৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ১০২০১৭
 
 ১০/০১/২০১৭  Posted by

মাসুদ মুস্তাফিজ -এর ৪৪টি কবিতা


অন্ধকার আলো

কেউ কী জানে কতোটা বিস্তীর্ণ হলে চাঁদের আলো
ঘোরলাগা অন্ধকার নিকটে আসে
সময়োত্তর আলোর মাতামাতিতে মানুষ দেখে না
কিছুতেই-এর চেয়ে চক্ষুষ্মান অন্ধকার দুর্বোধ্য অন্ধকার ভালো

জীবন তো ছুঁড়ে মারা অসুরের তীর! লক্ষ্য নিশ্চিত
হোক বা না হোক ফেরে না যেনো
কিছুতেই; আসলে যাওয়ার আরেক নাম শূন্য
প্রস্থান; শূন্য সরে যায় আর এক আসে
পশ্চিম যতোদূর তার চেয়ে পূর্ব ততো নিকটে-
এতা কালের সীমায় অনন্ত ঈশ্বর!

আমাদের ফেলে যাওয়া শৈশব লাফিয়ে উন্মত্ত
কৈশোর-যৌবন-ভ্রমণের সুদীর্ঘকাল; মোহ-প্রেম  
মাটিতে শেকড় ফেলে অনুঢ়া প্রেমে মাটি মানে এই
শৈশবের মায়া-মমতা এবং জড়তার
মোহ ভুল প্রণয়ের বিনিদ্র রাত আর আলো মানে
অন্ধকার তার ঢেকে দেয়া সোনালি চাদর-তীব্রতায়
দিকচিহ্নহীন প্রকৃতির অন্ধ ভালোবাসা শুধু আলো


চুলের কাব্যপাঠ

তোমার বিস্রস্ত চুলে আমার নকশা-আঁকা সুগন্ধি
স্নান শেষে রোমাঞ্চিত গ্রিবায় ভেঙে পড়ে অবিরত সুন্দর
নিকটে তোমার রহস্যটুকু; তুমি মুখপার্শ্ব ফিরিয়ে রাখো

তোমার চুলের বিনগ্ন কেশগুচ্ছে আমার স্বপ্নের ঋণ বাতাসে ওড়ে
রাতের সহজিয়া প্রেমে অন্তরিণ-দূর, তুমি মুখপার্শ্ব সড়িয়ে রাখো

তোমার চুলের নরম বিষ্টিভেজা গন্ধে মেঘভাঙা রোদ হাসে
স্বর্গীয় সুন্দর বাতাসে বিষ্টির ঘ্রাণ বাতাসে বিশ্বাস ওড়ে
তুমি খোঁপা খোলো না গো! আমি কল্পনার বিনুনি গাথা শ্রান্ত সন্ধ্যার
দারূণ অবসন্ন মন পোড়ে-আশার বিনুনি
দিয়ে খোঁপা বেঁেধা তোমার ওই মিসিসিপিদীর্ঘ চুলে-

তোমার চুলের পাঠ আমার দেহরেখা অবগুণ্ঠন করে
চলে যায় মাঠ-ঘাট-তেপান্তর-পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে

তুমি খোঁপা খোলো না গো! বেঁধোনাকো চুল !


অচেনা ভ্রমণ

স্তনের মতো অসহায় অনুগত বিশ্বাসের শরীর খুলে যায়: বেহিশেবি স্মৃতিতে ঝুল পড়ে শ্যাওলা গজায় এ্যাক  নিরাপদ অরণ্যে যেভাবে স্পর্শ সরে যাচ্ছে দূরে সরে যাচ্ছে ক্রমশ এ্যাকটি ছায়া অদৃশ্য আমাকে আমূল বিদ্ধ কোরে পাথর হিমালয়বোধে, তোমার উদ্যত জোড়া স্তন আমাকে আজন্ম পরাধীনতার গল্প শোনায়। যমুনায় ফেলে আসা শৈশব ঈশ্বর য্যানো স্বয়ং টুকে রাখে- আজ তোমার শাড়ির আচঁল লাল হাওয়ায় ভরানো ব্রা সূখানুভূতি সব স-ব নদীর ঢেউয়ের মতো মনে হয় বলো হে সুধাময়ী নারী এই অনুগত বিশ্বাসে আজ আমি কোন সুখে নিরাপদ থাকি-


বিষ্টির প্রহর গুনতে গুনতে

যদি তোমার চুলের গন্ধ শুঁেক নিতে দাও রাত্রি প্রহর গুনে গুনে দ্যাখো আমার অষ্ট প্রহরে কেমন রক্তচন্দন ফোটে
বিষ্টি উচ্চারণ-মৃদু অভিমানে মোমের ছায়ায় প্রকৃতি অতীত হোতে হোতে
স্বভাবের স্মৃতিরা বিষ্টি ছুঁতেই
আমি বিষ্টির ভাববীজে চুলের গন্ধে জীবনের উচ্চতা আঁকি আঙুলের
পরাজিত রঙে
অচেনা গন্তব্য

এই যে রাতচুয়ে দিন আসে
আবার দিন ফিরে রাত-এর কী কোনো শেষ আছে
রাত দিনের অপেক্ষা করে আর দিনের প্রতীক্ষায় ফিরে আসে
যেনো অনন্ত তৃষ্ণা-কামনার মেলবন্ধন
ভালোবাসা না থাকলে কী অপেক্ষা হয়-

মানুষ আসে মানুষ যায় শুধু রাতের দিন বেঁচে থাকে অনন্ত
আমাদের জীবন জানালায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মিহিজালে
আসলে রাত কিংবা দিন আদলে মানুষেরই চরিত্র
বুঝে নিতে নিতে আমরা কেবলই বদলে যাই

এভাবে কিছু অভিমানী জিজ্ঞাসা চিরকাল বিহবল চিন্তায়
নিজের সত্যকে আবিষ্কার করতে করতে আরেক সত্যের
কাছাকাছি  কোরে
রাতচরিত্রের পালাবদলে আমরা প্রতিদিন মানুষ ফেরি করি
এ্যাক অচেনা-অনির্দিষ্ট গন্তব্যের ঠিকানায়
মানুষ আসলে গন্তব্যে যায় না-গন্তব্যই হয়তো মানুষকে নিয়ে যায়
রাত জীবনের  ট্রেন আর পারাপারে একটি মানুষ  
কিংবা মানুষই একমাত্র গন্তব্য-


অপেক্ষা

জোছনাগুলো ঘুমিয়ে আছে আলোসূতোর বিমূর্ত নক্ষত্রপ্রেমে আর আলোর প্রাচীর ভেঙে অন্ধকার শুয়ে আছে তার বিপরীতে শুধু জোছনাতাড়িত রৌদ্র নগ্নতার বালিকা তার একার নিমগ্ন মুগ্ধতার ছায়া নিয়ে দাঁড়িয়ে

ঘাস ফুল নদী প্রজাপতির মতো আমিও তোমার অপেক্ষায় আছি জোছনাস্বভাবে

 

চিঠি

দেখতে এসো ছিনতাই করা ঘামে ভেজা একটি চিঠি আমি পেয়েছি স্বপ্ন দৃশ্যে প্রথম  শুভেচ্ছা বিনিময় স্নানের প্রস্তুতি নিয়েও গোসল বদলে রবীন্দ্র সংগীতে সুর

দ্বিতীয় বিকেলে আর কেউ নেই এভাবে কেউ থাকে না কোনোদিন কেউ কেউ থাকে অথবা থাকে না হয়তো থাকে


কালবিকেলের স্বপ্নোপাখ্যান

ভীষণভাবে থেমে যাচ্ছে চোখ-
স্মৃতিভাঙার বিবর্ণ দৃশ্যে রূপকথার বাঁক পরিবর্তনের অসাধারণ এক দৃশ্যপট; অমোঘ স্বপ্নের দূরুহ সব বেঁকে যাওয়া জীবন কৃষ্ণালোয় আমাদের গাণিতিক শূন্যতায় দর্শনসূত্রে আটকে থাকে পেরিসুয়্যার বিষণ্ণ তত্ত্বে প্রায় সমাসন্নে খরজ অগ্নির ভেতর জীবন খোঁজা

স্মৃতিকাতরতায় খোয়ারি মুহূর্তে শাদা চোখে শ্রাবণ লাগে: তখন স্থিত এক অন্যযৌক্তিক প্রান্তিক মেরু প্রাবল্যের সীমায় দাঁড়িয়ে শত শত শ্রাবণের মিথ পোড়ে- দৃশ্যাতীত কোনো আশরীর অভিজ্ঞান ছুঁয়ে মূক পুরোহিত অলৌকিকবোধে

এভাবেই রাত নগ্ন হয়ে ওঠে আর অস্থিরতা তুলে রাখি নিঃসঙ্গতায় মোড়ানো উপমিত পৃথিবীর কাছে আমার সমূহ স্বর্গের বিশ্বাস নিয়ে অনেক বিমূঢ় সুদূরা বিলাস নিগূঢ় অনুভূতির তীব্রতায় বিনম্র স্রোতে কার্যতার সংঘাত ঘটতে থাকে নতুন গোপন ব্যক্তিত্বে

