৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ১৫২০১৬
 
 ১৫/১২/২০১৬  Posted by
পায়েলী ধর

পায়েলী ধর

কবি পরিচিতি
পায়েলী ধর। জন্ম- ১৯৮৯ এর ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, শিলিগুড়িতে। শিক্ষা– শিক্ষা জীবন শিলিগুড়িতেই, ইংরাজি সাহিত্যে স্নাতোকত্তর উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পেশায় শিক্ষক এবং হিস্তশিল্পী। সখ- নাচ, গান, টুকরো জিনিস জুড়ে ফেলা ইত্যাদি। লেখালেখি- ২০১১ সালের পর থেকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হতে শুরু করে। এযাবৎ  সমতট, সানন্দা, উনিশকুড়ি, কবিসম্মেলন, উত্তরের সারাদিন সংবাদপত্র, কবিতা ক্যাম্পাস -সহ বহু পত্রিকা এবং অন্তর্জাল পত্রিকায় কবিতা প্রকাশিত হয়েছে, হচ্ছে। আকাশবাণী এবং দূরদর্শন -সহ একাধিক চ্যানেলে স্বরচিত কবিতাপাঠের পরিচিত মুখ। নিজের উদাসীনতার দোহাই দিয়েই এখনও নিজস্ব কোনও কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়নি। আগামীতে নিশ্চিত সে আশাও বাস্তবায়িত হবে।

