৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
এপ্রি ১৫২০১৭
 
 ১৫/০৪/২০১৭  Posted by
পারমিতা চক্রবর্ত্তী

পারমিতা চক্রবর্ত্তী

পারমিতা চক্রবর্ত্তী’র কবিতা ভাবনা :

আমার কাছে কবিতা নিঃশ্বাস নেওয়ার মত। কবিতা, যার কাছে আমার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত মিলে মিশে একাকার ! সমস্ত কোষে যাকে অনুধাবন করি, তার সাথে আমি রাত্রিবাস করি …

কবিতার মধ্যে আমি স্নান করি ৷

সমস্ত নিঃশ্বাস যেখানে স্তব্ধ হতে রাজি সে মুহূর্তে কবিতা’র পাত্রে বিষপান করি। আমার সমস্ত যন্ত্রণা যেখানে ডানা মেলতে হাজির ৷ শব্দ যেখানে চেতনা’র রঙ হয়ে মিশে যেতে চায় হাজার মানুষের গোপন আস্তানায় ৷

রাতের অন্ধকারে যখন পথ হারাই, গুন গুনিয়ে ওঠে, আমার বুকের গহীনে …

আমার যৌবন যখন নিঃস্ব, তখনও এসেছিলে আমার ব্যাকুল হৃদয়ে ৷ তুমি (কবিতা) নারী, না অর্ধনারীশ্বর কখনও প্রশ্ন করিনি নাকি পৌরুষত্বের সম্পদ ভাবিনি কখনও ৷

আমি জানি তুমি আছ আমার পুরানো অচল ঘড়ি হয়ে চলবে না জেনেও রোজ দম দিই ! আমার বুকে যে শান্তিনিকেতন (বোলপুর) বেড়ে উঠেছে সেখানে কোপাই নদী হয়ে বয়ে গেছ ৷
বসন্তে বারুদ হয়ে পুড়িয়েছ আমার পোড়া স্তন ৷

আমার একাকিত্বের জীবনে তুমি আছ শ্মশান হয়ে ৷ সবাই তোমায় নিয়ে গড়তে চায় ভবিষ্যত আমি … তোমায় ভাঙতে চাই ! ধ্বংস করতে চাই !

আমার জীবনে না হয় অভিশাপ হয়ে থেকো ৷ তবুও থেকো …
আমি বিষবৃক্ষে বপন করি তোমায় …

পারমিতা চক্রবর্ত্তী’র কবিতা :

১)

ধারাবাহিক স্মৃতি
……………………………………………

এক পাহাড় দেখেছিলাম কালিম্পং
মেঝে বসে
উন্ন্যাসিক বোর্খা খুলে
ধারাবাহিক স্মৃতি আঁচড় কেটেছিল
জলের রেখায়

তারপর গোটা দিন
চলেছিল ভাঙা রেলগেট জুড়ে
ভাঙা চুড়ির দোকানে’র পাশ দিয়ে
হেঁটেছিল পোষ্টমাস্টার

হালফেশানের খেলনায়
ভরেছে ঘর

স্পর্শটা আজ ইকনমিস্ট হয়ে গেছে …

২ ) সোহাগের বর্ম
……………………………………………

নীল ফানুস উড়িয়ে দিলাম তোমার ঠিকানায়
যে হাওয়া তোমার বুক ,তলপেট স্পর্শ করবে
প্রত্নতাত্ত্বিক ঠোঁট তার প্রতীক্ষা
করবে

দিনের আলোতে যাকে তুমি
নগ্ন ভাবো
আসলে সে সোহাগের
বর্ম পরে বসে থাকে রাস্তায়

জানি এ দেশে
দেশলাই জ্বলবে না !

পাথরে পাথরে ঘষা লাগবে

তাতে কি !
এ দৃশ্যে আদিমতা মুখ্য

৩)

লাল সাঁকো
……………………………………………

যে ঘোড়া চলে যায় লাল সাঁকোর পাশ দিয়ে বুকে গজকাপড় জড়িয়ে
কাগজওয়ালা, দুধওয়ালা ফিরে যায় কর্লিংবেল বাজলে
জমাদার এসে নিয়ে যাবে
ছেঁড়া ন্যাকড়ার মত ফেলে রাখবে
তোমার দরজার কাছে

