৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
মার্চ ১৫২০১৭
 
 ১৫/০৩/২০১৭  Posted by

পাবলো শাহি’র ২২টি কবিতা
“পরাবাস্তব জামার বোতাম” কাব্যগ্রন্থ থেকে

একুশ

বস্তু পৃথিবীর দিকে মানুষের যদি কোনো টান থাকে, তাহলে বুঝতে হবে পৃথিবীর প্লেটে মানুষ কেবল কয়েক খানা লোভনীয় মাংসের টুকরো। কংসনদী থেকে যাকে ধরে এনে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে জ্ঞানের টেবিলে। এই টুকরোগুলোর দীর্ঘনিঃশ্বাস থেকে যে বেদনা জাগ্রত হয়, অন্তর্দাহে তাকে পাওয়া যাবে বিষণ্ন ভাবে চায়ে চুমুক দেওয়া তোমার ঠোঁটে। জীবন মূলত অন্তিম প্রণয়ের চিঠি। যা তুমি লিখে চলেছো অনাগত প্রেমিকদের উদ্দেশ্যে। কাটা তরমুজের লাল রং থেকে তুমি যদি শিক্ষা নাও বুঝতে পারবে কতটুকু ভালোবাসা থাকলে মানুষ হৃদপিণ্ডে, স্নায়ুকোষে বজ্রপাত ধারণ করতে পারে। আমার বুকের ভেতর কেবল তোমার পতাকা অর্ধনমিত ভাবে ডানা ঝাপটায়। আমি বুঝে নেই কোন খানে মুক্তি। নারীর নগ্ন দেহের ব্রহ্মাণ্ডস্বাদ, নাকি পৃথিবীর প্রণয় ভিক্ষায়; যার জন্য মানুষ ফকির হতে শেখে।

২৫শে অগ্রহায়ণ ১৪১৫

বাইশ

প্রত্যাখ্যান অনিবার্য জেনেও পৃথিবীতে মানুষ তারই বাড়ানো ভগ্নস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। হয়তো কখনো কখনো সে আত্মম্ভরী কবি হয়ে ওঠে, কিংবা ক্ষুদ্রাকৃতি পাগল বিশেষ। তার আকাক্সক্ষা, তার ভালোবাসা এক চাপা নৈঃশব্দ্যের ভেতরে বড় হয়। ভাবে, হৃদপি-ে যে দীর্ঘশ্বাস যে ভালোবাসার বুদ্বুদ থাকে তা চোরাচালানকারী নিয়ে যায় সীমান্ত চৌকিতে। হয়তো কবিদের চোখ থাকে বিলুপ্ত ইতিহাসের দিকে। যেখানে একটিন কেরোসিনের বদলে ‘তুমি’ এই নাম লেখা ছিল। আদিম মানুষেরা তাই অগ্নিকু-ু জে¦লে আজও অপেক্ষা করে, কখন তাদের নৃমু-ের অন্ধকারে জমা হবে গভীর মর্মার্থ। এরপর থেকে মানুষের পাপ নিয়ে, ঘোড়া নিয়ে, ঘাই হরিণীর নাচ নিয়ে- আমরা আজও পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রেখেছি- কুষ্ঠরোগীদের সংগীতের মধ্যে। হয়তো মানুষের তৈরি বজ্রযোগী গ্রামে হবে মানুষের নোতুন জীবনের অধ্যায়ন। এই কথা ভেবে এখনও আমরা প্রকৃতির কাছে সরল হয়ে প্রার্থনা করি।

২৬শে অগ্রহায়ণ ১৪১৫

তেইশ

বিষণ্ন পাগলেরা পৃথিবীর গলিতে ঘুরে বেড়ায়, তাদের হাত থেকে নিজেকে কতটুকু বাঁচাতে পারবো আমরা। তার থেকে ভালো চলো আজ অন্তর্দাহের দিনে পাগলের মতো স্যানাটোরিয়ামে গড়ে তুলি দীর্ঘতম দিন। এই বোবাদিনে একমাত্র পাগলরাই আমাদের বন্ধু হতে পারে, থাকতে পারে চিরকাল আমাদের স্বপ্ন, নারীসঙ্গে, রুদ্ধকণ্ঠ গানে কিংবা তরমুজের কাটা হৃদপি-ের ভেতর। মানুষ নিশ্চয় একদিন বুঝে যাবে, মানুষ নিশ্চয় একদিন ঠিকানা পেয়ে যাবে আত্মহুতির? কেননা, তারা ভুলে গেছে মাছের ঝাঁক মানে কী? তারা ভুলে গেছে বৃক্ষদের প্রেম, নদীর উন্মুক্ত স্তনের কথা। তারপর আমরা প্রতিদিন তাড়াবার চেষ্টা করছি- আমাদের বুকে বসা ডুমো মাছি। আমারা হাক দিয়ে বলছি, বিষণ্ন পাগলেরা নারী সঙ্গ চায়, বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর ভালোবাসা চায়। তারপরও এতো বছর পরও তুমিও আপেল ভেবে কামড় দিলে ইন্দ্রিয় বেদনায় আর আমি অন্তিম স্যানাটোরিয়ামে গুপ্ত সংকেত জানতে ঢুকে পড়ি। দেখি, পৃথিবীতে যা কিছু অমৃত তার মুক্তি আছে বিষণ্ন পাগলের নারী সঙ্গ প্রার্থনার মধ্যে।

