৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
নভে ১৯২০১৬
 
 ১৯/১১/২০১৬  Posted by
রিফাত বিন নূরুল

রিফাত বিন নূরুল

কবি পরিচিতি

রিফাত বিন নূরুল। জন্মঃ ১০অক্টোবর, ১৯৯৪। উপজেলাঃ ধনবাড়ী জেলাঃ টাংগাইল। আমি একজন মানুষ, এবং আমার ভেতরের সত্তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই ভেতরের স্বত্বাকে সত্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে আমি নিজেকে শিক্ষক, বিদ্যালয়, বই হিসেবে গড়ে তুলবো। একটা বই কখনো মিথ্যে বলে না। মিথ্যে সে যে ভুল কিছু উপস্থাপন করে ভুল কিছু শিক্ষা দেবে। এর জন্যে আমি বলি, ‘মরে যাবার আগে সত্য করো জীবন।’ লেখালেখি শুরু ২০১৫ -এর অক্টোবর থেকে। প্রকাশিত কোনো বই নেই আমার। ২০১৮ -তে বই করার চিন্তা করতে পারি।

রিফাত বিন নূরুল -এর কবিতা-ভাবনা

কবিতা আসলে ড্রয়িং, যেখানে উত্থান-পতন আসে শ্রুতিবোধের মতো। এই সমর, ভ্রণ থেকেই জন্ম। আমাকে রবার্ট ফ্রস্টের ‘দ্যা রোড নট টেকেন’ এর ভেতর দিয়ে যেতে হবে। আমার আত্মার সমস্ত তূণীর, সমস্ত আন্দোলন সুর হতে হবে পৃথিবীর। যেনো, স্বয়ং আমি একটা বাদ্যযন্ত্র।
মূলতঃ এই পৃথিবী আমার জন্যে একটা মুক্তমঞ্চ। আমার সামনে উপস্থিত সরল মানুষগুলো আমার জন্যে অপেক্ষা করছে। আমি বলবো তাঁদের জীবন ব্যবস্থা, এবং আমার পাঠ হবে তাঁদের কাছে শ্রুতিমধুর। আমি একজন কবি, এবং একজন কবিই কেবল মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা দিবে। জন কিটসের ভাষায় যদি বলি  —  
                        ‘আমার প্রেমিকার (কবিতার) ভেলভেট বুক যেন প্রশস্তির আশ্রয়
                        চিরদিনের জন্য জাগ্রত এক সুললিত অস্থিরতায় এখন অবধি
                        তার প্রলম্বিত শ্বাস টেনে নেবার শব্দ শোনার প্রত্যাশায়
                        এরপর কেবল বেঁচে থাকা কিংবা বিমুগ্ধ মৃত্যু!’

রিফাত বিন নূরল -এর কবিতা


বাইনারী ফুল এবং হলোগ্রাফিক ঈশ্বর

চোখের ভেতরে যে পরজীবী শামুক জেনে গ্যাছে তাঁর আয়ু
অথচ এই বিখণ্ডনের পাশে সম্যক দশা জুড়ে মৌন মেপল
ভিন্ন তলে অবস্থিত ও দুইটি পৃথক দৃশ্য তৈরি করো এ কেমন পরকলা,
যেনো নির্লিপ্ত খরখোশ; জেনো,তুমি উজ্জ্বল তাই তোমার আপাত মান কম।
ক্রাতিবৃত্তের লয়ে ব্যঁজনা স্মারক বাইনারী ফুল এবং আদ্রক যেনো পুরঁজন গোলাপ
এবং অন্ধদের মতো শব্দ শুনে অনুমান করতে চাই, কে আমি!
তুমি এই নিঃসরণ দ্রোণী সর পড়ে আছো পতিমুখে
স্ব-সঙ্গচ্যুত আমি, অথচ, পরজীবী হয়ে শোভা পাচ্ছি আপণিকের মতো স্বচ্ছ।
প্রাকভূমিরূপ নদীর মতো বিবৃদ্ধি আমার অথচ ঈশ্বরের মতো নদ
আমার আত্মার সন্তরণের পর থার্মোমিটারে ধরা পড়ে না হারমোনিকার সুর।
পয়োধরকূপে তুমি পুষ্প যেনো অপেক্ষায় আছো গর্ভস্বরের,
নিবেদন হও তন্ময় তুমি — সপ্রতিভ, এই যে প্রতিপদার্থ ফুল—
তূর্যনিনাদে ফুটে আছো, আসক্তি সমস্ত লয় সমস্ত গভীর গহ্বরে আন্দোলিত হচ্ছো অমরতায়
জেনেছি— তোমাকে অস্বীকার করে তোমার স্বরেই কথা বলি।