সমূদ্র রচিত এই সব প্লাবনপ্রীতি সমুদ্র-মুদ্রণ সন্দর্ভ সতীর্থ হয়ে যায় জনারণ্যের নব্য সংশয়ের হাঁটুনির্ভর নিজস্ব রাসায়নিক দৃঢ়তা নিয়ে

অনুভূতির দেয়াল ভেঙে তবুও নিকটে আসি এই নিককানা দূরত্বের সবটুকু অতীত অসহ্যের শুধু সামনে তার ভবিষ্যৎ পথের খরাগ্রস্থ দিন

তবুও যোগীনির ইন্দ্রিয় চোখে জীবন হারিয়ে যায় বারবার আলোছায়াহীন নৈসর্গিক বিশ্বাসের নৈরাত্মায়

এখন স্বপ্ন হারাবার আগেই
আগুনজলের প্রতারণা বুঝি এবঙ ভেসে যাই শ্রাবণ অতীতের মৌসুমী চোখে তুমুল ইশারায় সুখের স্পন্দিত শরীরে


জলপ্রপাতের পথ ধরে

যদি কেউ আসে ভোরলাগা চোখে হারিয়ে ফেলি পাখির মন  
জলের কাছে সব ছেড়ে দিয়ে আমার আনন্দ-বিষাদের চল্লিশ বছর এবঙ বে-আব্রু জীবনের লৌকিক নির্ভরতার সকল পথ ফেলে আমার বেঁচে থাকা এভাবেই পাখিদের খুঁজে পাওয়া পথের দূরত্ব বড়োই ক্লান্তিদীর্ঘ নিয়ত না ফেরা বসন্তে পাখিস্বপ্নের আদ্যময়ী নীরব সোনালি হাওয়া ওড়ে

আসলে বৃক্ষরাই ধূমাবর্তি ঘুমের মৃত্যু বোঝে বোঝে আশরীর শস্য সবুজ বেদনার ফুল-প্রজাপতি কিম্বা ঘাস-ফুলের ঝরে যাওয়া প্রত্মদিনের নামহীন আফ্রোদিতি!

কালসূর্যের আকাশ সংস্করণের প্রচ্ছদ দিনভাঙে…  বারবার

আমি ছেড়ে যাবো বাদুরঝুলের বিষণ্ণতা ভেঙে ভেঙে আর পাহাড়ের বিমূর্ত ম্যুরাল, স্বাস্থ্যহীন স্বপ্নের বিস্তীর্ণ দিগন্তে; মেঘের দ্রষ্টব্য চিনে চিনে প্রকৌশলে আমার আত্মার পাখি কী জলের প্রান্তর ছুঁয়ে এই শাদা আস্তিনে মোড়া সংকীর্ণ পথ আমি ধরে রাখতে পারি না

তবে এ প্রপাতে কোনো শিংশপা কাঠিন্য নেই এই প্রপাতে আমি শুধু ছড়িয়ে ছিটানো থাকা পথে সব অসীম প্রগাঢ় সম্ভার লৌকিক বাহুল্য আমাকে যুথচারিতা করে আর অন্তলীন হাওয়ায় এলোমেলো করে যায় সুখের অন্তর্বাস

তারপরও এ পথেই আসবে রাতারাতি সতর্ক হয়ে সময় ভাবনার সকল ধ্রুপদি দর্পণ নিয়ে যেভাবে পার হয়ে যাবে নদী সুদূর অতীত সীমানা ছুঁয়ে শরতের বন-শ্রাবণের-মন কুয়াশা অরণ্যের শীর্ষমূলে আটকে থাকা চাঁদের অলীক আলো-আঁধার অমাবশ্যার নিরাশ্রয়ে সবকিছুকে আড়াল করে

কেউ তো আসবেই সাগ্রিক চোখে ফর্শা অর্থের মুগ্ধতা নিয়ে শূন্যতার যতোদূর… নির্বিঘেœ পালিয়ে যাওয়া আমাদের সুবর্ণ অতীত এই মুহূর্তকাল বসন্ত পাশকাটে প্রশান্ত মেঘের তুমুল আয়োজন করে

আমি চমকে উঠি চোখে ভোরলাগে-
হৃদয়ের নরোম ঘাস ডুবিয়ে এই বুঝি এলো কেউ বলো প্রতিদিন রঙ বদলাতে কেন এমন করে আসো


অন্তর্দৃশ্যের পুরাণ

গতসন্ধ্যার শতভাগ মুগ্ধতা নিয়ে হেঁটে যাই মহাকালের অর্বাচীন আবহের বিনুনির গাঁথা সময়ে অনাদ্রদৃঢ়তা পেরিয়ে সেইসব উচ্ছ্বাস অধ্যাস দিয়ে আজ অবধি এই মোমের কাল

সময়োত্তর দূরত্ব আর অনিস্তত্বের মার্গীয় মনস্কতা এইভাবে আড়াল করে ঘনতর অন্তদৃশ্যের পুরাণ এই জাগতিক ঐতিহ্যে এই যজ্ঞহৃদের গভীর মন্ত্রশ্বাস আমার আজন্ম অনাদ্রসুখ অন্তর্বতি সূবর্ণ অতীত হয়ে বিস্তৃত চেতনা বিলাসে বিনষ্টির অধ্রুব অনুভবে খেলা করে যায়

এভাবেই হেঁটে যাওয়া অতীত তবুও স্বাভাবিক, নির্ভরতার কালের সুখে
ধুসর সীমানা পেরিয়ে দৌরাত্ববোধের দ্রুত হেঁটে চলে অনাদ্য অশ্লেষে

১০
দূরত্বস্মৃতির কালবেলা

আমাদের অস্তিত্বের উৎসবদ্রোহপুষ্ট হারানো সম্পর্কের স্বপ্নবুকে দূরত্বস্মৃতির কালবেলায় শুন্যের গভীরে কিছু প্রবুদ্ধবন্ধু আমার সম্পর্কের মিহিবাঁধনের পরিব্রাজক বিবর্ণ বিন্যাসের রোদে ছাড়পোকা ইচ্ছের দেয়াল ভেঙে অবাক রাত্রিউৎত্রাসনে  

অসময়ের বিক্ষপ্ত দুর্বৃত্ত অন্ধকারগুলো তাই হিমরহস্যে গৃহহীন চোরাশব্দে বহুরপ্তময়তার কাল নিভৃতের দিন হয় অন্যদিকে শানিত সকালের শাদারোদ বিবরসন্তাপে অপরের বুকে রোমাঞ্চিত গ্রিবার অবরোধে লজ্জার রঙধনু ওঠে
এই স্মৃতিময় ছুরিকাটা কাঁচবাতাসের কাঁচনিঃশ্বাসের মাতাল মেজাজ কিছু হাওলাতি সাহস হোঁচট খেতে খেতে বিস্ময়ের খাঁচভাঙা সুখ জরুরি আরোগ্যের মতোন ভাগ্যবদলানোর আলোয় জলসিঁড়ির ভাঙাআলোয় মুখ চেনে
 
রাতকানা সস্তাঐতিহ্যবোধ আর দাহদৃশ্যেরঐতিহ্যে দু চোখ আমার এখন চতুঃরঙ্গ সমস্বরের হরমন মন

 

১১
রোদপাখির শূন্যমৃত্যু

আমি এখন চলে যাচ্ছি খুব একা চলে যাচ্ছি-
কেটেযাওয়া সুষমদিন রেখে আণবিক ভালোবাসায় লিখে-যাওয়া মানবিক উন্মাদনার আবেশভরা উত্তরণগুলো কবিতারত স্নিগ্ধজোসনারাতে খেয়ালি নিরারন্ন মুখস্ত বিশ্বাস আর শব্দালোর হেয়ালির জানালার পাশে বিবস্ত্র বাতাসের চুড়ান্ত ইতিহাস

আমি চলে যাচ্ছি বড়ো একা একান্ত আমাকে নিয়ে রেখে-
প্রাচীনসুখ বিমূর্তকষ্ট কিছু নিরাপদ অন্ধকারের আলোমাখা কালোসমুদ্রের অসুখ সময়ের হারিয়ে ফেলা অদৃশ্যের দশদিক ফেলে-
স্মৃতিময় শূন্যতায় জমতে থাকি বিবরসাহস উত্তাপের শূন্যতা ওজনের নিরাময়ময় প্রিয় শব্দের গ্রহণ ঘ্রাণের কালোফুল

আমি চলে যাচ্ছি খুব একা চলে যাচিছ-
চলেযাওয়া- কেটে যাচ্ছিলো এই ফর্সাসুন্দর অনৈতিক সুখগুলোর আবেগের ঘনবসতির বাড়িঘর ছেড়ে স্মৃতিরঘামে ভেঁজে ওঠা আমার আষাঢ়ের বিকেলমগ্নতাসকল জীবনের রঙ বড়োই বিপন্ন সাহসী মনূষ্যপ্রিয় জীবনের বারোমাস অর্ধেক তার রাত- হৃদয়ের দিন চুক্তিবদ্ধ নিরামিশ সঙ্গম

