৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ১৬২০১৬
 
 ১৬/১২/২০১৬  Posted by
আহমেদ শিপলু

আহমেদ শিপলু

আহমেদ শিপলু’র একগুচ্ছ কবিতা টানাগদ্যে


অনন্তনিদ্রার আগে

১)
পাহাড়ি সন্ধ্যার মতো টুপ করে ডুবে হারিয়ে যায় জীবনের আনন্দক্ষণ। পোশাক বদলের মত জীবনের রঙ রূপ বদলায় অহরহ। ফেসবুকের প্রিয় মুখটিকে হঠাৎ সামনে পেয়েও কুশল জিজ্ঞাসা হয় না। বন্ধুতালিকা দীর্ঘ হয় প্রতিদিন, আর আমাদের চারপাশের শূন্যতার পরিধি বেড়েই চলে ক্রমশ। ভার্চুয়াল জগতের বিচরণ একাকিত্ব ঘুচিয়েছে মানুষের। তবু মুখোমুখি আমরা পরস্পর অচেনা।

২)
বুকের ভেতর পাহাড়ের স্থিরতা নিয়ে আমাদের বসে থাকা। চোখের প্রশস্ততায় বাসা বাঁধে অলীক গল্প। খসেপড়া তারার অস্থিরতা বুকের মধ্যে তড়পায়। বহুকাল অপ্রকাশিত গুপ্ত আরাধনায় বেড়ে চলা স্বপ্নবৃক্ষের শেকড় কিলবিল করে চিন্তার পৃথিবীজুড়ে। প্রতিদিন ঘুম ভেঙেই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। রুমাল, মোজা, অন্তর্বাস, কলম, চিরুনি, স্যু-ব্রাশ আর কী যেন একটা খুঁজি! মনে করতে পারি না। শুকোতে দেওয়া জুতোর ফিতার একাকিত্ব নিয়ে খুঁজতেই থাকি। যেন কেউ টের না পায়। খুব সন্তর্পণে একা একা এই অনন্ত অনুসন্ধান।

৩)
সকল আয়োজন শূন্য হলে চোখের সামনে উটের মতোন উঠে দাঁড়ায় ক্লান্ত গোরখোদক। জীবনের অলিগলি পেরিয়ে একদিন গোরখোদকের দরজায় কড়া নেড়ে বলবো: একটা ঘর বানিয়ে দাও, বহুকাল ঘুমহীন আছি। ঘুমোতে চাই এবার চির ঘুমঘরে।

২৩ অক্টোবর ২০১৬


গৃহস্বামী মেহের আলী

১)
একটি মশার মৃতদেহ অথবা মাছের ছোট্ট কাঁটা-টেনে নিয়ে যাচ্ছে সুশৃঙ্খল পিঁপড়া বাহিনী। তাদের কণ্ঠে যৌথ জীবনের গান। প্রাণপণ দৌড়াতে থাকে চিত্রল হরিণ। বাঘের মুখ থেকে রক্ষা পাওয়াই তার বেঁচে থাকা। বাঁচার সংগ্রামে হিংস্র থাবা বাগিয়ে নিঃশব্দে দৌড়ায় বাঘ।

২)
মাছিদের নিঃসঙ্গতা চোখে পড়ে না, পৃথিবীজুড়ে কেবল মানুষের একাকিত্বের দীর্ঘশ্বাস। পাখিদের জীবন দেখে হিংসা হয় মানুষের। রাতের নৈঃশব্দ্যে শিশিরসিক্ত ঘাসের ঘরে পাখিদের ওম, সকালের রোদ্দুরের জন্যে অপেক্ষা করে দম্পতি যুগল। মাছেরা শীতের পুকুরে দিব্যি সাঁতার কাটে। ওপাড়ার বৌদি পুকুরঘাটে অত সকালে কম্পিত দেহে জল ঢালেন, সে কী রাতের উষ্ণতা ধুয়ে ফেলতে? নাকি ক্লেদ!

