৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ২০২০১৬
 
 ২০/১২/২০১৬  Posted by

অরবিন্দ চক্রবর্তী’র একগুচ্ছ কবিতা টানাগদ্যে


বরফসম্প্রদায়

আমার একটি নাম দিন হিস্ট্রি মহাশয়, বরফসম্প্রদায় থেকে এসেছি বলে কি আমাকে ডাকা হবে না অতল? দারুণ ইচিকদানা-সকাল দৈনিক পাতায় সুসমাচার ছাপা হলেও আপনি আমাকে তুমি বলে আর তুই আমাকে সরলরেখা ডাকে। ভ্রুকুটি টের পেলেও হজমস্বার্থে তাকে দিই রঙসমৃদ্ধ ঘুমের প্রেসক্রিপশন। গাছের ডালেই বেকুব দোলে হাওয়া হাওয়া আদর। আমি বলি চিকিৎসা, কেউ কয় ব্যান্ডেজ। অথচ সিলমোহর নিয়ে ঘোরে আমার যত মায়াখুনি রোদ। তবে যদি ছায়ার অ্যাকুরিয়ামে ডুবিয়ে দিই শীতঝালাই চাকু- মাছ চরিত্র যাদের, অ্যামিবা ঝাঁকে যান। আমি বাপু বানরপুত্র- সমুদ্র তলদেশে গড়ি আগুন-ইন্ডাস্ট্রি।


সাত বিঘা আকাশে রাত্রিরঙ-বিষয়ক জরিপ

ঘুরে দাঁড়ানোর পর মনে হলো, আমরা ছিলাম সরলরেখা দানব- গতকালের আঙুলে উঠিয়ে এসেছি দাদুর বাঁটভাঙা পৃথিবী। আমি পিচ্ছিল পলিপথে অলিম্পিক দৌঁড়াতে চাই, তাই পায়ের তলায় অনর্গল মস্করা করে সুরকিস্র্রোত নদী।

জলবাগানের জনৈক মাছমন্ত্রী আমাকে মাল্টিন্যাশনাল রোদভাই জানে- তাকে ডাকি জিলাপিসুন্দরী। সে ব্যক্তিগত রহস্য থেকে খুলে দেয় দেরাজের কামকলা আর গোলটেবিলের সমুদ্রবিহার থেকে হি হি কাঁপতে থাকে তুচ্ছরামের হাজার রকম শ্রী।

আমরা তাকে রোববার-বিষয়ক লোভ দিই। বালিশে রোদ চেপে স্বপ্নে ফেসবুক খেলতে খরগোশের গায়ে ছড়িয়ে দিই আদর। বলি, আমাদের তো কোনো গতকাল-বিষয়ক টি-শার্ট নেই। তোকে দিচ্ছি ডালপালা মোড়ানো প্রিন্টেড সাগর।

বাপ, তুই জিওলোজি জানিস, গোঁ ধরতেও ঠিক রাতকানা। এবার দে রে স্পাই উড়াল!

শ্যাম্পুর দাম বেড়ে গেলে কথা দে, হাসবি না হারামজাদা!


তালব্য শ-এ দীর্ঘ ঈ-কারের মতো ত

চিঁহিধ্বনি পছন্দ বলেই হয়তো বাদামি দাগের ওপর আঁকা থাকে লাল অন্ধকার। অসুখের চোখে তাকালে আমার কেমন সুখি সুখি লাগে।

অসুখ যে কত ভালো, এ বুঝল না কার্ডিয়াক-প্রধান। আমি সাদাকে ধমকের ডগায় রাখলে শ্বুশ্রুষা ডাকে লালন লালন।

যারা বাসরঘরে ঢুকবার টিকিটঘরে পেলেন উরুজি সালাম- অবশ্যই জেনে নিন, জাদুঘর বাস করে সোহরাওয়ার্দী লেকে

লেপের তলদেশে জলতরঙ্গ ফুটলে বুঝে নেবেন, আমি আছি আমাজানের কবোষ্ণ দুঃখে- দুঃখ যে কত ভালো বুঝলে না গ্রীষ্মপ্রধান, আমি থাকি জলে জলে নটরাজ হুইস্কি-আমোদে।


জুয়া অথবা হাতঘড়ি

দাঁড়িয়ে পড়বার পর মনে হতে পারে বাম হাতে তিল নয়, ফুঁ ছিল। ভেঁপুর বিপরীতে ছিল প্রজাপতি অথবা রঙধনুর মতো কিছু অবদমনের পূর্বাভাস।