পায়েলী ধর -এর কবিতা ভাবনা…
সারাংশে ঝুলে আছে সময়। যেন ঝালরে বাঁধা আস্ত একটা লণ্ঠন। সুইচের দোলাচলে কখনো মসৃণ আলো আবার কখনো নিকষ অন্ধকার বিছিয়ে দিচ্ছে জাগতিক টানাপোড়েনের ওপর। আমি স্বচ্ছবাস গায়ে একটু-আধটু মাখামাখি করছি সেসব অজ্ঞাত গূঢ় পথের সাথে। তখনই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছে কিছু নির্ভেজাল সেলফিদৃশ্য। কলমের বাকল খুলে, অফুরান ঝাঁঝাঁলো রস ভরে দিচ্ছি ওর ফ্যালোপিনিক গহ্বরে। আর জন্মমতে “সদ্যজাত” তকমায় চোখ ফুটছে একটা-দুটো কবিতার। ওখানেই খেই হারাচ্ছে আমার প্লেটোনিক তত্ত্ব। গুবলেট হয়ে যাচ্ছে ফ্রয়েডিয়ান প্রেম। আর বুমেরাং সিরিজ ঠেলে আদিম আদিম গন্ধ গায়ে সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ছে অসংখ্য মৃত্যু। এই সব কিছু মিলিয়ে দিতে চেয়েই আমি স্রষ্টা সাজার ভণিতায় মুখোশ পড়ছি মোমরঙা। ফ্ল্যাশব্যাকে তখন বাবার শরীরে আগুন জ্বালছে কিছু কমদামী পাটকাঠি। আমাদের হা-অন্ন সংসার হাটের মতো বিছিয়ে রাখছে মা। আমি প্রজাপতি সেসেসময়। পাখনা জুড়ে সাজিয়ে রাখছি উদ্বাস্তু বসন্তদের। ঠোঁট গলা রঙমশাল তাতিয়ে দিচ্ছে গোলাপি প্রেমিক। আর সন্ধে হওয়ার একটু আগেই সামাজিকমতে ঝেড়ে ফেলছে দেহজ- স্নেহজ বিনিময়। বীতশোক আমি। উদগার শুষে অনন্ত আঁকছি পৃষ্ঠা জুড়ে। আর বাড়ন্ত দিন হাত বদলে, হাত বদলে অভিভাবক করে তুলছে আমার মননের স্তরীয় ধাপসমূহ। দেখি,রাজপথে যোণি খুলে বিষাক্ত রড ঝালিয়ে দেখছে সতীচ্ছদ কতটা কংক্রিট। ধানের জমিতে গেঁথে যাচ্ছে শ্রমজীবী মাথা। স্কুলের হাফ গেট টপকে দলছুট বালিকা গর্ভে তুলে আনছে আস্ত একটা পাপ। ভালো একটা বাসার সন্ধানে ঝলসে যাচ্ছে পড়ন্ত বিকেল, বাদাম খোসা, নৌকাবিহার, সপ্তপদী, রুশো-ভলতেয়ার- মন্তেস্কু, জন ডান এবং “গুড মোরো”। আর্তনাদে মিলিয়ে যাচ্ছে আমার যত্নে লুকোনো শব্দসমূহ। বাগ্মীতা ভুলে নেহাতই বখবাস আওড়াচ্ছি লাল-সবুজ-গেরুয়া হাজার কিসিমের রঙকালিতে। ওদিকে পাহাড় ফেরৎ বন্ধু জানালো, চা-গাছে খিদে সাজিয়ে কারা সব “শব” হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। বাগান যুবতীদের উরুতময় সন্ধিতে ধরা পড়ছে হাজারো সিঁধেল  চোর। আমার কবিতার শহরে বাতি জ্বলে উঠতেই অসংখ্য সাতশো স্কোয়ারে মদিরায়, মত্ততায় মেতে উঠছে কিছু অর্বাচীন। এক একটা ভুখামেয়ে নগ্নপসারে বিকিয়ে দিচ্ছে এযাবৎ সামলে রাখা ঋতুগত রূপ। ক্ষরণের রক্ত দিয়ে আমি কাব্য করছি আদিখ্যেতায়। রাজা আসছে, যাচ্ছেও বা। প্লাস্টিক অর্থে সাজুগুজু সেরে নিতে ব্যস্ত স্বচ্ছ ভারত। মোটা ফ্রেমের চশমা কানে রামধনু রঙের দাদা-দিদিরা যে যার তীর ছুঁড়ে মাড়ছে দেশপ্রেমের অছিলায়। ‘ঘন্টাখানেক’আলাপচারিতায় ঢাকা যাচ্ছে না পরের পর হেঁটে আসা অগণন মোমমিছিল। দিনশেষে সকলে মিলে হাত উঁচিয়ে প্রণাম সারছি কোনও অজ্ঞাত দৈব শক্তির উদ্দেশ্যে। মেনে তো নিতেই হবে ঈশ্বরেরও প্রতিবন্ধী হওয়ার ষোলআনা অধিকার আছে। বিশেষ বিশেষ লোগো অনুযায়ী উনি পরার্থপর হন। বাকিটা শিঁকেয় তোলা থাক অনধিকারের ভিত্তিতে। এমতাবস্থায়,  শব্দ কেমন ব্রহ্ম হয়ে যায়। আমার একলাপনের দেয়ালজুড়ে ফুটতে থাকে আশ্চর্য কিছু শব্দবন্ধ। দুহাতে জড়ো করে রাখি ওদের। তারপর এক একটা শব্দের গায়ে বর্ম পড়াই। আদবকায়দা শিখিয়ে দিই প্রশ্রয়সমেত। এভাবেই তো ক্ষোভ, দু:খ, প্রেম-অপ্রেম, প্রতারণা, খিদে, ডিমনিটাইজিং সমাজ, সমস্ত ছবিগুলো জুড়ে জুড়ে একটাই সঠিক কোলাজ করতে চাইছি এতোকাল। একটা অর্থবহ কবিতা। একটা দর্শন। অথচ, প্রতিরাত সাঁতরে এসে ভোর দেখছি যেই, তখনই অবসাদে লুকিয়ে পড়ছে যাবতীয় শব্দবাজি। প্রতিদিন এই শেষের শুরু দেখতে দেখতে সাদা পাতা রঙ পাচ্ছে আবোল তাবোল। তুমি বলছো প্রকাশের পর এসমস্তই কবিতা এখন।যদিও আমি জানি, নিজেকে খুঁড়লে যা জড়িয়ে  থাকে পৃষ্টার পর পৃষ্ঠা তার নাম অনুশোচনা অথবা প্রতিবাদ।

