৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ১৭২০১৭
 
 ১৭/১০/২০১৭  Posted by

কবিতার উৎস, কবির লক্ষ্য
ওবায়েদ আকাশ

আকাশে মেঘের উৎস, সাগরে ঢেউয়ের উৎস কিংবা পাহাড়ে ঝর্ণার উৎস- এদের নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। কিন্তু কবিতার উৎসের কোনো একক ব্যাখ্যা নেই। কবিতার উৎস বিভিন্ন। তবে একটি জায়গায় স্থির হলেও হওয়া যায় যে, কবিতার উৎস কল্পনা। কিন্তু এর অকাট্যতা নিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না। কারণ, এই কল্পনার আবার বহিরাবরণ আছে, এই বহিরাবরণ হলো অবস্থার চারপাশ, ঘটনার বাস্তব বহির্দৃশ্য, কিংবা সামগ্রিক চিত্র বা ছবি। কবিতার ভাবসম্পদকে মাধুর্য দেবার জন্য ছবির প্রয়োজন অপরিহার্য। আবার যেমন চিত্রকর, তিনি কখনো সাদা চার দেয়ালের ভেতরে বসে ছবি আঁকেন কল্পনায় রং-তুলি বসিয়ে, আবার কখনো ছবি আঁকার সময় ছবির পাত্রপাত্রী, বস্তুদৃশ্য কিংবা জ্বলজ্যান্ত মডেল সামনে বসিয়ে রেখে তাকে রং-তুলিতে অবয়ব দেন।

কল্পনা প্রতিটি মানুষের অন্তরতম সম্পদ। কবি তাঁর কল্পনাকে ভাষায় রূপ দেন। শিল্পী তাঁর কল্পনাকে চিত্রে ধারণ করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের কল্পনা- আনন্দ কিংবা দুঃখের অসহায়ত্বে চিরদিন অপ্রকাশিত থেকে যায়। কল্পনা বিভিন্ন প্রকার। কল্পনার অনেক শাখা-প্রশাখা। আবার সবসময় পৃথিবীতে বর্তমান অসংখ্য কবি। তাঁদের আবার এক-একজনের কল্পনার ধরন এক-একরকম। সেসব স্বতন্ত্র কল্পনারও আবার বিবিধ উৎস আছে।

কথা বলছি কবিতার উৎস ও কবির লক্ষ্য নিয়ে। তাই এতটা গভীরে না গিয়েও এ ব্যাপারটা নিশ্চিত যে, এই আলোচ্য কল্পনার উৎস কবি। পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত অসংখ্য কবিতার জন্ম হচ্ছে- যাদের জনক ‘কবি’ ছাড়া অন্য কেউ নন। ‘কবিতা বিভিন্ন রকম’, তাই কবিও বিভিন্ন রকম। সুতরাং কবিকল্পনারও বৈচিত্র্য অসীম। তবে ‘কবি’ এবং ‘কবিতা’ ব্যাপার দুটো একেবারেই মৌলিক। তাই সব ‘কবি’র রচনাই ‘কবিতা’; আবার সব ‘কবিতা’র রচয়িতাই ‘কবি’।

কবিতা লিখতে লিখতে সব কবিরই হয়তো এমন প্রশ্নটি একবার না একবার মাথায় আসে যে, এই যে প্রতিনিয়ত কবিতা লিখে চলা- এর উৎসটা কী? কোথা থেকে আসে কবিতা? তবে মায়ের কাছে যেমন সন্তান বড় হয়ে গেলেও ছোট্ট শিশুর মতো, তেমনি কবি যখন কবিতায় লীন হয়ে থাকেন- তখন এ প্রশ্নটি তাঁকে কখনো ভাবনায় ফেলে না যে, কবিতা লেখার সময় তিনি আলাদাভাবে অলৌকিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন কিনা। কবিতা রচনার সময় তাঁর ক্ষমতাকে কবি নিজের সন্তানের মতো দেখেন, তাকে বড় কিছু মনে করেন না। তবে যারা কবিতার পাঠক বা সমালোচক- তাঁরা দূর থেকে বসে কখনো না কখনো এ প্রশ্ন নিজেকে করেন যে- ভাষার কুশলতা দিয়ে এমন নন্দনশিল্প নির্মাণের কৌশলটি কবির কাছে কোথা থেকে আসে। কী করে কবিতা লেখেন কবি। আবার কবি যখন তাঁর কবিকল্পনার বিপরীতে অবস্থান করেন- তখন তাঁর কাছেও এ রকম মনে হওয়াটা খুবই যৌক্তিক।