২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪১৫

চব্বিশ

বক্ষের অর্ধপোড়া চাকুটাকে ধার দিতে গিয়ে দেখি, কবিরা ঘড়ির আত্মা থেকে দূরে থাকে। আর ঘড়ি মানেতো হৃদপিণ্ডের দৈর্ঘ্যপ্রস্থ, সর্বনাশের বড় হওয়া। মৃতদেহের ভেতরে যে প্রকৃত দুর্ভাগ্য বাসকরে তাকে দুধ-কলা দিয়ে পোষা, সার্কাসতাবুতে সেইতো প্রকৃত বিধান। মানুষতো বুকের ভেতর কাঁটা নিয়ে ভালোবাসা খুঁজে ফেরে। খ্যাপা মেঘের লেজে, বজ্রের দেহসন্তাপে আর পৃথিবীর প্রথম মানব হত্যার মুখোমুখি। তবে, ভালোবাসাগামী পৃথিবীর দিকে তাকালেই বুঝা যায়, এইসব বেদনাপোড়া পৃষ্ঠাগুলিই মৌলিক? কেননা, পাপ মানে শাদা শাদা মানবশিশুর দেঁতো হাসি আর পাগল মানে ছুরিবিদ্ধ দেহে কবির জীবন, মৃত্যুর গুঁড়ো গায়ে মেখে হেঁটে যাওয়া ভুল। মৃত্যু মানে তো জীবনেরভূগোল, পাপ মানে তো নির্বোধ রাতে ঘরে ঢুকে পড়া বেড়াল আর জগতের অর্থহীন কথা মানে রূপকথার পাকস্থলী। যেখানে লুকিয়ে থাকে কাহিনী, পাগলামীর নিরক্ষর ডাকবাক্স।

১৪ই ফাল্গুন ১৪১৭

পঁচিশ

শালবনে পড়ে আছে কলম ও ছুরি, তারা মহাকাল ধরে কেটে চলেছে পৃথিবীর আয়ু। একে বলে আধুনিক সময়, খ্রিষ্টীয় সভ্যতা যাকে হাজির করেছে রূপকথার বদলে। তুমি আজ নিশ্চয় এই আত্মহুতির প্রকৃত রেখা নিয়ে কথা বলবে। আমি এইসব বিষয়ের ক্লীবতা নিয়ে হিজড়াদের বিতর্ক শুনেছি। তারা বলে- বোতলের ভেতর এতো চাঁদ কখনো দেখিনি, এতো মঠমন্দিরের জোকার, এতো আলপিন হারানো শৈশব। তারপরও বোবাদের অভিধান হাতে বিষণ্নতাকে মাথায় চড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে মহিলা, তার জন্য তাম্বুল কিনি আমি মঙ্গলগ্রহ থেকে। আর ধাঁধাগন্তব্যে দাঁড়িয়ে তার জন্য প্রার্থনা করি; বলি, কী যেন বলার ছিল, সেই কথা…। চিতাকাঠে আগুন জ¦ালালে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া প্রেমিকের বক্ষ পুড়ে যায়। তবু কাঠের বন্দুক হাতে পশুশিকারী মানুষের দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যে লুকিয়ে আছে প্রাচীন পৃথিবীর ইতিহাস। এত জেনেও সারাক্ষণ ফুল আর আধুনিক অপরাধ বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে থাকে চৌকিদার। তাকে এবার বলো, পাহারা উঠাতে, কেননা আজ লেখা হবে- মানচিত্র ও ষড়ভূজাকৃতি নারীদেহের ব্যাখ্যা।

