৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
এপ্রি ২৫২০১৭
 
 ২৫/০৪/২০১৭  Posted by

কবি পরিচিতি

শাহীদ লোটাস

শাহীদ লোটাস

শাহীদ লোটাস। জন্ম : ৩০ মে ১৯৮৫ মোহনগঞ্জ, বাংলাদেশ।

প্রকাশিত গ্রন্থ : বেদনার বাঁশী (উপন্যাস), একুশ ও মুক্তির গান (কাব্যগ্রন্থ), কলকি সুন্দরী (উপন্যাস), আরশি (উপন্যাস), মুদ্দাফরাশের কবিতা (কাব্যগ্রন্থ)
যৌথ কাব্যগ্রন্থ : ৮ টি ।

মোবাইল : ০১৮১১-৩৩৫২৪৫
e-mail : shaheedlotus6@gmail.com

শাহীদ লোটাস-এর কবিতা ভাবনা
ছায়ার মতো কবিতা আমাকে অথবা আমি কবিতাকে অনুসরণ করি জীবনব্যাপী ।

প্রতিদিনকার জীবন যাপন, প্রকৃতি, প্রত্যাশা, হতাশা, চিরকালীন ভয় ও আনন্দ সুন্দর ভাবে লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ কারর রীতিকেই আমার কাছে কবিতা মনে হয়। একটি কবিতা যখন কোন বিষয় নিয়ে লেখা হয় সেই বিষয়টি পাঠকের মনে সুস্পষ্ট বোধ জাগাতে পারলে কবিতার সার্থকতা আসে, কবিতা যদি অস্পষ্ট অথবা পাঠকের মনে আলোড়ন তৈরি করতে না পারে, তখন সেই কবিতা সহজ লভ্য কোন কথার মতো শুধু কথাই থেকে যায় অথবা বোবার আর্তনাদের মতো রয়ে যায় অপ্রকাশিত বাক্য, চিরকালীন বাক্য গঠনের প্রথা থেকে মৌলিকত্ব আর থাকে না। আমি মনে করি কবিতা হলো পাঠককে প্রভাবিত করার বাকপটুতা। একজন কবি যখন তার লেখনীর মাধ্যমে চির প্রচলিত বাক্যের সীমানা অতিক্রম করে পুরাতন ধারণা ও নৈসর্গিক ঘটনাবলির ব্যাখ্যা মৌলিকত্ব বজায় রেখে নতুন ভাবে পাঠকের দৃষ্টিতে উপস্থাপন করতে পারেন দেখানে পারেন তখন সেই কবির কবিতাকে উন্নত-জাত কবিতা বলে স্বীকৃতি দেব। কবিতা হতে হবে এমন, যেন পাঠক পড়তে পড়তে নিজের জীবনের বিচ্ছেদ গুলোর নতুন ব্যাখ্যা পেতে পারেন, তার নিজস্ব ভালোবাসা নতুন রূপে অনুভব করতে পারেন, হারানো কিছুর জন্য সে আবার ব্যথায় কাতর করতে পারে। একজন কবিকে হতে হবে আপন আলোকে উজ্জ্বল মৌলিক প্রদীপের মত স্বকীয়।

আমারা যা দেখি সব সময় কিন্তু ভালো ভাবে তা দেখা হয় না, অনেক কিছু দৃষ্টির সীমানার ভেতরে থেকেও রয়ে যায় বোধের বাইরে, কবিতা পাঠকের এই বোধের বাইরে থাকা বিষয়গুলোর দেখার শক্তি সর্বদাই উন্নত করে। কবিতা যখন পাঠকের বোধ, বুদ্ধি, অনুভবশক্তির সঞ্চার ঘটাবে তখন সেই কবিতা হবে জীবন্ত।

শিশুকালে কোন কবিতা দিয়ে কবিতার সঙ্গে পরিচয় তা আমার মনে নেই। কবিতার সঙ্গে চলতে চলতে আমি জেনেছি কবিতা আমার সহচর, কবিতাকে আমি ভালোবাসি, ইচ্ছে করলেও আজ তাকে দুরে রাখতে পারিনা। ছায়ার মতো কবিতা আমাকে অথবা আমি কবিতাকে অনুসরণ করি জীবনব্যাপী।

শাহীদ লোটাস-এর কবিতা

কাঠুরিয়ার কাঠ কাটা

কাঠুরিয়া কাঠ কাটে, পাখিরা উড়ে যায় গাছের সীমানায়।
এভাবেই মৃত্যু হয় গাছ ও মানুষের
মানুষ মূলত নিজরাই নিজেকে কাটে কাঠুরিয়া হয়ে।

ঘাম ঝরে ঝরে কালো লৌহ জাতিয় দেহ কাঠুরিয়ার সম্পদ
কুড়ালের ধার কাঠুরিয়ার ভালোবাসা, করাতের সান কাঠুরিয়ার প্রেম,