কবিদের বেলায় এরকমটি প্রায়ই ঘটে যে, তিনি যখন কবিতা লিখতে পারছেন না, কিংবা দীর্ঘ বন্ধ্যা সময় পার করছেন- তখন তিনি তাঁর পুরনো কবিতা থেকে পাঠ করে নিজেকেই প্রশ্ন করেন- এ কবিতা তাঁর নিজের লেখা তো? কিংবা তখন কী করে তিনি নির্মাণ করেছিলেন এমন অসামান্য শব্দশিল্প? আবার যখন কবি পুরো মাত্রায় ফিরে আসেন কবিতায় কিংবা কবিতাভারাক্রান্ত হন- অর্থাৎ কবিকল্পনা তাঁকে খামচে-আঁকড়ে ধরে, কিংবা সে-মুহূর্তে কবিতা ভিন্ন তিনি কিছু ভাবতেই পারেন না, তখন তাঁর নিজের লেখাকেই নিজে অস্বীকার করে বসেন। ভাবেন তাঁর আগের সব লেখাই ক্লিশে, দুর্বল গাঁথুনি, সহজ উপমা, অগভীর চিত্রকল্পে ঠাসা। ওগুলো কবিতাপদবাচ্য কিনা তা নিয়েও সন্দিহান হয়ে তাকে সস্তা পদ্য কিংবা অর্থহীন প্রলাপ কিংবা বাচালের খিস্তি ভেবে বসতে পারেন। তাহলে এ ব্যাপারে মোটামুটি একটি প্রাথমিক ধারণা করা যায় যে, মেঘ-রৌদ্রের লুকোচুরির মতো কবি কখনো কখনো ঐশ্বরিক শক্তি দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন। তা না হলে, কিংবা কবি যদি ইচ্ছা করলেই কবিতা লিখতে পারতেন, তবে তো পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রন্থাগারগুলো থেকে অন্যান্য সব রচনার বই নামিয়ে ফেলে শুধু কবিতার বই দিয়েই তাকে সাজিয়ে রাখতে হতো। আর তখন কবিতাও তার শ্রেষ্ঠত্বের অহঙ্কার থেকে বঞ্চিত হতো নিশ্চিত।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে- যিনি এই মহার্ঘ কবিত্বশক্তি নিয়ে জন্মেছেন, স্রষ্টা যাকে এই অপার ক্ষমতা দিয়েছেন, তিনি কীভাবে পরিচালনা করেন তাঁর ক্ষমতাকে, কিংবা তাঁর লক্ষ্যই বা কী হওয়া উচিত?
এক্ষেত্রে আরো একটি কথা বলে নেয়া প্রয়োজন যে, এভাবে অনেকেই ঐশ্বরিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে প্রথম জীবনে তাঁদের প্রতিভার স্ফুরণ দেখাতে নামতে নামতেই ধপ করে নিভে গেছেন। তাঁদের এরকম পরিণতিটি আমাদের বিবেচনার মধ্যে আগে থেকেই ধরে নিতে হবে।

কথায় বলে, প্রতিভা নিয়ে মানুষ জন্মায় না। হয়তো কথার কথা কিংবা নিতান্ত ক্ষোভের কথাই এটি। কিংবা তা নয়। বাস্তবতা হচ্ছে- যার যতটুকু প্রতিভা থাকে তাঁকে সেই হারে অধ্যবসায় দিয়ে চূড়ায় তুলতে হয়। নিরন্তর চর্চা ও অনুশীলন ছাড়া প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে না। একটি বড় প্রতিভার সফল পরিণতি অনুশীলন করে দেখা যাবে- প্রতিভা তাঁর যতটুকু ছিল, চর্চা, অনুশীলন আর অধ্যবসায় ছিল তার শতগুণ। আর তাই প্রাসঙ্গিক আলোচনায় বলা যায়- কবিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাঁর প্রতিভাকে তিনি কীভাবে পরিচালনা করবেন। অর্থাৎ কবিকে তাঁর প্রতিভার গন্তব্যে লক্ষ্য ঠিক করে দিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে কবির সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে- জাতীয় ও বিশ্বসাহিত্যের ধারাবাহিকতা, প্রাচীন সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, উপকথা, লোককাহিনী, পুরাণ, ভৌগোলিক অবস্থান, নিজস্ব প্রকৃতি, দৈশিক ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ইত্যাদি। সব শেষে কবি পাঠ করবেন সর্বসাম্প্রতিক সাহিত্য-ইতিহাসের ব্যর্থতা আর সফলতার কীর্তিগাথা। কবিকে সাম্প্রতিক কবিতা কিংবা সাহিত্য পড়ে নিতে হয় এই জন্যে যে, তাঁকে গড্ডল প্রবাহে গা ভাসালে চলে না। তাঁকে সাম্প্রতিক ফর্ম-বিন্যাস-উপস্থাপন-বর্ণনা-ভঙ্গি-রীতি-প্রকরণ আত্মস্থ করে নিতে হয় এ জন্য যে, তাঁকে স্রোতের অনুকূলে গা ছেড়ে দিলে চলে না। এই সাম্প্রতিকতা থেকে বেরিয়ে আসতেই তাঁকে এগুলো হজম করতে হয়। পুরনো পথগুলো চিনে নিয়ে নতুন পথ সৃষ্টি করে নিতে হয়। এগুলোকে সঠিকভাবে আত্মস্থ করে- কবিকে পাড়ি জমাতে হয় স্রোতের প্রতিকূলে। আরো নতুন আরো স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করতে হয় নিজেকে। ভাবনার নতুনত্ব, ভাষা ও বর্ণনার নতুনত্ব তাঁকে আগামী দিনে প্রতিনিধিত্ব করতে শেখায়। এর জন্য দরকার নতুন দৃষ্টি, নতুন অনুসন্ধিৎসা, নতুন করে চিন্তার ক্ষমতা।