পিতা

নদীর রক্তের ভেতরে ঋণাত্মক যে পথ বোধে’—
অগ্রসর দৃষ্টি সম্মুখে ধীরে ভাঁসছে মায়াস্তরের শীতকাল
বাঁকের গভীরে আলোকস্তব্ধ দেহ যেনো সত্য নয় ঈথর
উপলব্ধি এবং শোকবোধ উৎস থেকে—
মগজে ধারণকৃত ছায়াছাপে যতোটা রঙ কালো বর্ণের
তারপর উজ্জ্বল স্যাটার্ন, ভ্রূণ থেকে যে সত্য এবং দর্শন


মা এবং আত্মজ

পৃথিবীপূর্ব থেকে বোধহীণ পারদসঙ্গ— এই ভ্রণ
ধীরে, এবং নিয়মে অর্ধ-গোলাকার কমলালেবুতে
রক্তমায়া নিশান; যেনো সপুষ্পক উদ্ভিদ থেকে ফুটে
উঠছে উপকূল —
নির্দিষ্ট আয়তনে রেখে আলো থেকে আলোর গতিপথ
পরিবর্তন করে এবং আহ্নিক গতি এই আলো, চারদিকে
ঘুরছে উৎস থেকে— প্রকৃতি থেকে প্রকৃতির ভেতরে


হাইপো এবং গ্রন্থিক

আমার সংরক্ষনাগারে অন্ধকার আঁটকে আছে,
জানালা বন্ধ—
দরোজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে আমার পিতা!
দেহের ভেতরে যাচ্ছি আমাকে তুলে আনতে
আমার চোখকে ঝুলিয়ে রেখেছি দেয়ালে,এবং
যতগুলো দৃশ্য দেখা যাচ্ছে তাঁর নাম চলচিত্র!
এই দুঃখবোধের দৃশ্য পূর্ণাঙ্গ কোনো লক্ষ্য নয়, যেহেতু
অভিজ্ঞতা থেকে— স্বাতন্ত্র্যতা খুঁজে নিতে হবে আমাকে
যেখানে আছে আলো এবং নিঃশ্বাসের মতো সত্য ভবিষ্যৎ।
আমার বীর্য থেকে যে নদী হেঁটে যাচ্ছে
মাছের ভেতর, আমাকে দেখতে ঈশ্বরের মতো
এবং ভেবে দেখি আগামীতে ঈশ্বর আমার ছেলের মতো।
আমি আমার জীবনকে উৎসর্গ করছি এ্যাঁকুরিয়ামে
স্বচ্ছ কাঁচের ভেতরে— যেহেতু আমি মানুষ
এবং মৃত্যু আমাকে স্মরণ করিয়ে দিবে মানুষের ভেতরে।


প্ল্যাসেন্টা এবং ন্যাপথালিন

তুষারে শীতল আত্মা গুলো আলো ধরে হাঁটছে,
তাদের পা এবং চোখ মানুষের ভেতরে,ঈষৎ আলোয়
করুণ মুখ তাঁকিয়ে আছে তাঁদের দিকে— স্বতোবৃত্ত থেকে
এবং স্বেচ্ছায় নয়, যেহেতু ভাগ্য এবং জীবন উভয়ই ধাবমান
অনতিক্রম্য দূরত্বে অন্ধকারের সারাতসারে।


পরাবাস্তব

আমার আত্মা থেকে যে জায়গা তৈরী হয়
আমার সমস্ত শরীর সেই নির্দিষ্ট পথে চলে
নিঃশ্বাস থেকে নিরাপত্তা নিয়ে,
এই ঘড়ি— অনুভূতি এবং বিমূঢ়তার জন্যে
আমি মিথ্যে যে অন্ধকারে— সে পাখি
আমি সত্য যে অন্ধকারে— সে আয়না