কলের জলে রক্ত ধুয়ে গেলে ও
পিঁপড়ের ব্যস্ততা থেকেই যাবে
খুনির মত

৪)
……………………………………………

সব চরিত্র কাল্পনিক

আয়োজন থাকলেও বিসর্জন ছিল বড় প্রকট । যে হাওয়াকে তুমি সন্ন্যাসী জামা পড়িয়েছ তাকে আমি কাছে আসতে দিইনি ৷ তোমার ভালো থাকার গল্প আমি শুনতে চায়নি কোনদিন I আমার চোখে যে কাঁটাতার লেগে আছে তার আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘন করতে চাওনি ৷

রাতে ঘুম ঘুম চাউনির মত স্বচ্ছ ছিলে ৷ ভুল ছিল আমারই ! ধূমকেতুর পরিসরে বৃষ্টি পরেছিল সারা রাত ৷ হ্যাঁ কৃত্রিম বৃষ্টি ৷ যে বৃষ্টির জন্য খরা দেখা দেয় ৷

ভাবি ভালোবাসা নিয়ে কিছু লিখব । শীতকাল নিয়ে কবিতা লিখব !

কিন্তু চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাই এ ট্রেনের কামরায় তোমার টিকিট আজও কনফার্ম হয়নি ৷ তুমি ও সাধারণ কামরায় রাত্রীবাস করতে পারনি ৷

লেখা হল না আজও ৷

ক্ষত বিক্ষত হয়ে ও তুমি সিংহের মত আঁচড় কাটতে !

আজ প্রশাসন থাকলেও কর্মী নেই । সেই ঝুল বারান্দায় এখন আর দুপুর হয়না ৷ নীল নদীতে কেউ অার নীল জামা ধুতে আসে না ৷

নীল রং দেখলে আজকাল বড় ভয় হ্য় ৷ রেললাইনের নীলবগিতে হাত নাড়তে নাড়াতে সে দিন বৃষ্টি পড়েছিল দুচোখে ৷ সেই যাওয়া আজ ও থামেনি I

যে নাটকীয়তা মঞ্চে উপস্থাপিত হয়েছিল তার চরিত্রায়ণে তুমি ভুল করেছো ! আসলে তোমার জানা ছিল না নাটকের পরিচালকের নাম

৫)

মাকড়শার চোখ
……………………………………………

পর্দার বুকে আটকে মাকড়শার
বড় বড় চোখ
মেছো বিড়াল হেঁটে যায় হ্যামিলটনের
জমিদারি দিয়ে

ওরা মেঘ , না প্রাণী প্রশ্ন করে না
কেউই
শুধু
এবড়ো খেবড়ো জঞ্জাল পেরিয়ে
আয়েস করে …

এ হোটেলে ‘র মালিক পলাতক
হোটেল খরচা বেওয়ারিশ

৬)

নির্জনতা
……………………………………………

স্টেশন পেরিয়ে গুমটি হাঁটা দেয়
বহু বছর আগে
শিয়ালদহ থেকে ঢাকা অববি

পাহাড় ডিম পাড়ে স্থানীয়
রেশারেশির যত্নে
উপদ্রব জঙ্গলে …

সমাধি ভিড়ের কিশোরতায়
নির্জনতা খোঁজে

এ মুহূর্ত না হলে হবে
না কখনো …

এ দৃশ্যপটে প্রহরী ব্যক্তিগত অবসর
খোঁজে

৭)

যদি জানতেম …
……………………………………………

মশারির ঘেরাটোপ সরিয়ে বালিশ এখন সাদা কাপড় দেখতে শিখেছে ৷
নিভু নিভু আলোয় দেখা যায় একটি রোগগ্রস্ত বারান্দা থেকে …

– বহুদিন হলো অ্যালপাজোলামের ডোজ বেড়ে গেছে জানো ! স্বপ্নের পাহাড় দিয়ে বয়ে চলে গাঢ় নীল ঝর্ণা। পাহাড়ি ডিম ফেটে যায় কলমের বুকে ৷

– তুমি বলবে অসুখ ! আমার কাছে উদাসীনতা I কত দিন হল ও বুকে মাথা রেখে ঘুমায়নি ৷

– বলবে অসামাজিক ৷

বিড়াল মুখে করে নিয়ে চলে বিষণ্ণতার অন্তর্বাস ৷সময় যে খুব বেশি আছে তেমন নয় ৷

– সংক্ষিপ্ত করেছি পরিচর্যা !

