৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ০৩২০১৭
 
 ০৩/০১/২০১৭  Posted by
মেঘ অদিতি

মেঘ অদিতি

সমুদ্রউড়াল হাওয়া এবং জীবন…
মেঘ অদিতি


আছি, এইটুকু জেনেছিলে…

জানোনি, আমার আর ফিরে যাওয়া নেই। দীর্ঘ নারকেলসারি,  বুক চিরে পথ চলে যায় সমুদ্র বরাবর। মাতাল হাওয়ার দেশে নেমে আসে ভরাকোটালের মায়া। ভেঁপু উড়ে যায়, ভেসে যায় দূর জাহাজের পাটাতন। পুরনো জেটি ছুঁয়ে শীর্ণকায় পাখি এক বহুদিন পর সন্ধিপ্রস্তাবের পালক ওড়ায়।  

তোমার পায়ের ছাপ রয়ে যায় অনন্ত নক্ষত্রবেলায়…
এমন অর্থবোধকের দিকে উড়ে চলা দিনে আমার আর ফিরে যাওয়া নেই…


জলে হাত। পা ছুঁয়ে যায় পান্না রোদ্দুর।
আমাদের চোখ ওঠে জ্বলে..

লাল কাঁকড়াগুলো ঢেউ হয়ে ফিরে আসে। ঝাউবন উল্লাস হয় । যাপনের অবকাশে জমিনে নেমে আসে ইশারার শরীরী জোয়ার।

ছলাৎ উপচে পড়ে বুঝি ফেনা!  আহ, এবার উত্তাল হবে ঢেউ।

ঢেউ বাড়তে বাড়তে যখন দ্বিগুণ – দুই দিয়ে ভাগ কর তাকে। পাবে শূন্য জীবন। ভাগফল শূন্য দিয়ে গুণ করো যদি, দেখো- জীবন কখনও কোনো কার্নিভাল ছিল না..


কেবল অন্ধ হও
কেবল মিলিয়ে যাও
নিজেকে একা করে দাও
যেমন বন্ধ দরজার দূরত্বে থাকে –
নিঃসঙ্গ সিলিং ফ্যান
অসহ যন্ত্রণার যেটুকু জীবন, বুড়ো চাঁদের গায়ে সেটুকুই ক্ষত।  বাতাসে হিম হাসি। থরে থরে ফুটে আছে ভুল, যেন বাগান ছেয়ে গেছে বিষণ্ণ ক্রিসেন্থিমামে। দূরভাষে ভেসে আসা শব্দ বুনন, ক্ষীপ্র আঙুলের শাসন, আমি কি জেনেছি..অশরীরী ছায়া যাকে বয়ে বেড়াই অমিমাংসিত সম্পর্কবন্ধে, সেখানে কিভাবে ভেঙে যায়  রক্তের উষ্ণতা?
শার্সির কাচে নামে বারুদ গন্ধা হাওয়া। হাওয়াদের সাথে আসে সন্ত্রাসী রাত।  ও নিভৃতের ঘাতক, জানো না শুধু কিভাবে নেমে আসে নিদ্রাহীন চোখে তীব্র কালঘুম ।  জানো না তুমিও জীবন, আত্মার নিঝুমে  অশ্রু বয়ে থাকে কার শেষ স্পন্দন…


তোমাকে প্রাত্যাহিকে পাই
তোমাকে ভুল করে পাই না আর..
উত্তরে ক্ষীণ আলো যুগল দেয়াল খুলে ছায়াদের সাথে মিশে যায়। ঘামতন্ত্রে খেলা করে মৃত্যু ও স্নায়ু অবসাদ।  সামুদ্রিক ঝড়,  জেনো মৃত্যুও ততটা মৃত্যু নয় আজ আর, কানহর ক্রিসকসে যেমন লেখা থাকে – বাঁক থেকে প্রতিটি বাঁক, নতুন বিধান।

থাকা বা না থাকা সকলই আজ তোমার ইমেজারির দিকে হেলে যায়।


শহরের বুক চিরে অরণ্যে চলে গেল পথ। তখনও পৃথিবী অবিরাম ঘূর্ণনরত, কেন্দ্রে ভোর এলো হেসে হেসে আবদুল আলীমের গানে।  বিকেলগুলো হয়ে  উঠছিল কিশোর কুমার। তারপর বৃষ্টি…
যে কোনো শহর মানে ঝড়বৃষ্টিতে পুরনো এক বকুল গাছের মৃত্যু। যে কোনো বর্ষা মানে প্রতিবার ঝড়ের উঠোনে ভেসে আসা খলবলে বৌ মাছদের গায়ে আড়াআড়ি দাগ। আমার শহর বৃষ্টি মেখে যখন মন খারাপ করা একলা  মানুষ আমি তার পিঠে জুড়ে দিয়েছিলাম ডানা।

