৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ০৫২০১৭
 
 ০৫/০১/২০১৭  Posted by

শংকর লাহিড়ী’র টানাগদ্যে কবিতা

নীল কাগজ – ২

আমি লিখছি সেই লেখা যা কখনও শেষ ও সমাপ্ত হবে না যা ভেসে থাকবে জলের ওপর জল হয়ে কচিপাতার নীচে বেরিয়েছে কীটের দল সেন্টিপিড তারা কিরণ রোদে ভাবতে পারো সম্মোহিত হয়ে আছে লাফিয়ে পড়ছে ঠাঠা পাথরের ওপর প্রথম আষাঢ়ের মতো সেইসব নীল কাগজে লেখা চিঠিগুলো আপনি যা লুকিয়ে রেখেছেন এতকাল তুমি থেকে সেই কাগজের নৌকো ভেসে যাচ্ছে ভিজে যাচ্ছে প্রথম বৃষ্টির কান্না জলে রোমান্টিক মোমবাতির আলোয় লেখা নীল ডায়েরিগুলো যার পাতায় পাতায় পদ্মছাপ ছত্রাক ও তুলোবীজ ঘামের গন্ধ জড়ানো নব বিবাহিত শাড়ি দক্ষিণ শাঁখ আমি লিখছি সেইসব কথা যা কতকাল মহাকাল আগে শেষ হয়ে গেছে যদি আরেকটু আগে দেখা হয়ে যেত আরেকটু স্নানের জল কাচ-জানালা আরেকটু লেগ স্পেস কেননা ফ্লাইং টাইম তো সেই দু-ঘন্টা দশ মিনিট আর আপনার ছিল নিজস্ব জলযান পানপাত্র মেঘ-পাহাড়ের কালো অক্ষরে লেখা সুডোল শেষের লাইন ছিল বিধিবদ্ধ সতর্কতা অক্সিজেন মাস্ক আর লাইফ জ্যাকেট তবু দেরী হয়ে গেল আমি লিখছি সেই লেখা যা অনবরত লাফিয়ে পড়ছে ঠা ঠা পাথরের ওপর প্রথম আষাঢ়ের মতো বিদ্যুৎ চমকের মতো যা কিছু লেখা যায় নীল কাগজে… সারান্ডা পাহাড় থেকে দেখা যায় আকাশের মেঘ… আকাশের মেঘ থেকে সারান্ডা পাহাড় দেখা যায়।

নীল কাগজ – ৯

আজ সকালটা কেমন কাটবে তুমি বলেছিলে কখন বিকেলে অ্যাশবেরির কবিতা পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছি কাল সারারাত ভোরে উঠবো বলে প্রকৃত সূর্যোদয়ের আগে লক্ষ্য করলাম যেন অনেক আগেই উঠে বসে আছো কেন্দ্র থেকে দূরে নিজস্ব পেরিমিটারে ক্রমে শীত নামছে জীবনে যেভাবে খোলস ছেড়ে সরীসৃপ রোদের আড়ালে যায় তবু সেই বালকের তীক্ষ্ণ চীৎকার যেন সময়-বল্লমের ফলা পরাহ্ণ-মধ্যাহ্ণ-অপরাহ্ণ বিদ্ধ ক’রে দুফোঁটা সোনালী রস চুঁইয়ে পড়ে গভীর গর্তের দিকে নীল ইন্ডিগো অন্ধকার প্রাগৈতিহাসিক এই তৎপরতা আমি লক্ষ্য করি এই নেমে যাওয়া অন্ধকারে বমনেচ্ছা তীব্র হয় দেখি সেও একা বসে পথভ্রষ্ট মেষ পালকের মতো তুমি সুর মর্মভেদী জঙ্গলের ডীপ জোন বাফার এরিয়ায় একা বসে থাকো সম্মোহিত পারকাশানিস্ট যেন ফুল তুলতে ভয় হয় যেন আর কবিতা পড়ো না তুমিও আর নিজস্ব কাব্যভাবনা নেই যেভাবে নীলাকাশ থেকে ক্রমে আলো এসে পড়ে সোয়েটারে পৃথিবীতে মনে হয় তার রঙ তোমারই ঠোঁটের মতো হিমায়িত ক্রায়োজেনিক রোদ্দুর তোমার চিবুক নম্র ঈষদুষ্ণ এবং রক্তিম চিক্বোন যেন অনেক আকাশ যেন কেওঞ্ঝরের মাটি রক্তিম খরসোয়ানের পাহাড় জঙ্গল খনি সারারাত নিজস্ব গন্ডির মধ্যে বসে থেকে বসে থেকে থেকে ভোরে উঠবে একদিন একটু উষ্ণতার জন্যে তার কথা তোমাকে লিখেছি হয়তো জানা ছিল তোমারও আমরা ছিলাম প্রতিদিন একই গুহাবাসী একই মেরুচুম্বকের টানে পাশাপাশি অর্বুদ যোজন দূরে।

শংকর লাহিড়ী

শংকর লাহিড়ী

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E