– স্বেচ্ছাচারী রাত , স্বাধীনচেতা অপেক্ষা তোমায় দিলাম ৷

– তোমার মনি আজ ও নির্বোধ ৷

৮)

বিস্ফোরণ
……………………………………………

যেভাবে ডিমের খোসার মধ্যে বিস্ফোরণ হয় গতানুগতিক জীবনের
সব প্রতিকূল পরিবেশ থেকে একটা একটা করে আলাদা করি
বনভোজন

হিমেল হাওয়া গল্পে ধূসর জীবনানন্দ আবিষ্কার করে

তারপর

সেইসব চোরাই পথ থেকে শালপাতার
জঙ্গল বেড়িয়ে আসে
মুখ কুলকুচি করে

বারুদের মধ্যে যে টুকু দেখো সবই বয়ে
যায় সিন্ধুনদের মধ্যে

অতীতকে যদি অাহত মাংসের
পরিপূরক ভাবো
তবে ভবিষ্যত বলতে সেই
আহত রাত’কে বুঝি যার
গোপন সম্পাদ্য গণিতে পাওয়া
যায় …

৯‍)

সোহাগ
……………………………………………

উদাসী হাওয়ায়
উড়েছে চুল
চোখের আলসেতে যতদূর
দেখা যায়
কয়েকপশলা বৃষ্টিতে ভিজেছে বুক

কলমি শাক আর বুনো ফুলের
সার বেয়ে হেঁটে চলে
হরেক রঙের শিয়াল
আমার অর্ধেক আকাশ
জুড়ে থাকে
তোমার চিবুকের শাল ,পলাশ ,
পিয়াল

তোমার ঠোঁটের আলতো
ছোঁয়ায় বনপদ্য হয় রক্তিম
যা লেখা আছে মহাভারতে
তা আছে তোমার সর্বাঙ্গ
শরীর জুড়ে

পূর্ণিমার চাঁদে লেগে থাকে
সোহাগের অন্তঃসত্ত্বা উড্ডীন

১০)

নীরব দুপুর
……………………………………………

পলাশের গায়ে যে রঙ লেগে থাকে
বসন্ত ভেবে সবাই যাকে
ভুল করে

তুমি তাকে চৈত্রের সর্বনাশ
নামে ডাকো
আমি …
সে কথা থাক

যা কিছু প্রান্তিক এই ফাগুনে শেষ
হয়ে যাক
কাল থেকে বর্ষা আসুক
কঠিন দুপুরবেলায়

ভিজে যাই আমি , তুমি আর আমার
মেয়েবেলা

১১ )

দীঘা থেকে বলছি
……………………………………………

সেই একই হাত ছোটে কাঁকড়ার মত
এগিয়ে চলে বোতলের মধ্যে
যেখানে সাময়িক মুহূর্ত কাটে রাতের অ্যাসট্রে হাতে
কখনও বা শতাব্দীর বুকে ছুরি মারে
কখন পথ চলা ঝিনুকে পা কাটে

যে সৈন্যসামন্ত নিয়ে দখল করার কথা
তারা রোজ জঙ্গল দখল করে
বারান্দা বন্দর থেকে ফিরে যায়

ছোট ছোট মছলির মধ্যবর্তী দূরত্ব বাড়িয়েছে বড় মাছ
অনেকদিন হল আবেগে গা ভাসানো
এবার একটু থমকানো দরকার …

দুপাড়ের ঝাউবন গ্রাস করে বাড়িঘর
যা কিছু ভাবি আমার
তা কি কখনও আমার ছিল …

ঘুমন্ত কাজুবাদাম তাকিয়ে থাকে
গোয়েন্দার মত …

১২ )

রাতের এলোমেলো ভাবনা
……………………………………………

সমাধি হেঁটে চলে উইলো পথ বেয়ে
বিস্মৃতির শব্দ কান আটকে যায়
গাছের বাদামের খোসা ওড়ার গল্প
আসে না জানলায়

নৈঃশব্দ্য ছুঁয়ে যায়
মধ্যদুপুর অবধি
এখানে যুবক , যুবতীকে দেখা যায়
প্রচ্ছদ হতে

শব্দ সরে যায় মাউথপিস থেকে
চিতার গরম হেনস্থা করেছে আমায়
বহুবার

সভানেত্রী পদে বসিয়ে রেখেছে ….
ঘাতক কাঠ…….

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E