জানো তো? ইতিহাস রাখে হাড়ের বেদনা, আমরা অহেতুক পত্রবাহককে আকাশজরিপে ব্যস্ত রাখি। আবহাওয়াবিদগণও জানেন না আয়ু ঝরে গেলে সেবিকার আঙুল কখনো কাঁপে না। অথচ সমুদ্রের মৃদুদোল কবলিত আকাশকে
নয় ডিগ্রি রিখটার স্কেলে ভাবায়।

আমার ভেতর থেকে গজিয়ে ওঠা দস্যু নদী শোনো, আমি কিন্তু পেরেকের পায়ে বিশ্বাস রাখি- মিহিপিনকেও দিই পবিত্র খুনের মর্যাদা।
 
আসছে দিন নিশ্চয়ই কোন কালে পতনের শীর্ষ ছোঁবে। আগুনকে সভামঞ্চ করে বানর ও জাদুজীবি ভাই ভাই নাচবে। রাত এগোতে থাকবে ডান করতলের বনস্পতি সড়কে। পথ চলবে গিরি-আশ্রমে, রাজপথ ছড়াবে রেখায় রেখায়- জলআলু ঢাকা শস্য আকাশে জুয়া খেলবে আমাদের যত আমিষ।


হাসিসর্বস্ব দেয়ালিকা

হত্যার পরে লালকেই পাওয়া গেল। বুঝলেন, লাল মানে লালমিয়া- রক্তজবার বহুগামী স্বামী। আমরা পাড়াতোরা দুলাভাই ডাকি। জিননায়কের দাঁড়িয়াবান্দা  বান্ধবী পোস্টমডার্ন বাংলাবিদ্যালয়ে পড়ান ও নীলদিদিদের প্রেমে পড়েন বালকবেলায় ফাঁসালে দারুণ ইভটিজার। (পাঠক, আপাতত তিনি আমাদের কলিগ)। আমি ছাড় দিচ্ছি জানলে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সকল স্বপ্ন ডোরাকাটা ক্ষেপে উঠবেন। আপনাকে মেঘফ্রাই খেতে দিচ্ছি। চুপ যান!

অভ্যাসবশত একবার এক হলুদ হাহাকারের পরিচয়পর্বে লালের সঙ্গে আমার
সাদাভাব সহজিয়া জানালে আমাকে বাঘারুদাবড়- আমি আধখা মোরগমুখে জিনদৌড়…

আসলে আমি দোপেয়ে হাওয়া- হস্তীনাপুর থাকি আর লাল দালানের কানে কানে লিখি হাসিসর্বস্ব দেয়ালিকা।


রস-কষ সিঙ্গাড়া বুলবুলি, তারপর?

এ হাসি ইডেনের ছাত্রী-পাটীগণিতের আগে বীজগণিত শিখে নিয়েছে ক্যামেলিয়া
দিদিমনি দাঁতে। হেডমাস্টারও খুব দাঁতারু-প্রধান। পৃথিবীর নাগরিকমাত্রই বইপ্রচ্ছদের অপর পৃষ্ঠায় চুমু কর্মশালা করে স্কুলে যেতে সমান আগ্রহী।

যেসব কান্না র্যানডম ঘোড়ার ঘাস কাটছ শ্মশানঘাটে। তাদের বলি, তাদেরই বলছি,
তোমরা মনোতান্ত্রিক মহা-ঐক্যজোট বাঁধো। প্রয়োজনে আজিজের স্ট্যাচুমাস্টারের
কাছে শিখে নাও মানববন্ধনের সারি সারি সংজ্ঞা।

জানো কি, হাসিমাত্রই শ্মশানবান্ধব? কাঠের মহিমবেদনার তাপে জলীয় জ্বলে সেও অদ্ভুত বেজে ওঠে ধাতব মশকরা।


র‍্যাম্প মডেল সুন্দরী অথবা মৃত্যু

সব মৃত্যুর গায়েই লটকে থাকে ঘোড়ার ডিমের হলুদ চোখ পাশে বাজে সিরামিক
হুল্লোড়। আর নাতনিরা ডাঙ্গুলি চালে পাহাড় ও সমুদ্র বরাবর। পূর্বজ বৃক্ষরা নামায়ন লুকালে আমি ফাঁস করে দেব পাথর ও পাথারের হিরাকুচি নৃত্যকলা।