এভাবে আমার চলে যাওয়া হচ্ছে ভীষন একা-
আমার ঝেড়ে ফেলা নীলজ্ঞানের সবুজ বিমন্ত্রজ্ঞানের হলুদইচ্ছের প্রতীক্ষার পুরাতন জরাজীর্ন ভাবনার ইচ্ছাপ্রিয় হঠাৎদিন- তোমার পুতে রাখা মন খুড়ে প্রিয় বর্ণের আলোখোঁজা স্বর্গচ্যুত স্মৃতির তুমিময় আলোর নতুন ভূবন জমেওঠাদিনকাল
আমার বোকা প্রেমিকার লাজুকঠোঁটে চাঁদের দৃশ্যআঁকা প্রশূন্যরোদপাখির রোদমনসকালসমূহ রেখে

আমি চলে যাচ্ছি

১২
কবি কখনো প্রেমিক অথচ প্রেমিক কবি নয়

যৌথপাতার ভ্রমণ শেষে যৌবনের বিবৃতিগুলো আকাশে ওড়ে মেঘের শরীরে আর ধর্ষিত হয় মেঘ কবি প্রেমিক হয়ে ওঠে- চণ্ডীদাশ মন কামশিকারীর চোখে মন ধারণ করে অদৃশ্যের শরীর

কাম থেকে জন্ম নেয় কবি অথচ কবি প্রেমিক নয়
আকণ্ঠ পান করে জীবনের উৎসব আনন্দ উষ্ণ মননের কাব্যকামকুশলতায় ঈশ্বর ও কামুক প্রেমিক

শারীরিক কবি পুরুষ নগ্নদেহ বিদ্ধ করে যীশুর নগ্নপা
আর সূর্যবীর্যে আগুন কলাপাতায় গর্ভবতী হতে হতে রাত্রিসঙ্গমের দিন ভোর করে কামের শ্রাবনে

তুমি পাগল প্রেমিক- ভালবাসার মগ্নজীবন ধরে ধরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হও কিন্তু তুমি কবি নও

কবি প্রেমিক অথচ প্রেমিক কবি নয়

১৩
প্রস্থান কিংবা বিচ্ছিন্নতার চিরকাল

দৃশ্যের আয়না ভেঙে এই ঘরটা একদিন খালি হবেই- আমার সমূহ বিচ্ছিন্নতার স্পন্দিত দুপুর রেখে বুদ্ধিমানেরা আয়নায় নিজেকে চিনে চিনে বহুমাত্রিক উপায় খোঁজে নিজের খুঁজবেই চিরকাল এভাবে শহরের লুকিয়ে থাকা অনুরক্ত কেউ হয়তো তুলে নেবে স্বপ্নের মুঠোজল সূর্যমাখা- সুবর্ণআঁকা প্রথম আকাশ প্রজন্ম পুরুষের আলোয়- যতোদুর হেঁটে যাওয়া যায় আমি হেঁটেই যাবো দিগন্তভেদে দৃশ্যআয়নার সব জানালা-দরজা খোলা রেখে

 
১৪
পরাবাস্তব সংসার

উড়ে যাচ্ছে কিছু স্মৃতিগ্রস্তসময় শূন্যতার হাত ধরে সুখের অলীক অজস্রতা নিয়ে এবং সব কিছুকে আড়াল করে সব কিছু থেকে সরিয়ে রেখে নিজেকে অস্পৃর্শের সুখের নগ্নতা খুলে কেবলই রাত্রিযাপন আর রাত্রির শরীরে উর্বর করে দিচ্ছে কবি তার মধ্যযামের নারীর অনভ্যস্ত রাহস্যিক শরীরজুড়ে যতোবার অনিবার্য হয়ে ওঠা

তোমার মিশ্র খেয়ালে আমার আত্মার ভূগোল পোড়ে চাঁদলেশ চোখে জীবনের সফলতা ভেঙে যৌন-থেরাপির রহস্যজনক নির্মম মেঘের কার্নিশ ভাসানে

জীবনের রের্টিং বদলাচ্ছে নিজস্ব সংলাপে পাল্টে যাচ্ছে কবিতার ফর্ম আর ব্লগিং ব্যস্ততার চোখ খোপের মোহনিয়তা পাল্টাচ্ছে একটেরে জিনিয়াস ভরা সময়ের প্রযুক্তি সন্ধ্যায়

এক আশ্চর্য নিজস্বতার সাথে কথা হচ্ছে আজকাল চোখ-খুলে-রোদ-খুলে তবুও আলো নেই বয়সে ভেজে সূর্যের তুমিময় বোধ এবং শব্দের অন্তর্গত দৃশ্য

আমার প্রাচীন অনুভবের ঠোটে চোখ টোপকে যায় শীতের নিসর্গে
সমস্ত বৈভব ঢেকে দেবার কথা ছিলো যেভাবে যাত্রা পথে আমাদের অজস্র যাত্রা থেকে শুরু হবার আগে

সময় এখন রুখে দাঁড়িয়েছে বহুমূখি উপযোগে আর ভারী হচ্ছে রোদউষ্ণতা দোসর মন আমাদের অন্ধকারের বিবিধ পরাবাস্তব সংসারে

১৫
আর্কিমিডিসের সূত্র

পরিত্যাক্ত সুখের লগ্নতা খুলে তোমার বিছানার ঘ্রাণে লেগে থাকে কিছু অবিমিশ্র সোহাগি চুরিভাক্সগা আদর নিরুদ্দেশ শুয়ে থাকা অনির্ণেয় কষ্টের অজস্র বিপুল পবিত্র আলিক্সগন- খোঁপাখোলা নরোম প্রহর এলোচুলে বুলিয়ে দেয়া দোলালাগা সুখগুলোর দুঃখ ডেকে আনে হৃদপিন্ডের কাঁচভাক্সগা প্রেমে এভাবে বিড়ারস্পর্শী নরোম পায়ের রাতগুলো সময় পার করে তোমাকে ভেবে ভেবে এই উদগ্র প্রেমের ভাষা বিবর্ণ সংলাপে ভেসে যায় সমুদ্র ভ্রমণে আর পাল্টে দেয় কবিতার গতি ও ভাষা আমি লিখে রাখি ভালোবাসার অক্ষরবৃত্তে সেই সব হারিয়ে যাওয়া মগ্নতা নির্মাণ করি সম্পর্কের অভিমানি অনুভব সাহসী মননে আর আরেকবার মুখস্থ করি আর্কিমিডিসের সূত্র
 

১৬
ভাষা

এভাবে অগ্রিম সময়ে আমাদের নিঃশ্বাসগুলো জমা থাকবে পাখির ঠোঁটে ঠোঁটে মধ্য রাতের সংসার সরিয়ে সারারাত অন্ধকারে ঘুমিয়ে থাকে ঈশ্বর ফুলের জন্ম দেবে আর বলবে-পৃথিবীর পাপের কথা মাতাল সময়ের কথা তালগাছের পাখির ঝুড়িবাধা বাসায় ঝুলে থাকা সময় আর হত্যাকরা অন্ধকার সময়ের দখিন দুয়ার খুলে
যদি বলি সেই অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে জীবন-ঘুমিয়ে থাকে রাত আর সময়পিতার অস্তিত্বে আমাদের সন্তানের মেধা বেড়ে যায় অচেনা স্বপ্নের গন্তব্যে সময় সবুজ ব্যক্তিগত সূর্যের প্রার্থনায় আলোর সর্বনামের অন্তরের ঘুমে-এভাবেই অরক্ষিত দেহের নির্বিকারে হেঁটে যাওয়া সময় মানুষ ডিঙোয় মগ্নতাপ্রবণ আবিষ্কারের নেশায়
বয়সের মাটিতে আমাদের প্রবণতাগুলো গেঁথে যাচ্ছে নতুন সময়ের দিনে শাদা সূর্যের মাস্তুলে মহাকালের বিপরীতে আমরা গাছের ইতিহাসে লিখে রাখি কাঠুরিয়ার বন্দিসময়ে কিংবা ধার করা সময় অন্ধকারের অমৃত্বের সবুজ পাঠশালায়
এখন বলি- পাতার লজ্জা বিছিয়ে শুয়ে থাকি আর ফুলের জন্ম দেখে দেখে বুঝে উঠি মাতাল সময়ের ভাষা; এ ভাষা তোমার- উদ্ভিদের এবং গাছ পাখিদের তুলে রাখা নিবিড় সম্পর্কের এই নির্বাচিত শাসনের স্তনের চোখে অহেতুক গণিত শেখা শূন্য গুণন ভাবনার পেছনে ধাওয়া করে একগুচ্ছ মায়াবি স্বপ্নের অস্তিত্ব মশার দংশন
আমরা ছায়ার পরতে পরতে এভাবেই বেঁচে থাকি একবার হরিণ হয়ে উঠি আরেকবার মহাকালের প্রবণতায় পৃথিবীর জন্ম দ্যাখি

১৭
শূন্যতা

শূন্যতা আজকাল বড়ো বেশি ভারী হচ্ছে বিবিধ উপযোগ নিয়ে
পুড়ছে যতো টালমাটাল জীবনের বিপরীত খেয়া
শূন্যতা আজকাল বড়ো বেশি আপন হচ্ছে যোগ হচ্ছে আবেগ প্রকরণ
পাল্টে দিচ্ছে ভাষার গতিপ্রবণ

