৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুন ১২২০১৭
 
 ১২/০৬/২০১৭  Posted by

জলের শব্দ ও ধাবমান টাট্টু
– শংকর লাহিড়ী

জলপ্রপাতের শব্দে ভোর হয়।
নিভে গেছে আগুন, কুয়াশা ও ছাই পড়ে আছে।
আজ মৃত্যু হবে। একজন গণিকা ও ফুলওয়ালি
বাগানবাড়ি ছেড়ে চলে যাবে, তাদের কমলা রঙের শাড়ি
সূর্যাস্তে পশ্চিমের তারে ঝুলে থাকবে।
আজ শিশুদের সূর্যস্নানের দিন।

ঘাসের ওপর লম্বা পা ফেলে হেঁটে যাচ্ছে
ফড়িং। ভোরবেলায় প্রসব বেদনায় জেগে উঠেছে
স্ত্রী পাখিরা, একে একে খসে পড়ছে তাদের পালক।
বিছানা থেকে চাদর খসে পড়ছে।
উষ্ণ সাবলীল জলে ও সাবানে ভিজে যাচ্ছে
রাতের অসংখ্য হত্যাগুলি।

একজন মাতাল, এক অধ্যাপক ও ভিখিরী
তাদের থুতু ও কফ শুকিয়ে রয়েছে দেওয়ালে
তারা সবাই চুলে গুঁজে নিচ্ছে ঐ নীল পালক।
তারা বেহালা বাজাতে জানে না।
বাঁকা নিস্পত্র সুঠাম শাখার মত বাহু ও আঙুল;
আজ তারা আপন শিশুদের হাত ধরে সমুদ্রে চলেছে ।

জেগে উঠছে সাদা নির্লোম বাগানবাড়িগুলো,
ভোরের আলোয় ওই সারিবদ্ধ হিম পোর্সিলিন।
ডিম ভাঙ্গার শব্দে খুলে যাচ্ছে জানালা,
ছড়িয়ে পড়ছে ওমলেটের গন্ধ দূর ময়দানে –
আর অতিথিরা দেখছে এক অপরূপ ভোর।
জলের ধাতব গর্জন। ঢেউ ভাঙ্গছে ।

একটা চোদ্দতলা বাড়ি।
আজ সারাদিন সে কখনও জানালা খুলবে না,
কাল রাতের গান তাকে মূর্ছিত করেছে।
পড়ে রয়েছে ফাঁকা ফ্রুটবোল, উচ্ছ্বিষ্ট কাবাব,
চিঠির বাক্সগুলো ফুলে উঠেছে চিঠিতে
আর সারাদিন বাথরুমে একটানা জল পড়ার শব্দ।
চোদ্দতলায়, তেরোতলায়, বারোতলায়
আর আটতলায়, সাততলায় ধাপে ধাপে
নেমে এসেছে সিঁড়ি। – সিঁড়িতে ও কার আতর
পড়ে রয়েছে ভোরে?

একজন ভিখিরী। পা দিয়ে আস্তে আস্তে
ঠুকে দেখছে মাটি, বুঝতে চাইছে
ভেতরে জল আছে কিনা।
একটা নাশপাতির বীজ সেই চাপে কুঁকড়ে উঠছে।
বেরিয়ে আসছে বীজ থেকে একবিন্দু রস।
ভোরের আলোয় তার উজ্জ্বল চোখ, -তাকে বিবাহপ্রস্তাব
ভেবে ভুল হ’ল এক ভিখিরীনির।
পুরোনো দিনের মত চুনাপাথরের পাহাড়ে
আজও কাজে নেমেছে খোদাইকারেরা।

হাইবুট। বৃষ্টিতে উজ্জ্বল। সন্ধ্যায় অপরূপ।
প্রত্যেক দুপুরে জলে ভাসার স্বাধীনতা।
কোনও দলবদ্ধ যুবক বা অধ্যাপক নয়,
আজ এক গণিকার সঙ্গীহীন আহ্বানে আলো ফুটেছে।
এক তীব্র ধূমপানের ব্যাপক আনন্দে, বিস্তৃত রেলিংয়ে
দু’হাত ছড়িয়ে, দীর্ঘ হয়ে,
আস্তে নীচে নাভি থেকে বাঁধন নামিয়ে,
আজ আবার সহজ ও সাবলীল এই ভোর।