১৫ই ফাল্গুন ১৪১৭

ছাব্বিশ

হয়তো কোনো একদিন অসুখের তপস্যা শিখেছিল ছাতিমের গাছ, সেই বিষাদের কথা ভেবে তোমার সঙ্গে কথা বলি। হয়তো কোনো একদিন বাইজির ঝুমুরের গল্প ছড়িয়েছিল মহেঞ্জদারোর রাত; আমি সে সাপের আলাপের হাত ধরে আর্ত বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা নেয়। যে নারীমৃগ একা একা পুড়ে মরে তার সংকেতের পৃথিবীতে এভাবেই গল্প সাজাই। তারপরও একদিন বিষাদমাখা ডুমুরের সঙ্গে কথা হলো, কথা হলো প্রেমপ্রার্থী লাল মোরগের সাথে। এইসব মর্মবিরহের কথা জানে ঝাউবনের ডাইনি বুড়ি। সে বলে, প্রেমিকারা যাবে হারানো দিনের ব্যথা বিজ্ঞাপন সঙ্গে নিয়ে পূর্ণবয়স্ক গাবগাছ আর তাদের সঙ্গি হবে ছায়াযুবতীর বাষ্প ও কার্বন- আর কেঁচোদের কাছে শেখা যৌনজীবন। কেননা, যারা তাকে ভালোবাসে তারাতো পাঠাদের বাগানের ঝুমঝুমি বাদক। তারপর মানুষ এই জোকারের নাম দিয়েছে কবি, মূলত সে বীতনিদ্র বিষাদবৃক্ষ। কারণ ভালোবাসার নামে কোমলমতি ছুরিতে যে হত্যা করে- নারীর গ্রীবায় রতিউল্কা আঁকা, দৈবজীবাশ্ম।

১৯শে ফাল্গুন ১৪১৭

সাতাশ

বক্ষেরভূগোলে সেই স্মৃতি মকরক্রান্তি হয়ে আছে, দিব্যি তার নাম ও অভিধা নিয়ে তর্ক চলছে আজ সারাদিন। এসেছে আর্ত ব্যাকুল ছাতিমের গাছ, তার তলে দাঁড়িয়ে তুমি বললে, মানুষ প্রেমে পড়লে আগুন পানি এক সঙ্গে খায়। কোনো একদিন এই নামরূপ জীবকূলের অধিপতি মনুষ্য হয়তো ভালোবাসার নামে নিরর্থক ক্রিয়াকৌশলের ফাঁদে আটকা পড়বে। নভোযাত্রীদের ভালোবাসার এইদিন শেষ হয়ে আসছে, কোনো এক দৈব ঝরাপাতা এই কথা বলতে বলতে তোমাকে বললো, বাদামী শেয়াল আমাদের খুব কাছের বন্ধু; বিষুবরেখা নিয়ে তার তাত্ত্বিক গবেষণা আছে। আজ মোমবিরহের দিন তার নরম নরম পাণ্ডিত্য গলায় গুপ্তডুমুরের  আলাপ শুনবো। রাতে সাধারণত আমি ব্যথাযুবতীর নিঃশব্দ হাহাকারের মধ্যে পড়ে যাই, দিনে সংহিতা রচনা করি। তারপরও চাঁদ নিয়ে ইদানীং পড়েছি বিপদে। আধুনিক কবিতায় তাকে বাদ দিতে গিয়ে কোনো এক বিকেলে আকাশে চাঁদ উঠতে দেখি।

২০শে ফাল্গুন ১৪১৭

আঠাশ

অসময়ের এক রূপকথার ঘোড়া, যে কখনো আগুন দেখেনি ব্লাশফেমি দেখেনি, সে এসেছে পৃথিবীর কতটুকু অসুখ অথবা পাথরের বক্ষে কোন শোকজল আছে কিনা খোঁজ নিতে। জগতটা ভালোবাসার অদ্ভুত সিঁকি আধুলির মতো; চুমু পুড়া পৃথিবী নিয়ে তার সাপ খেলা চলে। মুদ্রা ঘোরানো হাতে ঘুমের ভেতরের সুড়ঙ্গ দিয়ে ক্লীব মানুষরা এদিকেই আসছে, তারা ঘুঘুমনে শুনতে চায় বাগেশ্বরীর কথা। তারপরও যারা তোমার বক্ষে আলপিন দিয়ে চাঁদ বিঁধে রাখে, তাদের শোনাও অপরাধ বিজ্ঞান। আর দুপুরে জ্যোৎস্নার উঠলে বন্দুক হাতে নিয়ে চলো মনশিকারে বেরুই। তারপর পৃথিবীর আয়ু নিয়ে, আ‎িহ্নক গতি নিয়ে কথা বলি।

তুমি গীলগামেশের কাব্য পাঠ করতে করতে বলবে, দেখো রতিউল্কার মশাল কেমন পুড়ে যাচ্ছে আমাদের গুপ্ত সরোবরে।আমি বাদামী তাবুর কাছে দাঁড়িয়ে বলবো; বন্দুক হাতে যে শিকারীর ঘুমপায় সে মূলত প্রেমভিখারী। তাকে অসুখী আয়নায় নাম লিখতে নিয়ে চলো, দেখবে তার চোখে ভেসে উঠবে ছাতিম গাছের নিচে লুকানো নিয়ান্ডারথাল নারীর বিষাদ।

