৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ০২২০১৭
 
 ০২/০১/২০১৭  Posted by
নাসের হোসেন

নাসের হোসেন

নাসের হোসেন -এর একগুচ্ছ কবিতা


মানুষ, এই

এই তোমার হাতের উপর হাত রাখলাম, পারো তো সরিয়ে নাও
সে বড় কঠিন ব্যাপার, হৃদয়ের থেকে বড়ো পরিকল্পনা আর কী
হতে পারে, কিছুই না, রাস্তায় ছুটে যাচ্ছে গাড়ি, ব্যস্ত মানুষজন
এসময় তোমাকে কাছে পেতে ইচ্ছে করছে, এরকম ইচ্ছে দোষের নয়

যাও দেখা যাক কতদূর যেতে পার, মানুষের কাছে ফিরে আসতে হয়
মানুষকেই, শুধু মানুষের কাছেই নয়, আরো অনেককিছুর কাছে
অনেককিছু নিয়েই তো মানুষ, এই গাছপালা পাহাড় সমুদ্র
বাড়িঘর, ছেলে-মেয়ে জমি-খামার অফিস-ব্যবসা, সবই মানুষের


চলো, তাড়াতাড়ি

সমস্ত বৈভব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তাদের কাছে যাই চলো, তাড়াতাড়ি
উজ্জ্বীবন আনি, অবসর বলে কিছু নেই আর আমাদের এই মোহময়
প্রকৃতি-অনুদানে, কোনো-না-কোনো সমস্যা লেগেই রয়েছে, সবকিছুরই
সমাধান আমাদেরই করতে হবে, আর কেউ করে দেবে না, মাঝেমাঝে
আকাশে বিদ্যুৎ ঝলসে ওঠে, মাঠে ধানগাছে আলো লেগে শিহরণ
জাগে, নীচে কিছু জলকাদা প্রণত দাবির মতো পড়ে আছে, ওইসব
পড়ে থাকা অনেক অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে, অনেক অজানা গভীর
তথ্যে, যে তথ্যে মিথ্যে স্থির থাকে অবিকল সত্যির মতন, কোনটা যে বড়ো
সত্যি কে-ই-বা জেনেছে তা পুরোপুরি, অংশত জানলেই চলে যায় বেশ
তবুও যায় না, পুরোটা জানার পুরোটা পুনরোদ্ধারের কাজে নেমেছি সবাই


নবীন, ভালবাসা

কত কিছু ভেঙে যাওয়ার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, সংগীর, পিরিচ,
পিরিত ভেঙে যাওয়ার মতোই মনে হয়, কষ্ণ রাধার পিরিত কি যায়নি
অচিরেই, অথবা কিছুই ভাঙে না, সবই থেকে যায় অক্ষত অম্লান
নবীন, ভালবাসা কাকে বলে এই প্রশ্নের সমাধান অতএব চাওয়ারও
কোনো মানে হয় না, কেননা হিমেল গাছের থেকে যে পাতা ঝরে পড়ে
প্রেমিকপ্রেমিকার শরীরে, তাতে তাদের মৃতদেহের আচ্ছাদন খুব ভাল হয়
কিন্তু বেঁচে থাকাকে কোনোভাবে বাঁচানো যায় না, বেঁচে থাকে আরো কিছু
শুশ্রূষা প্রার্থনা করে, বেঁচে থাকার অনুযোগ নানাপ্রকার, নানান আকারে
ইঙ্গিতে সে বলে, বাঁচাও বাঁচাও জীবনের হৃদস্পন্দন যেন কোনোদিনও
না বন্ধ হয়, বেচে থাক সন্তানসন্ততি, তাদের শিল্পবোধ ও প্রেরণা অবিচ্ছেদ্য


হাসপাতাল, কাল

হাসপাতাল, কাল এখানে এসেছিলাম, আজ চলে যাবো, এই আসা
ও যাওয়ার মধ্যে য়ামাদের জীবনযাপন, বকুলফুলের পথে হাঁটতে
হাঁটতে একথাই মনে হয়, সাদা সাদা ছোট্ট ফুল জুঁইয়েরও পাশ
দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একথাই, সর্বস্ব পণ করে একদিন বাজি
লড়েছিলাম, এখন ঘোড়ার পিঠে আস্তে আস্তে কোথায় চলেছি, কোন
অসীমে মানুষের ঘর থাকে, ঘরের নিভৃত শয্যা, ঘনিষ্ঠ মানুষজন,
নারীর বুকের থেকে ছিটকে বেরিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার
শেষও কি ওই নারীর বুকেই, পুরুষের বুকও কি একইরকম অপেক্ষায়
থাকে না, থাকে তো, তাই-ই তো হয়, হয়ে এসেছে, এতকাল, আরো
কতকাল এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটবে না, তুমি একটু হাসো, বাহ্ চমৎকার