কবি যেদিকে তাকান সেদিকে লুকিয়ে থাকে কবিতা, কবি যে চিত্রে দৃষ্টি দেন সেখানে লুকিয়ে থাকে চিত্রকল্প, কবি যে সংলাপ (বৃক্ষের সংলাপ, নদীর সংলাপ, আকাশের সংলাপ, বৃষ্টির সংলাপ, মানুষের সংলাপ, মাটির সংলাপ…) শোনেন সেখানে লুকিয়ে থাকে ভাষা। মেঘ-রৌদ্রের মতো ক্ষমতার লুকোচুরির মধ্য দিয়ে কবি যখন কবিত্বশক্তিপ্রাপ্ত হন তখন তিনি যেদিকে তাকান, কবিতা সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। যেভাবে কল্পনা করেন, কবিতা ঠিক সেইভাবে ধরা দেয় তাঁর হাতে। কিন্তু এভাবেই কি সৃষ্টি হয়েছে কবিতার সফল ধারাবাহিকতা? তা নিশ্চয় নয়। এক্ষেত্রে কবিকেই নিতে হয় কখনো পরিচালক আবার কখনো নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা। তিনি তাঁর কল্পনাকে শিখিয়ে দেন তিনি কোথা থেকে কবিতার শরীর ও হৃৎপিণ্ড আহরণ করবেন। কোথায় তাকে বসিয়ে দেবেন, উড়িয়ে দেবেন, কোন গন্তব্যে তাকে ছেড়ে দেবেন।

সাহিত্য ব্যাপারটা একেবারেই কোনো বেখেয়ালী বা বেহিসেবী ব্যাপার মাত্র নয়। কবিতার অঙ্ক ভীষণ কৌশলী ও জীবনজটিল এক হিসেবের সমীকরণ। কবিতায় এত যে অকাট্য, নির্বাচিত, সুচিন্তিত, সুন্দরতম শব্দের বুনন- এই বুননের কারিগরকে কি একেবারেই বেহিসেবী বা বেখেয়ালী হলে চলে? নিশ্চয়ই তা চলতে পারে না। কবি খুব হিসেব করে, চিন্তা করে, সুনির্বাচিত শব্দটি ব্যবহার করেন তাঁর কবিতায়। তাঁর ভাবনাকে কল্পনার ছবিতে ফুটিয়ে তোলেন- সুচারুরূপে, সুপরিকল্পিতভাবে। কবিতা লেখার সময় সর্ব ইন্দ্রিয়ের পাশাপাশি কবি সজাগ রাখেন তাঁর অসাধারণত্বের ইন্দ্রিয়টিও। আর তাই, কবি যখন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে কবিতা লেখেন- তা একেবারেই কোনো সার্বভৌম ব্যাপার নয়। লেখার সময় একেবারেই মৌলিক কোনো বেদবাক্য কবি রচনা করেন না। যে কারণে কবিতায় শেষদিন পর্যন্ত কাটাকাটি চলতেই থাকে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, বিনয় মজুমদার, ওয়াল্ট হুইটম্যান, ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা, রাইনের মারিয়া রিলকে থেকে সদ্য নোবেল বিজয়ী কবি টমাস ট্রান্সট্রোমারের মতো দেশ-বিদেশের প্রথিতযশা প্রায় সব কবি এ কাজটি করেছেন, এখনো করছেন, এমনকি শেষদিন পর্যন্তও কবিতায় কাটাকাটির প্রক্রিয়া থেকে কবিদের মুক্তি মেলে না। তাই কবিকে অঙ্কে কাঁচা হলে বারবারই পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হতে হয়। কবিকে হতে হয় দক্ষ কোষাধক্ষ্যের চেয়েও সুদক্ষ হিসেবী। আর সে কারণে কবিকে নিজস্ব ভাষা নির্মাণের ক্ষেত্রে হতে হয় প্রথম হিসেবী, আর কবিতার উৎস আবিষ্কারে হতে হয় দ্বিতীয় হিসেবী, আর তৃতীয় বা শেষতম হিসেবী হতে হয় তার লক্ষ্য বা গন্তব্য অনুসন্ধানে।
প্রাচীন সাহিত্য, প্রাচীন জীবনাচার থেকে সাম্প্রতিক সাহিত্য ও সাম্প্রতিক জীবনাচারের ধারাবাহিকতাই তাঁকে বলে দেবে যে, কোথা থেকে তৈরি করে নিতে হয় কিংবা কোথা থেকে আহরণ করতে হয় কিংবা কোথায় লুকিয়ে আছে তাঁর কবিতার স্বকীয় ভাষা, অন্যরকম স্বর; কিংবা কোথায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাঁর কবিতার উৎস; কিংবা কোথা থেকে কবিতা এসে প্রবেশ করে কল্পনার পিপাসার্ত শাখাপ্রশাখায়।