অন্ধকার এবং কল্পনার মাঝে ঈশ্বর

উদাস ফ্রেমে জীবন দেখা যায় প্রকৃতির মতো এবং
চোখে দু’টো কলম থাকা উচিত―
মৌলিক দুঃখ নিয়ে আমরা আমাদের খেয়াল করি?
অদৃষ্ট চোখে দু’পেয়ে কবর এবং শ্মশান বায়ুর মতো পলাতক
ডিমের খোলসের ভেতর যে লাল বৃত্ত আমাদের মূল গন্তব্য
সবচেয়ে ঠান্ডা রক্ত আমার, এই রাতে, আমার স্থির দৃষ্টি
পায়ের ছাপে যে আর্কাইভ শব্দ, নিশ্চয়তা আছে? ফিরবে কখনো?
দৃষ্টির ঘুমে যে সময়টা অন্ধকার তা কল্পনা,রক্তের মতো
স্বভাব চলাচলে বাহিরে চোখ, জলপ্রপাতের শব্দ আমাদের সময়
সকল সংবেদন স্পষ্ট করতে হবে ঈশ্বরের মতো একা একা
আমরা সে দিকে তাঁকিয়ে আছি দৃষ্টি যতটুকু সীমানা দিয়েছে
আমার অবয়ব যে সত্য, আমার কথা যখন কথা বলে
আমার ভেতরে যতোটা পথ গভীর, আমি আমাকে চিনতে পারি।


অস্তজল

শৃংখল মস্তক সুইমস্যুট পড়ে রক্ত সম্পর্কিত ধারণা দেয়,
অনুভূতিতে জলের প্রতিফলনের মতো চলমান, থিয়েটার?
অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে পাখির ডানার মতো ভ্রমণ,নিয়তি
শাখা-প্রশাখায় উচ্ছ্বাসভরে প্রতিচ্ছায়া— “সেও যেনো এপিফ্যানি”
অবয়ব, ধীরে বিভ্রম সৃষ্টি করে যেনো শিশু সুলভ সারল্য এবং
নিজেকে মৃত্যুতে উপলব্ধি করে যেমন শবের কাছাকাছি মানুষ!
এই অশ্রুতে, ছায়াবৃতে ঢাঁকে সমস্ত দৃষ্টি করুণ বাদক


মানবিক নিউরন

শৈশব পা হেঁটে আছে তোমায়,—
ক্রাসটোজ, বীর্য থেকে খুঁজে নিয়েছি নিঙ্সংগ টেলিপ্যাথি!
আজ এই অলোকদৃষ্টি সুপ্ত যোগাযোগ মাধ্যম, মতিভ্রম সৃষ্টি কোরে
মনস্তাত্ত্বিক মিথোজীবিতায়, তবুও আমি হেলোটিজম হোয়েই থাকতে চাই।
অতীতজ্ঞান আমার— এই আত্মা,পূর্বজ্ঞান আমার— এই আত্মা
নিজের দেহের ভেতর ফিরে আসি একজন মানুষ হোয়ে, মিথোজীবিতা
পরস্পর, যেনো স্লিংশট, মনোমার হৃদয় ঢেকে আছে নিহিলিন পলিমারে।

১০
ওসিরিস

একই সমতলে সবুজ থেকে প্রবেশাধিকার,
‘রে— ধীরে ডুবে যাচ্ছে ব্যপদেশে, সুচোখে
অহম-সংক্রান্ত অথচ অনুভব করা যায়না
সমুদ্রমধ্যস্থ গভীরতা,স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ
বিস্মৃত সত্য, মৃত্যু দৃশ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিদায়
এ মুক্তির পথ নয়—
রক্ত এবং মাংস নিজ শরীরে প্রতিস্থাপন করতে হবে
যা প্রসন্ন করবে বোধ, এবং সিদ্ধান্ত দেবে বইয়ের মতো সত্য
পিঙ্গলবর্ণ গোলার্ধ থেকে একটি উদ্ধারকৃত শব্দ— জীবন।
আত্মার প্রান্তসীমা থেকে টুকরো টুকরো জিজ্ঞাসা, দাঁড় টেনে
মানুষের ভেতর হেঁটে যাওয়া বিভক্ত ঈশ্বর
আর একটি ঘর— যা ইন্দ্রিয়ানুভূতির বিরুদ্ধে মীমাংসা করে!