এক ঝাঁক পাখী উড়ে যাচ্ছে। বাগানবাড়ি।
উড়ে যাচ্ছে ফুলওয়ালিরা; তাদের চুলে, গলায়,
উন্মুক্ত কোমরে রাতের বেগুনী আঁচড়।
এত নীচ দিয়ে ছায়া ফেলে উড়ে যাচ্ছে পাখীরা।

মন্দিরে হাসপাতালে রাইফেল ক্লাবে
ফেলে দিচ্ছে ফুলের সাজিগুলো, ফুল;
ওরা ছড়িয়ে পড়ছে দূরে ময়দান পেরিয়ে
ভোরবেলার প্রথম আগুনের আগে।
গতরাতের সমস্ত প্রার্থনা ও গান ওদের মনে পড়েছে
কুয়াশায়। জলপ্রপাতের দিকে ছুটে যাচ্ছে ফুলওয়ালিরা।
বাগানে আবার অতিথিরা ভীড় করে এসেছে।

বেহালা আবার;
নদীর এপার থেকে ওপার অবধি
ভোরের আলোয় যাকে ব্রীজ ব’লে ক্রমে ভুল হয়,
প্রকৃত যা গতরাতের নিপুণ হত্যাগুলি। আজ ভোরবেলায়
উষ্ণ সাবলীল জলে তার প্রত্যেকটি পিলার থেকে
ঝংকার উঠছে। ছুটছে ট্যুরিস্ট বাস জলপ্রপাতের দিকে
আশ্চর্য মাস্তুল উড়িয়ে। দুলছে ব্রীজ।

খ্রীষ্টপূর্ব আনুমানিক আঠারোশো শতাব্দী : এই বোধ নিয়ে
জেগে উঠছে কাচবাক্সে এক প্রাচীন হাতিয়ার।
কেঁপে উঠছে ঝাঁকড়া চুলের তরুণী তার
আপন স্তনসৌষ্ঠবে, আজ মিউজিয়ামে দুপুরবেলায়
ওই হাতিয়ার সে স্পর্শ করবে।

কোনও কাচের টুকরো নেই আর শরীরে।
একটা ছোট নীল রাবার ব্যান্ডে টানটান
বেঁধে রেখেছে সে তার খয়েরী সম্পূর্ণ জরায়ু;
আজ সূর্যাস্তে জলপ্রপাতের পাশে, দিনের সমস্ত
অভিজ্ঞতায় কাঁপতে কাঁপতে, বাঁধন খুলে
ছড়িয়ে দেবে সে উষ্ণ রক্তিম এক স্রোত;
প্রপাতের ঠান্ডা গুঞ্জনময় জলে তার
গর্ভ ভরিয়ে ফেলবে, -এই অদ্ভুত সম্ভাবনা।

টেবিলের চারদিকে গোল করে সাজানো চেয়ার
মোম গলে পড়ে আছে টেবিলে
কার্পেটে লিনেনে সারি সারি প্রশ্নচিহ্ন;
কাল সারারাত প্রশ্ন হ’য়েছিলো মোমের আলোয়।
আজ আবার নতুন করে টেবিল সাজাবে স্টুয়ার্ড।
নতুন সস্‌ ও সুগারকিউব।
নতুন প্রশ্নবোধক স্যুপ বড় বড় চামচ দিয়ে
খেয়ে ফেলবে অতিথিরা,
ভোরের আলোয় আবার তারা শুনবে
জলের ধাতব গর্জন, ঢেউ ভাঙ্গছে।

রাত্রি ও ভোরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে এক দেওয়াল,
অপূর্ব পেরেক ও রত্নখচিত, নীল প্রলেপ।
তিনজন অভিজ্ঞ রাজমিস্ত্রী, তারা বেহালা জানে না,
ভোরের সামান্য আগেই গেঁথে ফেলে ঐ দেওয়াল;
একবার ভেঙ্গে পুনরায় নীল ও নীরেট ক’রে গাঁথে।
প্রত্যেকটি ভোর তাই মনে হয় নতুন ও অপরূপ।

একা গণিকা নেমে আসছে। ঐ দেওয়ালের দিকে
থুতু ছিটিয়ে সঙ্গীহীন নেমে আসছে সে,
সকালের উজ্জ্বল সিঁড়ি বেয়ে
দুপুরের ধূমপানের তীব্র ও ব্যাপক আনন্দে
আস্তে নীচে নাভি থেকে বাঁধন নামিয়ে
বিস্তৃত রেলিংয়ে, দীর্ঘ হয়ে,
নেমে আসছে জলপ্রপাতের শব্দে।