৩)
নোঙর ফেলে নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকা জাহাজের মতো-বুড়ো ডেউয়া গাছ, বড় বড় পাতায় আটকে দেয় ধেয়ে আসা বৃষ্টির জল। তার নিচে শিশুদের খেলনাপাতি, পুতুলের বিয়ে, চড়–ইভাতি। গেরস্ত বাড়ির বৌ-ঝিদের ব্যস্ততা ভীষণ। উঠোনজুড়ে শুকনো ধান মুহূর্তেই ঢেকে ফেলার চেষ্টা। কর্তাকে হাট থেকে ইঁদুর-মারা বিষ আনতে বলে দেয় গৃহস্থবধু। ধানের দাম পড়ে গেলে বিষ কিনে বাড়িফেরা কৃষক ভাবে: ইঁদুরের আর কি-ইবা দোষ, সামান্য ধানের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড!

কুড়ি মন ধানের দাম চল্লিশ মনে পাওয়া! দেনা শোধের চিন্তায় মগ্ন-বিষের পুরিয়া হাতে গৃহস্বামী মেহের আলী।

৮ অক্টোবর ২০১৬


সাঁওতালের পৃথিবী

মানুষের পৃথিবীতে শুয়োরের বসবাস! শুয়োরেরা কচুঘেঁচু খেয়ে বাঁচে। শুয়োরের ছানাগুলো বড্ড নিরীহ। শুয়োরের কোনো ঘর লাগে না, স্যানিটেশন স্যুয়ারেজ কিছুই না। কেউ কেউ শুয়োরকে ‘শূকর’ বলে পাপমুক্ত হয়। তাতে শুয়োর সমাজের কিছু যায় আসে না। যারা শুয়োরের মাংস খেতে পছন্দ করে তারা একদিন, সেই পাঁচশত বছর আগে- রেড ইন্ডিয়ানদেরকে শুয়োরের পালের মতো তাড়াতে তাড়াতে নিয়ে গিয়েছিলো দক্ষিণ থেকে দক্ষিণের জঙ্গলে! একটা জাতিকে হত্যা নিপীড়নে নিশ্চিহ্ন করে উড়িয়েছিলো সভ্যতার ঝাণ্ডা!

মানুষের পৃথিবীতে সাঁওতালের বসবাসে- মানুষের বড্ড অসুবিধা! একবিংশ শতাব্দীর দুনিয়ায় বোকা সাঁওতালেরা তীর ধনুক আর বর্শা হাতে! অত্যাধুনিক রাইফেলের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তারা জানে না সেকথা। শুয়োরের নিরীহ বাচ্চাদের মতো বোকাসোকা সাঁওতাল যুবকেরা, এখনো শুধু কচুঘেঁচুর জন্য বাঁচে। দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পেলেই, ঘুমোতে পারে নিশ্চিন্তে।

বোকা সাঁওতালের জমি গেছে চালাকের দখলে! সাঁওতালেরা উপজাতি!  ঈশ্বরও নেই তাদের পাশে! মানুষের তো জাত আছে, ঈশ্বর আছে। গরু আছে, উট আছে! পানের জন্য মূত্র আছে! গরুর মূত্র! উটের মূত্র! স্বার্থ বুঝে নিজ গোত্রের রক্তপানের ইতিহাসও বেশ পুরনো। মানুষেরা সব পারে। তোমরা তো ভাই প্রাচীন মানুষ! জঙ্গলে যাও! এটা এখন চালাকরাজ্য।

১১ নভেম্বর ২০১৬


লোকটি নিরুত্তর

অবুঝ পক্ষীশাবক মায়ের ঠোঁট থেকে খুঁটে খায় আদর। পাখার আচ্ছাদনে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেয় একঝাঁক মুরগিছানা। সন্তানদের নিশ্চিত আশ্রয়; নিশ্চুপ নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকে মা।

ক্লাস এইটে পড়া আদরের মেয়েটি, বখাটের ছুরিকাঘাতে নিহত হলে! রাস্তায় গড়াগড়ি দিয়ে বিলাপ করে মা। বাবাকে ঘিরে সাংবাদিক দল। ব্যস্ত লোকেদের কৌতূহলী চলাফেরা।