২৩শে ফাল্গুন ১৪১৭

ঊনত্রিশ

দুঃখের ভাঙা হাওয়া এইখানে সংকেত পাঠায়। ডুমুরের পোশাক পরে তার শুরু, তারপর সে বলেছিল কাঠ বিড়ালীর মৈথুন গল্প। গল্পতো মিথ্যার জগত একথা জেনেও তোমার মনের মধ্যে অসুখী আয়না বাসা বেঁধেছিল। ভুল গল্পটা না হয় হিজড়াদের সঙ্গমের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তবু ইতিহাস থেকে রাধা চলে যায় ঝরেপড়া পাতার আড়ালে। দৈব্য এই বিবাহ দিনে যে ডুমুর পড়েছে পুকুরের জলে, চেয়ে দেখ দুলে দুলে তার নির্বাসনে যাওয়া। চারিদিকে সারি সারি পাকান পিঠে ও ছেলে কুড়ানো গল্পের বুড়ি। আর গল্পের ঝুড়িতে রাখা হাতগুলো ক্ষেত থেকে তুলে আনে কিচ্ছায় শালগম। এই ঝরা পাতাবাহারের কাহিনী শুনাতে শুনাতে তুমি বললে, ভালোবাসা মানে তোমার সঙ্গে বেঁচে থাকা। আমি বললাম, শিশুবালিহাঁসের চোখের মধ্যে থাকে লোমশ ঘটনা, বুকের মধ্যে থাকে আগুন ও পতঙ্গ। একথার উত্তরে হিজড়ারা বিষাদের বাজি ফোটায়, কেননা তাদের বক্ষের বনে পড়ে থাকে কোনো এক অচেনা সুখের অভিধান।

২৪শে ফাল্গুন ১৪১৭

ত্রিশ

পাকড়গাছে ঝুলে থাকে ছায়াযুবতীর আয়না, এই গুপ্ত কথা জানবারপর পৃথিবীর আর ঘুম আসেনা। তাই পাতার আড়ালে পুড়ে যেতে থাকে বিষাদের পোশাক। তুমি বললে, এসব রূপকথা শুনেছি জ্ঞানী বৃক্ষদের কাছে। আমি বললাম, যতদূর চোখে দেখা যায় ততখানি মাটি ফুঁড়ে তুলে আনো টুকরো কব্জির ভালোবাসা। আর যারা খোঁজে কাম, তাড়না ও জিপসির মুখে ছড়ানো আক্ষেপের ভাষা- তাদেরকে নিয়ে যাও অনন্ত জুমচাষী রমণীর কাছে। কোনো এক বিচ্ছেদের বিকেলে এই কথা ভাবতে ভাবতে আমরা প্রাগৈতিহাসিকের মাথার খুলিতে ঢুকে পড়ি। কিন্তু মুশকিল হলো সেখানে কাগজের তৈরি জোকার সুতোকাটে ঘুড়িবিচ্ছেদে, মনেরপাথর ভেঙে জল্লাদ বানায়। তুমি বললে, জল্লাদটাকে পর্ণকুঠিয়ে নিয়ে গিয়ে ভালোবাসা দাও। জলে ডুবাও, আগুন মুখে দাও, দেখবে সে প্রেমিকার চিঠি দিয়ে বানাবে পূর্ণবয়স্ক কাগজের ছুরি।
আর তা দিয়ে কেটে ফেলবে রতি, দৈব বিরহ আর জেব্রার যৌন সুখ দেখা অসুখী মানুষের মন।

২৫ শে ফাল্গুন ১৪১৭

একত্রিশ

রূপকথার নারীকে এক অনাদি গুপ্তডুমুর থেকে আলাদা করতে গিয়ে একটি প্রাচীন কথা মনে হল। তুমি তো ফুল আর কাঁটাকে আলাদা করতে পারো না। তুমি তো মন আর কীটকে আলাদা ভাবতে পারোনা। বরং যখন দেবদূতেরা হেঁটে যায় তখন তোমার মনে হয় সেটা গোলাপের চলমান শব। তখন তোমার মাথার ভেতর থেকে সুড়ঙ্গ বেয়ে নেমে আসে এক টুকরো চাঁদ কিংবা তোমার বক্ষে ভেসে উঠে প্রেমিকার হারিয়ে যাওয়া চিঠি। আর জানি, কবি আর পাঠক পরাবাস্তব জামার বোতামে খোঁজে একখণ্ড মাংসউদ্ভিদ। আসলে ‘তুমি’ অর্থাৎ নারী এক অসুখী মাংসের নাম। প্রাচীন গীর্জার সাধুসন্তরা যার ভয়ে কাঁপে। আর এক তেপান্তরে তার জন্য একা দাঁড়িয়ে থাকে গেরস্থের জামগাছ। মূলত এই গল্পে রূপকার যে নারীর কথা বলা হল, তার নাম চাঁদ নয়, নির্জন শালবনও নয়, কেবল তার নাম রাখা যেতে পারে এক ব্যথাহত মরমীপুষ্প।

