৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুন ১১২০১৭
 
 ১১/০৬/২০১৭  Posted by

ওবায়েদ আকাশ-এর দীর্ঘ কবিতা

একটি সাম্প্রতিক কবিতার খসড়া

গত শরতের দিকে

যথার্থই ভাল লোক বলে তোমাদের নিমন্ত্রণ পেলাম

হাঁড়ি-কলসির নিশ্ছিদ্র সাজানো ফটকে

তোমাদের অভ্যর্থনা পায়ে পড়ে গেল

বলা হলো-

জাহাজ ছুটছে

              ঢোল বাজছে

রুটিতেই আপনার প্রচণ্ড আসক্তি, তাই তো?

বললাম, ‘না’

তাহলে ভেতরে ঢুকুন

জানেন তো, কেরোসিনের ফলন ভাল

এ নিয়েই দুটো কথা বলা হোক

 

দেখছ যে, সিঁদুর রাঙানো ষাঁড়

ও থেকে আমরা রোজ কেরোসিন দুহাই

                                     কেরোসিন খাই…

 

ট্রেন এসে যাচ্ছে, আমার শ্যাম্পুর পাতা?

এ সবই মায়ের জন্য উপহার

মা বলেন, ‘খ্যাতি নেই খাদ্য নেই

               পারফিউমের গন্ধে আমার

                                    উঁটকি আসে বাবা’

 

যা দিনকাল, আপনারা সরুন তো

সুঘ্রাণ আসছে

              সুঘ্রাণের জন্মদিন ছিল

              আমার নেমন্তন্ন ছিল

              সংবর্ধনা পায়ে পড়েছিল…

 

খাতায় মার্জিন টানুন… আমাদের ছবির মাপ নিন

আমার মায়ের নাম    : কেওড়াজল

বাবা                    : গন্ধবণিক

পেশা                   : দিগ্বিজয়

-এভাবে ক্যাপশন দিন

 

…চলুন কাস্টমসের দিকে

সঙ্গে হোমিওপ্যাথ

বাবা ডাক্তার ছিলেন

ভাল মেয়ে দেখতে পারেন

 

স্যার, আমার ফাইলপত্রে

এক ডজন সুন্দরী বেড়াতে এসেছেন

গায়ে ডেটলের ঘ্রাণ, লাইকলি ইমিগ্রান্ট

ভাগ্যটা খুলে নিন স্যার

 

দ্রুত ফিরে চলুন, বাংলার টিচার

রোল-কল হবে

                নো লেট-মার্ক

-টিচার, আপনার ছাত্রীদের ডাকে ধর্মঘট

কাল আসবো না

বাসায় বেড়াতে যাবো, থাকবেন টিচার?

সঙ্গে সংবর্ধনা

               সুঘ্রাণ

                    বাবা-মা থাকবেন

 

আফিমের ঘ্রাণ পাচ্ছ?

দোতলার ছাদে আফিমের চাষ হয় খুব

ডবলডেকারে ওঠে

                    স্কুলে যায়

ভাল শিস্ দেয় মিনি স্কাট

ছাদে রোদ এলে পত্ পত্ ওড়ে পাজামার ফিতে

 

আর মনে পড়ে পঙ্কজ উদাস

হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়া

জলতরঙ্গ…

          বিটোফেন…

                    মোৎসার্ট…

‘বেলা বোস তুমি শুনতে পাচ্ছ কি?’

ডব্লিউ ডব্লিউ ডট অঞ্জন দত্ত ডট…

আহা প্রতুল-দা আলু ছোলা বেচে উজাড় করেছেন

 

কফি হাউসের রোদে

ফোলা ফোলা গাল বসে থাকে

মরুভূমির নাভি

                ধারী ধারী পাছা

 

কাল আপনাকে দেবদাস ছবিতে দেখেছি

সংবর্ধনাকে ভাল চিনবার কথা আপনার

         ‘ইয়েস অনলি শি ইজ!’

চলুন মা’র কাছ থেকে ছুটি নিয়ে আসি

 

এত হাসি হাসি কথা কী করে বলেন?

আপনার বোগলের ঘ্রাণে বমি বমি লাগে

-কোলে তুলে নিন, ওজনে পাতলা

                     ভাল স্বাস্থ্য

                            একহারা

পছন্দ : এ্যাশ টি শার্ট

        ব্ল্যাক জিন্স

           হানড্রেড পাইপারস

                  প্রিন্স ইগোর

                      এ্যাবস্যুলুট

                            হোয়াইট মিশ্চেল

                                 ভ্যাট সিক্সটি নাইন

জ্যাক ড্যানিয়েল…

        আর

টোল পড়া গাল

 

একটি রং নাম্বার ডায়াল, হাসপাতাল!

রিয়েলি লোনলি ডাক্তার

পেইন কিলার, প্লিজ…

 

-সিস্টার [নার্স] আপনার ফ্রকের হুঁকগুলো খুলে যাচ্ছে কেন?

