৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
নভে ০৭২০১৬
 
 ০৭/১১/২০১৬  Posted by
রুদ্র আমিন

রুদ্র আমিন

কবি পরিচিতি

রুদ্র আমিন। এটা আসলে ছদ্মনাম। প্রকৃত নাম: মোঃ আমিনুল ইসলাম। জন্ম: ১৪ই জানুয়ারী ১৯৮১ (সার্টিফিকেট নয়, প্রকৃত), ফুলহারা, ঘিওর, মানিকগঞ্জ। পিতা: মোঃ আব্দুল হাই (আরজু) মাতা: আমেনা বেগম। পড়াশুনা: ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনার। পেশা: ব্যবসা।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : যোগসূত্রের যন্ত্রণা (২০১৫); আমি ও আমার কবিতা (২০১৬)।

রুদ্র আমিন -এর কবিতাভাবনা

জীবন মানেই বাহুল্য বাতাস তেমনি কবিতা হচ্ছে জীবনের বাহুল্য বাতাস।

আমি মনে করি সকল শ্রেণীর পাঠক, লেখকদের কেবল কবিতা’ই আধ্যাত্মিক খোরাক দিতে পারে। কবিতার প্রসব যন্ত্রণা এতোটাই যা একজন মা তার সন্তান জন্ম দেয়ার সময় অনুভব করে তেমনি একজন কবি সেও সেটা অনুভব করে। আমার দৃষ্টিতে লেখালেখির জগতে কবিতা লেখাই সবচেয়ে জটিল ও কঠিন ব্যাপার। সবাই যেমন কবি হতে পারে না তেমনি সবাই কবিতার পাঠকও হতে পারে না।

একজন কবি তখনি সার্থক, যখন কবি’র কোনো একটি কবিতার একটি চরণ নিয়ে ভাবনার সাগরে ডুবে যাবে। ভিন্ন ভিন্ন পাঠকের ভিন্ন ভিন্ন অভিব্যক্তি প্রকাশ পাবে। হোক সে সহজ এবং সরল কথা।

কবিতা নিয়ে প্রায় ভাবি, বসে থাকি কিন্তু কবিতা লিখতে পারি না। সেই উপলব্ধি থেকে বলতে পারি। কবি কখনো কবিতা লিখতে পারে না, যতক্ষণ কবিতা একজন কবিকে লিখতে সাহায্য না করে। কবিতাই কবিকে কবিতা লেখায় আর কবি ততক্ষণে কবি হয়ে উঠে না, যতক্ষণ সে কবিতার প্রেমে না পড়ে। কোনো কবিই কবিতা লিখতে পারেনি, আসলে কবিতাই কবিকে কবিতা লিখতে বাধ্য করে।

রুদ্র আমিন -এর কবিতা


চরিত্র

আমি উলঙ্গ হলেই যত সমস্যা পৃথিবীর
কিন্তু চ ছ জ ঝ এক চুল রাখেনি গায়ে বস্ত্র, কই?
কোথাও তো শুনিনি কান কথা কিংবা আন্দোলন
গ্রীষ্মের তাপদাহেও পুড়েনি কোনো চায়ের দোকান
তবু কেনো স্বর্গ নরকের হিসেব বুঝানো হয় শুধু আমাকেই!


ছায়া

আমি যখন তোমাকে দেখলাম তখন গোধুলি সন্ধ্যা
চতুর্দিকে দৃষ্টি ফেলতেই দেখি কোথাও কেউ নেই
নিশ্চুপ অন্ধকার আর ঝিঝিপোকারা শুধু ডাকছে।

ছায়ায় ঘুরতে ঘুরতে এক সময় ছায়াহীন হয়ে
অচেনা একটি রেখায় এসে দাঁড়িয়েছিলাম
অথচ কী আশ্চার্য, নিজেই হারিয়ে ফেলেছি নিজের ছায়া।

আলোর সম্মুখে আর দাঁড়ানো হলো না বুঝি আয়নায়
আজ দেখি ছায়াটা অনেক অনেক বদলে গেছে
ফুলের বাগান থেকে শুরু করে হাট-বাজার, বাসস্থান
অতঃপর নিষিদ্ধ পল্লী।

সত্যি ছায়াহীন পৃথিবীতে মানুষ বড্ড বেমানান
ঠিক তেমনি ছায়াহীন মানুষ বড্ড বেমানান মানুষে।


