৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ১১২০১৬
 
 ১১/১২/২০১৬  Posted by
শারদুল সজল

শারদুল সজল

শারদুল সজলের একগুচ্ছ কবিতা টানাগদ্যে


হাড়ের মিউজিয়াম

বেদনাসুন্দর অহংকার আমার ভোরের বিশালতায় ফুটে আছে আনন্দময়! বিবেকগলিতে- রাত হলেই মৃত্যুর নাম রাখি কথোপকথন, রাস্তার ওপাশ থেকে এ্যাম্বুলেন্সে জড়ো করি লাশের ইচ্ছে! ডেঁয়ো পিঁপড়েদের বাড়াবাড়ি, ফাঁসির মঞ্চে ঝুলিয়ে দেই ব্যর্থসময় শূন্যতার হাহাকার, হাহাকাররা কলম্বাসের সান্তামারিয়া জাহাজে চড়ে আবিষ্কার করে আমার ভেতরই স্বর্ণমুদ্রার ঝলমলে খনি, অবিনশ্বরবাদের তত্ত্বকথা! মরণের নাম লুকিয়ে থাকা, সূর্যপুড়িয়ে পশ্চিমে জেগে ওঠে অন্ধকার অজগর! আয়ুরেখার ইশারাসুইচে তখন জড়ো করি ভবিষ্যত সকালের নাভিনিপল রোদ!

২)
ঘুম এতই ছোট যে- আমার দুচোখে তার অস্তিত্ব নেই!

কল্পনা করে একবার ঘুমের শরীর ছুঁয়েছি, হালকা ওজনহীন শান্তির ওমে শুয়ে আছে, শান্তি এতই নিরব যে আমার অগ্ন্যুৎপাত বুকে থাকার সাহস শক্তি কোনটিই তার নেই। শক্তি এক জড়পদার্থ। অন্ধকার রাত দিনের আলো- টিকটিকির লেজের চেয়েও মসৃণ। কোন মসৃণ পথই আমাকে ভাবায় না। যে জীবন আগুন লাল, বেদনার মত সুন্দর সৌভাগ্যের- ফাঁসির মঞ্চের কাছাকাছি! হুইসেল দিয়ে যে জীবন রাজপথের মিছিল তার ভেতর আমি এবং তুমি… হত্যা করতে নিচ্ছি দারুণ প্রস্তুতি!

৩)
জলের গন্ধে তুলে রাখি এই শহরের সকল আদর! আমি ভালোবাসা চাইনি
এক আগুন ছাড়া পৃথিবীর কোথাও কোন সরলতা নেই- যেখানে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে পারি, তাই- অস্পর্শের ঔরসে লিখে যেতে চাই প্রিয় আগুন আর গোলাপের প্রতি সমবেদনা!
আবহাওয়ার স্যাটেলাইটে চোখের বৃষ্টি কখনো ধরা পড়ে না; জানা যায় না কত ঘনফুট রক্ত গলে এক ফোটা চোখের জল

আণবিক শহরে- এই বেঁচে থাকা এখন কথার কথা!

৪)
রাত বাড়লেই এত জন্ম এত মৃত্যু! স্মৃতিকিলো ঘণ্টার বেগ; বুকঘেঁষে বয়ে যায় পদ্মার অঘুম আক্রমণ! সকাল বুঝিনা- চোখ খুলেই দেখি দূর দিগন্তে ছিটকে পড়ে আছে হাড় মাংস শরীর! একি আমি না অন্য কেউ! বুঝে ওঠার আগেই মড়মড় শব্দের মোচড় ওঠে, দাঁতে দাঁত কেটে একাত্র করি বুকের খাঁচা- হৃৎপিন্ড…হাত পা’গুলো অসম্ভব ভারী লৌহ মনে হয়, চিৎকার দিতে গেলেই পুরো মহাকাশ কেঁপে ওঠে, আলজিভ বেরিয়ে যায় দশফুট… তাই চিৎকারহীন সেলাই করি সমগ্র শরীর পরিধি,ব্যাস…। আর দিন? আবহমান বাংলার ব্যস্ততম রাস্তা নয় মূলত চার দেয়ালের ইট পাথরে গলে পড়া বুকের তেত্রিশটি হাড় খিঁচুনি জমাট বাঁধতে বাঁধতে প্রতিদিন একবার বেঁচে ওঠি তারপর হাফ’শ মিনিট দাপাদাপি নড়াচড়ার পর পুনরায় রাতের অন্ধকার গিলে খায় ভিতর বাহিরের সকল দ্রাঘিমা!

