৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
সেপ্টে ১৭২০১৭
 
 ১৭/০৯/২০১৭  Posted by

মুক্তি মণ্ডলের নয় কবিতা


সন্তরণ

তোমাকে আর ডাকি না, চুপচাপ থাকি
নি:শব্দ ঢেউয়ে, বাঁকে, বিজলি প্রভায়,
বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া বৃক্ষ আলিঙ্গনে,
নজর দিলে তোমাকে স্পষ্ট দেখি।

মনের মধ্যে নিহিত নিশ্চুপ বল্মীকে,
ভেজা পাহাড় চূড়ার রোদ স্নান শেষে
যদি মুছে যায় রাত্রি, পথের ইশারা,
মৌন সন্ত ঢেকো না সন্তাপে।

নিবে যেতে দাও জোনাকপোকার আলো,
সমমনা চুম্বন দেখে ফুটুক ভোর,
ফিরে আসুক কামার্ত উষ্ণ জাগরণ,
সাড়া দিও শুভসন্তরণে।


সামান্য নতুনে

গোধূলি নৃত্যের সঙ্গে সামান্য নতুনে
ছড়িয়ে যাওয়া মেঘ যদি অনুভবে
ক্লান্তি ও গ্লানি উড়িয়ে মন শান্ত করে,
নির্জনে রেখ অন্তর সমুদ্রের পাশে,
ভেসে যাবে কালিঝুলি ঢেউয়ে ও স্রোতে,
ভরে উঠবে জীবন মুগ্ধতার গানে।

অনন্য উষ্ণতা চিরে উড়বে গর্জনে
শুদ্ধতার পরিমিত বিশ্বাসের ডানা
অবিনাশী পূর্ণ আত্মা ফিরে পাবে ভাষা
ফিরো শৈবালের ঘ্রাণে মনবালুভূমে।


বন্ধু

প্রতিদিন ভালমানুষি মুখোশ
প্রদর্শনে যাই
হাহাকার ভরতি মেঘের মত
কাউকে দেখি না
চাটুকার পাপোশের চোখের দিকে
তাকিয়ে হাসি
ঠাট্টা ভরা জীবনের দৈন্য স্বর
আকাশে ভাসাই।
নীরবে শুনি পতনের শব্দ
মনের গভীরে বয়ে যায় আনন্দ ধারা
অন্যায্য আচরণে চুপ থাকি
আমার দুঃখ মোছে শেষ রাতের তারা।


অলৌকিক

অলৌকিক-বিশ্বাসে বিমূঢ়
ডানা ভাঙা ছায়াসঙ্গ পাখি
ঘৃণার থলি উথলে উঠা
মানুষের উপেক্ষা, অবজ্ঞা
আমাকে নতুন ভাষা দেয়
ঠাট্টার ভিতর ঘুরে ফিরে
দেখি সন্ত সাজের ভালুক
আমি নরম রোদের তলে
তাদের মনের ধুলো বালি
মুছে দিয়ে কালিমা সরাই


শুভবোধ

একটা নিরীহ পাতা
শব্দের ঘনিষ্ঠ অনুভবে
উড়িয়ে নিক প্রান্তরে
আমাদের সমস্ত গরিমা
খোলা দেহ সেও মেঘে
রোদে ভেসে গড়ুক প্রতিমা
পাতার অন্তরে রেখো
শুভবোধে সমস্ত যাচনা।


নজর

তুমি তো নতুন নও
প্রমিত বন্ধনের বাইরে সহর্ষ মেঘলা রেখা
গভীর নির্জন রাতের সন্ত প্রতীতি

মুছে দাও আমার সব অপ্রাপ্তির সংগ্রহশালা
মিনতির কালো ফুলে রেখোনা সন্তাপ
উড়ন্ত পালক থেকে
খসে পড়া দেখ বেণীমুগ্ধ ঘুমের আকার


স্বপ্ন

প্রায়ই একটা স্বপ্ন দেখি
গভীর কুয়াশার ভেতর পড়ে আছে
ব্রাত্যজনের ফসিল

ভাঙাচোরা সহস্র খুলির গর্ত থেকে
হেসে ওঠে
জলমগ্ন বৃক্ষদের হাসি

পোকায় খাওয়া সবুজ ফলের অভ্যন্তরে
আমি লুকিয়ে ফেলি
ভদ্রতাবোধ
সমাজচ্যুত মনুষ্য হাহাকার

খুঁজে ফিরছি একা
কোথায় পড়ে আছে রীতিশূন্য
ধুলিবসনের প্রণীত আঁধার

দেখছি চারিদিকে
উড়ে চলেছে সঙ্গোপনে
বোবা মানুষের অসংখ্য চোখের জ্যোতি


জঙ্গম

ব্রাত্যজনের প্রশ্রয়ে
নিয়ে যেতে পার।
উন্মাদ বলার কেউ আর থাকবে না।
অনেক না বলা কথা
শুনবে মল্লিকা,
জড়ো হবে ভীরু মনে শ্যামলী শরণ।

প্রকৃত শূন্যতা থেকে অবচেতনায়
যখন ঘুম ভাঙবে তখন দেখবে
শুধু জলের কাঁপন,
ভবঘুরে মেঘ
তোমাকে উড়িয়ে নিবে, ভাষার ড্রাগন
উড়তে থাকবে
জঙ্গম ইচ্ছুক মনে।


রূপক

যে ভাবনার অন্তরালে লুকিয়ে আছে
তোমার সত্যিকারের নিষ্কলুষ মমি,
তার শরীর ঘিরে জোনাক পোকা নাচে,
নাচে রূপকের নগ্ন পাহাড়ের সারি।


মুক্তি মণ্ডল

মুক্তি মণ্ডল

মুক্তি মণ্ডল। জন্ম: ১৯৭৬, চুয়াডাঙ্গা। বাবা ও মায়ের ছায়া সৈকত নিজের আদলে নিয়েই ঘুরিফিরি। স্থায়ি ঠিকানা সুবদিয়া, চুয়াডাঙ্গা সদর। বর্তমান ঠিকানা মিরপুর, ঢাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। কাজ করি অসরকারি গবেষণা ও এডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞায়। কবিতা লেখার প্রেরণা চর্চা করতে করতেই তৈরি হয়েছে। কোন গুরু নাই।

প্রকাশিত বই: ঘড়ির কাঁটায় ম্যাটিনি শো ( কৌরব, ২০০৮), পুষ্পপটে ব্রাত্যমিনতি (জোনাকরোড, ২০০৯), উন্মাদ খুলির পৃষ্ঠাগুলি (আবহমান, ২০১১), ২০১৫ এর বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে ভেল্কিবাজের আনন্দধাম, প্রকাশ করেছে এন্টিভাইরাস পাবলিকেশন।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E