পায়েলী ধর -এর কবিতা


আবীর

কোনও গোলাপ বন্দরে অপেক্ষারা গুছিয়ে রাখছে আবীর
এ’পাশে দাঁড়িয়ে আমি কাঁটাতার ভাঙছি
কুহকের সভাঘরে নিমন্ত্রণ আছে
সেখানে স্বপ্নের মতো অবাস্তব কিছু
অমর্ত্যের আবাহনী গাইবে
আমার বোবা চোখের রঙিন কাঁচ
মিথ্যে সমঝোতা খোঁজে
বাতিল উত্তরীয় গলায় তুলে দিচ্ছে প্রান্তিক সম্মান
ঝোলা কাধে অগণন ভুলের শব বইতে বইতে
আমি ও ঈশ্বর বন্ধু হয়ে উঠছি দিনদিন…


ঈশ্বর

কুসুম শঙ্কাশং সূর্য গলে পড়ছিল শূণ্য মাটিতে।
চেতনার রঙ সেখানে মুক্তোর মতো সাদা।
তাতে বর্ণ চড়েনি পান্না বাহারি।
যেমন করে প্রতি জংশনে থমকে যায় পথ,
আমার ঈশ্বরও তেমনই দাঁড়িয়ে পড়লেন হঠাৎই।
ঝোলা ভরা আপেল আর পারিজাত হাতে।
“বাঁশি এনেছো আগুনের সেনাপতি?”–বলামাত্র,
জোব্বার পকেট থেকে তুলে দিলেন একটা স্রোতোস্বিনী নদী।
হুবহু আমার মতো।
সেই থেকে স্রোত ও নুন বিষয়ক গল্পদের প্রেম বলে জানি
শব্দের খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে দ্বন্দ্বময় রাত আমায় ঈশ্বরী করে।
আর স্বপ্ন খুঁটে লাল কালিতে চিঠি লিখি আগামীর কোনও ভ্রুণের জন্য।
 বোগেনভেলিয়া এরপর দুয়ার খুলে দেয়।
চকমকি ঠুকে প্রদীপ জ্বালি।
সোনার নৌকো ভরে ঈশ্বর দিয়েছেন অজস্র জিয়নকাঠি।
তাদের সাজিয়ে দিই গোধূল বেলার কথা কাহিনীতে।
আমার তণ্বী গায়ে এখন স্পর্শকাতর কাঁটা।
তাতে আদর দিচ্ছে বেওয়ারিশ হাত।
আমি ওদের তোতাপাখি।
অনুগত পোষ্য অথচ ভক্ত নই।
ধরা দিয়েছি গো আমি।নতজানু মাথা।অভীষ্ট ডোঙ্গল মেয়ে।
উপচে পড়া পানপাত্রে চুমুক দিলে স্পর্শ পাবে ঠিক।
পাবে প্রভুত্বের দাবী।
মরি লো মরি আমায় বাঁধনে বাঁধছে স্খলনের লাইমলাইট।
দেবতা বলেছেন জ্যামিতিক কোণে পা ফেলো,
সাপের মতো সিঁড়ি ভেঙে উঠে পড়ো, ঘুমে।
তন্দ্রা ছড়ানো বিছানা…
আমি স্রোত হচ্ছি
সুর হচ্ছি
হচ্ছি ব্রহ্ম।
সমস্ত পথগুলো দিকভ্রান্তের মতো ছুটছে।
একটা বোধি বৃক্ষ হয়তো জন্ম নিয়েছে কোথাও….


কিছুটা কবিতার মতো

খোলসের ভেতর তোলা আছে তুলতুলে মাংস।
যার অর্ধেকভাগ জল আর বাকিটা তৃণ।
হলদেরঙা ভূর্জপত্রে স্বপাকে সাজাতে হবে-
দৈত্য- দেব এবং আত্মকে।
আমারও বিধান ভেঙে স্রোতকে শেকল পড়ানোর কথা ছিল।
বাঘবন্দির ভেলকি শেখাতে গিয়ে মুঠোভর্তি মেঘ কে জানিয়েছিলাম-
গায়ে জোয়ার এলে, ভেসে যেতে ছাড়পত্র চেয়ো না।
ঘরময় লেগে থাকা পরিযায়ী শ্বাস লুকিয়ে দেখেছে-
কেমন করে জন্মদাগ ভিজে গেছে ভনিতা ছাড়াই।
ইচ্ছেমতো ভেক ধরেছে ঈশ্বর।
তার ক্ষণজন্মের সাক্ষ বুকে প্রদীপ শিখেছে-
রাতের চোখে ঠুলি পরানোর সহজ কৌশল।
একটু নুন- একটু ধোঁয়া- একটা পরাগ- একজন কেউ-
জনান্তিকে বলে গেছে–
পেরোনো পথের চিহ্নগুলো স্মরণিকা হবে না।
অজস্র ধূলো ও ধূসর ঘেটে যাচ্ছে অনিঃশেষ শব্দকোষ।
কিছুটা ঘুরে দাঁড়াবে বলেই সময় এখন বোঝে,
ইতিহাস মানে ভস্মের সামগান।


