৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ৩০২০১৬
 
 ৩০/১০/২০১৬  Posted by
কবি শারদুল সজল

কবি শারদুল সজল

 

শারদুল সজল -এর কবিতা


জলকুসুমের সংগীত

শহরজুড়ে ভিড়ছে কামবর্তী উড়োজাহাজ
জলপাই জনমের ধোঁয়া নিয়ে
সাইরেনদিন
জলকুসুমের সংগীত ছাপিয়ে
শোপেনহাওয়ারের দার্শনিক চোখ
ডাউনলোড করে
মনমাধুরীর সফট্ওয়্যার

যেন
উৎসাহ ইশারায়
আকাশ কাঁপিয়ে বলছে

ভিজে যাও
ভেজাও


মঞ্চ

উঁচু চেয়ারে অভিনব হত্যাকারীই বসবেন
প্রধান অতিথি হবেন কৌশলী গোপন দালাল
সভাপতিত্ব করবেন খুনি-শয়তানের মিষ্টি মুখ
বোকচোদ বয়ানের প্রটোকল দেবেন
বাজার ফর্দির মতো কতিপয় কিছু অফিসার
আর করতালির মজুদে উপস্থিত হবো
তুমি আমি তারছেঁড়া অবুঝ আবাল!


হলো অলো সই

এখানে আজ বহুদিন পর বৃষ্টি হল!
খলসে মাছ আর পুঁটির ঝাঁকে নাচানাচি হল
এখানে আজ বৃষ্টিশীতল মন জুড়াল
কাদা জল ঘাসে ঘাসে সুর ছড়াল
এখানে আজ বহুদিন পর বৃষ্টি হল

কাশবনে নরম হাওয়া উড়ে এল
নাদের মাঝি বউয়ের দিকে মন বাড়াল
পদ্মাপাড়ে শীতল শীতল ঘুম উড়াল
নকশী কাঁথার মিহি সুতায় ওম ছড়াল
এখানে আজ বৃষ্টিশীতল মন জুড়াল


জন্মতারিখের মৃত্যু

প্রিয়সুধী
আমার কোন জন্মবার নেই
আমার জন্মতারিখে আগুন ধরিয়ে দিয়েছি
সেই থেকে পুড়তে পুড়তে
আমি একটা
অগ্নিগোলক
রাতনর্তকীর সাপখেলায়
হাসতে গিয়ে
দাঁত নয়
পুরো কলিজা বের করে
চিবুচ্ছি

বিশ্বাস করুণ
আমার কোন জন্মতারিখ নেই
জন্মবার নেই


জিওল মাছের মূলভাব

আমি বর্গাচাষি
সারারাত পুকুর সেচে

তরতাজা জিওল মাছ

বুকে আগলে

বাড়ি ফিরি

দরোজার কাছেই
কালো কুকুরমতো অপেক্ষা করে
একটি পুরনো কবর

ব্যঙ্গ করে

হাসে

আর আমি জারজ ইচ্ছেই বলতে থাকি
বেশ্যাকেই ভালোবাসি!


মৌমাছি

সংশয় ও
হলুদ পাতার দুঃখকে
পলক তুড়িতে উড়িয়ে
রাত নর্তকীর এলোমেলো ওম থেকে
চুমুগুলো
ফিরিয়ে আনছি

সাজাচ্ছি

মধু ও চুমুর
মৌমাছি!


কালোড্রয়ার

প্রতিদিন লাখ লাখ মাইল দূরত্ব টেনে মিলিত হই
ভুলগুলো ফুল দিয়ে ঢেকে
বড় করি তিন সত্যির আয়ুকাল!
কাচি করাতে কেটেকুটে
প্রতিরাতে
ঠোঁটে ঠোঁটে ইচ্ছে মিশাই

বিষ খাই- বিষ হজম করি
বহুগমণ সংবর্ধনায় ফিরি

প্রতিদিন মৃতছবি দেয়ালে টানাই
নিজহাতে গোলাপপোড়া ছাইয়ের উপর
সু-ঘ্রাণ ছড়াই!

ঘুড়ি-সুতোয় টেনে তুলি
সুদীর্ঘ সময়ের খসড়া

আশ্চর্য এই জীবন দিয়ে যা কিছু অর্জন
তার একাংশ প্রতারণা!


ভাবনার সরল নমুনা

প্রত্যেকেই তার বিশ্বাসের সমান

এইভাবে

    তুমি

   আমি

আমরা

  হয়ে যাই

ভগবান

শয়তান

কিম্বা

কিছুই

না

দুই.
মাাঝে মাঝে মনে হয়
ঈশ্বরের আকাশ নিচে নামিয়ে প্রশ্ন করি
মানুষ না বাঁচলে আপনি বাঁচবেন কী করে?


