৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ১২২০১৬
 
 ১২/১২/২০১৬  Posted by
নাহিদ কায়সার

নাহিদ কায়সার

নাহিদ কায়সার -এর একগুচ্ছ কবিতা


কাল

থমকে আছি মাঝ দরিয়ায়
চারপাশে ঢেউ খলবলী খায়
যেন কাঁটা হাত-ঘড়িটায়
পুরনো আর অচল টি প্রায়
সময় গড়ে, গড়ায় জলের মত
কলের চপল ছেলের মত
মাটি-কাঁদা ঘেঁটে বেড়ে
ছুন্চর মত পাড়ায়  পাড়ায়
যৌবন-কাল এ
দেখেছি কাল এ
দর্শক-বেরির আড়াল এ
চুটিয়ে, ঘর ছুটিয়ে চলে
লাগাম যোজন দুরে ফেলে
এখন গেছে জুড়িয়ে
ঠাম্মার মত বুড়িয়ে
সকল বেলা গড়িয়ে
অবকাশে মুঠো ভরিয়ে
গলা সময় ক্লান্ত ঘুমোয়
মড়কের মত হিম-ঘরে


আত্মকথা

বিদ্যুত-স্পৃষ্ট মাকড়সা যেন
দুস্তর বেড়াজালের ফাঁদে
লাঠি সটা লাথি গুতোর নিচে
সময়ের ওপারে
সত্যের ওপারে
মাঝে মাঝে হেসে উঠি
মুক্তির বার্থ প্রচেষ্টায়
লাঠি সটা লাথি গুতোর বাইরে
নেই কাল নেই দেশ
নেই শুরু নেই শেষ
কি জানি কেন
ছাদে বাধা ভাষণের শাসনে
আমার কথার হারালো কোথায়
আশাহীন-কামহীন-ক্রোধ হীন-ভাষাহীন
পাশ কেটে চলে যায়
পদ পৃষ্ট পরে থাকি
দলিত সময়ের অতল এ
সাদা কালোয় যদি দেখা যেত জীবন
লিখে যেত আত্মকথা এই অভাজন


বেদনা

কোত্থেকে এক হতচ্ছড়া দুঃখ এসে
নষ্ট হাওয়ার ভ্রষ্ট বেগে
ভাসিয়ে নিল দুকুল আমার
গুড়িয়ে দিয়ে স্বপন-নদী
আমি এখন ঠাটা-পরা ঠায় দাড়িয়ে
প্রবল বেনো জলের  মত বেদনা এক
বয়ে নিয়ে চলল বেগে
যেইনা গেছি সাধতে বাধ
ভাঙ্গন ভরা ঢেউ এর ভুলে
কোন যাতনায় থমকে দাড়াই, না পেয়ে ঠাই
নষ্ট বুঝি নিতে পারে অচিন পুরে
অনাকন্দার হা-হাহাকার বুকটা জুড়ে
মরণ ছোবল- রাহুর গ্রাস
হাড়-পাজরে করলো ত্রাস
এক-দুই-দিন-এক- এর পরে
দুমড়ে-মুচড়ে চূর্ণ করে
ফেলল আমায় কোন গহ্বরে

যাক, গিলেছে তা ও করুণা করে।


শূন্যতা

যত্নে বোনা যন্ত্রণা
ডুবে-ভাসায় আনমনা
দুখের মিহি জল বোনা

অশেষ-অনড়- অস্থিরতা
খানিক বাদেই অসাড়তা
জ্বলেই নেভে যার সলতা
অমোঘ-অবুঝ-দুর্বলতা
দিবার স্বপন যায় মাড়িয়ে
শুকনো পাতার রাস্তা যেমন
উড়তে চেয়ে হতাশ-ধপাস
ইকারুস এর সন্ধা যেমন

কোত্থেকে এই কালটা নামে
অস্তপারে গিয়েই থামে


ভুল!

