৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ০৭২০১৬
 
 ০৭/১২/২০১৬  Posted by
শাপলা সাপর্যিতা

শাপলা সাপর্যিতা

শাপলা সপর্যিতা’র একগুচ্ছ কবিতা টানাগদ্যে

প্রেতনগরীতে

যখন আমি থাকি কালঘুমে মৃত্যু আমায় জাগিয়ে রাখে। সারাটি দিন মৃতের নগরে জাগি প্রেতের মতো। সাত পাকে ঘুরে অতল ক্লান্তিরে-নিদ্রা গেলে পাখি আমি এসে ঢুকে পড়ি কফিনে। প্রেতের আত্মা খসে পড়ে সাজানো দেহ থেকে। মানুষ এখানে নিথর। বাতাস একাগ্র। কেঁপে ওঠে না কখনো সন্তাপে আত্মার শিখা। এখানে গভীর নিশা পিদীমের নিচেও আলোরই রেখা। নেই বিষাদে তেলের কাতরতা। নিমগ্ন চরাচরে জ্বলে লক্ষী অমরাবতী। আমি দাহ্য অথচ শান্ত। দারুণ অন্তর্হিত প্রেমে। তারপর প্রহরীরা ক্লান্ত হলে যখন চাঁদ ভুলে যায় রাত। কফিনের  দরজা খুলে গেলে আবার মৃত্যুতে ছাড়ি জীবনের খোলস। আবার জেগে উঠি পুরাতন নগরে …..

কবর – ১

ঘর এক নিস্তব্ধ কবর। যখন নেই কোনো পিয়তমা কাছে। ফুলগুলো সব যেন মৃতেরে উৎসর্গিত। আমি বৎসর বৎসর জেগে থাকি নিজস্ব কবরে। বানারসী শাড়ি পরি। শাড়ি খুলে রাখি। শিশু বুকে নিয়ে রাত জাগি। তার হাত ধরে হাঁটি। জীবন জীবন যুদ্ধবাসের কোনো এক দিন শেষে আছড়ে ভাঙি ভাতের শানকী। পুড়িয়ে ফেলি সিঁদূরের লাল। শিশুটিরে ফেলে দিয়ে অনাথ আশ্রমে। লিখতে বসি যুগান্তরের কবিতা। এখন এখানে, মহাকাব্য লিখবার শ্রেষ্ঠতম পরিসর। সাড়ে তিনহাত জমির ভেতর। যেখানে আকাশ পোড়ে না মন, স্খলিত মাংশে নেই দহনের বিভ্রম – মুহূর্তের স্ফুলিঙ্গে দেহে ধরে না অজস্র আগুন। শিউলী ফুলমালা হতে খসে খসে পড়ে না চাঁদ আর নক্ষত্র আমার…………..

কবর – ২

তার বুকে প্রেম ছিল। অজস্র ফুল ছিল হাতে। পেছনে সন্ধ্যার ঘনায়মান কালো অন্ধকার। কবিতার ভাঁজে ভাঁজে নীল রাত্রির রাঙা রাঙা চাঁদ। ওপরে লাল জোৎস্না। নীচে প্রতারণা। গোপনে বেগুনী আলোর নীচে ব্রীজ থেকে ঝুলে পড়েছে বেলীর মালা। সাজানো মানুষ তোলে মানুষের ছবি। কিছু প্রিয় প্রিয় প্রহর। কিছু গোলাপের নীল পাপড়ি। ঘুমিয়ে রয়েছে আজো কবরের ঠান্ডা হাওয়ায়। এখানে প্রতারণা নেই। নেই মানুষের পোড়া কাঠ। নেই পোড়া কাঠে ধিকিধিকি আগুন। এখানে ধুপের ঘ্রাণ। এখানে লোবানের কাতরতা। এখানে অস্পৃশ্য মানুষ। এখানে বিশুদ্ধ ভালোবাসা।

কবর – ৩

নিজের হাতেই খুঁড়ে নিয়েছি সাড়ে তিন হাত কবর। দারুণ দামে কিনেছি পুষ্পশয্যা – বিছিয়ে রেখেছি জন্মেরও আগে আগে। আমার বিলাসী যাপন। জন্মেরও অধিক…………..

কবর – ৪

রাত বাড়ে। চারপাশে সুনশান কবরের নিস্তব্ধতা টের পাই। কফিনের দরজা লাগিয়ে আমি নিথর শুয়ে পড়ি তার ভেতর। আর পড়ে চলি কবিতা। লিখে যাই সহস্র জীবন ……….

কবর – ৫

মধ্যরাতেও জেগে থাকে কিছু কিছু পাখি।সারাটি দিন ঠোঁটে কুড়িয়েছে যে শিউলীর অপরূপ শোভা। এই নিঝুম রাত্রিতে তার বুকে খুলে যায় গভীর অন্ধকার। ভিন্ন আকাশ ম্যালে তার নিগুঢ় ডানা। নিষ্কম্প রাতের ভাঁজে ভাঁজে ওড়ে কুয়াশার হিম । তেমনি প্রচুর চাঁদরাতে খুব ইচ্ছে জাগে তার জোৎস্নার দড়ি গলায় জড়িয়ে পড়বে নকল সিতাহার। নক্ষত্রেরে ভালোবেসে আলোর কাঁকন জ্বালাবে দীপালিকা। গন্ধবিধুর লোবানের ঘ্রাণ সরে সরে যাবে দূর থেকে দূর। কোথায় কতদূরে আর, আহা, শ্মশান……

শ্মশান যাপন

বিলাসী জীবন তার। যাপন পর্যাপ্ত। ব্যধিও সসীম। তবু ঘুম ভাঙে রোজ রাতে। যখন নীরব নিশা। সখা অন্যমন। যে সুরে পাখি ডাকে তাতেও বাজে বেহাগের রাগ! কোনো কোনো মধ্যরাতে জ্বলে ওঠে শ্মশান। দাউ দাউ চিতায় পুড়ে যায় তার মন। দেহ। প্রেম। যৌবনের অধরা মাধুরী-সব। তারপর নিভে গেলে চিতার আগুন শূন্য, দাহ্য, দুঃসহ, ক্লান্তি সব নিয়ে নতুন অবয়ব। জীবনের একধারে পড়ে থাকে – মরণ।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E