সময়

স্নিগ্ধতার মতো বেড়ে ওঠা ভালোবাসা ছিঁড়ে গেলে
এখন আর তেমন রঙ-বেরঙয়ের রুধি বের হয় না,
ছিঁড়ে গেলেই নাকি বৃক্ষ শুকিয়ে যায়, অনেকেই বলে।
হারিয়ে যায় দিন, হারিয়ে যায় রাত!
ভালোবাসায় দিনই বা কি, রাতই বা কি?
যে যাবার সে চলে যাবেই, এখানে দিন বা রাতের কি যায় আসে!
দিন দিনের ঘরে, রাত রাতের ঘরে
জন্ম আর মৃত্যু মিলে গেলে কিছু করার থাকে না, কিচ্ছু না
যত আলগোছে তুলে রাখা হোক না কেন
ভালোবাসা থেকে ভালোবাসা ছিঁড়ে গেলে ধরে রাখা যায় না
যেমন জীবন থেকে মৃত্যু।


এক জীবনে

জল হয়ে জন্ম নিলি আর পাতিল বদল করবি না…
এটা কি করে হয়?
জল তো তরঙ্গে তরঙ্গে ছলাৎ ছলাৎ নৃত্যে স্থান পরিবর্তন করে
তুই না করলে হয়?
মাটি বলেও ভাবতে পারি না তোকে, পারি না বলতে বাউরা বাতাস
আলোও না আবার আঁধারও না, আবার দুটোতেই তোর চলে শ্বাস।

কেউ বলে জীবন, কেউ বলে সুখ, কেউ বলে ঝড়ো মেঘ কিংবা
দুধে জলে মেশানো এক ফোটা বিষ, আর কত এক জীবনে?


কবি’র প্রসব যন্ত্রণা

কবিতার পালিতে আঙ্গুলের প্রসব যন্ত্রনায় কবি’র
প্রজনন বল খাতার বিছানা হারিয়ে ফেলেছে
অবশেষ হারিয়ে ফেলেছে এক একজন সন্তান
আজ কবি ও আঙ্গুল চিত্রক খাতায় কবিতা প্রসব করে।


প্রিয়ন্তী

ভেবেছিলাম কোনো এক প্রিয়ন্তীকে প্রেম প্রস্তাব দিবো
কিন্তু বড্ড ভয় হয়, জানি ভালোবাসাতে ভয় থাকতে নেই
তবুও মনে পড়ে যায়, নিউটনের তৃতীয় সূত্র; তবে কি
ভালোবাসবে না কেউ, যাকে আমার প্রিয়ন্তী মনে হয়?
নাকি বলবো, তুমি তাকেই ভালোবেসো যে তোমায় ভালোবাসে
সব সত্যতা মেনে নিয়েই তো বসন্ত শুকিয়ে ফেলেছি
আজ সামান্য বাতাসে জৈবিক বসন্ত ভেসে যায়।
যতবার প্রজাপতি গায়ে এসে বসেছে, মাথা, হাত, মুখমণ্ডল স্পর্শ করেছে
ভেবেছিলাম এই বুঝি প্রেম এলো, ভালোবাসবে প্রিয়ন্তী
তবুও এলো না, কেউ ভালোবাসার কথা বলেনি, আর
যখন নিজে থেকে বলতে গিয়েছি ততবার নিউটনের
তৃতীয় সূত্রে হিমালয় গলে এ হৃদয় ভাসিয়ে নিয়ে চলে গেছে অজানায়।


প্রেম বড্ড তেলতেলে, নিরামিষ, পিচ্ছিল!

সময়ের স্রোতে ভণ্ড হয়ে যায় পীর,
পীর হয়ে যায় ভণ্ড। ভণ্ডামীর এই পথে
রংধনুর রঙে হারিয়ে ফেলি নিজেকে।
সামাজিক যৌন ক্ষুধায় হাঁটেনি কে সে পথে
ভালো আর মন্দের পিচ্ছিল এ রথে যদি নাই চড়ে থাকে
নইলে জীবনের স্বাদ, গন্ধ, কেমন করে টেনে নিবে বুকে
প্রেম কখনো সে অস্থির কখনো স্বস্তির
যাকে লোকে বলে প্রেম নাকি দোস্ত ভণ্ড ও সাধুর বস্তির
প্রেম বড্ড তেলতেলে, নিরামিষ, পিচ্ছিল!