২৭ শে ফাল্গুন ১৪১৭

বত্রিশ

আমি তোমার কাছে প্রশ্ন তুলে দেবো আর তুমি উত্তর নিয়ে আসবে। তারপর আমরা এই প্রশ্ন উত্তর দিয়ে আহার করবো। আমি সোপ্তিক আর তুমি কাব্যভজনা। এই কথা বলে পঙ্ক্তিতে ম্লান এক বিকেল। অথবা যতটুকু জলপাই গাছ হতে পারলে সত্যের কাছাকাছি যাওয়া যায়, তা না ভেবে একটা উজ্জ্বল মাছি সোজা হাঁটতে থাকে তোমার অন্ধকার পা-ুলিপির দিকে। তুমি ভাবলে ব্যঞ্জনবর্ণগুলি যদিও সাপঘরে আলো জে¦লে থাকে। ফলে মহাজাগতিক মুহূর্তে তোমার বক্ষের আগ্নেয় কথাবার্তা লিখে রাখো; যার নাম ডালিমকুমার দিয়েছিল ‘কাজলরেখা’। এই বিদ্যাশিক্ষা থেকে আমি কাঁকড়ার অনুসরণে বহন করে চলি- তোমার একখ- ব্র‏হ্মা- নারীদেহে। আর বারবার রাশিবিজ্ঞানের মুখোমখি দাঁড়িয়ে মৌলিক প্রশ্ন ভুলে তার বদলে মুখে আনি ইউক্লিডের উপপাদ্যগুলি। যেখানে লেখা আছে এক অধিবিদ্যা, যার নাম ‘তুমি’ অথবা নিরন্তর ছাতিমের গাছ। তারপর জতুগৃহে সিদ্ধান্ত হল জবাফুলকে সবাই পুরনো নামে না ডেকে এখন থেকে ডাকবাক্স ভাববে আর তামামুদ্রা হাতে যে আদি পুরুষেরা প্রেম কিনতে আসবে, তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে কালো রমণীর চিঠিভর্তি ড্রয়ার।

২০শে চৈত্র ১৪১৭

তেত্রিশ

একটা গল্প চিন্তার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে কলা বেঁচতে হাঁটে যায়। এই হাঁট মানে তো বাজার নয়, একটা চিনাপুতুলের মনের খেলা। যেখানে বেঁচা কেনা হয়, তোমার পুণর্পাঠ আর আমার বিষণ্নতার ব্যাসার্ধ। পৃথিবীর এই সারাজীবনে এরকম গল্পই বলে চলেছি আমরা। তারপরও এই অধিপাঠ-চর্চাকেন্দ্রে প্রেম এক অলৌকিক মনের লৌকিক ক্ষতচি‎হ্ন। তুমি এতদিন ধরে এই    চিন্তার আতাভর্তি গাছ দিয়েছো আমাকে। আমি অক্ষর গুলো খুলে ফেলে শাঁসটুকু দিয়েছি পুত্রকন্যাদের। এখন সাধুর হাটে চলো কথা কেনা বেঁচা করে আসি, ফেরি করি ভাবের বিহঙ্গ। এইসব কিছু জেনে শুনে তুমি বললে, গভীর রাতে কথা ও ব্যাখ্যায় লালডুমুরের ভূমিকা অনেক। আমি নামের ভেতর লুকিয়ে রাখা অনাদি গাছের কথা ভেবে বললাম, সম্ভবত প্রাচীন গাছটির আদিনাম ‘দুঃখবৃক্ষ’। কোনো একদিন হয়তো তার বক্ষে আমরা আঁকতে পারবো প্রেমিকার জামার বোতামে হারানো বজ্রহত কথামালা।