৫)
আমি সরে যাই নড়ে যাই বেড়ে যাই মধ্যকার দূরত্বে…! সাঁপুড়ে হাত সরাব বিছানার জল ছুঁয়ে দ্যাখে- উল্কাপোড়া বাদামি আগুন! শিরা সুস্থতায় নুড়ি গুঁড়ির রূপোলি ছাই সাঁই সাঁই শব্দ তোলে খোলস পাল্টায় লুডুসাপের উদাসী দুপুর…সময় সংক্ষেপ মানুষের ভিতর অস্থিরতা, যে কোন মুখ ও মুখোশের মুখোমুখি দাঁড়ানো সাহস… তিমিঝাঁপের দ্রবণ-দ্রুতিতে বড় হয় স্বার্থের কিরি লবণাক্ত ফেনায় কোমরের ভাঁজ থেকে বেল্টের ছিদ্র চেঞ্জ হয় তেজস্ক্রিয় মস্তিষ্কের আদর আগুনে, যদিও পুড়ি না এখন আর- আগুনে আগুন রাখলে আগুন পোড়ে না- কী যেন হয়?

৬)
আমার নাকের ক্ষত দ্রুতলয়ে বেড়ে চলছে… নিঃশ্বাসের শব্দ ছিঁড়ে বুক থেকে খঁসে পড়ছে তারার মিউজিয়াম। কী অসহ্য আনন্দ, এণ্টার্কটিকার বরফের শীত দানাবাধা রক্ত গাঢ় সন্ধ্যার চাঁদে আমার নাসিকানরকের ক্ষত মিশে অক্সিজেনের ঘনত্ব বাড়ায় তাই ভেবেছিলাম নাকের ক্ষত কেটে উদ্বাস্তু-জীবনের মাঝে বিলিয়ে দেবো বুকভরে শ্বাস নেবার সকল প্রস্তুতি; পরক্ষণে দেখেছি শুধু নাকে নয় শ্বাসনালির পুরোটা জুড়েই দগদগে ঘা… যাকে কাটলে আমি বলতে আর কিছুই থাকি না ! তাই যত্ন করে বাঁচিয়ে রাখছি দিনের পর দিন- যাতে সে একদিন এ হৃদয়াঙ্গনের ঘা দেখে চিনতে পারে, সত্যিই- এটা তার ভালোবাসায় পাওয়া আঘাতের ক্ষত!

৭)
এই থাকল রক্তের ফুল- তোমার খোঁপায় পড়ে নিয়ো, না না- রক্ত ঝরবে না পুড়ে পুড়ে তা এখন কালো গোলাপ! মৃত্যুর আগে পাখি তার শেষ গান গেয়ে যায়, রেখে যায় শূন্যের অসীম সান্ত¡না, নদীটির শেষ ঢেউয়ে মিশে থাকে রোদের হাওয়া, ঢেউ যতই উঁচুতে উঠুক- নদী জানে সে তার জলের অধিক নয়, জলের জলজশরীর ছিঁড়ে ছিঁড়ে জলের মতৃদেহে যত শক্তি- যত মনস্তাত্ত্বিক আকাশের বিশালতা কোথাও অত বড় আকাশ নেই, তাই- প্রিয় মেঘে মেঘে আজ সবকিছু ভাসিয়ে দেবার আগে কথার অব্যক্ততায় রেখে গেলাম ভালোবাসার মস্ত পৃথিবী!