আমাকে যে কাওয়ালিই শোনাও, র্যা ম্প মডেলের সকল মিথ্যার ফ্রক খুলে দেখেছি- ও আসলে সতীত্বপ্রবণ। রাষ্ট্রীয় সভায় কদর যেমন- ভিখারির গানে কুসুমিত হয়ে
আমাদের চিরায়ত ঈর্ষাদরবারেও দর্শকমজানো নাচনেওয়ালা- নাগাসন্ন্যাসীর চোখে ধ্রুপদি কমলা।


অরবিন্দ চক্রবর্তী রচিত শ্রীমতীকীর্তন

গাছকে আমরা তেলসিঁদুর ও মিথ্যা শাড়িতে সম্ভ্রম ঢেকে ঘুমেডুবে পূজা দিই। ও ভিড়ের মধ্যে একা এক বোবা দার্শনিক। সকলে জানি বাকলে ডুবে আছে রাষ্ট্রীয় সুসংবাদ- আমার কলমই দিয়ে থাকে এ বিভ্রম দস্তখত। মাত্রাতিরিক্ত পদ্য পানে লিখেছেন কৃষ্ণ ও অর্জুন, প্রবচনে অরবিন্দ।  

অরবিন্দ চক্রবর্তী রচিত শ্রীমদ্ভগবদকামগ্রন্থে লেখা থাকবে কিছু জিনসুন্দরীর রতিকীর্তন। নায়ক আমি। উপনায়ক ছায়া। আর ভিলেন রাত্রির কণ্ঠে কুসুমিত হবে সাইকোসঙ্গীত। ও অবদমিত রাতসূর্য, মেনে নিন আমরা অসাম্প্রদায়িক।
আপন চরকায় তেল দিতে লেগে ও মুচকি নাচ বিক্রেতা দেয়ালের যত পা চ্যাংদোলা করে টাঙিয়ে দিন অন্ধ আকাশ। আমরা মুঠোভর্তি শুনি লাল অন্ধকারের শিস ও তারাখচিত শূন্যতা। আকাশের সবকটি তারাকে হাস্যোজ্জ্বল মিথ্যাবিদ ইন্ডাস্ট্রি ভাবতে ভালো লাগে- আসলে ওরা সাম্প্রদায়িক। নইলে সূর্যমুখীর চোখকে কেন তারা তারা লাগে!

থাক বাপু, এতসব সম্ভাবনার পাখি জঙ্গিবিমানে উড়াল দিলে আমি নিছক উল্কা- হিন্দু মানুষ ভিড়ের মধ্যে নাই।


কয়েক ছত্র স্ট্যাচু

আদর্শলিপি শেষ না করে স্ট্যাচু দাঁড়িয়ে আছ ভূত- শৈশবে পাতাভেঁপু হাতে তোমাকে তাড়াতে ঠাকুমার কোলে খেলা হতো। আমার বাড়ন্ত বয়সের সঙ্গে তোমার দৈর্ঘ্য কমেছে বলে আমি আজ মহাভূত- কানামাছি খেলতে যাই থিমপার্কে। ভোঁ দৌড়- ছুঁয়ে আসি চারুকলা মন। সেখানে জোছনা নামে পূর্ণিমা-ডানা বেয়ে চাঁদ ওঠে- ঝাঁক পাখি উড়ে যায় ব্রহ্মাণ্ড ছাপিয়ে। বাঙালির বাঙলা খাতায় ঝমঝম পদ্য ফোটে, যৈবতি-টানে। বুকের চতুর্থ মোকামে সমুদ্র-গর্জনে বেমালুম খুলে যায় সমূহ গোপন।

আমি এর শ্রীমাণ পত্রনবিশ- লিখে রাখি ধুলোবালি রোদের সোনালু আগাম। কেউ যেন খামচি কাটে- সম্বিত পেয়ে হুল্লোড়ে ধরতে যাই ডানকানা মাছ। ভাগ্য অনুকূলে নেই বলে আঙুল ফসকে জিতে গেল অতীত। কুমারজলে গেরুয়া ডাকে কচুরি ফুল- পাপড়ি ছিঁড়ে কাউকে জানানো যাবে পিপাসা গোপন। গাঁদার চিবুক হলুদিয়া আবেগে চুমু খেতে মদ্যপ ভণে হাজার ভ্রমর। আমার বাসনা বাওকুড়ানি নিশিদিন। ছুঁতে চায় চন্দ্রকলা মন- যেতে যেতে পথে ষড়ঋতু ঝরে যায়। ঝড় ওঠে জাতীয় পরানে। নস্টালজিয়ায় চোখে ভাসে নীলাভ আকাশ। রূঢ় নীল ক্রমশ গাঢ় হয়ে যায়। আমি ভাসি স্থলশূন্য জলায়। বুঝি, এবার পাব মেঘের মান্দাস। শ্রাবণ-ডানা বেয়ে উছোই যেতে পাব ভূতের নাগালে- খুঁটে খুঁটে হাত দেখব নখ, কত বড় হয়েছে আজ। তারপর তেঁতুল ও অশ্বত্থের কাঁধে সঙজন চড়ে দেখিয়ে আসব শোধিত ভেংচি।