শরতের সন্ধ্যাকাশজুড়ে হরেক রঙের আলপনা। হাজারো ভ্যানঘগ, র্যাঁবো মেঘের কার্নিশে পা দুলিয়ে, এঁকে চলেছেন একটার পর একটা মনোহর দৃশ্যপট!  বাড়ি ফেরা লোকেদের ভিড়ে হেঁটে চলেছে ধর্ষক! শুভ্র কাশবনে ঘাপটি মেরে বসে আছে খুনি! ধানসিঁড়ি নদীর কিনারে, গাছের ছায়ায়, শস্যক্ষেত্রে, স্কুলের গেটে, নিউ মার্কেটে, চলমান এস্কেলেটরে, ফুলের বাগানে, পাহাড়ে-সমতলে, শহরে-গ্রামে, লঞ্চে-বাসে-স্টেশনে কেবলই ধর্ষকের ওত পেতে থাকা! ঘরের ভিতরে ধর্ষক! ঘরের বাইরে ধর্ষক! টিভির পর্দায়, সংবাদ শিরোনামে, মাথার ভিতরে, শিশ্নের ডগায় কেবলি লোলুপ ঘাতক!

ঈশ্বর কোথায় থাকেন? বেমক্কা প্রশ্নে আচানক ফিরে তাকাই। কেউ নেই। আচ্ছা তিনি আমাদের কী হন? এমন প্রশ্নে একজন বিজ্ঞের মত বললেন: তিনি আমাদের স্রষ্টা। বললাম: সকলের? মানে, রিসা’র হত্যাকারীর! তনু’র ধর্ষকের! বিজ্ঞ লোকটি নিরুত্তর।

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬


এই গল্পটা গল্প নয়

তোমার জন্য আকাশে হেলান দিয়ে বসে আছে চাঁদ। তোমার জন্য মাদাগাস্কার  থেকে প্রেমপত্র হাতে এসেছে যুবক। ফিজি থেকে রাজকুমার। বোখারা থেকে হাফিজের পদ্য হাতে মদ্যপ প্রেমিক। হোমারের মহাকাব্যে তরবারি হাতে সাহসী বীর, তোমার অপেক্ষমাণ পাণিপ্রার্থী। বিয়োগান্তক প্রণয়োপাখ্যান  থেকে উঠে এসেছে ক্লান্ত মজনু। ভোরের ট্রেন থেকে সন্তর্পণে নেমে, সারারাত গরুর গাড়ি চেপে দেবদাস। প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এসেছে রোমিও। দুরুদুরু বক্ষে প্রেমের কবিতা হাতে নবীন কিশোর।

ফিরিয়ে দিয়েছো তুমি। ফিরে গেছে সকলেই। কারো হাতে ফুল। কারো পকেটে সুগন্ধির শিশি। বইয়ের ভাঁজে শুকনো গোলাপ। কেউ বেলি, কাঁঠালিচাঁপা আর কেউবা বুকের জমিনে দিতে চাইলো ময়ূরপঙ্খি সিংহাসন। তুমি বলোনি কিছুই। কী এক অমোঘ সংশয়ে অথবা অহঙ্কারের পাখায় চেপে ভেসে বেড়ালে। নির্বাক নয়নে তাকালে একবার! সকলেই ভেবে নিলো তোমার সম্মতি। অতঃপর, বহুরাত নক্ষত্রপাড়ায় রাত্রি জাগরণ, পাখির রাজ্যে বিচরণের পর জানা যায় সত্য।

শোনো, এই গল্পটা গল্প নয়, আবার ঠিক সত্যিও নয়। এটা গল্পের গল্প। ধরো, তোমার সাথে আমার, মানে আমাদের সত্যিটা যেমন গল্প মনে হবে একদিন! তেমনি একটা সত্যি… মানে গল্প। মানে তোমার খেয়াল! নির্বাক চাহনি! বোঝার ভুল! ফিরে যাওয়া। তোমার বুঝতে না পারা! আমার বোঝানোর অক্ষমতা! পকেটে অপঠিত কবিতা! সুগন্ধির শিশি! চোখে অশ্রু! পায়ে ক্লান্তি! হৃদয়ে রক্তক্ষরণ! ফিরে যাচ্ছি ইথাকায়, ফিরে যাচ্ছি যুদ্ধশেষে!