৮)
মানুষ ভাগ্যের কথা বলে, আমিও বলি- এই জড়পদার্থ যদি মানব জীবনের অখণ্ডনীয় উপপাদ্য হয় তবে শ্রম ও ঘাম নির্বিকার; জীবনকে যারা ভাবসম্প্রসারণ করেছে সমীকরণের অসীমে তাদের সাথে আমিও- শ্রম ও ধৈর্যকে স্থপতি জেনে জীবনকে দিয়েছি কর্মময় ও কর্মহীন সংশয়ের যোগফল

একথা সত্যি- ভাগ্য এক নান্দনিক শব্দ যার আশ্রয়ে মানুষ শান্ত্বনার ভাগ্যসন্তান

মানুষ ভাগ্যের কথা বলে- আমিও বলি  

৯)
মুনিয়া- এই অনন্ত জোছনায় ফিরে এসো হাতে হাত রেখে পৃথিবীর সব জঞ্জাল মুছে
চল নতুন পৃথিবী গড়ি আবার মানুষে মানুষে, দেশে দেশে – সম্প্রীতির রোদে বুনি  ভালোবাসা, আর দ্বন্দ্ব নয়- বিশ্বজয়ের সম্ভাবনার যুগে মানুষের পাশে মানুষ না দাঁড়ালে কে দাঁড়াবে- কে করবে মানুষের জয়গান

চলো- রোদ্দুরে জেগে থাকা মহাকালের ওপর মানুষের স্থান দিয়ে মানুষের নামে পড়ি সব কলেমা  

১০)
স্মৃতি অমর আগুন- অমলিন জমে চাঁদের পিরিচে, বুকের ভিতর অমসৃণ ক্ষত ডুবে ক্ষয়ে বয়ে যায় প্রাণের আদর, গ্লানি ব্যর্থতায় মানুষ নিজস্ব লাশের কফিন কাঁধে নিয়ে ঘুরে ফেরে- ফেরি করে রঙিন সময়  

চায়না মেশিনে বানানো ঠোঁটের কার্নিশে জমা করে কলিজা ছাই- অমরতা                                                                      

১১)
ক্যাসেটের ফিতের মতো পড়ে আছে জীবন যৌবন ও সবিনয়ের দু’টি চোখ- প্রার্থনা ভেঙে, কালের অজগর ওঠে গেছে শপিংমলে, ডোরাকাটা মাংস পোশাকে প্রাত্যহিক মাছি উড়ে পৃথিবীজুড়ে, পাঁচ পঞ্চাশ টাকার নোটে ভাগাভাগি মেয়েটি অন্ধকার অক্ষরে রক্তচালিত ইঞ্জিনের তুফানে নাচে

চারদিক বিজ্ঞাপনী- শাদা অ্যাপ্রোনের মতো হৃদয়গুলো ফৎফৎ করে ছিঁড়ে যাচ্ছে
অথচ এই হৃদয় দিয়ে ভালোবাসা ছাড়াও যে ব্যবসা চলে এই প্রথম জানলাম
প্রিয়তমা- তোমার চোখের সামনে যদি প্রেমিক হয়েই দাঁড়াতে না পারি তবে আমার মানুষ-জন্মের কী হবে?

১২)
জানি! থুথু খেয়ে জলের তৃষ্ণা মেটে না। তবে কারও কারও মেটে
কেউ কেউ বেঁচে ওঠে দিব্যি সতেজে, দিকচক্র চক্রান্তে দাবী করে পুরো পৃথিবী
জানি! জীবনের অপচয় থাকে- থাকে বীর্য ও বিশ্বাসের অপচয়
ক্লেদ- আক্ষেপ কারফিউ! চারদিকে- মানুষ সমুদ্রের মাঝিকে ডেকে তুলে মানুষশিকারে ভাসে কলম্বাসের খুনতরী !

১৩)
কান্নার মতো সুন্দর গন্ধ আর কোথাও ফোটে নি

অনুচ্চারিত এই শব্দ হেঁটে যাওয়া লোকটির চুলঅগ্রের সোনালি আভা থেকে বাতাসে গড়িয়ে পড়ল, দ্যোতনা ছড়াল আর পৃথিবীর সকল মৃতপাখির গান জড়ো হলো মানুষনির্জন নদীতীরের জলজোছনায়… এত আলো; এত পূর্ণিমা রাতের ছড়াছড়ি  রহস্যমিতালি আর কোনোদিন ত্রিচোখ দেখিনি, দেখিনি আরশিনগরের এমন রঙধনু  ঘুঙুর পায়ে হেঁটে পৃথিবীর ঊর্ধ্বে উঠে যেতে-  ক্ষমাপ্রার্থী হতে

প্রতিসৌরভ শরীরে মৃত্যুরা মরে যায় চিরদিন- এই কথা জেনে লোকটি বেরিয়ে গেল তাবৎ পৃথিবীর জোছনা কুড়াতে

১৪)
রক্তের রঙে গাঢ় দিন, ধ্বংস¯তূপের ভিতর থেকে তুলে আনে উদিত বৃক্ষের ভ্রুণ            
হাড়ের এয়জে জাগিয়ে দ্যায় নক্ষত্রজন্মের জ্যামিতি আগুন !