১০
অধিঠোঁটে ঝিরিঝিরি

চোখে শুয়ে আছে বিভ্রম-আমার শাশুড়ি রাত-উঁকিঝুকিতে ঘোমটা টানেন। দিনও যেন তার ভাসঠাকুর। সুইচ টিপে জ্বেলে দেন ধাত্রীনাচ আঁধার। ভিগরাজের পরিবর্তে আজ ডিনারপ্লেটে হেসে উঠছে মারদাঙ্গা রেসিপি। আমার একমাত্র বউ আফিম-কিচেন থেকে বেরিয়ে এসে শাঁ শাঁ… সম্রাজ্ঞীর হাতে বাঘের চোখভর্তা-তিনিই রেঁধেছেন। পামরিগন্ধে আমার শরীরে ছড়িয়ে দিলেন জ্যাকসন ফ্লেভার।

আমি মাতাল বীণবাদক, সাপুড়ের অধিঠোঁটে দেহভর্তি বাজাই হিসহাস ফিসফাস। আর আমাদের ছেলে ধুলো, মেয়ে বালি- নাচতে লাগে পায়ের নিচে বরিকপতনের ঝিরিঝিরি নিয়ে।

১১
পরিদর্শক

ফেটে যাওয়ার পর যে কোনো চোখ বিঁধে যায় লালে আর নীলে। রঙে আমার বিশ্বাস নেই, তাকিয়ে থাকি পাখিদের ডানায়। পাখিরা যেদিন পশু হয়, কী একটা সত্য আমাকে টাওয়ারবাদে উসকানি দেয়। আমি চিড়িয়াখানায় ঢুকে যাই। কেবল একা হতে থাকি। মনে মনে দোকানি হই, ভিখারী হই। ক্ষয়ে যেতে থাকে ভাবুকসম্প্রদায়ের পুঁজিবাদ। ঠিক মুহূর্তেই তুমি আমার দর্শনার্থী। সকল কাগজের গোঙানিকে সাদা সাদা লাগাতে সাহায্য কর।

১২
এক বাক্যের জীবন

তাকিয়ে আছি। লক্করঝক্কর নির্ভরতায় জীবন উড়ে যাচ্ছে। পিছু ছুটছে স্টেইনলেস জিভ। যাকে সূর্য গলে যাওয়া পর্যন্ত মহৎ লোভ বলা যায়। রাতের খোরলে ডোবাতে পারলে তুমিও একে নিয়ে সহ বাসে যাবে। দুলুনি শেষ হলে কাউকে না কাউকে ডাকবে, আয় চাঁদ আয়…। চাঁদ আসবে। অগ্রবর্তীজন- এই আমি দূর থেকে দেখব, কী নন্দিত তুমি! লেজে সিলসিলে জড়িয়ে, ষোলো পয়সার জীবন থেকে বেফাঁস পালাতে চাইছ।

১৩
হলুদশাড়ি লালপেড়ে স্যালুট

এই দাঁড়িয়ে থাকার গোপনে তোমার প্ররোচনা আছে।
ও বিষণ্ণমুখ বালিকা, তোমাকে হলুদশাড়ি লালপেড়ে স্যালুট।
আমার করতলে থই থই উড়ে গেছে যে নদী, তারও আছে বিশ্ব অতিক্রমণের ওপেনসিক্রেট ইশারা। ডিজে ও এফএমের আহ্লাদে ডুবে যেতে পারে সে। দ্যাখো, মাঝি নিরঞ্জনের কেরেসমাতিতে ধাবমান দাঁড়িয়ে আর আমিই দশদিগন্তের কেন্দ্র। আমাকে ঘিরে প্রেত ও পরিরা কোলাভেরি নাচে-জলহোলি হাসি বাজায়। ফুল ফোটার প্রস্তুতিভোরে ছুঁয়ে দিতে বলে সম্ভ্রম।
অথচ আমি এক সোনা বিজয়ী হেঁদারাম, এতসব উৎসবের মাঠে ফোটাই জোনাক-অন্ধকার।