আজ শিশুদের সূর্য ও স্নানের দিন।
কে ঐ হেঁটে যাচ্ছে জলপিপাসায়?
তার শূন্য হাতে সকালের টান লেগেছে,
পায়ের চাপে কুঁকড়ে উঠছে নাশপাতির বীজ।
কার আতরের শিশি পড়ে রয়েছে ভোরের সিঁড়িতে?
যাচ্ছে একজন এক অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে,
তার শিশুটির কোলে স্থির ধূসর একটি ক্যানারী
চোখে কোনও প্রশ্নবোধ নেই।
গরম হাওয়ায় মনে হচ্ছে দূরগামী ওরা।

কালো ছাতা। নক্ষত্রখচিত কারাগার।
একজন অধ্যাপকের আজীবন বিবাহবাসনা।
একজন প্রেমিকের শান্ত ও সজ্জিত পিস্তল।
পেরেক ও রত্নখচিত দেওয়াল, নীল প্রলেপ।
শিশুদের মুখগহ্বর থেকে ধীরে আঁকশি দিয়ে
লাল ও গোল টম্যাটো বের করে আনছে এক যাদুকর।
কেঁদে উঠছে গভর্নেস, স্তনে তার সুচ ঢুকে গেছে
আর অসমাপ্ত রুমাল উড়ে যাচ্ছে ভূমধ্যসাগরে।

কষ্ট থেকে কষ্টে রঙিন অসম্ভব দীর্ঘ সুতোয়
গভীর নীল বোতামগুলোকে ঘিরে কারা বলছে,
ডাকো, আমাদেরও ডাকো;
বলছে, প্রতিদিন ভোরে, খ্রীষ্টপূর্ব আনুমানিক
আঠারোশো শতাব্দী পেরিয়ে।

জল। আশ্চর্য রঙিন প্রসাধন। রক্তের
অন্তর্ভেদী তিনভাগ। নীল রঙ যাকে
সৃষ্টি করেছে। প্রপাতের গভীর থেকে উঠে
আছড়ে পড়ছে ঐ নীল বোতামগুলো,
ও প্রত্যেক পিলার থেকে ঝংকার উঠছে।
একজন হত্যাকারী হাত ধুয়ে নিচ্ছে জলে
তার উষ্ণ নরম হাত
এই প্রথম শীতের আস্বাদে কেঁপে উঠলো।
কুয়াশায় ডানা ঝাপটিয়ে নেমে আসছে বোয়িং বিমান
সহজ ও সুন্দর অবতরণ।
দাঁড়িয়ে দেখছে সারিবদ্ধ ডাক্তার ও অধ্যাপক,
আজ ভোরবেলা প্রপাতের শব্দে জেগে উঠে
জলের নীল সীমানায় তারা দাঁড়িয়েছে।
কুয়াশা ও ছাই-এর মধ্যে বেড়ে উঠেছে যারা
সেই শিশুরাও বাবার হাত ধ’রে
ওই ধাতব গর্জন শুনে চমকে উঠছে।
জল এসে লাগছে তাদের নগ্ন শরীরে।
তাদের মায়েরা
বুকের ভেতর থেকে বের করে আনছে ছোট ছোট শিশি;
নীল পরিষ্কার জল শিশিতে ভর্তি করে
ফিরবে তারা বিজন বাড়িতে।
সময়ের সজ্জিত সিরাপ তাদের হাতে, তারা
চুমুক দিচ্ছে সেই গোলাপী সিরাপে।

একজন পাগল জলের ধারে বসে কাগজ পড়ছে,
পড়ে নিচ্ছে জলে নামার আগে গতরাতের হত্যাগুলি।
আর সহসা সেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে প্রচন্ড জলে।
কুয়াশা ও ফেনায় তাকে সদ্যপ্রসূত মনে হচ্ছে,
ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে কাগজের নৌকায় –
একা একজন পাগল আজ ভেসে যাচ্ছে ভূমধ্যসাগরে।