সমস্যা, চিরদিনের

চিরদিনের কিছু সমস্যা আছে, সমস্যার সমাধান হয়, আবার সমস্যা
জড়িয়ে ধরে, সমস্যার নামাবলি বা সংকীর্তন  তবু সঙ্কুচিত হয় না
চশমার নানান আবর্তনে কতদূর যাবে, যে কোনো একটা চশমা তুলে
নিয়ে পরে ফেলো, ক্ষতি কী, নাচতে যখন নেমেছি চশমা পরে নামাই
ভালো, তালকানার মতো নাচা ভালো নয়, মুসাফির মোছ রে আঁখিজল
বলার কোনো ফুসরত দেওয়া উচিৎ হবে না, খাওয়াদাওয়া ভালো হল
বিয়েবাড়িতে, তমসা আমন্ত্রণ করেছে ঘরে, এত আমন্ত্রণ, তবু সমস্যার
আঘাত উপর্যুপরি, সুপুরি গুড়ো ঘরে উড়ছে বাতাসে, আবিরের মতো
ঝরে পড়ছে, বাচ্চারা শুধু জানে তাদের কোনো চিন্তা নেই, তাদের
বাবা মা আছেন, এটুকুই যা স্বস্তি, নিজেনিজেই সাজতে পারে,
ফাংশানে গাইতে পারে, নাচতে পারে, এক দুই তিন


বেশি, হয়তো

পাথরের সন্ত্রাস জাগছে দিকে দিকে, কোনোকিছুই আর অজৈব নয়
কবে শুরু হল এক গুপ্ত-আবিষ্কার, যখন প্রথম সষ্টি হল ডি.এন.এ.
যখন জড় থেকে জেগে উঠলো জীবন, তারপর বহুদিন মনে হয়েছিল
জীবিত ও মৃতের মধ্যে পার্থক্য বুঝি কিছু আছে, ধীরে ধীরে বোঝা গেল
পার্থক্য কিছুই নেই, বরং মিল রয়েছে বেশি, হয়তো সবকিছুই
জড়, তার মহাকালের মুহূর্তগুলির মধ্যে কিছু মুহূর্ত কেবল সজীব
হয়ে ওঠে, হয়তো সবটাই জাদু, বস্তুত জাদুর জীবন কথাটাই
অধিক সত্য, অসত্য কিছু নেই, হয়তো সবটাই মর্ত্য, মর্ত্য ছাড়া
অন্য কিছু নেই, আকাশ পাতাল আর মৃত্তিকা সবটা মিলেই
মর্ত্য, সুতরাং হারাবার কিছু নেই, এই-ই স্বর্গ, আনন্দ, বাগানবাহার


যুদ্ধ, সারাদিন

লাগছে, ব্যথা নয়, আনন্দ, কেননা সংগ্রাম লাফিয়ে উঠছে দিকে
দিকে, যুদ্ধ, সারাদিন, কে কার সঙ্গে যুদ্ধ করছে, কে কার হাতে
সন্ধির প্রস্তাব দিচ্ছে বোঝা মুশকিল, কেবলি মনে হয় কতগুলো
রং খুব দ্রুত চোখের সামনে কাটাকুটি খেলা করছে তরবারির
মতন, পাখি অকস্মাৎ শিস দিতে দিতে চুপ করে গেল, কেন যে
শিস দিয়েছিল এবং কেনই-বা চুপ করে গেল, বোঝা মুশকিল,
অবশ্য এত বোঝাবুঝির দরকারই বা কী, সবকিছুই কি সবাইকে
বুঝতে হবে, গোলাপ কেন ফোটে কিংবা সূর্যোদয়ের বিচিত্র
আভার মানে আমরা যতই বুঝতে চাই না কেন, বুঝতে পারি না,
একটি গোলাকার উজ্জ্বল বল কেবল আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে
চলে যায় প্রতিদিন

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E