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬


মেহের আলী

দৌড় শেষে আস্তাবলে ফিরে আসে টমটম ঘোড়া। উড়াল যাত্রা শেষ হলে ফিরে আসে পাখি। যানজট ফুরোলে মানুষেরা ঘরে ফিরে যায়, মানুষেরা ঘরে ফিরলে রাস্তাগুলো একলা শুয়ে থাকে। ভ্রমণ-যন্ত্রণাকাতর লোকেদের ক্লান্তি ফুরোলে শুরু হয় টক’শোতে উত্তপ্ত আলাপচারিতা। টিভিস্ক্রিনের আলোয় সংসারী আক্ষেপ অতৃপ্ত বাসনায় চাপা পড়ে- জঙ্গিবাদ, রামপাল বিরোধী আন্দোলন, আন্তর্জাতিক শিরোনাম।

কৈবর্তপাড়ায় অভাবের জাল বোনে, নামা থেকে ঘরে ফেরা মাছুয়া মেহের আলী, পোয়াতি বৌয়ের পেটে কান পেতে শোনে দূর সাগরের গর্জন। মহাজনের দেনা বাড়ে আরো, চোখে তার রূপালি ইলিশের ঝলকানি!  মহাজনি নাও ছাড়ে উত্তাল সাগরে, বলেশ্বরের ঘোলাজল ছুটে যায় বঙ্গোপসাগরের বুকে। মেহের আলীর পালে বৈকালি হাওয়া, অতল নীল জলরাশি গ্রাস করে নরম সূর্য, দৃষ্টি থেকে মুছে যায় সুন্দরবনের সবুজ দীর্ঘতম রেখা।

লাভ-ক্ষতির হিসেব, জীববৈচিত্র্যধ্বংসী পরিবেশ বিপর্যয়ের কোনো সংবাদ পৌঁছে না মেহের আলীর কানে, সমুদ্রের গর্জন ছাপিয়ে তার কানে বাজে কেবল অনাগত শিশুর আগমনি চিৎকার!

২৯ আগস্ট ২০১৬


অন্তহীন মায়াচক্র

বিকেলের নরম হলদে রোদ লেগে আছে তার গ্রীবায়। উড়ন্ত পাখির চঞ্চলতায় তার আসা যাওয়া। মাথার ভিতরে, চোখের ভিতরে, বুকের ভিতরে, তার অবাধ যাতায়াত। অস্পর্শ মায়ার মতো, ছায়া হয়ে চারিপাশে ঘুরে ঘুরে, উড়ে উড়ে তারপর দূরে, আরো দূরে…

ফ্রক, স্কুল ইউনিফর্ম ছেড়ে অনভ্যস্ত শাড়ির আঁচল ঠিকঠাক করে যখন তাকালো, তখন সারাদিন সূর্যগ্রহণ, তখন সারারাত চন্দ্রগ্রহণ।  কার মাঝে কে দাঁড়ালে কার যে গ্রহণ লাগে, সে এক রহস্য বটে!

সূর্যের পিছনে ছুটতে গিয়ে দেখলাম দিন স্থির। চাঁদের পিছনে ছুটতে গিয়ে দেখি রাত অনড়। মনে হলো আমি চললেই সব স্থির, আর আমি থামলেই সব কিছু চলমান। এভাবে চলতে চলতে, থামতে থামতে দ্বিধান্বিত, থামবো না চলবো বুঝতে পারি না।

চোখের মধ্যে অনন্ত কালের ঘুম। অধরা স্বপ্ন বুনে ক্লান্ত। ঘুমের মধ্যে কোনো গ্রহণ থাকে না, কেবলি হলদে নরম রোদ্দুর মাখা মুখখানি বিকেলের আকাশ হয়ে ঝুলে থাকে।

