৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ১৫২০১৬
 
 ১৫/১২/২০১৬  Posted by
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

দেবাশিস মুখোপাধ্যায় -এর ৮টি  কবিতা


ভয় ১

ভেবে সে খাটের নীচে
ঘরের কোণে
কিংবা মাটির তলার ঘরে

চাপ কিন্তু থেকেই যায়
রেললাইনে ফেলে এলেও
বুকের উপর ট্রেনের আওয়াজ

ধরা না পড়লেও সে আসলে ধৃতই
নিজেকে দেখলেই আতঙ্ক

একটা বিরাট বাদুড় তাকে
তুলে নিচ্ছে  ঠোঁটে

অন্যের রক্তপাতের পর সে প্রস্তুত ছিল না
অন্য কেউ তার রক্ত শুষে খেতে
পারে …..


ভয় ৪

শহীদ বেদী ভেঙে ফেলবার পর
একটা অন্ধকারের তর্জনী

শাসালেও তুমি ভাবছো
এখন সবই তো মুঠোয়

তবুও জানালা দরজা বন্ধ
পিছন ফিরে তাকাতেই চাইছো না

বাতাসে হা হা হাসি না হুংকার

রক্তের ভেতর শুধু ব্যর্থতা নয়
সফলতাও ভাবিয়ে তুলেছে …


ভয় ৫

ঠোঁটকে বলাচ্ছে বেহায়া বড়ো
মেয়ে জন্মের দোষ

ফোঁস করে ওঠে পেটে
শিক্ষা পড়লেই স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ

কলরব তাড়া করতে করতে
মুখ খারাপ করে দিচ্ছে

এতো কাক ঠুকরে দিতে দিতে …..


ভয় ৬

রোগ রুগী করে তোমার সব
চুল ছিঁড়ে নিতে চাইছে

আঙুলের মহিমা অপার
ট্রিগার টানার আগে তুমিও ভাবো নি

রক্ত দেখার পর সফেদ  ভাত
মাংসের পাশে নাড়া দেবে

যেন দামী পাথর আটকে আছে গলায়
কোনো কাজেই আর না এলে

কেটে ফেলার কথা ভাবতে ভাবতে শিরার শরীরে ব্লেড

এ গল্পের কথাও  তোমার মনে এসেছিল ……


ভয় ৭

বিদ্যুৎ চমকালে
নিজের ভিতর চিরে যায়

অন্ধকার গুহায় অসহায়
শব্দ একটা অন্য হাতের জন্য হাতড়ায়

পাহাড়ের গায়ে মাদল
বাজে বুকের গভীর অরণ্যে

তুমি শুধু বিষাক্ত তীর রেখে গেছো

গুছিয়ে নেবো ভেবেও সব
অগোছালো

গুহা দেবতা সূর্য ফোটাও মেঘলা
শরীরে ……


ভয় ৮

নিহতের সঙ্গে চাইনিজ
খাওয়ার পর

সে আর কোনদিন কাঁটাচামচ
ধরে নি কিংবা ফেরেনি রেঁস্তোরায়

বান্ধবী বোঝে নি ছুরি ধরে
তার অসম্ভব কাঁপুনি আর জ্বর

না সে পারছে না হাতের সাথে
বোঝাপড়া করে নিতে

ছায়াযুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই
ছায়ার ভিতর থেকে উঠে আসছে

রক্তমাখা নাড়িভুঁড়ি
গলায় প্যাঁচ কষছে লঘু সঙ্গীতের সাথে

ভোরের ভিতর একটা অস্ফুট গোঙানি
আর ঠিকরে আসা চোখ

সমস্ত অস্বীকার তাকে শিকার করে ফিরে যাচ্ছে …


ভয় ৯

মোড়ের মাথায় সুধন্যবাতাস নেই
শুধু কিছু মৃত পালকে রক্ত গন্ধ

বর্ষায় ফোটা কদম ফুলের গায়ে
সূর্য কিছুটা কর্কশ এবং হৃদয়ও

সে চেয়েছে কিন্তু সে না বুঝেই
নাটকের শেষ অঙ্কে পৌঁছে দিয়েছে

কখন সে নিজেই শত্রু নিজের
সুপারি কিলার আর ক্রমশ আতঙ্ক

ব্লেডে আঙুলের সামান্য রক্তপাত
আর সে অসহায় নিহতের মুখ

রঙ্গমঞ্চের পর্দা টেনে দেয়
পাটিগণিতের সমস্যা সমাধাণ না হলেও

আরেকটা অংক শূন্য রয়ে যায়


ভয় ১০

অন্ধকারের ভিতরে হাঁটতে পারি না
কাল সাপ ফণা উঁচিয়ে আছে

মোবাইল হারিয়ে গিয়েছে
হাতড়াতেও ভয় পাচ্ছি

কিংবা হঠাৎ বৃষ্টি নেমে মুছে গেছে
সমস্ত পরিচয় ও শংসাপত্র

অথবা সজোরে কোনো অটো
উড়িয়ে নিয়ে চলে গেল দেহটাই

অমূলক এইসব মৃত্যু চিন্তার মধ্যে
বেঁচে থাকার ষোলো আনা ইচ্ছে

তোমার কাছে দাঁড় করায়
ভয়ের বাইরে বেরনোর প্রাণপণ চেষ্টা

একটা জীবনকে তুমি দেয়

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E