নিতান্ত শিশু ও শৈশবকালে মাতৃক্রোড়ের মতো নিরাপদ ও আনন্দদায়ক কোনো স্থান আর আমাদের নেই। মায়ের কোল স্বর্গের অধিক সুখে ভরিয়ে রাখে শিশুকে। তারপর বড় হয়ে শিশু চিনতে শুরু করে তার চারপাশ। মাতৃক্রোড় ছেড়ে সে পা রাখে নিজের মাটিতে। কথা বলে নিজস্ব প্রকৃতির সঙ্গে। তখন সেই মাটি-প্রকৃতি হয়ে ওঠে তার মায়ের কোলের মতোই নিরাপদ আশ্রয়, সবচেয়ে আপন। ধীরে ধীরে সে তার রূপ-প্রকৃতিতে মুগ্ধ হয়, আপ্লুত হয়, বিস্মিত হয়। শৈশব-কৈশোর মনের মর্মে গেঁথে থাকে এই নিজস্ব প্রকৃতির রূপ লীলাখেলা। প্রকৃতিতে বয়ে যাওয়া হাওয়া, বিস্তৃত মাটিতে ফসলের ফলন, আকাশ ভাঙা বৃষ্টি- সবকিছু ঘটে তার নিজ প্রকৃতি আর নিসর্গকে ঘিরে। শৈশব থেকে মর্মে গেঁথে যাওয়া সেই প্রকৃতি-মাটি-নিসর্গকে তাই আমৃত্যু এড়াতে পারে না কেউ। চাঁদে কিংবা মঙ্গলে গিয়েও তাকে এড়ানো যায় না। এই হলো বাস্তব সত্য। এই হলো দেশাত্মবোধ। এই হলো দেশপ্রেম। ঠিক এভাবেই মানুষের ভেতর জন্ম নেয় দেশপ্রেম, দেশচেতনা। স্বর্গের চেয়ে উত্তম বলে বিবেচিত হয় জননী জন্মভূমি।

কবিতা বা সাহিত্যের সবচেয়ে বড় সম্পদ স্রষ্টার মানবিক ও দেশাত্মবোধ, এবং সৃষ্টিশীল মানুষেরাই সবচেয়ে বড় মানবিক ও দেশপ্রেমিক বলে প্রমাণিত। তিনি তাঁর দেশপ্রেম ও মানবিকতার প্রকাশ ঘটান তাঁর সৃষ্টির ভেতর দিয়ে। কবি তাঁর দেশপ্রেমের পরিপূর্ণ প্রতিফলন ঘটান তাঁর কবিতায়- শব্দে, পংক্তিতে, বিন্যাসে। তাই প্রতিভাবান কবির কবিতার উৎস হয়ে ওঠে তাঁর নিজ দেশ, নিজ প্রকৃতি, নিজ সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের আগাপাছতলা। কবির কাজ তাঁর নিজের দেশ, নিজের ভাষার মানুষকে দেশাত্মবোধের কল্পনায় বুঁদ করে রাখা। কবির কাজ তাঁর কবিতার লক্ষ্যকে সেই পথে ধাবিত করা। তাঁর কবিতার উৎসকে নিজের মাটি, নিজের প্রকৃতি, স্বদেশীয় জীবনাচার থেকে আবিষ্কার করা।