গভর্নেসটি তাকে চীৎকার করে বলছে অসমাপ্ত
রুমালের কথা, তাকে ফিরে যেতে হবে;
অধ্যাপকরা ভাবছে তাদের জটিল অসম্পূর্ণ প্রবন্ধগুলো
ফিরে যেতে হবে তাদেরও;
ডাক্তাররা ভাবছে তারা ফিরে যাবে ডিস্পেন্সারীতে –
একা পাগল ভেসে যাচ্ছে ভূমধ্যসাগরে।
ফিরে যাবে উকিল ফাঁসির মঞ্চে, সান্ধ্য মোকদ্দমায়।
যুবকরা ফিরে যাবে, তাদের প্রিয় মঞ্চগুলো সঙ্গীহীন,
তারা সাইকেল থেকে ঘষে তুলছে জং;
হিম ঠান্ডা গুঞ্জনময় জল
গর্ভে ভরিয়ে ফিরে যাবে, ভাবছে তরুণীরা।

একজন ভিখিরী, সে বেহালা জানে না,
পা দিয়ে খুঁড়ে তুলছে বালি,
ভাবছে সোনা আছে কি না; কুয়াশায়
ডানা ঝাপটিয়ে উড়ে যাচ্ছে বোয়িং বিমান;
সরল ও সুন্দর ওড়ন।
প্রত্যেক পিলার থেকে ঝংকার উঠছে, বাজছে
জলে, বেহালায়, গতরাতের নির্মম হত্যাগুলি।
একজন, সঙ্গীহীন, সেই সুরে গর্জনে ফুলে ফুলে উঠছে।

একজন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে জল থেকে
শীতে, সংকোচনে, তার অকস্মাৎ
মনে পড়ছে বাগানবাড়ির কথা,
দেখছে পোশাকের ভেতর থেকে বার করে খোলা জানালা,
রুটি সেঁকার উনুন ও ব্যক্তিগত বাথরুমের ছবি।
একজন পরিচারিকা, কোন দিকে যাবে সেও জানে না;
জলের নীল সীমানায় এসে দাঁড়িয়েছে।
যন্ত্রণায় চীৎকার করে উঠছে একজন
তার সমস্ত রক্ত সে জলে ধুয়ে নিতে চেয়েছিল।
ঈষৎ লাল হয়ে উঠেছে জল আর বহুদূর থেকে
কফি ও ওমলেটের গন্ধ ভেসে আসছে।

ফিরে যাচ্ছে একে একে। শীত ও কুয়াশার
মধ্য দিয়ে শিশুরা। তাদের মাথায় সবুজ টুপি।
সময়ের সজ্জিত সিরাপ তাদেরও হাতে;
তারা চুমুক দিচ্ছে সেই গোলাপী সিরাপে আর
ঠোঁট ফেটে রক্ত পড়ছে তাদের।

ফিরে যাচ্ছে গভর্নেস, তাকে ব্যান্ডেজ শেখাবে
বলছে একজন অধ্যাপক। একজন উকিল
তার শিশুকে পিয়ানো শেখাবে বলছে।
ভাবছে ভিখিরী বিবাহপ্রস্তাবের কথা;
জলকণায়, হাওয়ায়, হিম নাশপাতির গন্ধে
সে আজ প্রকৃত তারই শিশুর মতন।
ভেসে যাচ্ছে ভূমধ্যসাগরে একজন পাগল
ও একটি অসমাপ্ত রুমাল।

জল। পিঙ্গল সীমানাগুলি।
কোথাও কুয়াশা নেই, ছাই নেই।
মোম গলে গলে পড়ছে।
সমস্ত কাপ ডিশ পুনরায় চকচকে উজ্জ্বল।
সূর্যাস্তে পশ্চিমের তারে, ধীরে
শুকিয়ে উঠছে কমলা রঙের শাড়িগুলি।
গরম মাংসের জটিল কোলাহলময় গন্ধ।
চুন পাহাড়ে, পাথরে, সফল সান্ধ্য স্তব্ধতা।

কালো ছাতা; নক্ষত্রখচিত কারাগার।
একজন অধ্যাপকের আজীবন বিবাহবাসনা।
একজন প্রেমিকের শান্ত ও সজ্জিত পিস্তল।
শিশুদের মুখের লাল সুগোল টমেটোগুলি।
একজন গভর্নেসের স্তনে সুচ ফোটার যন্ত্রণা।
নীল রাবার ব্যান্ডে বাঁধা টানটান খয়েরী সম্পূর্ণ জরায়ু।
ধূমপানের তীব্র ব্যাপক আনন্দ ও গরম প্রশ্নবোধক স্যুপ।