১১
কবরের ভেতর পৃথিবী

পৃথিবীকে সমাধিস্থ করা হয়েছে মানুষের কাছে—
আর এই রক্ত সন্ধ্যায় ঝরে যাচ্ছে মানুষ, মানুষের ঘরে?
মৃত্যুদৃশ্য আঁকতে আঁকতে আমি চিত্রশিল্পী হয়ে উঠি,
এ বেদনাবোধ থেকে ঘৃণা করতে শিখি প্রিয় রাষ্ট্র—
আপনাকে; যেখানে কেঁদে উঠি সেখানে জন্ম হয় আঁধার
এবং সত্য থেকে দূরে, আমরা চোখ ফেলি ভয়ে ভয়ে জলে
কতোগুলো অন্ধকার থেকে আলো হয়?
আয়নার ভেতরের মানুষ গুলো উল্টো দিকে হাঁটছে
যেখানে স্থির এবং চোখ থেকে জন্ম নেয় আরেকটি অন্ধকার

১২
তুঁত

জিহ্বার অন্তরঙ্গ ব্যবহারের পর, অন্তস্ত্বকের স্বাদ নিতে গিয়ে টের পাচ্ছি— কয়েকটি দূরবীন দূরবদ্ধ দৃষ্টি নিয়ে তাঁকিয়ে আছে, আমার দিকে, ফলতঃ এই প্রসূনের নিনাদে— সমস্ত আয়াতের পাতন পারদ থেকে সৃষ্টি। স্পর্শগ্রাহ্য রণনাদ এ, সমগ্র তুহিনের পরে সরলপথে চলে প্রসন্ন জোলাপ। কনীনিকা থেকে সুকৃতের থেকে চলে গেলে ঢেউ বিপুলা পৃথিবীতে পড়ে থাকে নিশুতির দেহ, জেনেছি— তুঁতের অধিক ঘ্রাণ থাকে না প্রাণে।

১৩
মথ

ইস্ত্রির ছাপে যে তাপ লেগে আছে সেও এক তরঙ্গ,শোনা যায় প্লেগের নাম। বায়বীয় কারাভাজ্জিওয়ের পাশে তুমিও যখন হয়ে উঠো একটি নিষণ্ণ পাতা —
সঁচকী উপকূলের কাছে তবু গহীনে পারাবত, নিঃসঙ্গতার দূরত্বে উভচর ফুটে আছে প্রেম।
ডিমের কুসুম থেকে যে ঘ্রাণ নিরন্তর মুয়াজ্জিন আমরা কতোটা উদ্বায়ী হতে পারি? পথ তো সেই গান অনিশ্চয়তা নিয়ে যেখানে গন্তব্য থাকে —

১৪
ম্যাগাজিন

একটা ঘোড়ার দৈর্ঘ্য মূলতঃ প্রতিটি তৃণের দিকে, নির্লিপ্ত অন্তর শেষে রেয়ন তৈরি করে। ভ্রমণের পর, মূক চলে যাওয়া পথের সরলতা ধরে। এই অভিসারী, এই গ্রন্থের থেকে উত্তম একটা গাছের বেড়ে উঠা। একটা সাইকেলের পর যতদূর সেটা পথ, নথ ঝরে গেলে ফুল থেকে ফুটে নিরন্তর দুরত্ব। সিসিফাস হয়ে আমরা কেবল নামতায় উঠি,ক্রমান্বয়ে। এই উদ্ভিন্ন পা, প্রেমের বহুদূর পর একটা পুলসিরাত একা একাই।

১৫
ছুরি

আমাকে অনুমান করলাম একজন ডাক্তার হিসেবে
ঈশ্বরের বুকে ছুরি চালিয়ে প্রতিষ্ঠিত করছি হাসপাতাল
যেখানে মানুষের বিপরীতে কয়েকটি ছুরি চকচকে

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E