৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুলা ১৩২০১৭
 
 ১৩/০৭/২০১৭  Posted by

গল্পে থেকো মাঝে মাঝে শিমুল সমীরণে

যাতে ফাগুনের ভাষা ক্রমাগত গাঢ় হয়ে ওঠে, যাতে সে অভিমানও
তুচ্ছরূপে ভাসে, তাই— এ-দৃশ্য প্রধান করো। প্রয়োজনে কিছুটা আবির
মেশাও, তোমার প্রতিটি মুহূর্ত— এই গল্পে তাকে কাছে টানো
ইশারা-ইঙ্গিতে, প্রলোভনে নদীর ওপারে ফুটিয়ে তোলো নীড়।

আর যা-কিনা বসন্ত, ভাবের একক বিবাহ-নিষিদ্ধ এই ঋতু
তাই বনের এ-ধারে নিচু পথ পুরুষের পদচ্ছাপে ভরেছে যেহেতু
নীরবে আগুনভরা দিনে আজি এ শিমুল সমীরণে তুমি দু’হাত বাড়ালে
কৌতূহলে, অথচ তৃণের পরিভাষা সমস্ত বঙ্কিম, জানালো আড়ালে।

আজ শাখায় শাখায় প্রজাপতি, আজ স্বপ্নে স্বপ্নে আঁকো
তুমি পথিকের ছেলে বাস এত দূরে কেন, কেন গায়ে ধুলোঝড় মাখো?
বলো— নদী নেই সেই দেশে, অনেক দুপুরে শুধু শত শত সাঁকো
সেথা এক প্রবাহিত নারী, দেখেছি অন্ধের গতি, স্রোতে সেই পত্র রাখো।

একদা যখন নীরবতা পাবে, সে-রহস্য মেলে ধরে অন্ধকারে লতাপাতা
জড়িয়ে এসেছো বীজের অতলে ডুবে, মুখে তাম্রস্বর কানে কানে
দিয়েছো বনের পদধ্বনি। আজ ফাগুনের দশ, দশার মাঝখানে
স্বাস্থ্যহীন যারা— বুঝেছি তাদের, বৃত্তে ঢাকা বেড়ে ওঠা উজ্জ্বলতা।

এক সোনামনি ধর্মমতে দিগন্তে ছড়ানো গহনায় গড়া অক্ষরে অক্ষরে
মুখরিত সংগীতে, যেন বা মাতৃহীন— রূপ সাদা, শুষ্ক, মম ক্ষারে
বিকশিত পত্রে দুই বোন, একে ধাত্রী অন্যে সাড়ে-সাত বারে
গেঁথেছে সহসা পূর্ণ প্রেমিকার রূপে, তবু গোত্রহারা জন্মসাল দিয়ে ছাড়ে
ক্ষমতার দিনরাত্রি। শেষে ক্লান্ত, উত্তরে বনানী— টেলিগ্রাফ তারে
উল্লসিত বিধবা সকল চায় পাত্র, গুণসিদ্ধ আজ জননীর দ্বারে দ্বারে।

কেঁদে কেঁদে সেই তথ্য চিঠিতে পেলাম, অকারণে তুমি নাকি খুব তুলো?
চরিত্র আধেয়, চুলের বাতাসে প্রভাত-কাঁপানো ছলনামূলক হয়তো এগুলো
প্রকাশ্যে দেখেছে তারা, তাই আলোড়ন করে, ফলে ব্যক্তিগত ধ্বনি
অর্থাৎ আমার সার্বভৌম অধিবাক্য সব ছড়িয়ে দিয়েছি ঠিক তখনই।

গভীর গোপনে পরিধির অনন্ত আঁধারে ধাবিত হয়েছে, তা ছাড়া দুপুরে
এতটা জোয়ার আসেনি কখনো, যার চিহ্ন শাদা ঘোড়া আর তোমার নূপুরে
সেই ধূলিকণা লেগেছিলো দেহে তার কিছুটা প্রবাল দেখো কোন মহাদেশে
এর জন্ম জানো না তুমি, অথচ শীতের পাতাকে বলেছো, সেই এসে—
বলে দেবে সমস্ত কাহিনী। নতুন জাহাজে চড়ে কথার কাকলি আর আমি
কতটা দক্ষিণে আছি, কতটা উত্তরে ভাসা-ভাসা কতটা তোমার অন্তর্গামী।

সকল পদ্ধতি জানা নেই। ফলে, ফাগুন রজনী এলে বহে নীরবতা
যথাযথ ব্রিজের ভূমিকা যায় থেমে, ফলত তোমার ব্যক্তিগত জন্মসাল
গণিতের দোষে ম্লান হয়ে গেলে কর্মযোগে নিত্য ঢালি রূপকথা
ঢালি— পূর্ব হতে অপূর্ব আলোর মিশ্রবনে দেখেছি অনেক মোহিত মাতাল
এক হাতে দুগ্ধবাটি, কিছুটা দূরেই মর্মর কাহিনী। বামে উত্তেজিত
দীর্ঘতর এক বাবা। বসন্ত স্বভাবে পরিবার ছেড়ে তীরে তীরে বিকশিত
সেও এক পৃথক জীবনী, শূন্যে ভরা— তথ্যে এত ভ্রান্তি কেন না তুমি তো
শ্রোতার গুণেই চেনো তাকে। যদি নেপথ্যে বিগত বেদনা তুলে নিতো