২৩শে চৈত্র ১৪১৭

চৌত্রিশ

আজ বিসর্গ বর্ণ থেকে বিসর্গ হয়ে দুঃখগুলো যুক্তিশৃঙ্খলা ছাড়া বেরিয়ে আসতে থাকে। যারা স্বেচ্ছাপ্রহরী বাতিলপৃথিবীর, তারা এই বর্ণ নিয়ে সাপলুডু খেলে। নরনারীঘেরা প্রাচীন এই বারান্দার নাম অর্ধপোড়া ছাতা। যদিও প্রেকিকেরা এই বিষণ্ন পথে খোঁজে গোলাপের পাপ। আর পাখিরা যে কষ্টবার্তা বয়ে আনে, তা পড়ে প্রেমপ্রার্থীরা হয়ে ওঠে অনাদি এক বক্ষপাঠক। তুমি এইসব কিছু জেনে তর্ক যুদ্ধের নামে আমাকে বলো, প্রেম নারীর মতো নিজেকে জানে না তবু ফোটে অধিবিদ্যা স্কুলে। আমি মূলত প্রেমিক নই, তোমার চিন্তার মেটাফিজিক্স। মেঘে মেঘে ফুটি, বিষণ্ন আকাশে হেঁটে হেঁটে ঢুকে পড়ি তোমার প্রসাধন বক্সের রতিহর্ষ কোণে। তারপরও রাজার ছোট মেয়ে সেজে তোমাকে দেই লবণ ভালোবাসা। এই কথা বিশ্লেষণ করে তুমি আমার নাম রাখো ‘দীর্ঘশ্বাস’। আর নিজেকে তুলে দাও সাথী হারা পাখি-বিশেষজ্ঞদের হাতে। যদিও এর টীকা ঢিপ্পনী পড়ে শিকারী মাংসাশী সমাজ ঠিকই তীরবিদ্ধ করে তোমার প্রেমিকা নামক সারমর্মটুকু।

২৫ চৈত্র ১৪১৭

পয়ত্রিশ

যে আয়াতন নিয়ে পৃথিবীর খেলা, তার কথা কী তোমার মনে আছে; আমি গোলার্ধের ছায়া কেটে কেটে তোমার সেই দৈর্ঘ্য, প্রস্থে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম। তুমি সর্বময় আর প্রাণধিক, রসালো প্রেমের পোকা খুটে খুটে তোমার চুল, গ্রীবা থেকে ধরে এনে আমার বক্ষে রেখেছিলে। আমি ভাবলাম হয়তো পোকাগুলি জীবনের মরণ, ওইটুকুই- পায়ে পায়ে ছেড়ে দিয়েছি ডাইনি ও শাকচুন্নিদের পথে। কেননা বেঁচে থাকা মানে বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে পৃথিবীকে দেখা, কাগজের মমি দিয়ে মরণকে বাঁচিয়ে রাখা। একথা শুনে কে যেনো বলেছিল রাত্রিগন্ধে পুরুষরা জেগে থাকে আর বক্ষ সুড়ঙ্গে মানুষ ও মহিষের রক্তে লেখা হয় অদ্ভুত রঙের ছাতা। দেখো, আমাদের অন্তর গাছে লাল পিঁপড়ের আনাগোনা- হয়তো দেয়াল ঘড়ির মতো পিঁপড়েরা হয়ে ওঠে খলপৃথিবীর কবি। এই কাহিনীর পর ব্র‏হ্মাণ্ডের ঝাঁপিখুলে আমি দুধ কলা দেই, ভাবি গল্পের বাক্সে যত বিচিত্র কথারা আছে- তারা দিকে দিকে ছড়াবে এই কাহিনী। বলবে, লুকিয়ে থাকা কবেকার মেঘ আর জেব্রাশিশুর শেষ পরিণাম।

২৭শে চৈত্র ১৪১৮

ছত্রিশ

প্রকৃত আত্মারা উন্মাদ আর দুর্ভাগা, এই শাদাকালো সত্য নিয়ে আর কোনো দিন কথা বলা হল না আমাদের; তার থেকে বরং আমাদের ভালোবাসাকে জল খাবার দিয়ে ম্যাচবাক্স বানিয়ে তুলি, তুমি তাতে পিঁপড়ের ডানাদাও আমি তাতে হেরিকেন জে¦লে রাখি। তুমি ভুল বুঝলে নিজেকে বর্জ্যখানার কাক মনে হয়। এই তোমার নামে যে ভালোবাসা তাইতো আমার ডাকবাক্স। যেখানে খুলে রাখি শেষ ইচ্ছার চিঠি। আর আমাদের ছাতিম গাছের দেহের ভেতর অকারণ মরে যাবার বেদনা থাকে, তারপরও যে সব মনখারাপ তোমাকে অন্তরের পৃষ্ঠা পড়তে দেবার নাম করে বক্ষ ধড়ফড়ানির গান শুনায়- তুমি তাদের ছুঁড়ে যাও শত ভূগোলের জ্ঞানে, ডিকসোনারি পড়ে পড়ে তারা শব্দ শিখুক। এরপরও তারা যদি মন্ত্র শেখে বিরহের তুমি আর আমি- তোতাপাখি সেজে তাদের ভেঙচি দেবো।