আধারির আঁধার

আমি ভাবি তোমার শীতল আঁচলে মুখ লুকাবো
কোমল হাতের স্পর্শে ক্লান্ত দেহ ফড়িং বানাবো
বাউরি হাওয়ায় দোল তোলা ধানের শীষের মতো
রেশমী কেশের সবুজ ঘ্রাণে মাতাল হবো,
অতঃপর,
আকাশ ভাবে মেঘের কথা আর মেঘ ভাবে সূর্যের।


ভালোবাসা

পাপের পাশেই আছি
ভালোর খুব কাছাকাছি
কোথায় কেমন ভাবছি
বুনছি আর খুঁজছি
ঠিক ভালোবাসা তেমনি।

১০
এক টুকরো সীমান্ত

অবশেষে জোড়াতালির দেহ জোড়াতালিই রয়ে গেলো
স্বপ্নগুলো নিদ্রামাঝে যেমন আজও কানামাছি হয়ে খেলা করে,
ঠিক হলুদ ময়না পাখিটির মতোন, সজাগ পৃথিবীতে ঘুমন্ত
ছায়া কায়া। মানুষ গুলো রঙধনুর মতো বিবেক রাঙিয়ে উঠে চরে
তবুও রোজ প্রভাতে খুঁজে ফিরি মানবতার এক টুকরো সীমান্ত ।

১১
জলের নীরব শব্দ

উত্তাল সাগরে জলের নীরব শব্দই বলে দেয়
কতটা ঝড়ের তাণ্ডবে লোনা জল মিষ্টি স্বাদে রক্তিম রূপে সুস্বাধু
ঠিক ততটা সম্পর্কই মৃত্যুর যন্ত্রণা বুঝেও অবুঝ
তাবত পৃথিবীর।
প্রিয়ন্তী, বেঁচে থাকার প্রত্যয় নিয়ে আগামীর পথ খুঁজো না,
যদি বেঁচে থাকতেই চাও তবে মৃত্যুকে বেঁছে নাও, সত্যকে মেনে নাও
যেমন আজ মিথ্যেকে বিশ্বাস করে; অর্থকে ভালোবেসে আপনাকে ভুলে যাও
ঠিক তা নয়, দৃষ্টান্ত স্থাপন করো; যেমন বধির বৃক্ষগুলো বেঁচে আছে
ঠিক তেমন মৃত্যুকে বেঁচে নাও……..
জানি জলের নীরব শব্দই জ্বলন্ত চুল্লিতে কতটা হৃদ দগ্ধতার যন্ত্রণা

১২
অণু কবিতা (ভালোবাসা)

১।
দেখো, একবার চোখ তুলে দেখো, খুঁজে নাও অস্তিত্বে তোমার
চোখের পাতার তলদেশে, ময়ূর মেখম পাপড়ির অলিতে গলিতে
অস্থিরতায় নয়, একটু দাঁড়ায়, সামান্য চিমটি কেটে দেখো
এই তো আছি তোমার অনুভূতির অস্তিত্বে, খুঁজে পেয়েছো ?

২।
সুখকে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়ো না, জ্বলে পুড়ে ছাঁই হবে
দুঃখকে ভয় করো না, প্রিয়তম ভেবে নিও, বেঁচে যাবে
চোখ মেলে থাকো, প্রকৃতির মাঝে খুঁজে নিও ভালোবাসা
সুখ চলে যেতে চায়, চলে যাক, যেতে দাও, হয়তো নখের আঁচড় হারাবে
জানি বেঁচে যাবে যে দুঃখগুলো বারংবার হাত বাড়ায় বুক ভেদ করে।

৩।
কালমেঘের তর্জন গর্জন, আকাশের আর্তনাদ বজ্র স্ফুলিঙ্গ
হুদহুদ, সুনামী, নারগিস কিংবা হিরোশিমায় বিষ্ফোরিত এটম বোমা
তারও অধিক, হোক সে কেয়ামতের প্রথম আলামত, হিলাময় গলে মহাসাগর
কিংবা সর্বোচ্চ কম্পিত হোক ভূমিকম্পন পৃথিবীর বুকে বা
তপ্তমরুর প্রতিশোধী বালুর বারুদময় আলোক রশ্মির জ্বলন্ত লাভা;
এতোটুকুও ভয় করি না, যতটা তোমাকে ভয় ছোট পৃথিবীতে
আসলে ভালোবাসায় মরে গেছে বিশ্বাস, মরে গেছে লাইলী-মজনু, শিরিন-ফরহাদ।

৪।
কখনো কী দেখেছো কিংবা অনুভব করেছো জলের মাঝেও
ডুবন্ত ডুবোরীর শরীরের ঘাম খড়স্রোতা জলকে পরাজিত করতে পারে
বা কখনো কী শুনেছো একজন প্রেমিকার চেয়ে প্রেমিক জ্বরকে বেশি ভালোবাসে
যদি’র ঘরেই যদি থাকো, তবে কি করে বুঝবে; ভালোবাসা কতটা গহীনের কথা বলে?

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E