তাহলে এ-সব আলোচনা, এই পীড়া অধিকন্তু প্রত্নরোগে তার কাছাকাছি
বিরুদ্ধ বাতাসে যেতে হতো, যেমন সর্বদা ছাত্রী মেয়েটির সেই কাঁচি
অযথা চরণ চুলে বসিয়ে দিতো আচ্ছাদিত চেতনায় । রূপ সে-ও পরিস্ফুট
গৃহীত সকল প্রাপ্তিবিবরণে, যথা মনোহর চুল— দীর্ঘ সে পাঁচ ফুটও

হতে পারে, কিন্তু বছরের শেষ দিকে এই লেখালেখি গতি চায় যদি
সকল ইচ্ছায়, মেঘের বর্ণনা আর মৃদু সত্যে কদাচিৎ শীতল আঘাতে
ভরে তুলি আজ অলস বাইশে ফেব্রুয়ারি। মাঝে অক্ষরে অক্ষরে সরু নদী
বিচিত্র স্বভাবে সেথা নৌকা আর গানে আপনারে জেগে তোলো তাতে।
বর্ণহারা যৌথ সরোবরে, ভেসে এসে দেখা হলো শেষ মোহনাতে
কোমরে তাবিজ, কাঁধে সৌরশক্তি— বলেছি বিদ্বান তাকে অশ্রুপাতে

তাদের যামিনী এলে মায়াপথ কত আর ডাকা যায় এমন শিশিরে
ভয়ে যাত্রা করি তোমার শিকড়ে যত বর্তমান, ভবিষ্যৎ যত হিরে।

সতত প্রস্তুত, পর্ব ধরে ধরে বলো তাকে— তোমার বাহুতে এত ঋণ?
ফলের বেদনা, সমুদ্র গর্জনে তবে কি বন্ধু নই? অর্থে করো— শুধু বর্ণহীন
স্পর্শ নয়, পাঠ্য নয়, তবু ভোরের ভৈরবী এনেছো এমন পারিজাত
শহরের শেষ গৃহে, কে দেবে বিস্ময়— দেবে কেন্দ্রে সহসা ইস্পাত।

কনিষ্ঠ মেয়ের এই মুদ্রা হাসিতে হারালো— জাগরণে আজি ঝড় এসে
অথাৎ নিয়তি এই ছিলো তাছাড়া বন্দনা ভুল তাই তুমি নিরুদ্দেশে
গিয়েছিলে অচেনা দ্বীপের মাঝখানে ফিরে পেতে সেই নৈতিকতা
দেখেছিলে ক্ষীণছায়া তীরে এসে কে.জি-দের বলো সেই রূপকথা।
ভূগোলে বিশ্বাস করে ছেড়ো, প্রয়োজনে রুক্ষ হও দিদিগিরি ছেড়ে যথা
গ্রাম্য বলো, ভাদ্র বলো অথবা বর্ষায় তুমি যে পেয়েছো নীরবতা।

এ-কথা সর্বত্র না হোক নিষিদ্ধ রাখো কিছু ক্ষেত্রে তুচ্ছ করো এই সুর
তাতে কন্যা খুশি, বনের উদাসী ফল পাকে দ্রুত কেননা শ্রাবণ বহুদূর
আজি কথ্যরূপে এ-সব জানালে বিপরীতে অতীব গম্ভীর গাছের সেই ডাল
কেটে কেটে স্ফীত ছিলে, মুহূর্তে জানাও শিমুল-পলাশে ভরে ছিলো খাল।

চলন্ত খবরে তোমার, ওগো বৃষ্টি— প্রকাশিত করো সে তো রোজ
জীবিত বনের চারপাশে ডেকে তোলে ছাত্রদল, অঙ্গে রাখে তুলো
যাতে মিশে যায় বালির গহনা, বাড়ে হাহাকার, নির্জনতা দুপুরে সহজ
মাঠের বৃত্তান্ত, আমি হত্যা হই ধানের বদলে রচিত এগুলো।

লোহিত পলাশ আর সভাপতি অঙ্কে গোল— তাহা হিরে, ইহা মোতি
দিকে দিকে আল্ ঋতু, বিবাহ বাতাস ডুবেছে চাঁদের গড়া গতি
খোলা পত্রে খোলা নিমন্ত্রণ আনো মেয়ের আধুলি তুমি সৈন্য আমি পতি
অনুপম ছিদ্রপথে রাখো চোখের মিনতি, শীর্ণপথ পথে নেমে এত ক্ষয়
জ্বালাময়ী গুরুগাছ ঝড়ে তুমি মস্ত এক সমাধানে জৈবনারী তার বিনিময়
মাটি জানে, জানে মেঘ, ঘুমের বাসিন্দা— নিচুগান সে তো ভুলিবার নয়!

 


কবি পরিচিতি

শিবলী মোকতাদির

শিবলী মোকতাদির

শিবলী মোকতাদির। জন্ম : ১১ জুন ১৯৬৯ বগুড়া, বাংলাদেশ।

প্রকাশিত গ্রন্থ : ধানের রচনা দিলে পত্রে (কাব্যগ্রন্থ); ছন্দের নান্দনিক পাঠ (প্রবন্ধগ্রন্থ); নিষিদ্ধ পুষ্টির কোলাহল (কাব্যগ্রন্থ); সোনার কার্তুজ (কাব্যগ্রন্থ); রৌদ্রবঞ্চিত লোক (মুক্তগদ্য); ব্যবহারিক বিস্ময় (কাব্যগ্রন্থ); দুর্ভিক্ষের রাতে (কাব্যগ্রন্থ)

মোবাইল : ০১৭৫১-৫৮০৬২২
e-mail : kobi.shiblymoktadir@gmail.com

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E