উড়তে উড়তে শহর তখন লাজুক কিশোরী এক, চলে গেছিল শীতের সমুদ্রের কাছে।


কেন ভোরের কাছে এলে মনে পড়ে
এক একটা বন্ধন পেরিয়ে আসার আগে
লিখে রাখছি মৃত্যু ঠিকানা..
আলো ফুটলো আজ দুধকুসুমে।  ভোর এলো।  যেন পাখি সব করে রব- এর দিকে ঘুরে গেল চাকা। বলা হলো না রাতের পর্দা সরে গেলে চোখ হয় যায় অরণ্যপথ। পৃথিবীর একাংশে গভীর প্রশান্তি তখন। অন্যদিকের আলোর ভূগলে তুমি চুম্বন আঁকছো হয়ত কারো ঊষর ভূমিতে। যদি তোমায় তখন প্রশ্ন করি, অনন্ত বিশ্বাসের মাঝে দুলে যাওয়া ছায়াটিকে তুমি ঠিক চিনেছিলে কি না? তোমার পায়ের কাছেও ছিল নুনের সাগর। সমুদ্র বা  চোখ কেউ জানেনি, নুন ঠেলে কীভাবে এসেছিলাম তোমার কাছে।

ছায়ার কথা মনে এলে কেন তবে ভাবো আজ  পাখিদের অদেয় কিছু নেই?


তোমার উচ্চতা ছাপিয়ে গেল বুড়ো ছাতিমের ছায়া। মসৃণতার ভেতর ঝুঁকে রইল এক ফালি রোদ। রোদের ভেতর হানাবাড়ি। রোদ ক্রমশ মনস্তাপ। ছায়াদের উড়িয়ে নিল যখন সমুদ্র হাওয়া, কত যে ইলেকট্রনের খেলা তখন চারপাশ ঘিরে যেন তারা উজ্জ্বল রেড মলির ঝাঁক, বুঝিনি কী করে পৌঁছাবো তোমার প্রাণকেন্দ্রে।
এই জ্বোরো দুপুর, পাতা ঝরা ঋতু, সব আজ থমকে আছে তাই জমাট ছায়াদের কাছে।

স্পষ্টতা শুধু কেন্দ্র থেকে গেছে বহুদূর সরে।


সমস্ত প্রাসঙ্গিকতায় আলো নিয়ে ফুটল রোজকার এক ঘাসের সংসার। আমাদের পতঙ্গপাঠ, নদীগর্ভের আলোচনা ও সর্ষেক্ষেতের হলুদে গড়া প্রেমে উড়ে এল ছুটি নামের ঘাসফড়িঙ।  জল হাওয়ার নামতা হয়ে বাতাসে ছুটতে থাকা আলোকণাদের প্রোজেকশনে  এবার দীর্ঘ বাক্য হবে  জীবন।
ও জীবন এসো ছায়া হয়ে এসো মায়ার সরোবরে। জীবন হে  এসো- ভুবনজয়ী হও


চলে যায় বোধনের রাত, পূর্বাপর স্মৃতিপথ, একে একে ফেলে আসি অন্ধতার বাড়ি। আকাশ নীলের কাছে দেখা দেয় সন্ধ্যাতারা। নক্ষত্র করপুটে জড়িয়ে থাকে আকণ্ঠ মাতাল দিন।
মনে পড়ে ছায়ার পুতুল, একদিন জবাফুল, ঘোর লাগা দুপুরবেলায়, জ্বরাতুরা  পৃথিবীর তাতার দস্যু এক, এসেছিল নেমে, আমাদের চিলঘর জুড়ে।

১০
যদি বলো প্রেম এখনো অবকাশ যাপনের বালিয়াড়ি তবে তুমি বিষণ্ণ হলদেটে এক বাড়ি। সাদা-কালো মোডে রাখা বর্ণমালার ইতিহাস- যদি ভাবো প্রেম তবে তুমি পরিত্যক্ত শহর। সুর ও সুরায়  নির্জনতাপ্রিয় লাল কাঁকড়ার কাছে এভাবেই সব কুর্চিফুল, ফ্ল্যাট নেরেটিভ। তোমাকে বুঝতে গিয়ে কেটে গেল সর্বনামের দ্বিধা,  শাখা থেকে খুলে গেল  বোতামফুলের রঙ।
চিঠিদের ডানায় তবু কেন শুনি আজও; অবিকল সেই ডাক। ক্রিক রোর চালচিত্র কেন ফিরিয়ে দেয় ছাযাপথ, একাকি হরিণী রাত।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E