ক্লাইম্যাক্স

শানবাঁধা পাড়ের ওপর সাজানো আছে অনামী মাংসপিণ্ড। এ’মাত্র জানা গেছে তারও স্নায়ুসংসার ছিল। বুড়ো বটের মতো আগাপাছতলা গার্হস্থ্য সন্ন্যাসী। ফেব্রিকেটেড ফুলতোলা রান্নাবাটি ঘর,কাঠকয়লা, গলিপথ, নার্সিংহোম, চুল্লু, বাতাবী স্তন আর মুখোশ সব মিলিয়ে ফুলফ্লেজেড দশাবতার।
………………………….
ঠিক কিছুক্ষণ পর শুরু হবে ন্যাড়াপোড়া উৎসব। মাস্তুল বেয়ে উঠে আসবে ধোঁয়ার পতত্রী। পাখনা মেলে উড়ে যাবে ছড়ানো নীলে। মিথেইন- ইউরিয়া- সালফার- কার্বন- আবোল- তাবোল; গুবলেট মেরে নিয়ে আসবে একমুঠো বখবাস ছাই আর টাটকা মাংসের ঝোলগন্ধ।
স্টুপিডিটি স্ট্রীটে দাঁড়িয়ে এখন শুধু গিলে খাও
ইন্দ্রিয়পতনের চটকানো পিণ্ডি…


খিদে

স্পষ্ট ছিল না কোনও নিয়ামকরেখা
পরিচিতির বিষুব থেকে জল ক্রমশ পিছমুখী হলে
উপবাসী আঁচল খুলে যায়
ঘর অত:পর সমুদ্র হয় নিমেষেই
সেই থেকে স্রোত ও নুন বিষয়ক অধ্যায়
প্রেম বলে খ্যাত
পরিযায়ীদের ছদ্মনাম পুরুষ অথবা ঈশ্বর…
 


ঘ্রাণ

সিঁড়ি বেয়ে নেমে যাওয়ার পর
ধুনোর মতো গন্ধ ছড়ালো আগন্তুক
ওকেই একদিন সমাজরোহিত অরণ্য দিয়েছি
মৃত্যুর মতো সেসব রূপকথা এখন
পাহাড়ি খাদে ঝোলানো
অথচ ভূগোলজীবী খুঁজে ফেরে অবাক নোনাজল
হৃদয় নিঙড়ে ভাবি নদী হই, নি:স্ব হই
ভয় নয় প্রত্যয় আমায় সর্বস্বান্ত করে…


টু ফাইণ্ড দা ওয়ে ব্যাক হোম…

লীলাবালির দাওয়ায় এখন মরসুমি বসন্ত
কাতারে কাতারে আর্চিস গ্যালারি তুলে আনছে বিশুদ্ধ পারিজাত
কেসরিয়া বালমকুল নির্দ্বিধায় ছুঁড়ে দিতে জানে
জমানো রঙ-নুড়ি- রামধনু
রাতের শরীর থেকে খুলে নিতে জানে ধোপদুরস্ত রঙচঙে পোশাক
একটা স্মুচিং এপিসোড শেষ হলে
পুরো গল্পটাই কেমন ভার্চুয়াল হয়ে পড়ে
বদলে যায় রিংটোন
বদলাতে হয় পুরনো প্রচ্ছদ
খামখেয়ালের রূপকথারা সম্পূর্ণ নতুন মোড়কে ঢেকে নেয়
সাংকেতিক জল- ছল- রসাতলের বেমসাল কাহিনী…