আমরা প্রায়ই ভুলে যাচ্ছি বাড়ি ফেরার প্রয়োজন
 

১৮
ঘষামাজা শাদাকালো দিনলিপি

আমি ছিলাম অবিনাশী সময়ে আর বিনাশী আগুনে পোড়ে জীবন অস্তিত্বের খ- সময় আগুনে পড়ে তোমার সবুজ বরফকুচি এভাবে গলে পড়ে বরপায়গণের দয়াময় অস্তিত্বের হাত স্মৃতির দ্বিধা পুড়িয়ে ফেলে গলিয়ে প্রকরণের ধারণা এখন বিকিরণ দিচ্ছে প্রয়োজনের তাপে যতো পুড়িয়েছি তারচেয়ে তাপ বেশি পেয়েছি ঝরে ঝরে তোমার তাপবরফ মেঘজাতের শিলা আমার অস্তিত্বের দখল নিয়ে ধারণার নিচে তরল হতে থাকে- ফেনায়িত তরক্সগবেগে হিমযুগের হিমপ্রেমে পরিমিত জন্মকৃষ্ণের দাবানল সংসারে বরফরাত সবুজ ঘামে ঝরে অবিরত
কী এমন হতো ক্ষতি এমন জোসনা মনে লেপটে থাকা প্রেমের উষার সবুজ জনমে গাছের অনুক্ত ভাষায় পুরুষ শকট শাদ্বনে চেয়ে থাকা বিষ্টিরাতে অসহ ধারণার জন্ম নিতে থাকে জড়িয়ে থাকা শাদাকালো দিনের সোনাদানা মোহর খালি করে- খালি পায়ে হেঁটে যাওয়া রাতে জামানা জিম্মি করে সংসারি  মানুষের

ক্রমশ দুরেই সরে যায় হিমঘরের হিমগিরি আর স্বপ্নালো আরো দুর-

আমার মাশকাটাপ্রপঞ্চে সময় মূক হয়ে থাকে বধির নীলজলে তার নীলায়তনে তখনো স্বভাববিষ্টি তখনো অবুজ বিষ্টির চারাগাছ- কামরাঙা চারাগাছের পানির অপেক্ষার প্রহর গোনে আর প্রার্থনার ব্যাঙ ডেকে যায় সারারাত আমি শুধু গতির সক্সিগ থেকেছি- রাশি রাশি হিমজলের বরফকুচি সহেছি অনেক ধুয়েছি প্রতিদিনের সকাল বাস্তবতার ছেঁড়া সময়ে আর ছেঁড়া ধোঁয়ায় গতি করেছে আপন- পুষ্প খুলেছে মুঠোসুন্দরের বিলাসভাবনা
ইটভাঙা কষ্ট তুলে এনেছি গণগণে আগুন থেকে চৈত্রের বৃক্ষপোড়া ঘুটঘুটে আধাঁরের কালোপানি শাপলা জলে ধুয়েছি সকাল-দুপুর আর পুকুর শুকোলেও মরে না শাপলার ভ্রুণ মরে না লোহার প্রাণে পরিমিত মৃত্যুর কুপি – সিমেন্ট-বালির মিশেলে আমাদের পক্সগুদ্বয়ে বিবসনা হাসিতে ভুলিয়ে দেয় নিজেকে
মিউজিক প্যারোডি প্রেমের হাবলসুত্রে আজকাল বেঁচে থাকি ঝুলে থাকি সংসারের ঘষামাজা দিনে

১৯
সম্পর্ক

নিজের অস্তিত্ব ভুলে নির্বান্ধব খামে খোলা থাকে চিঠির অকৃপণ মিহি ভাঁজ গুলো এবং নেশা জলে ভ্রমণ অদৃশ্যের স্বপ্নে প্রয়োজনের কাপ ভাঙে
আর ভাঙা কাপে গড়িয়ে পড়ে সময়ের অস্তিত্ব গড়িয়ে পড়ে সন্ধ্যার বয়স আরো প্রাপ্ত অন্ধকারের বিছানা ছেড়ে ওঠে আমাদের দুরত্ব সময়ের ঋজু স্বভাব
এখন রাত হয়ে ওঠে প্রশ্নাতীত সম্পর্কের…

২০
সময়ের চোখ জেগে থাকে ভোরের মোহনায়

অহর্নিশ প্রতীক্ষার ঘর আর প্রতিকূল স্বপ্নের পরিব্রাজনার দৃশ্য রচনার-অতীতকালের অধ্যায় ভেঙে দিগন্তের ঘুমে ঘোরকৃষ্ণ আততায়ী চাঁদে অনস্তিত্বে লীলেন কারচুপি এই দূরশ্রূত বাঁকা চিন্তার সংবেদে আমরা সময় পরস্পরা বাঁজিয়ে যাচ্ছি ক্রমাগত
তোমার জলময় অন্তর পথে আন্ত:হৃদের অভিজ্ঞমনে বাগদাদি অলিগলি পেরিয়ে আমার দ্বিধাগ্রস্তজলের রঙে কখোন যেনো তোমার সাথে দেখা-আমি সমুদ্রের গভীর লবন তুলে আনি ঠোঁটে আর প্রতিবার পাখি হয়ে যাই, তুমি মিথ্যে বলো-মিথ্যে যদি এতো সুন্দরই হোয় তবে অপ্রয়োজনের সত্যের দরকার কী !
ঈশ্বর বেঁচে ওঠেন- নিখুঁত গোসলের দৃশ্য অবলোকন করে আর আমি সারাক্ষণ শব্দের পিপাসায় জাগি, তুমি ঘর ছেড়ে সংসারে বোঝা কমানোর চক্ষুহীন পাথরপ্রহর ভেঙে দ্যাখো-মনে রেখো সত্যিকারের ঈশ্বর কারো একা থাকে না

২১
মনফড়িংয়ের ঘর

আমি আয়নাকে ছায়া বলে ডাকি-
কিছু প্রাচীন ছায়ার আর্বতে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি কিংবা লুকিয়ে থাকি ছায়াসর্ম্পকের কোমল স্পর্শে আর ফিরে আসি নেশাতুর ভাবনায় নি:শব্দের ছায়ায়  দাগ কেটে কেটে  গাছের মতো বড়ো হচ্ছি অথচ তুমি সময় পরস্পরা বাজিয়ে ক্রমাগত মৃত্যুর শব্দে বেঁচে আছো রঙিণ বাতাসে
চোখের এই বিষণ্ণ নেশা ঈশ্বরের মন কেটে  লালজলে  সময় পুড়িয়ে  রাত্রির জীবনে খসে পড়ছে- তুমি প্রতীজ্ঞার শরীর মেপে মেপে চিন্তার  স্মৃতিভৈরবী ভাসিয়ে চলো  মেঘলক্ষ্যি আকাশে
আমি সোনার মাছি শেকলে বেঁধে রাখি তোমাকে পড়বো বলে এবং স্বপ্নের উচু-নিচু পাহাড় ভেঙে মনফড়িংয়ের জানালার ঘর তৈরি করে চলেছি…

 
২২
আয়ুষ্মান স্মৃতির ধ্রুপদি রহস্য

রোদ্রোজ্জ্বল গদ্যের বিপুল বাতাসের ভেতর উৎসবের সকল অবিনাশী প্রহর নিরীহ পাখি চরিত্রের প্রবাহ ফেলে চলে যাবার বিগ্রহে- তোমার উষ্ণতার ঝড় অযুত চিন্তার ছায়ামষ্ণ গড়ে সময়ের চক্র পেরিয়ে  ইঁদুর হাঁটুরে জীবনের জাগতিক স্তুতে- নকল হৃদয়ের পৌষীনাচ তোমার প্রিয় সরলতা আর নিবিড় পরাশ্রয়ী সত্তার আদিঅন্তে অবোধ পাথুরে সেলাইজীবন হয়ে যায় তোমার মেঘচুলে লোভের আঙুল বর্তিত পাথরবৃক্ষ

কী অদ্ভুত ফুটে আছে ফুটে যাচ্ছে- দিনরাত্রি এই নিসর্গের কবরের প্রেম মাটিমগ্নতার এইসব পূর্ণতার মগ্নরাত্রে আমাদের অনাকাক্সিক্ষত নিরবতাসমূহ

এখন এ্যাক আয়ুষ্মান স্মৃতির ধ্রুপদি রহস্যের স্মৃতি˜গ্ধ কাব্যস্তনে ঘুমের বিকেল রচনা করিÑ  শুদ্ধযৌণতার আরশিতে নিজে ঝরে যাচ্ছি- অন্যমনস্কতার তীব্র জানালা  ভেঙে

এবার বিনীত অশ্লীল হই- নিজের দিকে তাকাই
যত্ন করে তোমার ভেতরটা দ্যাখি আর বিশ্বাসের তুমুল নরোম ঘাসে রোমাষ্ণকর অন্ধকারে বারবার উদ্মাদজোস্নায়  নিহত হই
 

২৩
বর্ষাখোলা চোখের সমুদ্রদৃশ্য

তোমার কোমল হাতে বর্ষাদুপুরের ভেজারোদ আর সন্তর্পণে- পলাতক বাতাসে বেহালার সুর তুমি একটু একটু করে হয়ে ওঠো ঋতুর মায়াবি ফুল- নিশ্চয়ই জেনে যাবে-বহুদূুর যাবার জন্যে একটিও দিন নেই আজ তোমার
 
চোখের কী অসুখ বলো;রাতের আধাঁরের সুরে ভুলে যাওয়া নদীর আদিম চাঁদোয়া প্রহর বিস্ময় ছুঁড়ে চোখ লেগে থাকে আকাশের বিজনপথে-

আমরা আকাশের ব্যাকরণ বুঝে দিনরাত জেগে থাকি ফুল চিনে চিনে ফুল কী সমুদ্র চেনে- সমুদ্র কী বসন্ত হয়!
 