কালে কালে যুগে যুগে মহৎ কবিগণ তাঁদের শৈশব-কৈশোরকে পুনরাবিষ্কার করেছেন তাঁদের কবিতায়। শৈশবকে ফিরে দেখা মানে মাতৃক্রোড়ের স্বর্গীয় সুখকে অনুভব করা, শৈশব-কৈশোরকে পুনরাবিষ্কার মানে নিজ দেশ, নিজ গ্রাম, চেনা সংস্কৃতির প্রতি প্রথম ভাললাগাকে ফিরে পাওয়া। প্রথম ভাললাগা, প্রথম মুগ্ধতা, প্রথম প্রেম যেমন সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে বশীকরণ করে, তেমনি যে কোনো মহৎ কবিকে তাঁর শৈশব-কৈশোর-নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি আবিষ্ট করে রাখে। পৃথিবীর যে কোনো উচ্ছলতা, উৎফুল্লতা, হর্ষচিত্ততা কবির শৈশবের জন্মমৃত্তিকার প্রতি মমত্বের কাছে অতীব ম্লান হয়ে পড়ে থাকে। যে কোনো মহৎ কবিই আমৃত্যু তাঁর শৈশবের মতো তাঁর মাতৃভূমির পূজারী। আর সেই শর্তে সত্যিকারের কবির কবিতায় সৌন্দর্য আবিষ্কারের উৎস তাঁর শৈশব, মাতৃক্রোড়, মাতৃভূমি, নিজ দেশ, নিজ ভাষা, নিজ সংস্কৃতি, নিজস্ব আচার রীতি প্রকরণ সর্বপরি তাঁর দেশাত্মবোধ। এর বাইরে কবি তাঁর কবিতার ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেন বিশ্ব ও পরাপৃথিবী থেকে- ততটুকু, যতটুকু নিজ ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে নিজ বাহু প্রসারিত করে ছুঁয়ে দেখা যায়। নিজ ভূখণ্ড থেকে পা সরিয়ে নিয়ে বিশ্বকে ছুঁয়ে কবিতা লেখার অভিলাষ প্রকৃত কবির নয়। শেকড়বিচ্ছিন্ন বৃক্ষকে যেমন আমরা মৃত বলে গণ্য করি, তেমনি নিজ মাটি, নিজ দেশ থেকে পা তুলে নিয়ে বিশ্বপ্রকৃতি, সৌরম-ল কিংবা অতিপৃথিবী থেকে কবিতার রসদ সংগ্রহ করে রচিত কবিতা অসাড় মৃত পঙ্ক্তিগুচ্ছ ছাড়া অন্য কিছু নয়। তা হয়তো সমসাময়িক বিশেষ গোষ্ঠী-সম্প্রদায়ে সমাদরের ভারে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে, কিংবা অতি নিরীক্ষীয় উন্মাদনায় কবি প্রমত্ত হতে পারেন- কিন্তু পৃথিবীর মহৎ কবিতার সংগ্রহশালায় তা কখনো স্থান করে নিতে পারে না। তাই এককথায় কবিতার উৎস নিজ ভাষা, নিজ দেশ, নিজস্ব ঐতিহ্য-সংস্কৃতি। আর কবির লক্ষ্যও হওয়া উচিত তার এই উৎসের প্রতি কমিটেড বা প্রতিশ্রুতবদ্ধ থাকা।