তখন লোহিত ইস্পাত অপ্রতিরোধ্য কার্বন ত্বকে সৌরশক্তির খুঁটি গেড়ে
সুপারসনিক গতির আয়ুতে খুঁজে ফেরে সুবাসিত মুখ, মহিমা ধূ ধূ

১৫)
মানুষের জীবন কাঁকড়ার ভূগোলে বিঁধে গেছে! পৃথিবী তার কংকাল ছেড়ে নিকোটিনের শরীরগ্রন্থি- যেন পরকীয়া প্রেমরস, যেন অদম্য রৌদ্রের ভ্রুণ- গোধূলিমূখর, যেন
স্তনওঠা বালিকার ঘুঘুগোপন স্বপ্নজাগানিয়া, আয়নার ভিতর জেগে উঠছে নায়িকা! যেন জিপসি আত্মার ভ্রমণ- ফিনিক্সের ডানায় উড়ানো মদ মূর্ছণা

ঘুম নেই- এইসব দিন-রাত্রির। সুঁই সুতোয় বুনে যায় চোরাবালক ঢেউ!

১৬)
কাচের ভিতর থেকে আত্মপরিচয়হীন একবৃদ্ধ রক্তিম মদে খোদায় করে লিখছিল অন্ধছায়ার ফুটফুটে বয়স! হালকা হাওয়ার ঘন সন্ধ্যার চাঁদে চুন ও খয়েরে- মুখ লাল করে কীভাবে নির্বোধ দাঁড়িয়ে ছিল দেবতা- ১১ বার জন্মের দিকে, ১১ বার মৃত্যুর দিকে… বৃদ্ধটি তার লুকানো হাতের তালুতে ক্রস কেটে রোদের বায়োস্কোপে স্পষ্ট দেখালেন তারার ঔরষে জন্ম নেয়া কাচের ভাঙন, মুখোশের উদ্ভিদ সেতু পার হয়ে অন্ধকারে তরবারি চালানোর কৌশল কীভাবে শিখেছিল; কীভাবে ছড়িয়েছিল সবকটি আঙুলের চুরি হওয়া অক্সিজেন… এইবার বৃদ্ধটি ডাক দিল  জীবন- সাথে সাথে রক্তিম মদের বোতল ভেঙে গেল, ভেতর থেকে বের হলো অসংখ্য তরতাজা লাশ!

১৭)
প্রতিদিন লাখ লাখ মাইল দূরত্বকে টেনে এনে মিলিত হই, ভুলগুলো ফুল দিয়ে ঢেকে বড় করি আমাদের গৃহবন্দি আয়ুষ্কাল। সুঁচ ক্ষুর কাচি করাতে কেটেকুটে প্রতিরাতে ঠোঁটে ঠোঁটে ইচ্ছে মেশাই, বিষ খাই, বিষ হজম করি, বহুগমণ সংবর্ধনায় ফিরি
 
প্রতিদিন মৃতছবি দেয়ালে টানাই,নিজহাতে গোলাপপোড়া ছাইয়ের উপর সু-ঘ্রাণ ছড়াই
(অভিনয় করি কথা না বলা কথার মায়াতে ,অভিনয় করি কথা না বলা কথার ছায়াতে)
ঘুড়ি-সুতোই টেনে তুলি সু-দীর্ঘ সময়ের খসড়া। আশ্চয- আশ্চর্য এই জীবন দিয়ে যা কিছু অর্জন তার একাংশ প্রতারণা

১৮)
আমাকে আমি নিলামে উঠাবো; এক পয়সা দুই পয়সা করে সাত পয়সায় বেঁচে দেবো। আগ্রহী প্রার্থী- এই যে আমার বায়োগ্রাফি। মা-বাবা ভাই-বোন কেউ নেই আমার। নিঘুর্ম আগুন খেয়ে হাসতে পারি, দুঃস্বপ্নের ডানায় ভাসতে পারি ভালোবেসে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে আমার সমস্ত শান্তিকে খুন করে বুকের বা‘পাজরে লিখে দিতে পারি- যে কোন নাম! মৃত্যুর অনেক উর্ধ্বে ওঠে, ভাঙা শামুকের ভেতর সূর্যের গোপন নকশায় এঁকে দিতে পারি তার শেষ জীবনে ইচ্ছে কী ছিল …জানবেন? পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছিল নিঃসঙ্গতার যে প্রথম জল সেই আমি শারদুল সজল