চোখের কী আশ্চর্য অদৃশ্য মায়া দ্যাখো জাদুর ঘোরে লেগে থাকে মাটির সবুজঘ্রাণ আর  সেখানে দূরত্ব নিভে গভীর জলের নিযার্স থেকে বেরিয়ে আসে মাটিরসূর্য চোখের শাদা সূর্যের জলপাই আলোরঙের কিছু স্বপ্নালু নিয়ে
 
আজ  নিরঙ্কুশ ভাবনাজলে এই বর্ষায় ফর্শা রমনীরা লাল টিপে ভিজে যাচ্ছে আমিও বৈষ্ণব মেঘে তোমার সমুদ্রে ভেসে যাচ্ছি প্রিয় নামের পালকে তোমার হাতে হৃদয় রেখে ঘুমিয়ে পড়ি এক নিমিখে আমার সুখময় জমানো চুম্বন উজাড় করি প্রতিমুহূতের্র অবিন্যস্ত শিশু নিথরতায় নরোম ঘোরমগ্ন বেগুনিরাতের রঙিন অন্তর্বাস খুলে কখোন যে ঘুমিয়ে পড়েছি এই শ্রাবণজ্বরে- এক অদ্ভুত সাহসী নবায়ন ভেঙে এভাবে বিকল্পদৃশ্য ডুবে যায় কী দৃশ্যময়-দৃশ্যমগ্ন সমুদ্রআকাশ!

আহা! এ যেন দৃশ্যেরশিল্পময় প্রদর্শনী-

আমি এখন পৃথিবীকে চেনা বৃক্ষের নামে ডাকি- কাব্যের প্রতিটি শব্দের সূর্যের অবাক উন্মীলনে- আর আমাদের হৃদয়ের তপ্ত শুষ্কতায় পৃথিবীর সাথে তোমার পুনর্জন্ম হলে নতুন করে দ্যাখি তোমাকে তুমুলরঙে প্রিয় ভাবনার চুরমুড় শক্তি ঠেলে দিনরাতের অবিভাজ্যে

শরীরে কী আশ্চর্য চোখের দৃশ্য আজ !
 

২৪
শ্রাবণগর্ভে  জোড়াফুল  

আমার দূরশূন্যতার শৈলি সান্ত¡নাসমূহের দূরদৃশ্যে আজ যমজ সুখের দ্রোহপদাবলি আয়াতের মনোযোগে তৃতীয়মাত্রার জোড়াফুল আমাদের তোয়াজ সময়ের নাগরিক কুম্ববোধ

তুমি  কেন অযথাই অদৃশ্যে দুষ্প্রাপ্য অনুভূতি খোঁজো!

অযথা জীবন ময়ধাপি ধূসরঘামের নখর মহাকাল হয়ে ওঠে বিপন্নবোধের উঠোনে গ্রাহ্যহীন বিনোদনের দুষ্প্রাপ্যরোদ নিয়ে আসে ছায়াহীন কায়া ঘিরে- তোমার-আমার জ্যামিতিক অভিমানগুলো এভাবেই শুকনোরোদ হতে থাকে অনন্তকাল…

এই অনুপ্রাসহীন মহাতীর্থের জীবন গগণের প্রচ্ছায়ায় কখনো রঙবেরঙের কামরোধ আর কখনো বিকল্পসৌর্ন্দযে শ্রাবণগর্ভে প্রমিত সভ্যতার জগত নির্মাণ করে জন্মের শতবর্ষ ধরে

নৈতিকতার এই দৃশ্যকালে আবার দৃশ্যবনের শূন্যের সমতলে মেধাবি সূচকে আমাদের হেমলক পৃথিবী কিংবা শিল্পকালের মায়াবী স্বপ্নবোধ আর ঘাসপাখির রেশমিভ্রমণ শেষে উঠোন জুড়ে আলোর রুমোলে শরমের শাদাচোখ তোমাকে ঘিরেই  যৌথপ্রতীক্ষার ঘাটে নয়নযাত্রা

সত্যের সামগ্রিক রহস্যভেদে আর কতোদূর যেতে পারো বলো চোখ- আদিকাল দূরত্ব থেকে- আর কতোদূর নিয়ে যাবে এই অধীর- বধির নয়ন আমার !

২৫
কিছু অনুগামী জোস্নাবোধের  কারণসমূহ

আজকাল সূর্যের টবে উৎসারিত হচ্ছে বুক আর বাতাসের শুকনোরোদ মুড়িয়ে রসায়নবৃষ্টি মহাশুন্যের গ্রিলে ঝুলে থাকে; গ্রিলের কী অসুখ করেছে-বাতাসের অচেনা দিনের সুস্থতায় জেনেছি ঠোঁটের হাসি-কান্নার উদার স্পর্শের সবুজবোধের কারণসমূহ

আপোষের দিন শেষ। চুম্বনের আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে রোদ্রের কাছে মুমূর্ষু-প্রিয়তা খুঁজি পিপাসায় মরে যদি প্রাণ  তবুও আমার মৃত্যুর স্মৃতিকোষে প্রত্নজলের রহস্য আমার স্পর্শের আষ্ঠে-পৃষ্ঠে তাকাতে পারি না যে শীতের কাছে কুয়াশার কাছে আত্মহত্যা শিখেছি  পৃথিবীর দীর্ঘশ্বাসে বুঝে উঠি প্রার্থনার ভাষা

তুমি কী  বিস্ময় !
তুমি কী  আসন্ন মৃত্যুর প্রতীক্ষা !

আমাকে গান শোনাবার দিন সাহসের মিলনদিন ….ঘুমস্নানে শুদ্ধ হোয় মন নদীর নিঃশ্বাস আর ফুলের আলোয় ঢেলে দিই এই স্নায়ুমনের ব্যাকুলতার আনকোরা দিন একা-

২৬
বনসাঁই হয়ে যাই

অচেনা পথে অচেনা শরীরে হামাগুড়ি খাচ্ছি প্রতিদিন – মৃতদের সাথে কথা বলতে বলতে আর আড্ডা দিতে দিতে জীবনের নান্দীপাঠ ভুলে গ্যাছি- ভুলে গ্যাছি চুক্তি রাজনীতির অপার প্রগল্তা মগজের রঙিন অসুখ বিক্রি করছি চড়া দামে একদিকে শরীর থেকে অন্ধকার খসে পড়লে প্রতিশোধের আগুনে শিখে যাচ্ছি মানুষ হত্যার সহজ কৌশল

এভাবে পথে নিরন্তর দুঃখগুলো মেঘের  সংঙ্গি হয়ে রোদের উলঙ্গ ছায়া আঁকে আর আমরা  নতুন গোপনীয়তা সেলাই করে হৃদয়ে টাঙ্গিয়ে রাখি- পুরোনো কথার চালে কখোন যে লুকিয়ে ফ্যালেছি সব মিথ্যে  বাহারি অন্ধকারদৃশ্য

এখন আমাদের সংরক্ষিত  অজানা পোষ্যালোর কুশল পাথরপ্রবনতাগুলো দীর্ঘশ্বাসে গ্রহমাঠের পাঠ শেষ করে নিচুম্বর দিনের স্বপ্নের দেবদারু বনে আর শীতপত্রের বুনিয়াদি নিঃস্বাসে শূন্যতার ফুল ফোটে
দীর্ঘশ্বাসে দম নিতে নিতে মাটিরকুয়াশা চাঁদমুখর সিথাঁনে কিছু অনুমানপ্রিয় গৃহীচাঁদে ঘরমুখি হচ্ছি ক্রমাগত-

মানুষতো আসলে ঘরে আসে না- কিংবা যায়ও না শুধুই ঘর বানায় আর রাতলাপনে  দিন পার করে…দিনের বনসাঁই  হয়ে বেঁেচ থাকে অথচ  চাদঁরাই প্রথম  প্রজ্ঞালো পাঠালো কালোছায়ার নীলর্বণজলে