দূর দূর দূর!
কার জন্যে কুল কুড়ুলেম  
পাঁচশো পঁচাত্তর
এলোনা তো কেউ
সে দুঃখতে দুখ-নদীতে
উঠলো ঢঙের ঢেউ
ভুল করেছি, ভুল
সর্বনেশে শ্যামের আশে
ছেড়েছি দু-কুল
এখন কোথা যাই
কোন যমুনার জল- জোছনায়
এ আঁধার ঘোঁচাই


শ্রাবণের গল্প  

আয় তোকে গল্প বলি
কেমন করে আসলো শ্রাবন
ঝড়ে মাতাল হলো বন
কখন ফুটলো কলি
আয় সে কথাটি বলি
বৃষ্টি ভেজা সরু পথে
হাত দুটো তোর হাতে
রেখে, সে পথটাতেই চলি
শোন, শেষ কথাটা বলি
আয় দুজনা এই শ্রাবনে
বৃষ্টি ছড়ায়  দেহে মনে
কদ্দিন আর জ্বলি


সোহাগী শরৎ

শিউলি ফুলের দেখতো হাল
সাদা শাড়ির পাড় টা লাল
আকাশ বুড়ির দেখতো চাল
সাদা মেঘের তুললো পাল
মন টা হলো ইচ্ছে- ঘুড়ি
করছে কেবল উড়া-উড়ি
শুভ্র কাশের ভেলায় চড়ি
শান্ত আকাশ দেবে পাড়ি
সূর্য হাসে চোখ মিলিয়ে
আলোর রতন যায় বিলিয়ে
খুকি হাসে দুল দুলিয়ে
নদী নাচে কুলকুলিয়ে
আমার সাথে মনে মনে
ভাব টি যাহার সংগোপনে  
খুঁজবো তারে আকাশ-বন এ


জন্ম

ক্লান্ত কাক আনে বিবর্ণ বিষাদ
 তাই খেরো খাতার আজ গোড়ায় গলদ
তবুও ভাসে ছাদ ছাপিয়ে চাঁদ
প্রাণে যোগায় জৈবিক জাদুর রসদ
ঘ -ঘাটা মাছি, চতুর চা – চামচ
ধুলোয় ধূসর, তবু জিয়াল জারুল
তুলোট সুখ বরাবরই পলাতক
ঠায় দাঁড়ায় তাও পয়োধরা পারুল
প্রেয়সীর কুন্তলে নিদ্রা – কুসুম
যযাতির মরা গাঙে আনে বান
কামনারা নেচে উঠে রূমঝুম
সঙ্গম সুখে ফোটে সোনার সন্তান


কালিদাসের কেরামতি

কালিদাস বোঝে খাস মানুষের মন
মেঘমালার মন্দ্র মুখর বরিষণ
নইলে কবে কার বেয়াড়া আকাশ
উড়নচন্ডী সদাই বেতাল বাতাস
সংসার কারবার কত আর? কেন আর?
কোথা শেষ কামনার আর বাসনার?
মেঘ যদি বলে যাবো -যাইবারে দাও
ভালোবাসা কমফুর পলকে উধাও
গাল ভরা পান যার, তাও কেন মান তার
কে বোঝে মানে জীবনের গানটার
কে কবে দেখেছে সুখের সাম্পান
কে কবে পেয়েছে প্রেমের সন্ধান
কিছুই বোঝোনা ছাই – ছোট্ট জীবন
কালিদাস বোঝে খাস মানুষের মন

১০
প্রিয় এলিয়ট …

সন্ধ্যায় যে যাই দেখুক, আমি শুধু দেখি বিষাদ
শহুরে বধূর মুখে তখন কালো কফির তেতো স্বাদ
নারী নাকি ফেনা তোলে মুখে মিছে মিচেলেঞ্জেলোর নাম
এলিয়ট ছাই বোঝে রমণীর মন, চায়নি সে প্রেমহীন কাম
যেন প্রুফ্রকের কম নয় কোনো শহুরে বধূর বিপন্ন বোধ
হেলায় ঠেলনা কবি মানবীর এই অনুরোধ
স্তন্যবতী তার বুক ভরে বয়ে চলে জীবনের ভার
কফির চামচে যায়না মাপা নগরে নগরে হেরেম হাজার
হলদে কুয়াশার হলদে ধোঁয়াশায় ভোলেনি সে কখনো
কাক – ডাকা ভোর, কাঠ -ফাটা রোদ, জেনেছে সে অধিক তারও
শহুরে নারীর হায় কাঁখে নাই কলস, বাঁচিবারে তারও আছে ঢের প্রয়োজন
তাই বুঝি লোকে তারে ভেবেছে অলস, তার কি নাই জীবনের কোনো আয়োজন?
ঘামে শ্বেদে ক্লান্ত দুচোখ, নেই শখ কাঁকড়া হবার
নেই বিলাসিতা অহেতুক, চা -চামচে জীবন মাপবার

 

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E