পৃথিবীর প্রভাবশালী ভাষা যেমন ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, সুইডিশ, জার্মান ইত্যাদি; তেমনি যথেষ্ট সমৃদ্ধ হলেও পৃথিবীর একটি নির্যাতিত-অবহেলিত ভাষার নাম বাংলা। কথাটি এ কারণেই বলা যে, উল্লিখিত প্রভাবশালী ভাষায় লেখালেখি করে অপেক্ষাকৃত কম প্রতিভাবান লেখকও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছেন, নানা সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর সাহিত্য দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ব্যাপারটি ব্যতিক্রম বলে তাঁকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন অযৌক্তিকই মনে করি। এর বাইরে মাইকেল, নজরুল, জীবনানন্দ দাশের মতো অনেক বাঙালি কবি কিংবা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, মানিক, তারাশঙ্কর, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো আরো অসংখ্য বাঙালি লেখক শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় লেখার কারণে অবমূল্যায়িত থেকে গেছেন। শুধুমাত্র ভাষার কারণে তাঁদের এই মহার্ঘ সাহিত্যরস বিশ্ববাসীর আস্বাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাদের সাহিত্য সারা পৃথিবীতে পরিচিতি পায়নি, মহামূল্যবান পুরস্কারে ভূষিত হয়নি, কিংবা যত্রতত্র অনূদিত হয়নি পৃথিবীর বিবিধ ভাষায়। শুধু যে বাঙালি বোঝার সে বুঝে নেবে যে, এগুলিই হচ্ছে আমাদের সাহিত্যের সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ। আর যারা তা বোঝে না, তারা তো সেই যারা লেখায় বলায় চলায় যত্রতত্র বিদেশী কবি-সাহিত্যিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বসেন। যেন এটা একটা ফ্যাশন। বিশেষ করে তারা যখন প্রাবন্ধিক- তখন প্রবন্ধের শরীর জুড়ে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বিদেশী কবি-লেখকদের উদ্ধৃতি জুড়ে দেন, আর এতে তাদের পাণ্ডিত্য প্রকাশ পাবে বলে একপ্রকার আত্মসুখ অনুভব করেন। আবার তারা যখন সমমনাদের সঙ্গে আড্ডায় মশগুল, ঝড় উঠছে চায়ের কাপে, তখন সাহিত্যিক আলোচনায় কে কোন বিদেশী বই পাঠ করে এসেছে- তাই যেন মুখ্য হয়ে ওঠে। হায়রে পাণ্ডিত্য! এমত পাণ্ডিত্যকে আমরা যেন শুধু বিদেশী ভাষা, বিদেশী সংস্কৃতিতে ঝালিয়ে নিয়ে গর্ববোধ করতে শিখেছি। তবে হ্যাঁ, এ কথা কখনোই বলছি না যে, কোথাও বিদেশী কবি-সাহিত্যিকদের কোটেশন ব্যবহার করা যাবে না, বা আড্ডায় তাদের প্রসঙ্গ উত্থাপন করা যাবে না। যাবে, আরো বেশি করেই যাবে, যদি তা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে, যদি তা নিতান্ত প্রয়োজনীয় হয়। ব্যবহার করা যাবে, তবে তা বাংলা ভাষার কবি-লেখকদের পাশাপাশি। আর যদি সমগ্র বাংলা সাহিত্যে তেমন দৃষ্টান্ত না থাকে, সেটা ভিন্ন কথা। আমি মনে করি, আমাদের বাংলা সাহিত্য এতটা দুর্বল কখনোই ছিল না যে, তাদেরকে পাশ কাটিয়ে সবসময় ভিন্ন ভাষার লেখকদের উদ্ধৃতি দিতে হবে। আমাদের মধ্যযুগের এবং আধুনিক সাহিত্যের ভাণ্ডারে এমন এমন সংযোজন আছে, যা এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর প্রভাবশালী অনেক ভাষার সাহিত্যেও নেই। আবার বিদেশী সাহিত্যেরও এমন সংযোজন আছে- যা বাংলা সাহিত্যে নেই। সুতরাং যখন যেখানে অপরিহার্য তখন সেখানে প্রয়োজন মতো স্বদেশী বা বিদেশী সাহিত্যিকের উদ্ধৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত ভারি ভারি বিদেশী সাহিত্যের কোটেশন ব্যবহার একশ্রেণীর লেখকের পাণ্ডিত্য জাহিরের অভিলাষ ছাড়া আর কিছুই নয়।

কবির লক্ষ্য যেমন নিজ ভাষা নিজ জাতির সংস্কৃতিকে উচ্চে তুলে ধরা, তেমনি প্রাবন্ধিক-সমালোচকেরও প্রধান কাজ স্বভাষার সাহিত্যকে চলায় বলায় লেখায় সবার শীর্ষে স্থান করে দেওয়া।

আর একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো যে, এক শ্রেণীর কবি আছেন যারা কর্পোরেট সংস্কৃতির পাশাপাশি কর্পোরেট ভাষাও কবিতায় ব্যবহার করেন- বুঝে কিংবা না বুঝে। ভারি ভারি ইংরেজি শব্দের ঝনৎকারে যেন টালমাটাল হয়ে ওঠে পাঠক হৃদয়। এ জাতীয় কবিতা রচনাকারদেরও এরকম শব্দ ব্যবহারের পেছনে ঐ পাণ্ডিত্য জাহিরের অভিলাষই মুখ্য।