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬


ধার্মিক

মসজিদ থেকে বেরিয়ে একদল প্রতিমা ভেঙে গেল। আরেক দল গো হত্যা বন্ধের জন্য মা মা করতে লাগলো। রাজ্যজুড়ে বাঁধলো যুদ্ধ! গো ভক্ষক ধরে এনে পেটালো বেধড়ক! খুন করে ফেলে রাখলো প্রকাশ্যে। গরুর দুধ, দুধের তৈরি মিষ্টান্ন খেয়ে, তার চামড়ার জুতো পায়ে দিয়ে, তার মুত্র পান করতে গেল মন্দিরে। তারপর আবার মা মা করতে লাগলো।

কৃষ্ণদ্বৈপায়ন তার মায়ের জন্ম পরিচয় জানাতে পারেনি। সত্যবতীর মুখোমুখি বেদ বিভক্তকারী ব্যাস। বিংশ শতাব্দীর লোকেরা মুখ টিপে হাসে! বলে, ‘নিজ পরিচয় জানো আগে!’

ঈদের সকালে সুগন্ধি মেখে, চোখে সুরমা পরে, গরুর গলায় ছুরি চালাবার সময় লোকে তার মাংসের ওজন নিয়ে গবেষণা করে। ফিনকি দেয়া রক্তের স্রোতে ফুসফুস খালি করা শ্বাস, অস্ফুট গোঙানি চাপা পড়ে তর্কালাপে। কত হাজার? কত মন? ঠকেছে না জিতেছে! ইত্যাদি আলাপচারিতায় ছেদ ঘটায় হামলেপড়া মাংস কুড়ানির দল।
 
এই সব আলাপচারী ধার্মিকেরা গরুর চোখ, মায়াময় চাহনি না দেখে লিপ্ত হলো গো হত্যায়। লজ্জাবনত, বিব্রত  ইব্রাহিম স্রষ্টার মুখোমুখি নির্বাক!

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬


বৃক্ষপ্রেমিকের পৃথিবীতে কাঠুরের তাণ্ডব

কে পেরেছিলো প্রথম, মানুষের বুকে ছুরি চালাতে!
কে লিখেছিলো সেই নির্মম ইতিহাস!
প্রথম করুণ রক্তপাত দেখেছিলো কে?
কে শিখিয়েছিলো সেই মরণঘাতী চতুর লড়াই!
ধর্মগ্রন্থ খুলে বসে থাকো, জেনে যাবে সব।

নিম গাছে কোনদিন লিচু হবে না জেনেও, মানুষ নিমের গাছ লাগায়। নিমের তেতো হাওয়ার উপকারিতার উপর লেখা হয় অমর গ্রন্থাবলি। মানুষের তবু তেতুলের দিকেই ঝোঁক!  জিহ্বার চোখ চেটে খায় নিষিদ্ধ গন্ধম।

পৃথিবীতে একটিও বৃক্ষ না থাকলে, তেতুল-নিমের তর্কে কোন যায় আসে না। রোদ্দুরে পোড়া পথিকের কাছে সকল বৃক্ষই ছায়াতরু। ক্ষুধার্তের কামনায় বৃক্ষ শুধুই ফলদায়ী। করাত হাতে কাঠুরে জানে না নিমের গুণাগুণ। তাই, বৃক্ষপ্রেমিকের পৃথিবীজুড়ে কাঠুরের তাণ্ডব! নিমগ্রন্থ পারে না ঠেকাতে, বৃক্ষনিধন উৎসব।

যারা বুনেছিলো শান্তিবৃক্ষের বীজ, প্রাচীন গ্রন্থ ফেলে তারা গেয়েছিলো মানুষের গান। তবু প্রতিদিন মানুষেরা, মানুষের বুকে ছুরি চালিয়ে রপ্ত করে প্রাচীন কৌশল।

২৮ নভেম্বর ২০১৬

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E