২৭
গেঁয়ো কবি

আত্মজার হাত ধরে ধরে বালিকা নারী হয়ে ওঠে জলের অবগুুণ্ঠন অনুবিধানের স্বপ্ন নিয়ে কবির স্বপ্নক্ষরণ শুধু অধর্মতার গভীরে অপেক্ষারা গন্ধ খোঁজে আতঙ্কিত সময়ের বারান্দায় খুন হয় জোনাকি কী তার অবক্ষয় বিহবলতা- নান্দনিক অক্ষযোজনায় প্রবলযন্ত্রনার ফলযত্নে জলভিখেরি হতে ইচ্ছে করে কিছু ক্ষয়াটে আলোয় সমুদ্রপানশালায় আমাদের আসন্ন ঘুমের অন্তহীনযাত্রা লাঞ্চনার স্বপ্নবিভ্রাটে নক্ষত্রালোর শালিকপ্রবণতায় কবি লিখে যাচ্ছে নিজস্ব অনুভূতির শাদা অক্ষরপ্রজন্ম

সে এক গেঁয়ো কবি শুধুই লিখে চলে জোনাকি অক্ষরে স্বাধীনতার কবিতাঘর

২৮
ফুল, অবিমৃষ্যের নাম

আমি এসেছি আঙুল থেকে, তারপর হাওয়া-
জন্মের পর থেকে বাতাসের ফাঁদে পড়েছি শরীরের কোলাহলগুলো বিকেলের ঘুমে দূরে জটলা পাকনো বাতাসে ধুলো  হোয় আর আমরা প্রিয় আঙুলের কম্পন টের পেয়ে যাই কীভাবে সন্ধ্যের কাকবিষ্টি দিগন্তরেখার লাল ধুলোয় চৈত্রতাড়িত গোধূলিমেঘে এই লুব্ধতাসমূহ প্রান্তিক বিপুল স্তনভাবনার নিচে রাত্রিবাতাস হচ্ছে প্রতিদিন
অথচ এ্যাখন আকাশের কথা কেউ শোনে না-
শিশিরের নিবে যাওয়া চোখে আমরা ঘাসের বেদনা বুঝি আর বিষ্টিতদন্ত সঙ্গম উদাসীনতায় পরকিয়া স্বপ্নের সহপাঠির আয়না খেলায় আকাশের ভেতর সমুদ্রভোর সমকালিন জন্মলাভ জলের কাল ভেঙে জীবনের দহলিজ আজ অপ্রতিরোধ্য সূর্যপাত্রে উদ্বাস্ত শব্দের দিন
তখোনো বিষ্টির শরীরের উত্তাপ- খোদাইকরা হাওয়ার চেহারার বিহ্বল খুলে সময়চিহ্নিত আলোঘড়ির জীবিতদৃশ্যের ভয়ে দৌড়ে পালাই সেই করছায়া থেকে এরই নাম পথ-
এ পথে আলোর সাথে সাথে ভুল তালে ফুলের গন্ধে আঙুলকথার স্তনচোখ দৃশ্যে নাচছে আর নিবে যাচ্ছে-

২৯
শহরে হিংস্রভোর

ভাবি আমার সামান্য কথায়- ক্ষতি হয়ে যাবে কারো প্রাত্যহিক রূপসিরোদের মুগ্ধতা  ভেঙে চুরমার করবে বাতাস এই বুঝি বৃষ্টি হবে অনিবার্য সকালের
 
কে কার খোঁজ করে গরল- সকল ভেলকিবাজে আর লজ্জার সহিংসস্বপ্নে ইদানিং আমার বুকে  খোলা থাকে আকাঙ্খার সোনালি শ্রাবণদিন কিন্তু প্রতিদিন রাতের আকাশে এই শহরে জানালা খোলা থাকে না- সাবধানতার চোখে শহুরে মানুষেরা জানালার প্রান্তিকবোধে ঘুমিয়ে থাকে সমূহ আলস্য নিয়ে; নদীতে নগরবাড়ির তারাপুর শ্রাবণচুম্বন জলের শব্দহরিণ আমাদের রহস্য চুরি হয়- বাস্তুভিটায় বাবার পলিমাটির পুরোনো কবরে অমরযত্নের ডালিমগাছে ফুল ফোটে অথচ নগরে প্রজ্ঞাঘুমে বিলেতি মনের একায়ন খুলে পৃথিবীর মানুষ এখন পুরোনো মন্ত্রের অনন্তচেতনার গন্ধ খোঁজে
 
ওগো দীর্ঘশ্বাসের পাশ্বপৃথিবী !

আমাদের হাইটেকমন আর পাথুরেবন নামানোর চুমকি বাতাসে দিন পুড়ে যায়- বিমুগ্ধ কোনো অবমুক্ত এক আগন্তক রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে আমি ভুল ভেবে গোপন চোখে  সর্তকতা পার হই বিবসনাদিনে দগ্ধ করে শহরযাত্রীর রুচিশীল মানুষের মন যেভাবে সকালের সবজি বিক্রেতার প্রতিশ্রূত সড়কের মড়ক সম্ভ্রমের শেষ হয়
এই তো  শহূরে সমকালিন আধিপত্যের নতুন জানালা- আর আজ আমাদের শহরে এভাবেই কাকভোর পেরিয়ে নেমে আসে হিংস্রভোর !

 
৩০
না-লিখা কবিতা

মনে হলো বিশ্বাসের আনজন্ম পিপাসায় ভরোভরো আষাঢ়িমনগঙ্গা বালুচরে এই বর্ষা কিংবা বৃষ্টি নিয়ে কোনো কবিতা লিখা হয় নি আমার  অথচ লিখার রসদের কোনো কমতি ছিলো না, এইতো সেদিন আমার সামনে একশহর মানুষ বৃষ্টিতে ঝাঁঝরা হয়ে গ্যালো। সেইদিন সারা আকাশ জুড়ে ছিলো একপ্রহর কড়কড়ে প্রজাপতি রোদ। শহরের মানুষ ছাতা ছাড়াই দুদ্দাড় বেরিয়ে পড়েছিলো রাস্তায়। আকাশ তখন মৃত্যুর মতো নীল, শুভ্রতার কাফনপড়া মেঘ চুপচাপ সরে যাচ্ছিলো দক্ষিণ দিকে। আচমকা প্রবলবর্ষণে শহরের সব গৃহীমানুষকে হতবাক দেখাচ্ছিলো, তারা প্রাণপণ ছুটছিলো অপেক্ষাছাউনির দিকে। সেইখানে রশিক লটকন বিক্রেতারা উৎফুল্ল হয়ে পড়েছিলো খুব শুধু একটা বালিকা, ভাবলেশহীন বৃষ্টিতে ভিজছিলো নিভৃতে। ভিজছিলো স্কুলের মাঠ, নম্রতার ভেজানো বাসার ছাদ আর নিঃসঙ্গ ছাতিম গাছটা। আমি ঘরে বসে দেখছিলাম এই বিজ্ঞাপণকণ্যার বৃষ্টিভেজা। আমি ভাবছিলাম যারা এখনো বৃষ্টিতে ভিজে নাই তাদেরও হয়তো গল্প থাকে, কাহিনি থাকে; তবে কেনো  কোনো কবি এই কবিতা লিখতে পারেনি

বৃষ্টিতে ভেজার হর্ষ আর বৃষ্টিতে না ভেজার বিষাদ কবির সঙ্গেই রয়ে  গ্যালো…

৩১
ছায়াদীপাবলি

হাত থেকে খসে পড়ে আয়ূ
আর হাত থেকে উড়ে যায় বায়ু
জমানো পরিপাটি রোদগুলো জন্মান্তরের আলোজলে নক্ষত্রপাথর
ঘাসের পাতায় শীত নামে
ভয়ংকরমন  কেটে ছায়াঅরণ্য
আমরা ধূলির প্রজ্ঞালোকে নিঃশ্বাসের রঙ দ্যাখি-

এই স্বপ্নগর্ভে কৃষ্ণপাখি মনের ছায়া আঁেক আর জলমঞ্চের ধুন্ধুনদী পার করতে করতে কখন যেনো মগ্নতার অন্ধকারে জলের ষ্পর্শে  জেগে থাকা
জোস্নায় মধ্যদিনের মাতালরোদের  পাখিদীপাবলি জ¦লে…

৩২
মুখ না ধুয়ে জেগে থাকি- আমি ফানা ফানা, রুমু

কল্পনার কোনো দোষ নেই অস্তিত্বের  ভেতর কল্পনার বসবাস চিরকাল তিল থেকে তালের দূরত্ব নিকটতম বলেই আমরা বরাবর তালকে তিল বানাই জলেতে জলের আলাপ কখনও আত্মহত্যা করে না বরং নীলাবতী ছায়ার আলো  খোঁজে

তুমি ছাড়া আমার কোনো পাপ নেই রাত কী দিন!  আর রাতে মন থাকে না শরীরে আমি ফানা ফানা রুমু-

পৃথিবীর পথে হাঁটতে হাঁটতে আমি সর্বক্ষণ ডুবে যাই তোমার প্রণয়ে অনন্তকাল সম্প্রসারণশীল তোমার মহাবিশ্বের শরীরে আমাকে জাগিয়ে রাখে আর তৃষ্ণা মেটানো বাসনা কালো গহব্বরে নিপতিতপ্রাণ আমাকে ধারণ কর দেবি- আমাকে ডুবিয়ে রাখো সারাক্ষণ তোমার অসীম গহনের গভীরে! তোমাকে পেয়েই হয়তো আমি হারিয়ে যাবো