-ম্যাডাম [ডাক্তার] আপনার এ্যাপ্রোনটি ভীষণ উড়ছে বাতাসে

আমার চশমাটা খুলুন

মাইনাস থ্রী পয়েন্ট ফাইভ [-৩.৫]

পূর্বপুরুষের ছিল

চশমাটা ভেঙে দিন, আপনার শুশ্রূষা

                                বড় প্রয়োজন

আরও শীঘ্র ভাল করে দিন

মা বকবেন

তিনি তো অফিস যান না কতদিন

 

সকাল সকাল শেভ হয়ে যাচ্ছে

ধোঁয়া উঠছে চায়ে

(মধ্য দুপুর… জলপাই-রং জীপ… হ্যান্ডকাপ…)

অভিযোগ :    ক. রঙধনু দেখা

                 খ. দেদার গঙ্গার প্রবাহ অঙ্কন

                 গ. শীতবস্ত্রহীন

                 ঘ. বুকপকেটে প্রেমিকার চুম্বনের ছাপ

                 ঙ. প্রেসক্রিপশন

                 চ. শালপাতার বিড়ি

 

আমাকে গেট অব্দি পৌঁছে দিন

                            যাবজ্জীবন, সশ্রম…

 

প্রিয় শোক :        ১. জীবনানন্দ দাশ

                      ২. সমুদ্র ভ্রমণের দিনগুলি

 

বালাগাল উলাবে কামালিহি…

 

আপনাকে খুব সুফি সুফি লাগে

আপনি হারামির মতো মুখ ভার করে হাসেন

আপনি খুব পর্নো পড়েন

কিছুটা ঘুমিয়ে নিন

আপনার কিছু ঘুমের প্রয়োজন আছে

ঘুমের মধ্যে আপনি খুব মন খারাপ করেন

 

কেউ ফুটপাত ধরে হাঁটছে

যাবজ্জীবন ঘুমের কথা আপনার মনে পড়ছে না তো!

 

***

ওবায়েদ আকাশের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ওবায়েদ আকাশ

ওবায়েদ আকাশ

ওবায়েদ আকাশের জন্ম ১৯৭৩ সালের ১৩ জুন, বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার সুলতানপুর গ্রামে। একাডেমিক পড়াশোনা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। ধ্যানজ্ঞানে সর্বক্ষণ কবিতা আর পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতার বয়স ২০ বছর। বর্তমানে দেশের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘দৈনিক সংবাদ’-এ সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :
পতন গুঞ্জনে ভাসে খরস্রোতা চাঁদ (বর্তমান সময়, ২০০১), নাশতার টেবিলে প্রজাপতিগণ (মঙ্গলসন্ধ্যা, ২০০৩), দুরারোগ্য বাড়ি (মঙ্গলসন্ধ্যা, ২০০৪), কুয়াশা উড়ালো যারা (বিশাকা, ২০০৫), পাতাল নির্মাণের প্রণালী (আগামী, ২০০৬), তারপরে, তারকার হাসি (আগামী, ২০০৭), শীতের প্রকার (বৃক্ষ, ২০০৮), ঋতুভেদে, পালকের মনোবৃত্তিগুলি (কাব্য সংকলন, বৃক্ষ, ২০০৯), বিড়ালনৃত্য, প্রেতের মস্করা (শুদ্ধস্বর, ২০০৯), যা কিছু সবুজ, সঙ্কেতময় (ইত্যাদি, ২০১০), স্বতন্ত্র ৬০টি কবিতা (কাব্য সংকলন, বৃক্ষ, ২০১০), প্রিয় কবিদের রন্ধনশালায় (ইত্যাদি, ২০১১), ওবায়েদ আকাশের কবিতা ॥ আদি পর্ব (কাব্য সংকলন, জনান্তিক, ২০১১), শুশ্রূষার বিপরীতে (ধ্রুবপদ, ২০১১), রঙ করা দুঃখের তাঁবু (ইত্যাদি, ২০১২), বিবিধ জন্মের মাছরাঙা (দীর্ঘ কবিতার সংকলন, ইত্যাদি, ২০১৩), তৃতীয় লিঙ্গ (দীর্ঘ কবিতার সংকলন, শুদ্ধস্বর, ২০১৩), উদ্ধারকৃত মুখম-ল (বাংলা একাডেমি কর্র্তৃক প্রকাশিত নির্বাচিত কাব্য সংকলন, ২০১৩), হাসপাতাল থেকে ফিরে (কলকাতা, উদার আকাশ, ২০১৪), ৯৯ নতুন কবিতা (ইত্যাদি, ২০১৪), বর্ষণসিক্ত হাসপাতাল (বৃক্ষ, ২০১৪), পাতাগুলি আলো (ইত্যাদি, ২০১৬) এবং মৌলিক পৃষ্ঠায় হেঁয়ালি (কাব্য সংকলন, ঐহিক, কলকাতা, ২০১৭)।

অনুবাদ :
‘ফরাসি কবিতার একাল / কথারা কোনোই প্রতিশ্রুতি বহন করে না’ (ফরাসি কবিতার অনুবাদ, জনান্তিক, ২০০৯)
‘জাপানি প্রেমের কবিতা/ এমন কাউকে ভালবাস যে তোমাকে বাসে না’ (জাপানি প্রেমের কবিতা, জনান্তিক, ২০১৪)

গদ্যগ্রন্থ : ‘ঘাসের রেস্তরাঁ’ (বৃক্ষ, ২০০৮) ও ‘লতাপাতার শৃঙ্খলা’ (ধ্রুবপদ, ২০১২)।

সম্পাদনা গ্রন্থ : ‘দুই বাংলার নব্বইয়ের দশকের নির্বাচিত কবিতা’ (শিখা, ২০১২)।

সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন : শালুক (১৯৯৯-)

পুরস্কার ও সম্মাননা:
‘শীতের প্রকার’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ‘এইচএসবিসি-কালি ও কলম শ্রেষ্ঠ তরুণ কবি পুরস্কার ২০০৮’।
‘শালুক’ সম্পাদনার জন্য ‘কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র পুরস্কার ২০০৯’।
সামগ্রিক কাজের জন্য লন্ডন থেকে ‘সংহতি বিশেষ সম্মাননা পদক ২০১২’।
কলকাতা থেকে সাহিত্যের ছোটকাগজ ঐহিক সম্মাননা পদক ২০১৬।
***

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E