বৃক্ষ

সাঁতরে পেরবো ভাবি বারো ঘর- বারো বাগান।
কিছু অন্ধকার মুখ নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকে আমায় ছুঁতে।
ছোবলের সুখ দিয়ে অসংখ্য ঈশ্বর-
পুঁতে দিয়েছেন ফলসা গাছ।
ফুল-ফল-জমি-জ্বরা- জাহ্নবী- আগুন,
প্রত্যেকভাগে শেকড় বিছিয়ে ঘুমের ঘাটে যাই।
ছাইয়ের গাদায় খুলে রাখি কমলারঙা নাভি।
ও’পার থেকে বাঁশি ডাকছে প্রেমিকের মতো।
ওর নীল ঠোঁটে এঁকে দিই চুম্বনের অধিক কিছু।
তিস্তার জলে ক্ষয়ে যেতে যেতে,
স্বর্গীয় চাঁদ জুড়ে যাচ্ছে আমার নামের আগে।


ভুল

নাম কিছু একটা ছিল।
হয়তো আগন্তুক।
ইচ্ছেকরেই কখনও তাকে বসন্ত বলে ডাকিনি।
এখনও ঝড়ের সাথে অভ্যেসমতো বর্ষা আসে। ইলশেগুঁড়ির ফোঁটায় ফোঁটায় গাঢ় হয় ছন্দপতনের রহস্য। উড়োচিঠিতে লেখা থাকে নতুন জন্মের রূপান্তর।পিকাসোর তুলি থেকে ধীরেধীরে খোলস ভাঙে,  রেট্রোস্পেক্টিভ তুলো মেঘ- ছোট্ট টিপ- হালকা লিপ্সটিক আর বীজপত্র। সাতশো স্কোয়ারের হেমিস্ফিয়ারে আচমকাই ঢুকে পড়ে হাফশার্ট- স্কার্ট- ক্যাপুচিনো- তেলজল তৎসহ পুরনো কাসুন্দি।পূর্বাপর সম্মোহনের বেলাজ দাঁত খিচুনি ভেংচি কাটে অষ্টপ্রহর।
আপৎকালীন তৎপরতায় সামলে ফেলতে হয়-
ঝকঝকে নীল চোখ, মাদক গাঁটছড়া, উলুবনের মুক্তো, আর মরফিন দিনগুজরান।
তারপর, সমস্ত সাংকেতিক বোঝাপড়ার রাখঢাক আবার গুলিয়ে ফেলে একটা নাম
আগন্তুক…
বসন্ত….
অথবা মুখোশ…
     

১০
যাজ্ঞিক

অকারণ কেন ডুবে যাওয়া
এখনওতো বাকি ছিল কিছুটা সংঘাত
উদ্ভিন্ন দিন কোনও বিনিময় চাইলে
তার সমস্ত আয়ুরেখায় লেপে দাও নশ্বর ছাইয়ের গন্ধ
এসময় স্বেদ আর রক্ত হাত ধরে ইতিহাস লিখছে
ইথার শব্দে জানা গেছে জাহান্নামে বিক্রি হবে
আমাদের অস্থি- অন্তর- অনন্ত ও ঘুম
পূতমন্ত্রে এসো আগুন জ্বালি আর
ফলকে সাজানো থাক শ্রদ্ধা
মোমমিছিল কোনও সান্ধ্যগান তুলে আনুক মৌনতায়
আমরা আদিম এবং আত্মা নয়
ভেক ধরি ঈশ্বরের…
   

১১
শ্যাডো টেলস ব্রোকেন ফ্রেমস…

চোলি রাঙাচ্ছে পহেলি বারিষ

চুনরিগুলো লাল হওয়ামাত্রই দেয়াল তুলতে হল আশেপাশে
পরিচিত ভূগোলপথে আজকাল প্রায়ই
বাঁশি বাজায় প্লেটো কিম্বা মুরলিমনোহরণ
আমার বয়:সন্ধির ঝাঁঝালো গন্ধ ওদের সাবালক করে
ওদিকে আজব ভুলভুলাইয়ার চোরাগোপ্তা বাঁক
হাত ধরে শিখিয়ে দেয় দানাপানি জোটানোর কৌশল
একটা আশ্চর্য প্রদীপের নেশায় আমি রাত জাগি
আর হরেকরকম পালক জুড়ে যায় আমার ডানদিক থেকে বাঁদিক…

১২
সামগান

১) রবসো নেহা লাগাও রে মনবা….

