৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ১১২০১৬
 
 ১১/১২/২০১৬  Posted by
হাসান রোবায়েত

হাসান রোবায়েত

হাসান রোবায়েত -এর একগুচ্ছ কবিতা টানাগদ্যে


ডাহুক

মানুষের কান্নার পাশে একটি ডাহুক উড়ে যায় নিভৃতে!  


মত্যু   

কিছুকাল লেবু ফুলের সাথে উড়ি—চারদিকে ধূর্ত সাদার ঘ্রাণ! কাঁটা সমেত যে গাছ পড়ে আছে আঙিনায়! হয়ত কেউ শূন্যতার দৃষ্টিপথে তাকিয়ে আছে বাইরে—

পাতা পড়ার দৃশ্য শঙ্খচূড়ের পাশে উড়ে যায়; ঐ সাপ সর্বস্ব নিয়ে
কী ভীষণ উজ্জ্বল!  


অশ্রু

হলুদ পাতার পাশে পড়ে আছে শঙ্খের ধ্বনি—
 
ঐ স্পর্শ দূরের—যেখানে বসন্তকাল ঝরে গেছে গৃহহীন মরণ-দিনের পথে—


ঠাট্টা

এই যে থাকা অথবা না থাকা স্তব্ধতার মাঝে কোনো ঠাট্টাই নেই যেন—

অনেক উড্ডীন ঘিরে কত রণ-ঝিলমিল পাতা। বরং দু দিক থেকে একান্ত নদীপার, গর্ভ-কঠিন এই ধানখেত। এসব ঠেলে ঠুলে যাওয়া যাবে জ্যোতিষীর কাছে ; তখনো হাত ভীষণ তামাশা প্রিয়।

প্রবণতা এইটুকু, আমাকেও যেতে হয় ফল টিপে টিপে মানুষ যেভাবে গেছে বন্ধনের মতো একা!  


ক্ষমা

এইসব প্রাচীন দুপুর। কয়েকটি দোয়েলের সাথে কথা হয়। নদী পার হয়ে কারা যেন চলে গেল রেলকলোনির দিকে! সেসব জানে না ঐ অমিত পিয়াল—কোথাও, হয়ত পড়ে আছে পৃথিবীর শেষ সাঁকোটির ছায়া! চাতালের জাম গাছ আমাকে ডাকছে অজস্র পত্র সমেত!

ক্ষমা, এক দীর্ঘ দ্বীপান্তর!  

চৈত্রমুখর নোনা হাওয়া, তোমার মলিন গীতে আমাকেও রেখো কোনো সুরে—গভীর কাঠের ভেতর যতদূর সরোদের ছায়া!   


রাস্তা

এখন সমুদ্রে যাই। পড়ন্ত গীর্জার সম্মুখে একটি রোদ কথা বলে ডাহুকের সাথে। আমি কি তুলার পাশে উড়ি অথবা নির্জন ইঁদারার দিকে! হয়ত কেউ জীবনকে আরেকটু ফাঁকি দিয়ে দেখেছিল শূককীট, পানির উপরে ভাসা বনফুলের ঘ্রাণ!

এইসব মূকাভিনয় আর শতরঞ্জির কাছে আমি এক অধিগমণের সুর—কোথাও সন্ধ্যা বাড়ছে ভাঙা এঞ্জিনের বুকে—

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E