৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
নভে ১৭২০১৬
 
 ১৭/১১/২০১৬  Posted by
কবি শংকর লাহিড়ী

কবি শংকর লাহিড়ী

কবি পরিচিতি
শংকর লাহিড়ী। জন্মতারিখ ও স্থান : ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫০, জামশেদপুর। বিহার। শিক্ষা : [১] শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয়, কলকাতা। [২] রিজিওনাল এঞ্জিনীয়ারিং কলেজ, দূর্গাপুর। পেশা : ইঞ্জিনীয়ার। জামশেদপুরে টাটাস্টীল ইস্পাতপ্রকল্পে ৩৭-বছর কর্মজীবন শেষ ক’রে, অবসর জীবনে এখন কলকাতায়।

প্রকাশিত বই :
কবিতা :
শরীরী কবিতা (১৯৯০, কৌরব প্রকাশনী)
মুখার্জী কুসুম (১৯৯৪, কৌরব)
উত্তরমালা, বেরিয়ে এসো প্লীজ (১৯৯৬, কৌরব)
বন্ধু রুমাল (২০০৪, কৌরব)
কালো কেটলি (নির্বাচিত কবিতা, ২০১২, ৯’য়া দশক প্রকাশনী)
সমুদ্রপৃষ্ঠাগুলো (কবিতাসমগ্র, ২০১৪, কৌরব)

গদ্য :
মোটরহোম (২০০৩, কৌরব)
কোরাল আলোর সিল্যুয়েট (নির্বাচিত গদ্য, ২০১২, কৌরব)

তথ্যচিত্র (রচনা, প্রযোজনা ও পরিচালনা) :
১।  ‘রাখা হয়েছে কমলালেবু’
–কবি স্বদেশ সেনের সময়, জীবন ও কাব্যভাবনা নিয়ে ২০১৫ সালে নির্মিত ১২৭ মিনিটের তথ্যচিত্র।
২। ‘উত্তরমালা, বেরিয়ে এসো প্লীজ’
– বাংলা ভাষার প্রবীণ ও নবীন নয়জন কবিকে নিয়ে কবিদের মনোজগৎ ও চিন্তাপদ্ধতি নিয়ে ২০১৬ সালে নির্মিত ১৩৫ মিনিটের ছবি।

ই-মেল : slahiri4u@gmail.com

 
শংকর লাহিড়ী’র কবিতা-ভাবনা : চাবুক ও গভীর হ্রেষার শব্দ

কবিতা নিয়ে আমার যা কিছু ভাবনা তা কবিতাতেই ব্যক্ত । যা কিছু আর্কাইক, স্ফটিক, নার্সিসাস, শীতল হিম ফসিলের মতো, বেদনায় নীলাভ, ফসলের মতো অভিমানী, রুদ্ধদ্বার।  যা কিছু চিমনির মতো উদ্ধত, ডোরাকাটা, বার্গারের মতো বহুস্তরীয়, ফ্লাইওভারের মতো আধুনিক, জন্ম ও মৃত্যুর মতো বাইনারি।

অনন্তের প্রতি নিক্ষিপ্ত এ আমারই প্রতিবিম্ব ; পাহাড় থেকে আরও দূর পাহাড়ে, নির্জন স্নোলাইনে, ছড়িয়ে পড়া প্রতিধ্বনির মতো যা কিছু স্বপ্নিল।
তার সকল অক্ষর ও শব্দের স্পষ্ট ও অস্পষ্টতায়, ধাতব ঘন্টাধ্বনিতে, জমাট কুয়াশায়, প্যাস্টেল শেডে, জল রঙে, বিস্ফোরণে।  তার সকল জোড় ও ঝালাইয়ের কাজে, মন্তাজে, অর্কেস্ট্রায়, প্রপাতের দারুণ আক্রোশে, তরঙ্গে, প্রবাহে, স্তব্ধতায়, চাবুক ও গভীর হ্রেষার শব্দে।