জাদুঘর

‘সুন্দর হওয়া সহজ, সুন্দরের ভান করা কঠিন’- চিঠিপত্র, থুতু আর মুখের ভাষা হ্যাঙারে ঝুলানো শহরের যুবতী নারীর মতো গভীর এক আকর্ষণের উপত্যকায় নিয়ে বদলে দেয়- সযতনে তুলে রাখা বিশ্বাসের সকল মন্ত্র! স্বপ্নের বুদ্বুদ, মিহিরাত ও ঈশ্বরের সই করা গোলাপ গোসলে প্রস্ফুটিত হাতের বারো আঙুল!

আমি তখন বদলে যাই, যেভাবে বদলায় নারীর স্তনের মাপ- পৃথিবীর ভূগোল
উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে দ্রাঘিমা, যে বিস্তীর্ণ বিরানভূমি সবুজের পূর্ণিমায় আলোকিত হয়ে জ্বলে ওঠে সহস্র যুগের রাতের তারায়- আমি সেই মহাকালের ওপর দাঁড়িয়ে দেখেছি একজন নারীর ভিতর পৃথিবীর সকল দরজা, সকল রহস্যে মাথা উঁচু ফুলেল সৌরভে ছেয়ে আছে অথচ নারী জানে না- তার ভিতর ভাঁজে পৃথিবীর শান্তিবৃষ্টির এক গভীর ফোয়ারা- যা পান করে প্রতিদিন বেঁচে উঠি আর সেখানেই আমার সৃষ্টিশক্তির ছবি জীবন্ত হয়ে ওঠে, যার একটি কালজয়ী অন্য আর ১৫টির খোঁজে প্রতিরাতে আমি তার সাথে বিজয়ী খেলায় মেতে উঠি, সে হারলে চুমু খায়- না হলে পাশ ফিরে ঘুমায় অন্য এক পৃথিবীর টানে আর আমি ফিরিয়ে আনি বদলে যাওয়া পৃথিবীর ঘাম- নুন ও গন্তব্যমুখী এক বিশ্বাসঘাতক! যদিও পুরুষের বিশ্বাসঘাতকতায় কোনো ছন্দ নেই শিল্প নেই বরং নারী ছলনাতে উজ্জ্বল, মিথ্যেতে জয়ী, আর ক্রন্দনে পৃথিবী; তাই পুরুষ আগুন আর নারী গোলাপ সৌরভ, মেঘমালার যথেষ্ট উপরে স্তূপীকৃত দুঃসাহসী সবুজের টানে সত্যিকার পৃথিবীর ভিতর বাক্বাকুম বাতাসের ঈপ্সিত রোদেলা চমকে বুকভরে শ্বাস টানে হংসীনরমের মাংস মাংস পাহাড়, তখন বড্ড মাতোয়ারা; রাত তছনছ ঊরুসন্ধিজাদুঘর বিছিয়ে দিয়ে অনুকূল আকাশের বজ্র প্রবাহিত হয় দারুণ বেগে, তোলপাড় শেষে সূর্যমুখী ফুলের ভেতর নেতিয়ে পড়া শরীরপদ্যই লেগে থাকে তৃপ্তিসুখের কিছু স্পষ্ট দাগ; সারারাত ডুবসাঁতারের খলবল জল শিকারি মাছের উদ্যম- ছিঁড়ে ফেলো আমায়- ছিঁড়ে ফেলো, ও সুখ ঈশ্বর- তুমি জানো না, এ অগ্নি না নেভালে নিজেকে খুঁজে পাবো না, পরাজিত করো আমায়- ছিঁড়ে ফেলো আমায় কাঁচগৃহ ভরা এ মাতাল মদ
আর পৃথিবীর সবকিছু বদলে গেছে- বামহাতের বিশ্বাস থেকে ডানহাত, লোমকূপ থেকে শরীর, শুধু অপরিবর্তিত থেকে গেছে ছিঁড়ে ফেলা বিষয়ক চিরন্তন এই আশ্চর্য পদ্য!