পৃথিবীতে অসংখ্য দ্বীপরাষ্ট্র আছে যার চারদিকে সমুদ্রবেষ্টিত। আবার পৃথিবীতে অসংখ্য শীতলতম দেশ আছে- যেখানে প্রায় বারো মাসই তুষার ঝরে পাথর হয়ে থাকে। তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাসে। তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে বাঙালির কিংবা বাংলাদেশের সংস্কৃতির আকাশ-পাতাল ব্যবধান হওয়াটাই তো যৌক্তিক। কারণ বাংলাদেশ দ্বীপরাষ্ট্র নয়, সমুদ্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক একেবারেই নিবিড় নয়, কারণ তার তিন দিকে স্থল আর এক দিকে সমুদ্র; তেমনি বাংলাদেশ শীতলতম দেশও নয়, যেখানে তাপমাত্রা মাইনাসে চলে যায় কিংবা কখনো তুষারপাত হতে দেখা যায়। শুধু শীত ঋতুতে তিন মাস কমবেশি কুয়াশা বা শিশির ঝরে থাকে। নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর প্রভাবে এখানে ঋতুগুলো বৈচিত্র্যময়, রূপশালী- ফুলে ফলে ফসলে পাখির গানে মুখরিত থাকে বারো মাস। তাই কত শব্দ তার আপন, কত কত শব্দ তার একেবারে অন্তরতম।

কিন্তু আমাদের ঐ বিদেশী সাহিত্য, বিদেশী ভাষা, কর্পোরেট সংস্কৃতি প্রেমিক কবিরা তাদের কবিতায় যতটা না শিশির, নদী, মাঝি, মাঠ, ধানক্ষেত, ইত্যাদির মতো শব্দগুলো ব্যবহার করেন, তারচেয়ে অধিক মাত্রায় ব্যবহার করেন তুষার, সমুদ্র, নাবিক, জাহাজ-এর মতো বিদেশী কবিতার অনূদিত শব্দরাশি। শব্দগুলো অচ্ছুৎ নয়, কিংবা শব্দগুলো ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধও নেই, কিন্তু ব্যবহারের ধরন দেখে মনে হয় তারা বিদেশী কবিতার বদহজম করে বাংলা কবিতায় হাতেখড়ি নিয়েছেন। বাংলা কবিতার চেয়ে অধিক মাত্রায় তারা যে বিদেশী কবিতা পাঠে অভ্যস্ত তা তাদের শব্দ ব্যবহারের ধরন দেখেই বুঝে নেয়া যায়। উদ্ভট চিত্রকল্প, উদ্ভট উপমা, উদ্ভট উপস্থাপনের কৌশলই বলে দেয়- তারা কতটা শেকড়শূন্য হয়ে বাংলা কবিতার চর্চা করে চলেছেন।

বছর তিনেক আগে, কনটেমপোরারি ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি থেকে কয়েকজন ফরাসি কবির কবিতা ইংরেজি অনুবাদ থেকে বাংলায় রূপান্তর করি। সেখানে ইভ বনফোয়া, ফিলিপ জকোতে, জাক দুু্যঁপা, ক্লেয়ার মালরু প্রমুখ কবির কবিতা আমাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। সেই ভালোলাগা থেকেই অনুবাদের প্রয়াস। অনুবাদ করতে গিয়ে একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি যে, প্রত্যেক কবিই ‘স্নো’ শব্দটি বারবার বিভিন্ন কবিতায় ব্যবহার করেছেন। যার বাংলা অর্থ ‘তুষার’ বা ‘বরফ’। এ থেকে আমার বুঝে নিতে কষ্ট হয়নি যে, ফরাসি দেশে প্রচণ্ড তুষারপাত হয় বলে ‘স্নো’ শব্দটি তাদের জীবনের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে আছে। এটি তাদের অতি নিজের শব্দ। যেমন আমাদের অতি নিজের শব্দ- শাপলা, শালুক, দোয়েল, শালিক, ঘাস, বৃষ্টি ইত্যাদি। তাই যে কোনো কবির কবিতায় নানা উছিলায় তাকে উঠে আসতে দেখা যায়। এ রকম সব জাতিরই কিছু একান্ত নিজের শব্দ থাকে। অগণ্য আপন শব্দ থাকে। যারা নানা উছিলায় উঠে আসবে কবির কলমে। কিন্তু বিদেশী কবিতার অনুবাদ থেকে কল্পনাকে শাণিয়ে নিলে সব ভাষার সব জাতির আপন আপন কিংবা নিজস্ব শব্দগুলো বঞ্চিত হয়। যা নিজেকে বঞ্চিত করার শামিল। অন্য সংস্কৃতির শব্দভাণ্ডার দিয়ে কবিতা বা সাহিত্যকে উচ্চে তুলে ধরা সবচে দুরূহ কাজ। এবং তা শুধু কল্পনা মাত্র।

প্রকৃত কবির লক্ষ্য কখনো সেদিকে ধাবিত হয় না। তাঁর কবিতার উৎসও কখনো ভিন্ন ভাষা-সংস্কৃতির কবিতা থেকে আহৃত নয়। তাঁর কবিতার উৎস স্বভাষা, স্বজাতি, স্বসংস্কৃতি। নিজ দেশ, নিজ মাটি, নিজস্ব নিসর্গ-প্রকৃতিতে দায়বদ্ধ। আর কবির লক্ষ্য দেশ ও জাতির প্রতি কমিটমেন্ট রক্ষা করে তাকে নিয়ন্ত্রিত পথে পরিচালিত করা।