কবিতা নিয়ে যা কিছু ভাবনা তা আমার কবিতাতেই ব্যক্ত। একদিন গাঙ্গেয় কবিতা-বাসরে, আলোকিত এক রোটান্ডায় তুমি ও আমি, -পৃথিবী ও অ্যান্ড্রোমিডার মতো মুখোমুখি। শব্দ বাক্য অক্ষরগুলো ভাঙতে থাকে। জলঘূর্ণি, ধোঁয়ার কুন্ডলি, ছিন্নভিন্ন ছবি। চেতনায় ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়তে থাকে তার অন্তর্গত উম্‌ফ্‌।

 

শংকর লাহিড়ী’র কবিতা

১  
কুদ্রমুখ

ঐ কুদ্রমুখ ছুটে যাচ্ছে আগুন ছড়িয়ে
হলুদ বিস্ময়কর হল্কাগুলো ফুঁসে উঠছে বাতাসে
সবুজ ঘাসের ওপর লাফিয়ে ভাঙছে
                      তপ্ত লাল বৃত্তাকার অক্ষরগুলো।
অক্ষরগুলো ভাঙা, অব্যবহার্য, বিন্যাসহীন
ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে কুন্ডলী পাকিয়ে
ধীরে ক্রমে ঠান্ডা হয়ে আসছে তারা
                    স্তুপাকার, ক্রমশঃ নিরাবরণ, হিম।
ঐ ছুটে যাচ্ছে কুদ্রমুখ
কচি নতুন মুথাঘাস     হরিৎ বনভূমি
জল ও জলজ সম্পদের দিকে ঐ ভয়ংকর হলুদ ;
ভাঙছে আশ্রয় নামক শব্দগুলো,
পিপাসা নামক শব্দগুলো ছিটকে উঠছে।
অতঃপর ‘ভাবো’ –এ’কথা কেউ বলবে না কখনো
কেউ কি কখনো নিজেকে আবার বলবে
‘ভাবো’ ?   – ওই কুদ্রমুখ ছুটে আসছে আগুন ছড়িয়ে।  

২  
সুগন্ধ কোথায় ?

আছে কি সুগন্ধ তোমার ?
ডাকছে নীল ফুল বৃন্ত চিরে
              হালুম জলে ভাসছে বনভূমি
ছেঁড়া কাঁথার শীত, বরফ লেগে আছে সুচ সুতোয়
জেদি পায়রার নখ আঁচড় কাটছে টেবিলে –
সমস্তই আবৃত রহস্য
বলো চেঁচিয়ে, কিম্বা না বলো
সুনীল ঢাকনা সরালেও নীল বাস্পময় চারিদিক
ফর্সা নিটোল হাত, লতাগুল্ম, হিম পেন্ডুলাম –
বাড়িয়ে দাও ভ্রুসন্ধি ও রক্তচাপা ঠোঁট
ঝরাও এখানে একফোঁটা কিংশুক তোমার
ঝরাও ক্রমশঃ আরো,
              ভয়ে অন্ধকারে ভোরে
ঐ নেমে আসছে দীর্ঘ ডানার পাখিরা ;

কোথায় সুগন্ধ, সুগন্ধ কোথায়,
          জল ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নীল ফুল।

৩  
প্রদাহ

আবার ঘুম ভাঙছে তাদের
বন্দরে অরণ্যে অববাহিকায় জেগে উঠছে ;
জেগে উঠছে মধ্য উরুর ক্ষত নিয়ে, গলায় প্রদাহ।
দোলনায় দুলছে মৃত সারসগুলো। জল এসে লাগছে
তাদের গায়ে, -আর শিহরিত হচ্ছে ঝাউবন।
ফিরে আসছে বাদক ব্যান্ড-স্ট্যান্ডে।
মেয়েমানুষের চুল আটকে আছে ছড়ে, বেহালায়।
হিম সর্পিল চিমনি বেয়ে সাপগুলো নেমে আসছে।
আবার ফুটন্ত জল      উষ্ণ স্রোত ;
এক নক্ষত্র থেকে আর এক নক্ষত্র অবধি
তুলো ও ব্যান্ডেজ ;
পেরেক ও রত্নখচিত দেওয়াল, নীল প্রলেপ।
মাছিরা উড়ে যাচ্ছে মর্গ থেকে
                       অরণ্যের নোনতা আস্বাদে ;
উড়ে যাচ্ছে বোয়িং বিমান ;
ফিনাইলের তাজা গন্ধে ব্যস্ততায়
           আজ আবার ঘুম ভাঙছে ভোরবেলা।