আমি বলছিলাম চুপচাপ সময়ের কথা আর স্তব্ধ জলে- পাশের নির্লিপ্ত বসে থেকে বুনো সময়ের হাত ধরি আমার আরণ্যিকচিন্তার মেঘে কষ্টের বিস্ময়ে উদ্দীপ্ত মানস জমাটবাঁধা আপেক্ষিক সুখ-দুঃখ ঝুলে থাকে কিছু নাতিশীতোষ্ণ ছায়া জীবন অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে রশিক রূপান্তরিত শাদারোদে

অলস দুপুরগুলো এখন জমজমাট- আঁকড়েধরা শব্দহাত- জাপটেধরা শব্দশরীর- সংবদ্ধমন আর  বিষন্নতাগুলো মুহূর্তের নিরব পুকুরে ছায়া রেখে যায়- মহাবিশ্বের রহস্য নিয়ে শব্দহীন আবেগ- অভিমান অদৃশ্যের বাতাসে অথচ যান্ত্রিক কৌশলগুলো রঙ নেই

তুমি ছাড়া আমার সত্য নেই শব্দকলি! তুমিই আমার সুখের প্রাণেশ্বরী-

৩৩
ব্যক্তিগত বৃষ্টির বিরহপাঠ

এই বালিকা শহরে বৃষ্টিকে প্রথম যেদিন বুঝেছি কবিতা না বোঝা মেঘকন্যারা লজ্জায় মুখ লুকোতো আর মেঘের সবুজমনে ফরিঙঘোড়া দাপিয়ে দাপিয়ে আমি মেঘের ইন্দ্রজালে হারিয়ে যেতাম উড়ে যাওয়া মেঘের অন্তর্বাস খুলে বাতাসে ভাসিয়ে উর্বশী চাঁদের বৃষ্টিবিরহে স্বপ্নের ঘর তৈরি করতো
আমরা সূর্যের  রসিক অভিমান নিয়ে গুড়িয়াল বাতাসে হারিয়ে যেতাম রিনিঝিনি বাদলদিনের মগ্ন আবেগে অথচ  সেই মেঘের স্তন ছিঁড়ে  আর বৃষ্টি নামে না প্রিয় এখন বৃষ্টির ব্যক্তিগত ছায়ায় অতীতের শ্রাবণভারে তাই তোমার কাছে আসতে পারি না শব্দকলি
আজ মনবাতাসের জলে  বৃষ্টির বিষণ্ণ ঘ্রাণ মেখে  মেখে মেঘ-বৃষ্টির যৌবনে  চোখের আড়াল হতে হতে এখন আমি বহুদূর চলে যাই…

৩৪
বিনিতা, তোমার চোখনির্র্ভর মায়াবন

পরিমিত বাঁক ও বাক্যের ভেতর
অন্তরবর্তী দায়ভার বেঁচে থাকে-আর বেঁচে থাকে মায়াবন- মায়াবনের স্তনপুষ্ট সকাল তুমি ঘুমোলে জেগে থাকে পাহাড় সমান দারিদ্র আর দারিদ্রের উপবন পেরিয়ে তোমার কার্বনমাখা মন- কিছুটা শীত আর কিছুটা ধুলো জোনাকির আলোয় পাখি হোয়ে নাচো তুমি
তুমি জোনাকি মেয়ে আবেগের জোস্নায় ভেসে চলো

আলোপাখি ও আলোপাখি কোথা যাও নাচি নাচি
আলোতে জললোভে শুয়ে থাকো এক ভাবুকমাছি

বিনিতা, তোমার চোখভর্তি প্রেমপুকুরে
আলো নেভে আলো জ্বলে আর ছায়া নড়ে সুখ নড়ে..

৩৫
চলো বিকেলের অন্ধকার ভেঙে এককাপ কফি খেয়ে আসি

চলো বিকেলের অন্ধকার ভেঙে  এককাপ কফি খেয়ে আসি
একটি বিশিষ্ট সময়ের ভালো থাকা নিয়ে কথা হচ্ছিলো সকালের ডাকনামে-
মুখে নাম নেই
বুকে নাম নেই
হাতে নাম নেই
মনে নাম নেই-
অথচ জীবনের বিস্রস্ত বিছানা ছেড়ে জেগে ওঠে ঘুম আর নিরাপদ উচ্চতার মনসাই ভেঙে অনন্তের যুদ্ধাঙ্গণে দেখা তোমার আমার আজ ঘাসবুকে আয়নার মন কাঁপে চোখের শহরে আমরা আয়ূর দৈর্ঘ্য মেপে মেপে অন্তর্গত সন্তাপে স্বপ্নবাজ হই আর নৈমিত্তিক অভাবের বেদনারা পাখি হোয় বিকেলের বৃষ্টি ময়ূরে
কৃষ্ণপাতার এই পিঁপড়েমনে শুক্লপক্ষে দূরাগত-দুর্গত তোমার প্রাণের ডাক নিশ্ছিদ্র হৃদয় নিয়ে প্রজাপতি বিকেলে চলো ভাবনামোড়ে এককাপ কফি খেয়ে আসি
 

৩৬
বৃষ্টি পড়লেও কোথাও কোনো রাত অপেক্ষা করে না

আমরা যখন অনায়াসেই নেমে পড়ি সন্ধ্যাকালীন জোনাকির দূরন্ত খোঁজে- স্বপ্নকামনার নরোম তুলতুলে স্বভাবস্বপ্নগুলো এবং স্বপ্ননিমগ্নতার জ্বরাগস্ত ভাবাতুর দিনের কথা লেখা থাকে দুঃখ-শোকের অপরিহার্য কাতরতায়

নির্বাক সাহসি ঘুমে চমকে উঠি হাজার বছরের স্তবতা নিয়ে সফ্টনেস কবিতার মিথ ভেঙে পড়ে বিপরীত অন্ধকার আলোয় সময় থেকে অসময়ের সেই সাহসি শব্দগুলো আবারও জেগে ওঠে চিনে ফ্যালে ভাতঘুম ছুঁয়ে যাওয়া অতীত ঘুম-দুপুর-গল্পে

সময় ভাঙতে থাকে সময় ডিঙোতে থাকে ভোরের নিম আলোয় আর আনকোরা শব্দের অন্ধকারে উঁকি দ্যায় বেরসিক সময় এবং ডুবতে থাকে ক্রমাগত … আমরা টের পেয়ে যাই রাত্রির কোঠরে জমে থাকা কিছু সুকীর্ণ আলোর সংসার

অন্ধকার তখন ছায়ার মানুষ
অন্ধকার তখন ছায়ার জীবন
ছায়াই তখন জীবন

আমাদের ছায়াযুদ্ধের নির্বোধ দুপুর যেভাবে অচেনা হয়ে ওঠে-অথচ আজ বৃষ্টিমুখর পরিধি কিন্তু বৃষ্টি পড়লেও কোথাও কোনো রাত অপেক্ষা করে না
 

৩৭
এবং রাজনীতি

তুমি বরং যাও
নদীতে পারো তৃষ্ণা মেটাও
কিচ্ছু আসে যায় না আমার- প্রিয়চোখ প্রলুদ্ধ করো  
নাচাও আর মাতাল করো কারো মন ও হৃদয়
প্রতিবাদে মুখর হবে না আমার উৎকণ্ঠা উদ্বেগ

যদি কখনো কেঁদে ওঠে তোমার নরোম হৃদয় নিঃসঙ্গ
আকাক্সক্ষার অগ্নিশিখা গাঢ় হোয় হতাশ্বাসে অথবা ক্লান্ত স্বপ্নবিচ্ছেদে
কেবল তখনি ফিরে এসো- প্রত্যাবর্তন কিংবা চলে যাবার
রাজনীতির তুখোর সংলাপের মতোন

কারণ নারী আর রাজনীতি আলাদা কিছু নয়

৩৮
ফড়িঙের শাদা নিঃশ্বাসভাবনা

জীবনদৃশ্য থেকে প্রতিদিন নিরন্তর আশ্চর্য অন্তনীল চোখদুটো উঠে আসে মুহূর্তের পাখি হোয়ে- অপেক্ষমাণ দীর্ঘশ্বাসের সংলাপবোধে

আমাদের গণনাবিহিন ভাবনার ম্রিয়মান আলোয় অক্ষররোদগুলোর উত্তাপে পৃথিবীর বর্ণমালা হোতে থাকে আর আবেগের উত্তপ্ত হাতে নক্ষত্রের কর্নিয়া পোড়ে সপ্তক জটিল আলোকে

গন্তব্যবিহিন স্বভাবদুবৃর্ত্ত বাতাসে জলদুঃস্বপ্নের কালোরঙে ভুল দ্যাখি বিজ্ঞ আকাশের ভেজা পায়ে- এভাবেই ফরিঙের শাদা নিঃশ্বাসগুলো গভীর হচ্ছে প্রতিদিন
 

৩৯
প্রতিশোধ এবং সংকট কিংবা অপচয়ের কবিতা

ওরা তো হত্যা করেছে সুতোবাধা কাচঁপোকা সময় বীজ বুনে শিল্পের আমি এখন সংকটে পড়েছি তোমার নিকট চোখের  শব্দখেকো ক্লান্ত আকর্ষণে- ভেজামাটি নরোমখুন অবিকল বৃষ্টির পথ তোমার পরিপাটি বৃষ্টিবাহিত বহুকালটানা দুচোখ যা বলে- ভয়ে ভয়ে থাকি সন্তর্পনে তোমাকে লুকিয়ে রাখি

দ্যাখো ও গো শব্দকলি! পৃথিবীর নিচে তোমাকে ধরে রাখি-ঘুমহীন ফাঁদে কাব্য নিভৃতে কাঁদে অন্তরক্ষণে তোমার বাহুতে একদিন প্রতিশোধী হয়ে উঠবে-অচেনা আর অনুরক্ত পাঠক আমার চুমুদেয়া মাতালচোখে কবিতা না বোঝো  কবিকে তো নিশ্চয়ই বুঝবে

আপাতত এই আশ্রয় মুখের ওপর গভীর কোনো দাগ
এভাবেই অনন্ত সময় এবং অপচয়ের কথা লিখা থাক!