১৭ই আষাঢ় ১৪১৮

সাইত্রিশ

আমার পৃথিবী অর্থাৎ মহাকালের ভেতর তোমার মেঘ আর্তনাদ করে, মাঝে মাঝে মনের পাহাড় ঠেলে আসে বাঘ, হালুম করে আমাদের মহাকালীক সম্পর্কে। তারপরও জীবন ও পাহাড় ঠেলে তুমি ঠিকই ‘ডুমুর’ হয়ে ফোটো। বুকের যত কাছে থাকে স্বরবর্ণ তার থেকেও কাছে কপালের হাত। সেখানেই চাকু খুলে ঝুলে থাকে তোমার অর্ধপোড়া মন। আর মেঘ যে ইচ্ছা নিয়ে ঢুকে পড়ে বক্ষের মানচিত্রে, সেখানে লেখা হয় দ্রাঘিমাংশের টুকরো টুকরো স্মৃতি। তুমি যদি ফের ভুল বোঝ তাহলে তার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ মাপা হবে; ব্যারোমিটারে বলা হবে কথা পাগলা গারদের মিথ্যে পাগল সাজা ভালোমানুষের সঙ্গে। কেননা, তারা জানে প্রেম মানে তো প্রশ্নকারী মেঘ। আগুনে হাত পুড়াও, বক্ষে ঢেঁকিছাঁটা দাও আর ভাগ্যরেখায় পুরে দাও অসমাপ্ত চিরকুট। তারপর ব্যাকুল এ পৃথিবী ভাগ্যচক্রের নামে লিখবে তোমার পিরামিড।

১৮ই আষাঢ় ১৪১৮

আটত্রিশ

পৃথিবী অচেনা হলে তোমার ছাতার নিচে দাঁড়াবো কিভাবে? বরং অজানা বিচ্ছেদবীজ আলপিনে বিদ্ধ হতে হতে তোমার আড়ালে কান পেতে থাকি। একদিন সমাজে আমাদের এই ভূমিকা নিশ্চিত হলে প্রেম আর নৈঃশব্দ্যের মধ্যে অদ্ভুত স্মৃতির গন্ধ পাওয়া যাবে? এই কথা ভেবে আজ তুমি জীবন পোঁকা বক্ষে রেখে কুরে কুরে খাও বেদনাকে, বরং তার থেকে ভালো অনর্গল চিঠি পত্রে ক্রশবিদ্ধ হয়ে বেঁচে থাকা। মানুষতো নির্ধারিত ভালোবাসার তাপমাত্রায় পৌঁছে বিদ্রূপ ও গাম্ভীর্যের নিচে চাপা পড়ে যায়। ফলে, তোমার জীবনে আমার ভূমিকা কি অজানা ছাতার নিচে হারানো ডাকঘর। যেখানে কোনো এক মানবের চক্র থেকে পোস্টকার্ডে লেখা হয়েছে অসমাপ্ত চিঠি।

১৮ই আষাঢ় ১৪১৮

ঊনচল্লিশ

যেটুকু পৃথিবী বেদনার ভূগোল থেকে উঠে আসে, তার থেকে কীবা আছে বেশি- নাগরিক এই কৌটা জীবনের। তারপরও তোমাকে স্পর্শ করি ওগো প্রাণের কাঁচা মাংশ। কেননা, তুমি সমস্ত ধড়ফড় এই জীবনের। এইসব বিষয় নিয়ে দুর্ভাগা পিয়ানো বাদকের সাথে কথা হল, ব্যক্তিগত মৃত্যু প্রকল্পে যে ধরেছে জীবনের বাজি। আর জামপাতার বনে তার এক সৎবোন আছে- জ্যোৎস্নার চাঁদ বুকে নিয়ে যে পাহারা দেয় শালবন। আর যেদিন পাহারাদার আসে তার সঙ্গে কথা বলে নির্জন বটের পাতারা, মহাভারতের কৌরব-পাণ্ডবদের বিবাদ বিষয়ে। যদিও তুমি বিবাদকে ভালোবাসো তবু তোমার ভয় সামান্য ঝগড়া নিয়ে। আর বিছানায় যদি চাঁদ থাকে, আকাশের বুক চিরে যদি ওঠে দীর্ঘশ্বাস, তখন তুমি বলো- সব সংসারই ব্যক্ত করা কথার পিরামিড, যা একে একে গড়ে তোলে শব্দের ধূসর কিছু চি‎হ্ন?