নির্জন বাথরুমে

ভাবছি, কী কথা বলব।     ভাবছি
কীভাবে কোথায় শেষ হবে একটা কথা
                         আর একটা দাঁড়ি বসবে।
ফুলভার আমরা হাতে নিয়েছি
লিখেছি কুসুমকীট ও পরাগমিলনের কথা –
যুদ্ধ, জয় ও পরাজয়ের কথায় আপ্লুত হয়েছি
                              বাজিয়েছি শরীর-পিয়ানো ;
অভিমানে আমাদের চোখ ক্রমে পাথর হয়ে গিয়েছে।
বড় লজ্জায় পড়ে আমরা একা, গিয়েছি একাকী
পরিত্যক্ত বালিয়াড়ি অথবা নির্জন বাথরুমে
শুনেছি পাতাল-ঝর্নার কথা
এঁকেছি আঁধার-ঘাগরার ছবি
দেখেছি আগুন-ফ্রক পড়ে ঝাঁপ দিচ্ছে
                            আমাদের কিশোরী মেয়ে।


চিহ্ন

অরণ্য-সেগুনের  মধ্যে লুকিয়ে ছিল
ব্যবহৃত পাজামা, পোশাক ;
                    টাঙাবার কোনও তার নেই
বোটানিস্ট বন্ধু এসে দেখে যাও
               যেন কতকাল পর দীর্ঘ গাছেরা
                    স্খলিত থালার মতো কতকাল –
সতত যেখানে গাছ আর গাছের নীহার।
দোলনা এখনও দুলছে, রৌদ্রে গরম হচ্ছে শিশির তেল
দুধের বাটির কানায় কবেকার ঝিনুক
                     আজ আবার তাদের কুড়িয়ে পাচ্ছি।
কুড়িয়ে পেলাম অলকানন্দার চিঠি
যে চিঠি লেখা হয় না এক জীবনে
          সেই নীল খামের ওপর মাকড়সার ধূসর ডিম
                                        আর অরণ্যশিশির ;
সেগুন বনের কোথাও কোনও পোস্ট অফিস নেই
শুধু দিনের টায়ার-চিহ্ন আর রাতের শুকনো আঠা
          এগাছ থেকে ওগাছে, পাতায়, ঢালে-
এত খোলামেলা,
                  যেন তবু গোপনে রয়ে গেছে অনেক।  

৬  
এ ভুবন, শব্দমালা

রেখা   রঙ   শব্দমালা
বীজ ও হরমোন
            মাংসরাশি         ভয় ;
জল-পাথর-প্রবাহ-আশ্রয়-নুন
         হিংসা      শীত     গর্ভবাসনা
যতদূর ছড়িয়ে যাবে   ফিরে আবার সময় ও প্রান্তর
এ ভুবন, শব্দমালা তুমি
              জলে ও পাথরে,    কার্ভেচারে,
হিংসায়   গর্ভবাসনায়   বীজে
                        ভয় – মাংসরাশি – রং।
এভাবে বলার কথা নয়, শব্দমালা
তরঙ্গপ্রসার,  এভাবে বলার কথা নয় –

কেন বীজ স্পর্শিত হয়, তাপ এসে স্পর্শ করে
প্রবাহে নুনের স্বাদ খোঁজে  
ডিমকুসুমের শান্তি ওমলেটে, নুনে ও মরিচে
মেঘেরা গর্জন করে,   শারদীয় উপন্যাস যেন
আঠারো তলার পাশে গড়ে ওঠে জুরাসিক পার্ক।