৪০
হলফনামা

এ্যাকটি আত্মভোলা গাছের সাথে জন্ম আমার-
দেহ থেকে তা ফেটে পড়ে আকাশের নিচে
তোমাকে চিনে চলে যাবো আমি পৃথিবীর হলফনামা ফেলে
সূর্যের এফিটাপে মুগ্ধ জলাশয় ছেড়ে দূর-

সামনে  দিনে সূর্যের অগনিত চিন্তার রাত মেঘের আচঁলে এর কিছুটা থেকে যাক  

৪১
পথিক

আজ বন্ধু নেই বুকে আমার অকৃত্রিম নিবিড় প্রবোধে-
সূর্য কেটে পড়ে ভাঁজখোলা হৃদয়ের পাশে- মানুষ বাঁচে
পথিক হয়ে- আমি শুধু মনের  দোকানে  সেল্স বালক!

 
৪২
নদীবচন

মেয়েটিকে আমি চিনি না- জানিও না
বিস্তর কথাবলা কিংবা দেখা আমার সাথে
হয়ে ওঠেনি তেমন
তবুও
সে আমার ঘরে
আমার বিছানায়
আমার শরীরে ও দখলে
ওকে ভালোবেসে একদিন বিষ খেলাম রাত জেগে
এখন আমি জরুরি অথবা অপরিহার্য এক বৃক্ষ

রাতদিন আমার স্মৃতিঘরে
শঙ্কিত বুকে
গ্লানির স্বীকৃতিগুলো
সব উড়ে গ্যাছে- মেঘের শরীরে শরীরে

এখন আমি একদ- ঘুমোতে পারি না

দুই

আমি ওর শরীরের ভাঁজে ভাঁজে হেঁটে চলি
আর শরীরের রক্ষাপ্রাচীরে দুর্দান্ত আলোরবাতি জ্বালাই

৪৩
বাড়ি ফেরার পর

রাতে বাড়ি ফেরার আগে দোকানে যাই-প্রতিদিনের ফর্দি মাফিক কেনাকাটা আর ফোনালাপ শেষে পকেটে পড়ে থাকে কিছু খুচরো সস্তা বাতাস বেদনাবহনের  আপন কাগজ-পত্তর
রাতে বাড়ি ফেরার আগে অসংখ্য মানুষের ঘষামাজা মুখ দ্যাখি-দ্যাখি দোতালা জীবন সংহারের দুবৃর্ত্ত পোকা স্বপ্নের নির্জন হেঁটে যাওয়া মেঘের সঙ্গি পায়ের ধুলোয় পথের রোদ লেগে থাকে
রাতে বাড়ি ফেরার আগে কামরাঙা রাতের দোকানে স্বভাবের পয়সা দিয়ে কিনি জরুরি ওসুধপত্রর আর বোধের মননে এস্রাজ ছুঁয়ে আঙুল প্রতিম হয়ে উঠি

রাতে বাড়ি ফেরার আগে রাতপাতারা জেগে ওঠে সম্পর্কের রঙিন বাতাসে ভেজা শরীরের শব্দে বাতাসে  প্রার্থনার ঘোর কেটে বিচ্ছিন্ন আলোর পৃথিবী দ্যাখি-
মনে পড়ে যায় কিছু কেনা হলো না আমার-বোধহয় ফেলে এসেছি সব আপন সুখ-দুঃখ মিহি বাতাসের মন…তোমাকে শব্দকলি তোমাকেই

৪৪
অবিশ্বাসের জলনূপুর

জানালার বাঁকা আলোয় অন্ধকার দূর হতে হতে বিশ্বাস পতন শব্দে জেগে উঠি-পুরোনো হৃদয়ের অন্ধ গলি পেরিয়ে লাবন্য আঁধারের বন মনের সেলফিতে জীবনের ছায়া দ্যাখি-এই হৃদবনের সংশয়ে পাখি নাচে চিরকাল ছায়াকলা আর্কষণ চাঁদের হাওয়ার নির্জনতা ভাঙে তোমার ফেলে আসা অবিশ্বাসের জলনূপুরপায়ে
জানলায় জমানো ভেজা অনুভূতিগুলো বাসি হচ্ছে বর্ষা-শরতের বিপন্নমেঘে আমি মৃতচোখে বর্ষার গান গাই তোমার-আমার সোনালি দুঃখ সংগিতমন ঘরের বারান্দা অন্যনদী  আর শেষ রাতের ঘুমন্ত দুঃখগুলো জলঘুঙুর হয়ে গৃহপালিত মগ্নতায় আটকে যায়
কোথায় লুকোবো আমি এই মধুভাষ তুমুল ভোরের প্রণয়মেঘ ভেঙে এ্যাক বিবর্তন সভ্যতার মনগলির দখিন কারাগারে আজ অবিবাহিত রিনিরিনি আবেগ-ঘুম আরশিতে কথা বলে
এই পাখিভোলা ব্যাকুলদিনে আমি বহুদূর জোস্নাবিরহ রাতের শরতমেঘ  ফেরারি হৃদয়তারে হারানো  ঢেউয়ের স্রোতে ভেসে যাই
 
 
……………
কবি পরিচিতিঃ

মাসুদ মুস্তাফিজ

মাসুদ মুস্তাফিজ

মাসুদ মুস্তাফিজ। জন্ম ২২ নভেম্বর ১৯৬৯ খ্রি: বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরের মাধববাটি গ্রামে। স্কুল-কলেজ বিমুখ ছাত্রটি আপাদমস্তক কবি হয়ে ওঠেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে, যুক্ত হয়েছেন সমকালীন কাব্যচিন্তায় এবং প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজস্ব কাব্যবাহন। বাংলাদেশসহ ভারতের কিছু সাহিত্যকাগজ লিটলম্যাগ, প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যপত্রিকা এবং জাতীয় দৈনিকে লিখে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে পরিচিত হয়েছেন। শিক্ষকতা করেন-  মূলত কবিতা লিখেন, কিন্তু গদ্যচর্চায় তাঁর আগ্রহ প্রবল। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিনিধিত্বশীল-গবেষণামূলক পত্রিকায় তাঁর গদ্য সাড়া জাগিয়েছে। বর্তমানে তিনি এ প্রজন্মের কবিতার প্রবণতা: বিয়য় ও বিনির্মাণশৈলি নিয়ে কাজ করছেন। গদ্যফর্মের নতুন আঙ্গিকের কাব্য-প্রকরণ আর নিজস্ব স্টাইলের মুক্তভঙ্গিতে সুখহালের জীবনাবলি রচনা করে চলেছেন এবং অন্তরবন্দি হয়েছেন নবনিতা শব্দকলির প্রাণে। প্রিয় শব্দকলি তাঁর আজীবন আরাধ্য। কবির আত্মজ- অনুভব মুস্তাফিজ, নিঝুম মুস্তাফিজ।

প্রকাশিত গ্রন্থঃ

কাব্যগ্রন্থঃ ‘বিষ্টির প্রহর গুনতে গুনতে’ (২০১০); ‘ব্রিজ পেরোচ্ছি না স্বপ্ন পেরোচ্ছি’ (২০১১); ‘কিছু সমুদ্র কিছু বিষণ্ণতা’ (২০১২); ‘জলবাতায়নে রঙঘুড়ি’ (২০১৩); ‘স্বভাবদুর্বৃত্ত বাতাসে কুয়াশার কৃষ্ণতীর্থ’ (২০১৫); ‘মাতালরোদে মেঘে অরণ্য’ (প্রকাশিতব্য ২০১৭, কোলকাতা বইমেলা)।

প্রবন্ধঃ ‘সাহিত্যচিন্তা ও বৈচিত্র্যপাঠ (২০১২)’;  ‘অবমুক্ত বৃত্তায়ন’ (২০১৫)।

সম্পাদনাঃ নাক্ষত্রিক, অগ্নিসেতু।

সম্মাননাঃ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সাহিত্য পদক (২০১২)।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E