মরসুমগুলো ঝরে পড়ছিল।
ঠিক যেমন করে ঝরে যায় ঘুমগান।
ভেজা বর্ষাতি টিউনিকের সোঁদা গন্ধ মুছে-
উঠে এল কাঁধ বরাবর।
বৃষ্টি ভাগ হল।সাথে কিছু নিষিদ্ধ সমস্রোত।
বসন্তকে মালা পরাবে বলে–
দু’টো লিপগ্লস- দু’টো বিন্দিয়া- দু’জোড়া ভ্রুভঙ্গ-
চুমুর পাত্র উপচে দিল প্রজাপতি রঙে।
একজন বাহার সোহাগ এখন অনায়াসে বলতে পারে-
বেহাগ আমার স্পর্শজাত মেয়ে।

২) চল তব সন্ত পবন মতবারি….

ঋতু- সপ্তাহ পেরিয়ে এসে ফুল চাইলো–
নতুন জন্মে ওর নাম হোক আগুন।
মোম-মোম গলে যাওয়া বাড়ন্ত খাঁজ-
নাহয় এবার বজ্র সাজুক।
কোনও বারণ না মানার বিধান খুঁটে খাক-
একই অন্তর্বাস- নাভি- জিভ- থুতু- লালা- উদগার।
বেহতা স্রোত, তুমি তো জানো;
তোমারই বিপরীতে ওদের নাক- চোখ- মুখ-
একই সাঁচে গড়া।
একই ধাঁচে ওদের ঠোঁট বুকে নেমে আসে।
আর শতাব্দী শোনে দু’জন মানবীর গল্প।
অথচ, পুণ্যিপুকুর সাঁতরে তখন সবেমাত্র-
জন্ম নিচ্ছে যুগল ঈশ্বরী।

৩) মোসে ছল কীয়ে যায়…..

তেমন কোনও মৌরস ভিজিয়ে দেয়নি কৃষ্ণখাত।
ওখানেও জানি সন্ধি থাকে।
থাকে পর্দা ঢাকা অনুরাগ।
হাজার বিনিময় একের সাথে এক জুড়ে-
একটা উত্তরজন্ম চেয়েছিল।
পাশা বদলের চাল শিখিয়েছে-
কোনও কোনও সূত্রে নিজেরই কেবল পূণর্জন্ম হয়।
আগামী লেখে-
একে একে শূন্য… শূন্যে শূন্যে ক্ষয়….
অত:পর রূপান্তরের কথা…..
                            পায়েলী ধর

     
১৩
স্যাটানিক ভার্সন অব নাথিংনেস

যখন একটা মোমবাতি লিখতে চাইছে অরণ্য-শহরের আত্মজীবন,  ঠিক তখনই প্রতিটা রাস্তার আততায়ী ফেস্টুন জানিয়ে দিচ্ছ; আমআদমি কে লিয়ে দোবখত কা রোটি- পানি- বিজলি- নাপাক মোহাব্বত আর বেহশতের খোয়াব এ’মুহূর্তে মানবসম্পদ উন্নয়নের স্বার্থে বরাদ্দ করা হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে বদলে ফেলা হতে পারে প্রতিশ্রুতির খোলনলচে। অবশ্যই স্বভাবজনিত কারণে।ইতিমধ্যে, সমস্ত ফাঁক- ফোঁকড় বন্ধ করে সাপ ও নেউলকে কিস্তিমাতের খেলা শেখাচ্ছে খুদ ও কুঁড়ো। প্রশিক্ষণরত উজবুকদ্বয় সাধ্যমতো আয়ত্ত করছে চুস্ত ডিগবাজি, নাকেখত, পাশাবদল ও পাশ ফিরে ঘুমোনোর কৌশল।কয়েন টসের রহস্যপিঠ দিন কয়েকের ভিতর জানিয়ে দেবে দুই অভিযোজির যোগ্যতার ফলাফল। শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপনে উঠে আসবে
ফুল-বাতাসা, রক্তছবি, ধারালো থাবা, বিষবিষ স্বপ্ন, হিং-টিং- ছট।
সামগ্রিক আয়োজন শেষে হাভাতে শহর এখন রিভার্স কাউন্টিংয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে-
ভাবি কেউকেটার উৎস সন্ধানে…

 

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E