৭  
স্বাদ

এই ঘ্রাণ ভালোবাসি, আর শরীরের তীব্র নীল
দৈব বলয়গুলো দু’হাতে ঝংকৃত হয়ে ওঠে ;
হে সর্বসাধারণ   সুদক্ষ নিপুণ ফোরম্যান,
ভোরবেলা ঘুম ভেঙে আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে
          বিকেলে হাওয়ায় ঝড়ে
নড়ে ওঠে সর্বাঙ্গীন ক্রেন।
শিকলের শব্দ হয়,
ভঙ্গুরতা      বিচ্ছুরণ     আলো –
কোথাও ভেতর থেকে অন্তর্গত   প্রবাহ   বিদ্যুৎ
ফলের রসের পাত্রে   নগ্নরূপ,  শরীরী নর্তকী।
জলের ভেতরে নেমে ডুবুরির মনে পড়ে
অশ্রু,  বিহ্বলতা
           ফসলের মধ্যে শীতে  গুঞ্জরিত ফসলের কীট,
মনে পড়ে শীতরাত্রি    নৈশ আহার     আর
স্বয়ম্বর সভা মনে পড়ে।
এই স্নান ভালোবাসি,
বৃষ্টিবন,    ও নিপুণ গাঙ্গেয় রমণী –
জলের ভেতরে আরও জল,   আর পর্যাপ্ত লবণস্বাদের
তীব্র স্বরধ্বনি।

৮  
অনন্ত রঙিন ঝাঁক

স্বপ্ন    ঘুম   নিয়ত-মাছেরা
আমাকে সামান্য হাতে স্পর্শ করে
                     সহসা বাজায় ;
আমি তার দেখেছি বিস্মিত
দুধ ও রক্ত স্রোত, আমি সেই সাঁতারে নেমেছি।
তুমি কি দেখনি তার…
সহসা চকিত ত্রস্ত,  তুমি মুহ্যমান।
দেখো এক অর্ধেক শহর থেকে
                   যেন এক আধুরা বালক
এসেছে স্রোতের টানে    জৈবনীল স্বপ্নিল ভুবনে।
দেখো এক অনন্ত মাছের
সহসা হয়েছে সাধ,    যেন সে প্রবাল দ্বীপ
                          সে যেন রঙিন স্বাধীনতা।
ডাকো তাকে :  অরিজিৎ,    পিওতোর,   ছোটভাই
                             নৌকা আমার …

চলো সেই রঙিন অনন্ত ঝাঁকে,
       দেখো সেই অনন্ত রঙিন ঝাঁকে
                     আমাদেরও লেখা আছে নাম।

৯  
বেহালাবাদক

মৃত্যু কোথাও নেই,     আছে তবু মৃত্যুর পারে
আমাদের সাদা বাড়ি, লাল টালি যার –
ঐ বাড়িটির থেকে দেখি আমি পঙ্গু রোগাকার
গলি-শহরের ছেলে,    দেখি তারও সাদা বাড়ি

দেখি আমি দুনিয়া-পাড়াকে,

দেখি আমি বর্ধমানের গ্রামগুলো
– দুনিয়া নামের মেয়ে, আজার বাইজান যার দেশ।
মৃত্যু কোথাও নেই,      আছে লাল টালি
আছে আর দীর্ঘ গাছেরা
অসংখ্য রেকাবি   সিঁড়ি
                 ঠিকানা লেখার নীল খাতা –
আমি ঐ সাদা বাড়িটির নাগরিক
আমি ঐ বাড়িটির বেহালাবাদকের বন্ধু হয়ে আছি
আমি ঐ বাড়িটির একমাত্র বেহালাবাদক
শববাহকেরা ফেরে শূন্য কফিন কাঁধে নিয়ে।