সাদা অলৌকিক চোদ্দতলা বাড়ি।
সংলগ্ন সিমেটারী ও প্রস্রাবাগার।
প্রপাতের দূরাগত শব্দ।
জলে নোঙর নামিয়ে তিনজন নাবিক স্রোতের অপেক্ষায়।
একটা ছুরি মাখন মাখাচ্ছে রুটিতে। একটা ছুরি
গুপ্তঘাতকের হাতে লাফিয়ে উঠছে।
পড়ে আছে সিঁড়িতে অবহেলায় এক শিশি সুগন্ধ।

স্রোত; শীত ও গ্রীষ্মের মধ্যবর্তী ধাবমান টাট্টু
দেওয়াল ও দেওয়ালের মধ্যবর্তী কুয়াশা ও উজ্জ্বল আলোড়ন।
চোদ্দতলা অবধি বিস্তৃত সিঁড়ি ও ধাতব রেলিং।
এক প্রস্রাবাগার থেকে আর এক সিমেটারী ও প্রস্রাবাগার।
জলে নোঙর নামিয়ে অপেক্ষা করছে তিনজন নাবিক।

তিনজন অভিজ্ঞ রাজমিস্ত্রী, তারা বেহালা জানে না,
শেষরাতের নরম সোনালী মাংসের কুচি
আটকে আছে তাদের দাঁতে। কাঁপছে তাদের
সাদা জামায় গুঞ্জনময় নীল বোতামগুলি।
ক্রমে, একবার ভেঙ্গে, আবার তারা
গেঁথে ফেলছে একটা দেওয়াল;
অপূর্ব পেরেক ও রত্নখচিত, নীল প্রলেপ।
আবার নেমে আসছে সিঁড়ি বেয়ে এক গণিকা;
দু’হাত বিস্তৃত করে বেশ্যার সম্পূর্ণ নিয়মে;
ঐ দেওয়ালের দিকে থুতু ছিটিয়ে
প্রপাতের দুর্বার শব্দে
একা সঙ্গীহীন সে নেমে আসছে।

——————————–

কবি পরিচিতি

শংকর লাহিড়ী

শংকর লাহিড়ী

শংকর লাহিড়ী। জন্মতারিখ ও স্থান : ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫০, জামশেদপুর। বিহার। শিক্ষা : [১] শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয়, কলকাতা। [২] রিজিওনাল এঞ্জিনীয়ারিং কলেজ, দূর্গাপুর। পেশা : ইঞ্জিনীয়ার। জামশেদপুরে টাটাস্টীল ইস্পাতপ্রকল্পে ৩৭-বছর কর্মজীবন শেষ ক’রে, অবসর জীবনে এখন কলকাতায়।

প্রকাশিত বই :
কবিতা :
শরীরী কবিতা (১৯৯০, কৌরব প্রকাশনী)
মুখার্জী কুসুম (১৯৯৪, কৌরব)
উত্তরমালা, বেরিয়ে এসো প্লীজ (১৯৯৬, কৌরব)
বন্ধু রুমাল (২০০৪, কৌরব)
কালো কেটলি (নির্বাচিত কবিতা, ২০১২, ৯’য়া দশক প্রকাশনী)
সমুদ্রপৃষ্ঠাগুলো (কবিতাসমগ্র, ২০১৪, কৌরব)

গদ্য :
মোটরহোম (২০০৩, কৌরব)
কোরাল আলোর সিল্যুয়েট (নির্বাচিত গদ্য, ২০১২, কৌরব)

তথ্যচিত্র (রচনা, প্রযোজনা ও পরিচালনা) :
১। ‘রাখা হয়েছে কমলালেবু’
–কবি স্বদেশ সেনের সময়, জীবন ও কাব্যভাবনা নিয়ে ২০১৫ সালে নির্মিত ১২৭ মিনিটের তথ্যচিত্র।
২। ‘উত্তরমালা, বেরিয়ে এসো প্লীজ’
– বাংলা ভাষার প্রবীণ ও নবীন নয়জন কবিকে নিয়ে কবিদের মনোজগৎ ও চিন্তাপদ্ধতি নিয়ে ২০১৬ সালে নির্মিত ১৩৫ মিনিটের ছবি।

ই-মেল : slahiri4u@gmail.com

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E