৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ০৬২০১৬
 
 ০৬/১২/২০১৬  Posted by
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক

কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক

[ কবিতা নিয়ে কিছু কথা
কয়েকদিন ধরে মনের মধ্যে একটা একটা ঝড় চলছিল! আমি আজ পর্যন্ত যত লেখা লিখেছি, অর্থাৎ কবিতা, সেই সব লেখার তালিকা তৈরি করার খুব কষ্টকর প্রয়াস বলতে পারা যায়! এই কাজ গুলো আমি ঠিক করে উঠতে পারি না, এটা আমার সত্যি অক্ষমতা বলা যায়! আমি ও আমার মন অনেক ভালো-মন্দ কাজের সাথে যুক্ত, এই কারণেই সেইহেতু কবিতার  তালিকা প্রস্তুত করতে না পারাটা-কে আমি আমার অযোগ্যতা-ও বলি না! ইদানিং যে সমস্ত কবিতা আমার কলম দিয়ে প্রকাশিত হয়ে চলছে, তার বেশির ভাগই আত্মদর্শন মূলক লেখা! কিছু কিছু সম্পাদক আছেন যাঁরা সত্যি অর্থে কবিতা বোঝেন কিনা,  সেটা আমার কাছে সন্দেহের বিষয়! যাই হোক, কম দিন তো আর হোলো না আমি এই কবিতা-কে সঙ্গে নিয়ে চলেছি, সেই অর্থে অভিজ্ঞতার একটা জায়গা তো আমার আছে! সবাই ভালো থাকুন এবং সুন্দর থাকুন — বিদ্যুৎ ভৌমিক ]
 
 
১)
ধ্রুপদী কথাকাব্য

এখান এখানে কিছু পৃষ্ঠার আদর-কদর — এ সুধাস্বর আলোকিত  
চাঁদ ওঠা নিচু ডোবার মধ্যে সাঁকো ভাঙার গদ্য প্রহর
সেখানে চোখ বন্ধ নীরব সত্যরা কাল থেকে মহাভয়-শঙ্কায়
স্তম্ভিত রাত্রি যাপন করতে করতে দ্বিমুখী দৃষ্টির প্রত্যন্ত কথা পাত
করে!
এই উষালোক জুড়ে একরোখা নষ্ট মেঘ চলেছিল নির্বাসন নিতে,
উপোস ভেঙে উঠে আসা কিছু কালের আধপচা কঙ্কাল কবিতার
সহজ ব্যাখ্যা চেয়ে ছিল নির্লিপ্ত সিগারেটের কাছে
তারপর থেকে বাতাস কথোপকথনে হিজিবিজি দেহজ স্বপ্ন ডেকে
নেয় অন্য কোন নির্জনতা!!

২)  
প্রেম থেকে ঘুরে আসার পর

প্রায়ই আমাদের কথাগুলো নষ্ট হচ্ছে
সেই কারণেই
কতোবার ওষ্ঠ সখ্যতায় বলি ভা-লো-বা-সি
ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নির্দিষ্ট রাস্তার পেছনে এলে, কবিতাটা হঠাৎ
ভিরের ভেতর থেকে বলে ওঠে সম্বল হারানোর গল্প!
কোথাকার পাপ পুণ্যের বালাই নিয়ে নেচে নেচে গেয়ে ওঠে
অন্ধকার রাতের ঠুনকো ঝি-ঝি, —
কবিদের পাশাপাশি তিনিও নিয়মিত চলেন মধ্যপ্রাচ্যের ভেতর
এরপর পুরোনো চিঠিতে চুম্বন চুম্বন গন্ধ স্পষ্ট দেখা দেয় —
মলাট গর্ভে কথা হেঁটে চলে কতশত হাজার বছর!
শেষ পর্যন্ত পদ্মপাতায় শামুক হয়ে ঢেকে নেয় একখণ্ড স্বপ্ন

৩)
কবিতা না হয়ে ওঠার কথা

নেপথ্যে আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ জ্বালা
প্রাচীন দহনে তিড়তিড় কাঁপে সমর্পণ করা সমস্ত কিছু, —
উল্টো বাতাসে কবিতার তেষ্টা নিয়ে রাত পার করে নরকের কীট
কেউ কেউ আবার বুকের মধ্যে রুইয়ে দেয় এক মুঠো অভিশাপ!
কিছু কিছু ক্ষেত্রে অলৌকিক কিছু তারা ফোটে
মন খারাপের দিন দহনলোভা দোলনায় দুলে ওঠে স্মৃতিভ্রষ্ট চাঁদ
কী জানি কী ভাবে ব্যাথার মধ্যে ডুবে যায় জননীর হৃদয়স্পন্দন
আজ অতলান্তে চুপ করে বসে থাকার অভ্যাস করছি, —
তবুও অন্যের সাথে পথ চলে গেছে একশোটা সিঁড়ি টোপকে
অদূরে দলছুট চেহারা নিয়ে সুবর্ণরেখার পাশে স্তব্ধ অনিয়ম!

৪)
প্রতিবিম্ব দেখি, অথচ শরীর দেখিনা

সমতল ভূমি গুহাচিত্রে অপরিণত কান্নার ছাপ
কতবার এই চোখে ছুঁয়েছি শরীর, — জ্বরের গরল জ্বলে নীল সাদা
ঘুমন্ত – ঘুমের ঘোরে অপার্থিব গুজবের ক্যানভাসে!
সব লেখাই যে খ্যাতিহীন অন্য দিকে চলে গেছে
শেষ বৃষ্টিতে উপচিয়ে পড়ে নাবালক মনন, — কবেকার ভালোবাসা
ঈশ্বর স্বপ্নে বিভোর, অথচ প্রণয় জ্বালায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে
রাস্তার সমস্ত আঁকাবাঁকা নিয়ম-অনিয়ম!
গুপ্ত পদার্থ ঢেলে শতদল হেসে বলে চিহ্নিত করা সহবাস কথা
পাশাপাশি তিনিও ছিলেন ভাঙা-গড়া সর্বনাশ নিয়ে, — এইসব কথায়
কাছাকাছি আসে আদ্যিকালের আদিখ্যেতা
তবুও তো বৃষ্টির মধ্যে ভেজে প্রাচীন কান্নার চোখ!!

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E