১৪
ব্যান্ডদল

গ্রামের কৈ রেওয়াজ করে আকাশ পড়ে। সীতানাথ বসাক বুকে নিয়ে কাটাকুটি খেলে দুপুরের মেঘ।
জগতের ছেলেরা খুলেছে লিরিকাল …। ভরসা পাই। এবার ওরা টিনের চালে নামিয়ে আনবে দমাদম মাস্ত কালান্দার। নিশ্চয়ই ফোটাতে পারবে খোঁপার কদম। মেয়ে, সু-যোগে এবার নেমে পড়ো জলনাট্যমে।

কোথাও করতালি হচ্ছে। বলা যাক সম্ভাবনা। আমি তো খুশিতে আটখান রাজা। শব্দ ফোটাচ্ছে জল। বলি, বেশ তো, হল্লা কর। যতখুশি বাজাও তালিয়া। আষাঢ়ে ক্ষিধে মিটবে এবার। ঝিরিঝিরি লিরিক তুলতে ঘেমে ‍উঠুক রোদপ্রার্থী গিটারিস্ট।
 
ও গণকঠাকুর, আমিতো আহামরিয়া… তোমারে সাধু সাধু করি, অথচ বুঝি না কোন নহবতশিল্প থেকে আসে এমন শ্রাবণঘন-মর্সিয়া!

১৫
বৃন্দাবন

যা কানে আসে, সবই তার মনে মনে। এবং ভাবাও যায়, বাঁশি বাজে। ভেতর থেকে ছিঁড়েখুড়ে বেরিয়ে আসে সাপের কাহালি। তোমারই পোষা অন্যমনস্ক বৃন্দাবন হাফ ছেড়ে বাঁচে। এ বাঁচা একার নয়, পাপের, কুৎসার। লীলা, নিশ্চয় তুমি বিবাগী নও! তাহলে এবার কুষ্ঠরোগীর পাশে উন্মোচন কর আদমসুর; দেখবে, কেউ কেউ ‘তুমি ধ্যানী, তুমি ধ্যানী’ বলে পালাচ্ছে হৃদয়ম থেকে। পাকাচ্ছে জিলাপি। জিকির থেকে ফেলে দিচ্ছে জীবনের জল। খুলে ফেলছে নাচের মহিমা। ‘মেনকা মেনকা’ বলে ময়ূরী যখনই দেবে ডাক; দেখবে, চারপাশ থেকে খসে পড়ছে যুধিষ্ঠিরের মুখোশ।

১৬
পলাতকপ্রবণ

ত্রিভুজ একটা চরিত্র। কাউকে যখন সে খুন করবে বলে শয়নযাত্রায় একাদশী ফাঁদে। পুরুষালি দ্বিধায় বলি তাকে, ডুব মারো। সংবাদটা রটে যায়, ওদিক ঘটনা ঘটে দৃশ্যের ওপর সুতো বা মই না রেখে। দেখি, ডোবার অতল থেকে উঠে এলো এক তাগড়া মহীয়ান।

একপক্ষ ধরে তার অনশন।
বিষয়: না জানা।

তদন্ত স্বার্থে, ধরা যাক, তুমি তার বউ। তোমার নাকফুল খোয়া গেছে চর্যা-রাতে। সে যাক। এবার দেখোতো, আমার চোখে জলের নবুয়ত কী-না? দেখলে যা, পেলে বিন্দুফুলের ব্যবহার, পুরোদস্তুর জয় বাবা অমানাথ। বুঝলে পৃথিবীর রক্ত ধুয়ে ফেলতে হবে এবার। হাসতে হবে বেদনার দিকে জীবন তাক করে। লাফাতে হবে রক্তে রক্তে প্রাচীন বলের আপন হয়ে।

……………………………..

অরবিন্দ চক্রবর্তী

অরবিন্দ চক্রবর্তী

অরবিন্দ চক্রবর্তী। জন্মদিন : ১১ আগস্ট ১৯৮৬ । জন্মস্থান : রায়পাড়া সদরদী, ভাঙ্গা, ফরিদপুর, বাংলাদেশ ।
কবিতার বই : ছায়া কর্মশালা (২০১৩), সারামুখে ব্যান্ডেজ (২০১৬)
সম্পাদনা :   দ্বিতীয় দশকের কবিতা (২০১৬); অখণ্ড বাংলার দ্বিতীয় দশকের কবিতা (ডিসেম্বর ২০১৬)
সম্পাদক : মাদুলি
মোবাইল : ০১৭৫৭১৫০৬২৫
ইমেইল : aro_bhanga@yahoo.com

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E