১৯শে আষাঢ় ১৪১৮

চল্লিশ

আমাদের গ্রন্থপ্রেম পৃথিবীর মানুষের কাছে সবজীবাগানের মতো এইকথা বলে তুমি আমাকে বানাও তোমার দাবাঘরের পায়ের চি‎‎হ্ন। তাই গ্রন্থপ্রেমে জর্জরিত হতে হতে বলি। এক জোড়া রাজহাঁস আমাকে দেবে, আমি গৌতম বুদ্ধকে উপহার দেবো আর বলবো হে ঋষি তোমার জিভ, দাঁত, লালা ও ঢেঁকুর তোলা অন্নের সাথে আমাদের ভালোবাসাকে কাঁচুলি খুলে খাও। আর যে সন্ধ্যায় পাগল ভালোবাসার নামে ছেড়েছে ভাবুক বন্ধু এবং দু’তিনটে কবিতা লেখার সখ তার জন্য ভিখারি বনে যাও। এরপরও যদি তুমি বলো আমার পাগলামী কোনো একদিন সন্ন্যাসীর একাগ্রতাকে হার মানাবে, তখন পৃথিবীকে বলবো- চলো পৃথিবী আমরা ভিখারির ফুটো থালা হাতে শহরের জীর্ণ লাইটপোস্টে ভালোবাসার রাজপ্রাসাদ বানাই।

২০শে আষঢ় ১৪১৮

একচল্লিশ

চিন্তাকে ভাঁজ করে দেখি, তা তোমার শরীর ৫৯ কেজি ওজন; হয়তো একদিন এই সপ্তর্ষিম-লে আমি পৌঁছে যাবো সেইকথা ভেবে তোমার ওজন নিয়ে ভেবে যায়। ক্ষিপ্র গেরিলার মতো তোমার নিতম্ব, গ্রীবা, স্নানের পরিখা আর নির্ভুল বেদনাগুলি নিঃশব্দে পাহারা দেই। তারপরও তোমার কাছে পৌঁছাবার দূরত্বের অঙ্কগুলি আগের মতোই বুঝতে পারি না। যতই এগুতে চাই ততই বুঝতে পারি পৃথিবীর সমস্ত অশান্তির মূল এই পৌঁছাতে না পারা। তোমার শরীর সৃষ্টি ও প্রলয়ের, প্রতিটা চুলে দশ লক্ষ নগ্নতা ভাঁজ করে রাখো তুমি, আমি দ্বিধা-সংশয়ের মুঠি খুলি উবু হয়ে খুঁজি তোমার সংকেত ভাষা। আর প্রহেলিকার শালজঙ্গলে হারিয়ে ফেলি চাবি। কিন্তু তুমি তো স্নানের দুর্গে নগ্ন থাকো, দেহ মিলনের মুহূর্তেও। তারপরও তোমার চিন্তাকে ভাঁজ খুলে খুলে আমি হেঁটে যায় শৈশবের স্কুল ঘরে। সারারাত বিড় বিড় করে নামতা পড়ি আর ভাবি তুমি কি কাশবনের মাথায় ফুটে থাকা গোপন সুগন্ধ?

২১শে আষাঢ় ১৪১৮

বিয়াল্লিশ

তুমি আমার পুরোনো বন্ধু নাম ‘আর্তনাদ’ আর নতুন বন্ধুর নাম ‘বিস্মৃতি’। হাজারো মিথ্যের মধ্যে এই ‘তুমি’ নামক প্রার্থনার পোকাগুলি জেগে থাকে মনে। যদিও উনিশ শ’ একাশি সাল থেকে তিন হাজার সাল পর্যন্ত বেঁচে আছি- এই উৎকণ্ঠা নিয়ে। ভুলের পৃথিবী যার নাম দিয়েছে ‘নীল রঙের ছাতা’। তারপরও আমি পাপের গোলার্ধে গোলাপ ও কাঁটা খুঁজতে রেরোই। যদিও বিস্মরণের মন্ত্রে লিখে রাখি ধু ধু সেই মুদ্রাবালিকার নাম। আমার জন্মের একুশ বছর পর বাঘের তলপেটে তার ছবি পেয়েছিলাম। ‘সে’ কুমারীর বক্ষ দেশ থেকে বেরিয়ে এসে বলেছিলো ‘এখন ফুল চুরির বয়স’- সেই থেকে তাকিয়ে আছি কবে ফুলচোর হবো সেই আশায়। তিন হাজার সাল অবধি আমার এই দ্রাঘিমায় ভ্রমণ। ভুলের পৃথিবী হয়তো এর নাম দেবে ‘সর্বনাশ’। তাই ভালো, আমি ‘সর্বনাশ’ হতে চাই, হতে চাই বোবারাত্রির বন্ধু…

২২শে আষাঢ় ১৪১৮

***

পাবলো শাহি

পাবলো শাহি

পাবলো শাহি
আশি’র দশকরে কবি
জন্ম: ১৩৭২, ভাদ্র ২
যশোর

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E