দৃশ্যের রিভিউ

আপনি মানুষের দিকে এক পা এগিয়ে গেলে
আকাশে
পৃথিবীর ফুল ও ফসলের জন্য
বৃষ্টির জলধারা জমা পড়ে
একমাত্র মানুষের নাম নিলেই
আল­াহ নেমে আসেন
পৃথিবীর সকল রেখায়
বিন্দুতে

তখন বেসামাল ভ্রুণ থেকে
জন্ম হয় বীজআদুরে হাওয়া
সম্পর্কের আদিনগর থেকে উঠে আসে
ঝরনা দৃশ্যের রিভিউ
গেরিলা অন্ধকার ভেঙে
বিশ্বায়নের বুকে জ্বলে ওঠে
মঙ্গলদীপ

যদি আপনি একবার মানুষের দিকে
ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকান
তবে ধ্বংসের সকল যুদ্ধ বন্ধ হবে
গোধূলির ঢেউয়ে দোল খেয়ে
মাউথ অর্গানে সুর উঠবে জীবনের
সরল গণিতে

মানুষ, মানুষই একমাত্র প্রশান্তি নহর

১০
বর্তমান

বন্ধুত্ব বাঁচিয়ে রাখা যায় না
এসো শত্রু হয়ে ওঠি

পাখিপালকের উড়াল না জেনে
পৃথিবীর বিপরীত স্রোতে যারা ভাসমান
সমতল অন্ধকার যাদের করেছে গ্রাস
তাদের
ভেতর পৃষ্টার ফটোকপিতে
মায়ারশ্মি কাঁদে
কেঁদে ওঠে শিলাবৃষ্টি শহর

ভূগর্ভস্থ
৭০ ফিট মাটিস্তন জলের ফোয়ারা
শস্যের শিকড় গভীরে পৌঁছনোর আগে
জলাতঙ্ক রোগের ভেতর ছড়িয়ে পড়ে
মহাকাল

আর আমরা ছোট হতে হতে পিঁপড়ের ছায়ায়
তলিয়ে যাই

বর্তমান নাকি এরকমি- কেউ কাউকে
খুঁজে পায় না

১১
নস্টালজিয়া

তোমাকে ছেড়ে কী করে থাকছি হে প্রিয় শহর!
তুমি কেমন আছ? আমার পায়ের ছাপহীন
আমি কেমন আছি তোমার বাতাসের ধূলিহীন- বিজয়াহীন
জানতে চেয়ো না কত মাইল আগুন খেয়ে এই আমি ফুটবলের নিভাঁজে
ঘুরতে ঘুরতে লাটিম হয়েছি, সুতোছেঁড়া মেঘের ভেতর ভাসতে ভাসতে
কোন অজানা তেপান্তর ভেসে চলেছি- তুমি প্রশ্ন করো না
বসন্তের বিউগল ভেঙে গেলে প্রশ্ন চলে না

অন্ধকার ইস্পাতে খসে পড়ছে এনভেলাপ, সবুজাভ ঝাউশাখায়
স্মৃতিধোঁয়ায় উড়ে যাচ্ছে একঝাঁক সারস পাখি
বিমূর্ত পৃথিবীর ছায়া ফেলে, দূরে- রেডিও মেগার্হাটজে
ভেসে চলছে আমার ফেরারি কণ্ঠস্বর

এভাবে স্বপ্নেরা হত হয়- মানুষগুলো পরিচিত মানুষের তাপ ছেড়ে দূরে রয়
প্রিয়তমা টাঙ্গাইল, তোমার বুকে যদি আর ফেরা না হয় তুমি ক্ষমা করো
আর ফেরারি ডানার নামে একটি শেষ চিঠি লিখো

১২
আমাকে একটু খুঁজে দিবেন

শূন্যের
তারে
সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছে দেখি
আগন্তুক এক ঘুণপোকা
মহাকাব্যের সব খেয়ে গেছে
ঝুলে আছে দৃষ্টিব্যূহ কংকাল

আফিমআগুনের ঘনঅন্ধকার ধুয়ে তাকিয়ে দেখি
ওটা আমি! ওটা আমার
শরীর-রজনীতে গজানো শিকড়!
নিরানব্বই কোটি অভিকর্ষজ ত্বরণের
ভাঁজে ভাঁজে রাত পুড়িয়ে
কীভাবে দণ্ডিত গাছ হয়েছি
সেই বর্ণনায় ভাসছে
ভেজা চুলের আরাধ্য কুসুম!

আর নিচে
রাজপথে
মাইকে
ঘোষণা চলছে একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি

আমাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না

১৩
যোদ্ধা

একাধিক রাক্ষসের চেয়ে
আজরাইল সত্যিই চমৎকার
তার চেয়েও চমৎকার
যদি কাউকে না পুছ!

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E