমরা রাতবিরাতে তারবিশিষ্ট বাদ্যযন্ত্র হাতে
এ দেশ বলেই ক্ষুদ্র-অল্প পোশাক রেখে দেহে
গান ধরেছি ভক্তি-ভয়ে এক ঢিলে দুই পাখিই মরে যাতে
হঠাৎ দেখি লঙ্কাপানি পানরত এক পাপী বলছে— তোমরা কে হে!

আমি নিলাম টিমের পক্ষপাতী। দাঁতের ঝিলিক দিয়ে
অন্ধকারে বোঝাই তারে, আমরা হলাম দ্বন্দ্ব-দ্বিগুর ধারা
এই যে পাশে বৃত্তিধারী বাঘ মেরেছে ছাগের ছন্দ নিয়ে
তিথির পরে যাচ্ছে বীথি ভাসছে বনে আনুক্রমিক কারা?

মহারণ্যে মরণ ডেকে দুইটি নদীর একটি কূলে বসে
ফেলছো তুমি মুদ্রা এবং মায়া, কায়ার কর্মফল
হরিণ ভয়ে হলুদ হয়ে গেছে সুন্দরীকে সহসা এক ত্রাসে
বোঝাচ্ছে ভরপুর সমীকরণ অঙ্কে হলে ভুল সূত্রে থাকে ছল।

ভিনিগার

জল প্রকরণ, সিন্ধুতীর, এনেছে নাবিক কাছে
তার প্রথাগত নাম আজও ইস্পাত রঙে ঢাকা
গোত্র, পরিবাদ সীমাহীন উচ্চাবচ হয়ে আছে
কিছুটা প্রগাঢ়, আয়তনে উঠে আসো চাকা।

একদা শৃঙ্খলে ছিলো, গূঢ় প্রতিক্ষণ শিল্পকলা
এসিড বর্ষণে তীক্ষ্ণ করোটি করেছে ভেদ ফলা
দু-ধারে ইস্টক তুলসিচূর্ণ ধ্রবস্বীয় কারুমন
পরচ্ছিদ্রে প্রতিভা সিঁদুর দ্যাখে প্রাচীন পিস্টন।

আমাদের গৃহে নিয়ত প্রকর্ষ ঘোরে ইন্দ্রিয়ভূত
সোপান শিলার গন্ধে এসেছিলো পুরুষ তথাপি
যন্ত্রভয় এখনো কাটেনি, শিশুদের তা্ম্রলিপি
ডাকে, তুলে আনো প্রোফিল, সোনালি সুতো।

মানুষ মৃত্তিকা টানে স্নান অস্বামিক জৈব হাড়
করেছে কবন্ধ যাত্রা, চুল্লিতে সুস্বাদু ভিনিগার।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E