৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
মার্চ ১৫২০১৭
 
 ১৫/০৩/২০১৭  Posted by

পাপড়ি গুহ নিয়োগী’র একগুচ্ছ ছোট কবিতা


খোলস

ক্রমশ লুপ্ত হচ্ছে কথা
শব্দ থেকে একা জন্ম নিচ্ছে
শ্বাসনালীর ভেতর থ্যাতলানো কীসব
গোঙাচ্ছে …

বিছানা রাতের ডুকরে ডুকরে হাঁপায়
সম্পর্কগুলো এলোমেলো হওয়ায় ভাসছে

ব্যক্তিগত তবু মুহূর্ত
সাজিয়ে রাখছি ঝিনুকের খোলস

তবুও
স্বপ্নে নৌকা ভিড়ছে ঘাটে


নাম

ক্রমশ, শূন্যের পেতে ঢুকে পড়ছি
গভীর, নির্ভুল অন্ধকার ঠিকানায়

একবার শূন্যতা গুলোকে স্পর্শ করো
তোমার হারিয়ে যাওয়া আকাশকে

যদিও তোমার চারপাশে — বহিরগত
তবুও ভেতরে ক্রমশ গলে যাচ্ছে বরফ

শূন্যতা আর দীর্ঘশ্বাস
এখন
তোমার, আমার নাম


পরিযায়ী পাখি

আমার এই ছোট্ট পৃথিবীতে
তুমি পরিযায়ী পাখির মতো এলে

আমি তো সহিষ্ণু গাছ,
যার শাখায় শাখায় ক্ষণিকের ঘর তোমার
কল্পনা নদীটির তীরে … শূন্য অনুভূতি
অথবা
আজ আমি তৃষ্ণার্ত চাতক


রিংটোন

ছেলেটি যখন নদীর ভেতরে ডুব দেয়, দেখতে পায়
সারাগায়ে রিপু সেলাই। আর হাতের মুঠোয় মৃত
জোনাক।

ছেলেটি চিৎকার করে ওঠে … নদী ফিশফিশ
গলায় বলে, এতদিন তো আত্মহত্যার খসড়াই
বানাছি।

শুধু ঋণ থেকে গেল মফস্সলের রাস্তার কাছে
রিংটোনের কাছে

তুমি ফিরে যাও … আমাকে মৃত্যু
গোছাতে দাও


জলছবি

চাষের চেষ্টা করছি বহুকাল
ফোঁটা ফোঁটা রক্ত আর জল দিয়ে
কত শতাব্দী এভাবে মৃত ছবি আঁকবো
রাস্তার শেষে দেখি
আমারই ধ্বংসাবশেষ আর ছায়া ছায়া

প্রতিবিম্ব
গর্ভগৃহ মেনে নিচ্ছে
ধেয়ে আসছে
নৈঃশব্দ


বিনির্মান

এইসব
রাস্তাও আজ বাঁক নিচ্ছে আমার ভেতর
স্বীকৃতি নেই জেনেও
আকর্ষণ
স্বপনে চুম্বন
বদলে দেয় রসায়ন
যত দূরেই থাকো
ক্ষরণটুকুই তো
বিনির্মান


দেহঘড়ি

শহরে নতুন ঘড়িঘর
এখন শূন্যে সময় ঝুলছে
জেব্রা ক্রসিং-এ তোমার পরিবার
বাউল ক্রমশ ক্ষয়ে যাচ্ছে
অপেক্ষায় …
দেহঘড়ি টিক টিক


পলি

এই শুরু, খেয়ালের
না বলে চলে যাচ্ছ
অভিমান … সম্পর্কে দেয়াল
নদী তো ক্লান্তই হচ্ছে
এখন জলের কী হবে?
অপেক্ষা…


মুখোশ

অনেক মুখোশ অলিগলি চতুষ্কোণ ঘরের ভেতর
গলে যাচ্ছে রং… ফেরানো যাচ্ছে না
এইসব মুদ্রা, ঘুমের রেখায়
মুখোশে মুখোশ, গান বাজে
আমি, ধরতে পাচ্ছি না

১০
শকুন

আমি ও অশ্বথ্থ দিব্যি তো আছি
কয়েক মাইল দূরে শুধু কথা… উৎসব
অহ্লাদের ডাকগুলো বুড়ো হয়
ভারী হয় নিশ্বাস, দীর্ঘ
তারপর
গভীর ঘুমের মধ্যে দেখি
শত লোভী চোখ, খোঁজে
শকুন
আমারই শবদেহ

১১
বাঘছাল

দীর্ঘ একা শুয়ে আছি, সময়
বিছানায়, বিবাহ
সবুজ স্তনের গান… পৃথিবী
নক্ষত্র উদাস বুকে শুয়ে আছি
পাখি আসে ইস্পাতের ঝিলে
মাখে আলো, মাখছে জোনাকির ফুল
গন্ধের কস্তুরী … আমি আজ নিরাভরণ
উড়িয়ে দিলাম বাঘছাল শকুন্তলার

১২
কান্না

কান্না ঢুকে পড়েছে, ক্যালেণ্ডার
হয়ে উঠেছে ডাইনির বিছানা
আমি আর কান্না আজ ঘুমিয়ে পড়ব
ক্ষমা জানি না
যে আছে পেণ্ডুলামের, জলসায়

১৩
দাগ

চাকা আছে কিন্তু নির্বিকার
জলের পিপাসা হয় না
টিলায় টিলায় রুখু সবুজ ঘুমিয়ে পড়ছে
ইচ্ছে নেই, আছে, জীবন আমার
তবু বাতাস অক্সিজেন ঢেলে দিচ্ছে আমার পারদ
তবু কেন কফি কাপে ব্রাজিল এসেছে

র কফি
ব্ল্যাক ব্লু
অর্গানিক
তুমি আমি
দাগ

১৪
বসতবাড়ি

বসতবাড়ি আলাদা বলেই কি অন্য পরিবার!
মনের ভেতর গন্ধ খেলা করে জুঁই-চাঁপা
আটচালা ঘর রোদ্দুর আর পুঁইশাখায় চাঁদের আলো
ওলো সই আমার ইচ্ছে করে তোদের মতো মনের কথা কই
পরিবার ভেঙে যাচ্ছে বাঁক নিচ্ছে নদী
কত ক্লোন কত বিরূপ বিকৃতি
স্বপনের চুম্বন অনেকটা আখপানার মতো
বসতবাড়ি আলাদা বলেই কি অন্য পরিবার!

 

কবি পরিচিত

পাপড়ি গুহ নিয়োগী

পাপড়ি গুহ নিয়োগী

পাপড়ি গুহ নিয়োগী। জন্ম ২১ শে সেপ্টেম্বর। ঠিকানা- ২১৩ কালিকা দাস রোড, নতুন বাজার, কোচবিহার।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : বাঘছাল গন্ধের মেয়ে (ধানসিড়ি – জানুয়ারি, ২০১৬)।

সম্পাদনা :  তোর্সা

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E