খুন শব্দটি ক্ষমতার সমান   

রওশন তুমি আকাশের সমান হও; তুমি দাঁড়াবে আর আকাশ উপরে উঠবে
আমরা ছোট হবো দিনকে দিন- পিঁপড়ের মতো, তোমাদের বিশ্বাস ও বিস্ময়ের মতো কারও কারও নাম আজ ঈশ্বরের খাতা থেকে বাদ পড়বে। ঈশ্বর তো ঘরে ফেরে, তুমিও- কী দারুণ মিল তোমাদের; সংসার সন্তান ঘুম খ্যাতি ব্যস্ততা উষ্ণচুম্বন সব তোমাদের! ফাস্টফুডের মিষ্টি আলো-স্বপ্ন, কল্পনায় ধরে রাখা একজোড়া মসৃণ হাত-স্পর্শ সমুদ্র সফলতা- সব তোমাদের অন্তরঙ্গ চিত্রের উবর্রতা; এগুলো ছাড়া সত্যিই দুপায়ের জীবন কখনোই মানুষ নয়- নিতান্তই একটা জীবন মাত্র। যাদের বলবার ভাষা আছে অধিকার নেই- হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়েছে। যাদের জন্ম ও স্বপ্ন আছে স্বাধীনতা নেই- হরণ করা হয়েছে তাদের সাথে আমিও নতজানু, স্টেনগানের মুখোমুখি- মৃত্যু যেন শুধু আমাদের। যাদের ব্যাংকব্যালেন্স নেই, আকাশ-উঁচু ফ্ল্যাটবাড়ি নেই, কষ্টের কষাঘাতে ছিন্নভিন্ন পৃথিবীর শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যারা কিংবা সংসার থাকলেও যেখানে সবাই ন্যূনতম মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত- আমি সেই পরিবারে, সেই সমাজের- যার বোন পোশাকশিল্প কারখানায় ধর্ষিত হয়েছে, পা’জামার কোর ছিঁড়ে সুখোল্লাসে হেসেছে সমাজপতির তিন আদরে কুকুর, আমি তো সেই রাষ্ট্রের যার মার চোখে কঠিন কালো পাহাড়ের গুমোট ধোঁয়া- বাবা নিরুদ্দেশ গুম হয়ে গেছে

এই তো সময়- অর্থময় করে নিতে পারেন আপনাদের ব্যবহারবহুল রিভল্বার হাতের তর্জনী তথা নিশানা, কেননা বাংলার প্রতিটি সমাজে এখনো এমন শত শত পরিবারের দেখা পাবেন যেখানে একটি ঘুণপোকার চেয়েও মানুষ নগণ্য-কমদামি, হত্যা করতে পারেন যেকোন মুহূর্তে, কারণ আপনাদের আছে পারিষদ আমলারক্তের সাইনবোর্ড কিংবা প্রশাসন কেনার মতো কালোড্রয়ার… অতএব আপনি বা আপনারাই ঈশ্বরের ভোজসভার প্রধান অতিথি। আপনারাই পারবেন আমাদের জীবনবৃত্তান্তের সঠিক পরিচয় লিখে দিতে; যেমন পেরেছেন রাস্তার সবগুলো ল্যাম্পপোস্ট নিজেদের করে নিতে। সমস্ত চেয়ার টেবিল নিঃশ্বাসের দাবিদার এখন আপনারই; এ আমি স্বীকার না করলেও ঈশ্বর যে আপনাদের সাথে আছেন এবং সবকিছু বণ্টনের ভার তুলে দিয়ে বেশ কিছুকাল ধরে আরাম আয়েশে ঘুমুচ্ছেন- এ আমি ঢের বুঝতে পারি, তা না হলে রূপনগরের বস্তি দিয়ে সিডর বইবে কেন? কেন বিধবা সমীরণের পুত্র মারা যাবে? কেন এতিম আলেয়ার মাথায় বাজ পড়বে- এসব প্রশ্নে যাবো না আমি, শুধু জাঁহাপনা আপনারা বলে দিন- আমরা মানুষ নই, দুপেয়ে নঞর্থক জীবনমাত্র- যে জীবন উইপোকার

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E