গাছের চিৎকার কাঠুরিয়ার বাদ্য,
কাঠুরিয়া কাঠ কাটে ।

ভৌতিক শব্দ

ভৌতিক শব্দের নিরবচ্ছিন্ন মুহূর্তগুলো
আমাকে আজো কাঁদায় দিনভর,
অলৌকিক স্মৃতির ক্যানভাসে দুপুরের কড়া রোদ
ঝলসানো ছায়াছবির একের পর এক দৃশ্য,
ঝাঁ ঝাঁ দুপুরে চা-স্টলের ভাঙ্গা চুলোর লালায়িত আগুন
স্পর্শ করে প্রিয়তমার নীল ঠোঁট,
চুরুট জ্বালাবার আগেই তার সর্বাঙ্গ ছুঁয়ে যায় এক ফাল্গুনী বাতাস।

চুমুর বিষে অবশ হয়ে আছে সে
কোন এক বীর রাজাকার
তাকে বীরাঙ্গনা করে চলেছে কত কত দিন,

সে ভূমিষ্ঠ করে স্বাধীন বাংলার স্বাধীন সু-পুরুষ ।

প্রাসঙ্গিক

প্রেতাত্মার নির্বাসনে
রচিত হল আজকের এই কবিতা ।

মুমূর্ষু রাত মন্থর গতি নিয়ে এগিয়ে আসছে
পাতার চাবুকে প্রথম প্রহর চমকে উঠে
আকাশের কিনারায় ঘুমিয়ে থাকা চোখে,
নিরুপায় আলো শেষ দৃশ্য দেখবে না আর
প্রতি সেকেন্ডের মূল্য হয়ে আছে সহস্র শতাব্দী।
এখন ঘুমিয়ে যাওয়া ভালো।

প্রেতযোনি বসে আছে চুপচাপ
কি করবে তাই যেন ভাবছে আমাকে নিয়ে ।
প্রতীপ
একটি রাত প্রতীক্ষায় আছে আমাদের!
আলো নেই, আঁধার নেই, অপেক্ষায় বিবর্ণ বাতাস ।

মহাজ্ঞানী ঠিক স্বার্থ বুঝে চলে
কিন্তু বুঝতে পারেনা তারা অন্ধ,

এঁটেল মাটির দেশে আলু ফলাব বলে
চাষ করি রাতের পর রাত দিনের পর দিন
ঘামে সিক্ত হই জমি
সিদ্ধি গাছ গুলো ঠিক বেড়ে ওঠে ।

কতশত দিন চলে যায় রাতের আয়না।

ধৈর্য

হতাশায় আকাশটাকে মনে হয়
বঙ্গোপসাগরে ডুবিয়ে দেই
চোখের নোনা জলে ভিজিয়ে দেই
স্বার্থপর পৃথিবী।

আমাকে দেখে উনি তো চিন্তিত নন
মোটেও চিন্তিত নন, উনি আমার আপন জন
গুরু, বয়োজ্যেষ্ঠ, উনি কেন নির্বিকার ?

ঘৃণা করব না অভিমান করবো বুঝতে পারছি না,
উনি হাসলেন।
বললেন, ধৈর্য ধর!
জীবনের আরও কিছুটা সময় পার করে বুঝলাম,

আসলে চলতে চলতে ওনারা বুঝে গেছেন
জীবন কখনো এক জায়গা থেমে থাকে না।

চুনুরি শাড়ী

চুনুরি শাড়ীর অববাহিকা বন্ধনের অভাব,
আবাসিক নাগরিক যৌবনে ইলিমিলি ইচ্ছে গুলো
লাঙ্গলের দণ্ডে একের পর এক কষ্ট খুড়ে
উড় জীবন ক্ষুধায়,
অতঃপর
শ্বেতবর্ণ হরিণে সওয়ার হয়ে
দেখি একদার নিষ্ঠ শতেক শতেক পাপীদের হাসি,
এই জন্মের পারলৌকিক আর পরম্পরাগত প্রেম,
ঔরস্যে জীবিকার পথ।

কংসবণিক দেখুন কড়াইয়ে শুভ সমাপ্তি,
অভিজাত সবজি, অবসন্ন প্রেম,
কড়াই অদৃশ্য আলোতে হারিয়ে যায় ফিরে এসে আবার।
গৃহিণীর আসঙ্গ আবদারে রক্ত ঝরে,
প্রেম ক্ষুধা ক্লান্তির পর প্রেমে মজে গাছ সংক্রান্ত ইতিহাস লিখতে বসেছে
আমাদের অন্ধ ছাগল ছানা
আমাদের ইতিহাস করে,
এভাবেই চুনুরি শাড়ীর জীবনকাল।

চিলেকোঠায় আজ আমাদের অসংখ্য চিলেঘুড়ি উড়ন্ত উজ্জীবন।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E