৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ৩০২০১৭
 
 ৩০/০১/২০১৭  Posted by

পল কলিনেটের কবিতা

ভাষান্তরঃ রেজা রাজা

[পল কলিনেট (১৮৯৮-১৯৫৭) : বিখ্যাত পরাবাস্তববাদী কবি পল কলিনেট ২রা মে ১৮৯৮ সালে বেলজিয়ামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি গদ্যকবিতা লিখলেও পরাবাস্তববাদের অন্যতম অগ্রগামী কবি। পরাবাস্তববাদী চিত্রকরদের সাথে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিলো। তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত গ্রন্থাবলীঃ Les histories de la lampe (১৯৪২), Les naturels de l’esprit; dessins (১৯৪৭)প্রভৃতি। গত শতাব্দীর আশির দশকে তার কবিতা ইংরেজীসহ অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হতে থাকে। ২৩শে ডিসেম্বর ১৯৫৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ-কবিতাগুলি ইংরেজী ভাষা থেকে অনূদিত হলো।]


ন্যাট পিনকারটন

উচু রেলগাড়িতে পাওয়া কাচের নীল গ্লাসগুলির
মালিক ছিলো বিষণ্ণ লেডি মরটন।
ন্যাট ও তদন্তকারী যাদেরকে ডিপোর কালো জানালার দিকে বিপথগামী
করা হয়েছিলো তারা মহিলার প্রাত্যহিক রুটিন দুবার বাতিল করেছিলো।

কাজটি লাল রঙ করা ও রহস্যজনক মাল মসলায় ভর্তি
একটি ফুটো পিপেয় আটকে গিয়েছিলো।

ছড়ানো বিছুটি, প্যাডের জানালা, গোপন প্লাটফর্মসহ সেখানে
ছিলো চিলেকোঠার ঝলমলে সাজানো হোটেল।

এই সমস্ত কর্মকান্ডই ইলশেগুড়ি বৃষ্টিতে সীলমোহর মারতে থাকা
কোন এক বিপন্ন মঙ্গলবারে সংঘটিত হয়েছিলো।

ঘোড়সওয়ার দ্বারা নির্দেশিত পথেই ন্যাট অপরাধীকে খুঁজে পেয়েছিলো
ভুয়া ভিন্নমতাবলম্বী যাজকের উইলো কাঠ নির্মিত স্যুটকেসের ভেতর।

সে এক মঙ্গোলিও বংশদ্ভূত বিকট দর্শন বামন। ভিন্নমতাবলম্বী যাজক
ছিলো তার লেফটেনেন্ট।


মেরিসেট

এ-কেমন প্রশ্ন? সমস্ত চরাচরে একটি কেশাগ্রের শ্বাস-প্রশ্বাস।

একটি বৃক্ষ দাবানলে পুড়ছিলো, একটি দীঘি ছিলো বিষন্ন বিপন্ন

সোনারং শিশির মাখা একজন পরিচারিকা বিচিত্র ঝোপের আদরে

ঘুমের কোলে ঢলে পড়েছিলো।

এ-কেমন প্রশ্ন? একটি ছোট্ট রেখা। একটি নিবিড় ক্ষুদ্র
দেহ। নগ্নিকা মেরিসেট।


কল্পকাহিনী

এক গ্রামে ছিলো এক নিদ্রালু বেল-টাওয়ার ।

নিজেকে এক রাশ পত্র-পল্লবে ঢেকে তিনের ঘরের নামতা
গুনতে  গুনতে সে আরামে ঘুমিয়ে পড়লো।

নিদ্রাভঙ্গে সে চারপাশে বগলে ঝুলানো রুপোলি শিশিরকনাসহ
সামান্য ক’টা গাছের বেশী দেখতে পেলোনা।

তার কপালে ঝুলছিলো একটা লম্বা পোড়া কাগজের ব্যান্ড ।


প্রদেশসমুহ

আমরা শনিবারটি এরাবিয়ান গাট্টির বৈঠকখানায়
কাটানোর আশা করেছিলাম।

এটা তার বাহুর নীচে মই ও স্কন্ধ-ফিতে হিসেবে
কর্ণিক রাখতে অভ্যস্ত ছিলো।

নাশপাতির লুপ্ত গন্ধসহ ঘড়িটি সতর্ক
বেজে ওঠলো।

একটি সুতোর ছড়া আরাম কেদারায় অলস সময়
কাটাচিছল; যেন এটা তার সাপ্তাহিক পাওনা।


হাতির চশমা

ক্ষুদে প্রাণিটি ছিলো বিলুপ্তকালের ভাসমান বরফের চাঁই
ধবধবে সাদা লিনেনে প্রবল হাওয়া পাতা উড়িয়ে দিলো

অপূর্ব সংগীতের সুর-ধ্বনির মতো তারা সূর্যদেবকে পবিত্র
পদক্ষেপে উঠানামা করতে শুনলো।

মধাহ্ন ভোজনের সময় রুপালী নাশপাতির ন্যায় এসি্টিলিন
বাতির নীচে সুরাপাত্রের ছিপি আলো ছড়ালো।

ব্যাপক খোঁজাখুজির পর বাচচারা হারিয়ে যাওয়া এক শিকারিকে
বৃক্ষশাখার মধ্যে উলটো উলটো অবস্থায় খুঁজে পেলো।

দূরের রাস্তার মোড় থেকে ছালা ও গদা হাতে একদল দস্যুর
হুঙ্কার ভেসে এলোঃ  “টাকা দে নইলে গর্দান যাবে।”

………………………………………..

অনুবাদক পরিচিতি :

রেজা রাজা

রেজা রাজা

রেজা রাজা। জন্ম ১৮ এপ্রিল ১৯৭০ খৃষ্টাব্দে মানিকগঞ্জে। পড়ালেখাঃ বি। এসসি।(অনার্স) এম। এসসি (পদার্থবিদ্যা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ মেঘলোকে শহর ভেসে যায়।
অনুবাদ গ্রন্থঃ মিলান কুন্ডেরার Laughable Loves.

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E