৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
এপ্রি ০৭২০১৭
 
 ০৭/০৪/২০১৭  Posted by
পরিতোষ হালদার

পরিতোষ হালদার

পরিতোষ হালদার-এর একগুচ্ছ নান্দনিক কবিতা


স্ফটিক

সামান্য তমশা দাও, একবার প্রতিমর্ম বলে ডাকো।

স্ফটিকের কাছে দৃশ্যের ভ্রমণ- অপরাহ্নের রঙ; ঘুমের মন্দ্র খুলে উড়ে যায়।
তোমার তুকের কাছে শৈশবরেখা।

লক্ষ্যভেদের সাথে ধাবমান ভেদ; মাছের চোখে দেখে টলটলে ছায়া, যুদ্ধ আর পাঁচপাতার বাঁশি।
পাতানো খেলার মতো জাদু, পূনশ্চ বাস্তব।

পলাতক তুমি- কোলাহল শেষে একাও তুমি।
বরফকলের কাছে প্রথম তড়িৎ।
কে কারে চিনি, অথচ- লাল হলে আমাকেই রামধনু বলে ডাকো।

স্পর্শ কর, কিছু মৌন ঝুলে থাক কাচের বোতামে।


পূনশ্চ

পূনশ্চ তুমি। এসো- এইদিকে ধ্যানবিন্দু, যুগপৎ স্পর্শ হই।

প্রশ্নবিদ্ধ গাছেদের মন, পাতায় পাতায় তারই মর্মর।
ডাক দাও বলে গণিতগুলো ছুটে যায়- যোগচিহ্নর মতো রাজহাঁস পাখি।
হিংস্র নয়, সিংহজুড়ে তোমার নির্জন; বিকেলের ডানায় তুমুল ছায়া।

ডালিমের সাথে যেটুকু লাল ফাটে, তার সহজিয়া ভোররাতের বাঁশি।
ভৈরবী শেষে কী রাগে বাজো তুমি!

অধিক রেখার পাশে আরও একরার দেখা হয়।
মিশ্রণে তরল ছিলে, আজ বিলম্বিত কর্পুর; নিঃশ্বাস ফেল আর উড়ে যাও।
যেমন- সাইরেন শেষে প্রতিটি বিমানই মূল্যহীন।


ডাকনাম

ডাকনামও একা।
কী তুমুল বোধ, পাতার অক্ষর ছুঁয়ে মিথুনরাশি।
অপেক্ষা অব্দি যেতে যেতে ফুটে থাকা জুঁইফুল, কেবল আয়ত চোখ।

যেতেই পারি, তোমার দূরত্বে এককোটি শ্লেষ, অপরাহ্ন আর জাদুঘর।
প্রতিবেশী বেতারে ছায়ার সানাই- ত্রিভূজ রঙের শৈশব।

তুমি ফেরীওয়ালা, অথচ- অজস্র নাম তোমার।

আমারও মূদ্রাদোষ আছে, অকস্মাৎ বেজে উঠি সংসারের মতো।
অরণ্যে রোদ্দুরগাছ-
ক্রমশঃ খুনি হওয়া, মূদ্রা ও রাক্ষস।

তোমার আয়ুরেখায়, সূর্যাস্ত কিছুটা নদ; পৌঁছাবার আগে কেবল ডুবে যায়।


লাল

তুমিই লাল।
স্বরবর্ণের আড়ালে প্রাচীনরেখা; ম্লান অক্ষরে হেঁটে গেছ দূরে।
একা এক ছায়া, স্বপ্নের পেছনে দৌড়ানো পারদবেলা।

অহেতুক সাঁতার শেষে ভেসে যাওয়া সোমবার। ফুটে থাকা জ্যোৎস্নাও কিছু ঋতুর কূজন।

ক্রম ও তল হয়ে ভোর অব্দি তোমার ত্রিভূজ। প্রচণ্ড শব্দে মৃত তুমি- শব দাও বলে প্রমিত ইহকাল।
হিংসার পাখিরা উড়ে যায় অপেক্ষার দেশে, ডানায় পরিবাহী রঙ।
তাকিয়ে দেখ, পাতার বৈঠকে নুয়ে পড়া গন্ধরাজ।

অথচ- তোমার লাল, বিস্ময় চিহ্নের মতো আজও অমিমাংসিত।


অহম

বদলে যায় ঘুম, অজস্র ভৌত আঁকা তল।
যতোটা ফোটে তার থেকে ম্লান কোন ফুল, ঝরে পড়া বসন্তে ক্রমাগত মোহ।

নিজের অংশ কুড়াতে কুড়াতে একোন অহমবেলা।
শত্রুর অস্ত্রে ধার দেয়ার মতো আত্মঘাতী তুমি, প্রতিটি মৃত্যুর পরে কী নির্মম ভায়োলিন বাজাও-
সমুদ্র ভাসিয়ে দেও স্রোতে।

প্রচ্ছদের আঁড়ালে লুকিয়ে থাকা রঙ, প্রশ্নবোধের কাছে সেও জমা রাখে বিস্ময়।
যা কিছু গতিশীল- তোমার আঙুলের মুঠোয় তাই উড়াল।

হাত পাতলে নীল, নীল আসে- আকাশ আসে না।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E