 


ওবায়েদ আকাশ

ওবায়েদ আকাশ

ওবায়েদ আকাশ। জন্ম ১৯৭৩ সালের ১৩ জুন, বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার সুলতানপুর গ্রামে। একাডেমিক পড়াশোনা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। ধ্যানজ্ঞানে সর্বক্ষণ কবিতা আর পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতার বয়স ২০ বছর। বর্তমানে দেশের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘দৈনিক সংবাদ’-এ সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : পতন গুঞ্জনে ভাসে খরস্রোতা চাঁদ (বর্তমান সময়, ২০০১); নাশতার টেবিলে প্রজাপতিগণ (মঙ্গলসন্ধ্যা, ২০০৩); দুরারোগ্য বাড়ি (মঙ্গলসন্ধ্যা, ২০০৪); কুয়াশা উড়ালো যারা (বিশাকা, ২০০৫); পাতাল নির্মাণের প্রণালী (আগামী, ২০০৬); তারপরে, তারকার হাসি (আগামী, ২০০৭); শীতের প্রকার (বৃক্ষ, ২০০৮); ঋতুভেদে, পালকের মনোবৃত্তিগুলি (কাব্য সংকলন, বৃক্ষ, ২০০৯); বিড়ালনৃত্য, প্রেতের মস্করা (শুদ্ধস্বর, ২০০৯); যা কিছু সবুজ, সঙ্কেতময় (ইত্যাদি, ২০১০); স্বতন্ত্র ৬০টি কবিতা (কাব্য সংকলন, বৃক্ষ, ২০১০); প্রিয় কবিদের রন্ধনশালায় (ইত্যাদি, ২০১১); ওবায়েদ আকাশের কবিতা ।। আদি পর্ব (কাব্য সংকলন, জনান্তিক, ২০১১); শুশ্রুষার বিপরীতে (ধ্রুবপদ, ২০১১); রঙ করা দুঃখের তাঁবু (ইত্যাদি, ২০১২); বিবিধ জন্মের মাছরাঙা (দীর্ঘ কবিতার সংকলন, ইত্যাদি, ২০১৩); তৃতীয় লিঙ্গ (দীর্ঘ কবিতার সংকলন, শুদ্ধস্বর, ২০১৩); উদ্ধারকৃত মুখমণ্ডল (বাংলা একাডেমি কর্র্তৃক প্রকাশিত নির্বাচিত কাব্য সংকলন, ২০১৩); হাসপাতাল থেকে ফিরে (কলকাতা, উদার আকাশ, ২০১৪); ৯৯ নতুন কবিতা (ইত্যাদি, ২০১৪); বর্ষণসিক্ত হাসপাতাল (বৃক্ষ, ২০১৪) এবং পাতাগুলি আলো (ইত্যাদি, ২০১৬)।

অনুবাদগ্রন্থ : ‘ফরাসি কবিতার একাল / কথারা কোনোই প্রতিশ্রুতি বহন করে না’ (ফরাসি কবিতার অনুবাদ, জনান্তিক, ২০০৯); ‘জাপানি প্রেমের কবিতা / এমন কাউকে ভালবাস যে তোমাকে বাসে না’ (জাপানি প্রেমের কবিতা, জনান্তিক, ২০১৪)

গদ্যগ্রন্থ : ‘ঘাসের রেস্তরাঁ’ (বৃক্ষ, ২০০৮) ও ‘লতাপাতার শৃঙ্খলা’ (ধ্রুবপদ, ২০১২), চারদিকে উদ্যানের সৌরভ (ধ্রুবপদ, গল্পগ্রন্থ, ২০১৪)।

সম্পাদনা গ্রন্থ : ‘দুই বাংলার নব্বইয়ের দশকের নির্বাচিত কবিতা’ (শিখা, ২০১২)।

সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন : শালুক (১৯৯৯ – )

পুরস্কার ও সম্মাননা :
‘শীতের প্রকার’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ‘এইচএসবিসি-কালি ও কলম শ্রেষ্ঠ তরুণ কবি পুরস্কার ২০০৮’।
‘শালুক’ সম্পাদনার জন্য ‘কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র পুরস্কার ২০০৯’।
সামগ্রিক কাজের জন্য লন্ডন থেকে ‘সংহতি বিশেষ সম্মাননা পদক ২০১২’।
কলকাতা থেকে সাহিত্যের ছোটকাগজ ঐহিক সম্মাননা পদক ২০১৬।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E