১০  
নদীপথ

বড় রাস্তা থেকে দেখা যায় না নদীপথ
কোনখানে পাটাতন,   দড়ি টানলে ঝুলে পড়বে দেহ –
উজানে    আনন্দশব্দে    সুর লাগবে না।
কে বলেছিল :   এসো, দৌড়ে এসো ভারি জল…
এসে গেল মৃত্যুকাঁপনের একটা সময়
এমন বাক্স যার প্রকৃত অভ্যন্তর কালো
প্যাঁচের শরীর জড়িয়ে ধরেছে
                           আর এক রকম প্যাঁচ।
মাটি ও তেলের পরম্পরাগুলো ফুরোল ;
জেগে উঠলাম     লাশ-পাটাতন থেকে
আছড়ে পড়া    শস্যক্ষেতের সীমানায়,
                          সময়ের পাশে ও গভীরে
জল ঝরল,    জল ঝরল,   জল ঝরে পড়ল।
আর লেখা যাচ্ছে না অনন্ত কলম
নড়ছে না  সইছে না  খুলে যাচ্ছে না অনন্ত কলম
মৃত্যুকাপাসের পাশবালিশ
                 জড়িয়ে কার ঘুম ভাঙছে উজানে –
দেখা যাচ্ছে না ভাঙাবাড়ির ইঁট,
                  … বড় রাস্তা থেকে নদীপথ।

১১  
লাল দোতলা বাস

সারারাত নর্দমা দিয়ে জল বয়ে গেছে
এ-পাড়ার ময়লা গিয়ে মিশেছে ও-পাড়ার ময়লায়
ও-পাড়ার কুকুরকে দেখে চিৎকার করে উঠেছে
                                     এ-পাড়ার কুকুররা –
কাল সারারাত শিশির পড়েছে ডাস্টবিনে।
তার থেকে তারে যাদের কথা ছুটে যায় সারাদিন
যে কথায় নির্জন বাথরুমে
                         একা মানুষ ককিয়ে ওঠে
বিছানায় ফিরে ফিরে একটা ডালিম গাছের
                                স্বপ্ন দেখে সারারাত,
দিন আর রাত্রি তাদের জন্যই বারবার আসছে।
যারা কাল ময়লা জল মাড়িয়ে ঘরে ফিরেছিল
জানালার পর্দা টেনে দিয়েছিল ঘুমিয়ে পড়ার আগে
নভেম্বরেও যাদের বারান্দায় রোদ আসেনি,
আজ ভোরবেলা তাদের সবাইকে নিয়ে পথে নেমেছে
                        একটা লাল দোতলা বাস।

১২  
সেই বাড়িটার রঙ
(উৎসর্গঃ গদারের চলচ্চিত্র -‘টু অর থ্রি থিংস আই নো অ্যাবাউট হার’)  

সেই স্বপ্নটা আমি অনেকদিন দেখি না : যেন ষোলোতলার
খোলা জানালা দিয়ে পড়ে যাচ্ছি    গাছে গাছে
এত অজস্র স্যালাড-পাতা
সবুজ হলুদ মভ্‌     শিরাকাটা   রক্তাক্ত  খয়েরি
আর তুমুল আছড়ে পড়তেই ঝনঝনিয়ে ফুটপাথ
টুকরোগুলো  সারা রাস্তায়
         ছড়িয়ে পড়েছে   শববাহীরা    আমি একা
কুড়িয়ে তুলছি ফটোফ্রেম বোন-চায়না
আমি নিশ্চিত এখানে এই ঘরেই কোথাও একটু নীল
রয়ে গেছে ওয়ার্ডরোবে        স্বপ্নহীন        
কন্ডোম    লিপস্টিক
টিশার্টগুলোর অন্ধকার ভাঁজে ভাঁজে আমারই নামের
আদ্য অক্ষর,    আর শেষটা যদি এমন হয়   
নীল রঙকে আসলে ওরা
সবুজ বলে,       কোনওদিন খুঁজে পাব না
চিনতেও পারব না তোমার আঘাতগুলো
কেননা শব্দই আমাদের ধারণ করেছে   সেই
প্রবাহিত শব্দমালা
অর্থ  যতি  আর্তি  ব্যঞ্জনা,   ঝুলে আছে মহাশূন্যে
আমাদের একক আশ্রয়     সেই বাড়িটার
স্পর্শ   ঘুম   রঙ
হিমায়িত শবদেহ,     বিজ্ঞাপিত ধাতু ও বুরুশ
                 শ্বাসরোধকারী    এক রন্ধনপ্রণালী।

——————————————

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E