৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুন ১৬২০১৭
 
 ১৬/০৬/২০১৭  Posted by

মকছেদ আলী সাঁই-এর ৩৬তম তিরোভাব দিবস
– আমীর আজম খান

মকছেদ আলী সাঁই

মকছেদ আলী সাঁই

আপন অস্তিত্বের চারপাশে বাঞ্চিত লোভন বিষয়সমূহ শিরক বা সংস্কার। মনের পর্দার ঐ লোভসমূহকে এড়িয়ে আপনসত্তার বিকাশলাভই পুরুষত্ব। লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল মানুষকে এই পুরুষত্ব অর্জন করেই মুক্তি বা অনন্ত জান্নাতলাভ। আমার শুভার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, আমি নাকি মকছেদ আলী সাঁইকে প্রতিষ্ঠা দিতে চাইছি। কথাটি সম্পূর্ণ অশুদ্ধ, কেননা যাঁরা জীবনের যাবতীয় সংস্কাররাজিকে বর্জন করে নিজকর্ম সম্পাদন করে গেছেন তাঁরা স্বজ্ঞানের উপার্জনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আমার মতো তুচ্ছ হীন জীব মানুষের সাধ্য কী প্রতিষ্ঠিতকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবার। বহুধা সংস্কারের অন্তর্জলিতে নিমজ্জিত সামাজিক পালকে নির্মিত নকল পুরুষের অসার জয়গান হয়ত চলেছে দেখে সংস্কার ঠুলিতে আবদ্ধ আমরা তা দেখতে পাই না। সেটি আমাদের সীমাবদ্ধতা; মহৎজনের নয়। প্রকৃত কর্মবীরের কাজ নিজেই নিজের ঢাকঢোল বাজাবার নয় বা সংস্কারযুক্ত মিথ্যা সমাজের দ্বারা বাজনায় নিজেকে ভাসানো নয়। অতএব, মকছেদ আলী নিজের পরিবার-সংসার-সমাজ ও এ জৈবিক রাষ্ট্রের চোখে প্রতিষ্ঠার অনুকম্পাপ্রার্থী মনে করলে অপরাধ হবে। তিনি তাঁর জীবন-যৌবন, জ্ঞান-ধন-মানকে বাজী রেখে ফকির লালন শাহের পদ বা কালামকে তুলে ধরেছেন তথাকথিত সামাজিক মানুষের মনের সংস্কারের পর্দা ছেদ করার ব্রতে। তাই আসুন, আজকে মকছেদ আলী সাঁই –এর ছত্রিশতম তিরোভাব বার্ষিকী সামনে রেখে তাঁর অবিনাশী কর্মগুণরাজিকে স্মরণ সংযোগের চেষ্টা করি। নিজেকে যুক্ত করি সংস্কারমুক্তির যুদ্ধে! আগামীকাল ১৭জুন তাঁর ৩৬তম তিরোভাব দিবস।

‘জ্ঞান কিবা ধ্যান কিবা প্রমাণ
বেলা অবসান দিশেহারা
কেউ বলে আমি কেউ বলে তুমি
কেউ বা আবার নিরাকারা ।।

সাধনভজন গুরুকর্ম
জ্ঞানচক্ষে সব হেতুধর্ম
অবিশ্বাসেও পাপের জন্ম
তাইতে আমার নাই কিনারা ।।

ভয়ভক্তি আর সাধুসঙ্গ
বুঝলাম এসব লীলারঙ্গ
নামেই কেবল হয় উলঙ্গ
বেদ-আগমে দেয় ইশারা ।।

পঞ্চ ভাবরস মেলে যদি
যাও যেথা সেই গুণের নিধি
মকছেদ কয়রে মন বিবাদী
রাখিস বেঁধে নয়নতারা ।।’

  • মকছেদ আলী সাঁই
Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E