৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
নভে ০৬২০১৬
 
 ০৬/১১/২০১৬  Posted by

meena-mukherjeeকবি পরিচিতি

ডঃ মীনা মুখোপাধ্যায়। জন্ম- ৮ই অক্টোবর, ১৯৫৯। সুরী, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। কবিতার হাতে খড়ি শৈশবেই৷দাদামশাই ঁস্বর্গীয় হরিপদ চট্টোপাধ্যায় সুন্দর গান বাঁধতেন, জ্যাঠামশায় বাবা, কাকা কবিতা লিখতেন। স্কুল—ম্যাগাজিনে স্যার মথুরানাথ দাস ও অজিত মন্ডল স্যারের অনুপ্রেরণা অবশ্য স্বীকার্য৷ স্কুল কলেজ ছাড়াও দেশ-বিদেশে নানান পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে লেখা ছাপানো হচ্ছে। বিবাহসূত্রে জামশেদপুর বাসিন্দা৷সুর্দীঘ কাল সাহিত্য অঙ্গনের বিরতি, পুনঃ স্বামীর প্রেরণা ও উৎসাহে নিঃভাঃবঃ সাঃসঃ এ যোগদান ও নানান সাহিত্য সংগঠনে যুক্ত ও পুনশ্চঃ কবিতা লেখা শুরু। এযাবৎ স্বতন্র তিনটি কাব্যগ্রন্থ ও যৌথ উদ্যোগে বেশ ক’খানি। সাহিত্য সভা শানন্তিনিকেতনে নিয়মিত লেখা, চলছে কলম আজও।

মীনা মুখোপাধ্যায় -এর কবিতাভাবনা

একলা চলার পথে কবিতা অনন্য সাথী৷ “অনেক দিয়েছ কবিতা তুমি৷৷”—চিন্তন ও মননের রূপান্তর ই কবিতা৷সৃষ্টির ভাষা, প্রয়োজনের ভাষা, সংস্কৃতি রক্ষার তাগিদ, প্রকৃতির প্রতি অসীম টান, সামাজিক চিত্রণের প্রতি র্দুনিবার আর্কষণ, সৃষ্টির প্রতি সজাগ দৃষ্টি ও পাঠকের প্রতি সজাগ দৃষ্টি নিবেশ বরাবরই। যন্ত্রণা ও সৃষ্টির অনুভবঃ প্রাত্যহিক জীবনের গভীরতম সংঘটন, বেঁচে থাকার আশ্বাস, পূর্ণতায় র্নিভরশীল, ভালবাসা, প্রেমপ্রীতির দৃপ্ত প্রত্যয়, সৌন্দর্যের সোপান বেয়ে কবি চলমান।

মীনা মুখোপাধ্যায় -এর কবিতা


বিষণ্ণ পলাশ

র্নিজন জ্যোৎস্না এখনও জেগে—
আমিও র্নিঘুম,বিছানায় শুয়ে_
নিঃশব্দ নক্ষত্রেরা নিথর, নিস্পন্দ—
আকাশ র্নিবাক৷

মুখোমুখি বিছানায় তুমি৷
অব্যক্ত কথাগুলো ঝরে,
তোমার সুগভীর র্দীঘশ্বাসে৷
হৃদয় ভরা অঙ্গীকার !

বিরত সংলাপেই—
দেহ নিটোল উষ্ণ,
বুঝি বা প্রতীক্ষায়
বসন্তের বিষণ্ণ পলাশ !


নিমজ্জন

তৃষিত আশ্লেষে
অপেক্ষমান বৃষ্টি ধারায়
আহত যৌবন আছড়ে পড়ে৷
সংগোপনে৷

কৌমুদীরা চূর্ণ—
সেই ময়ূরাক্ষীর বালুকাতটে—
মৃদু পদঝঙ্কারিণী গভীর প্রেম _তৃষা!
মেঘ মল্লারে ৷

একতাল সোহাগ সঘনে,
কম্পিত ওষ্ঠে চূর্ণ করে আমাকে নিরন্তে;
ক্ষণে, পলে, মূহুর্তে শুধু
পদ্মত্বের আশায়।
নিমজ্জনে—

পুনঃ নিজেকে হারালাম
কোনও উর্ন্মাগ রহস্য পথে৷
ক্রমশঃ পিয়ালের বন্ধ্যাশাখে
প্রহর সংকুচিত যেন ৷


তৃষা

শাল মহুয়ার আড়ালে
উপরে গাঢ় কালো আকাশ৷
মুখোশের অন্তরালে
কিছু লুকিয়ে আছে কিনা?
রিমঝিম বৃষ্টি-সকাল-আসন্ধে৷
দু’চোখে প্রেমিকা পৃথিবীর বিহ্বলতা-
ভালবাসা স্বজনের সাথে৷
কি ভীষণ সবুজায়ন — !
বৃত্তরেখা এঁকে যাই পরম তৃষ্ণায়।
প্রেমের যন্ত্রণা থাক জমা, সিন্দুকে–
বাঁশির বিহ্বল সুরে ছড়িয়ে দিক
আজ শুধু প্রেমের আনন্দ গান৷
স্মৃতির স্পন্দনে শোন কবিকন্ঠের
আলোক-আন্দোলিত মহোল্লাস!
যেখানে নিহীত পৃথিবীর বাঁচার অম্লান তৃষা ৷


অসুস্থ প্রণয়

নিষ্ঠুর সুরের স্রোতে
নিষ্ঠুর হুঙ্কারে প্লাবিত শহর।
বুঝিবা প্রেমের স্বেচ্ছা-র্নিবাসন !
নিরক্ত যন্ত্রণা,
অনুজ্বল আকাশ বাতাস—
মলিন,ক্লান্ত আজ….
চঞ্চল ত্রাস-স্রোতে
এ কি কোন দুরভিশাপ!!

ক্লেদাক্ত অশ্লীল ঘটনার
বিষণ্ণ রহস্যেরা ওড়ে
কিশোরীর ওড়নার নিখাঁজ ভাঁজে…..
বিস্ফোরণে আলো দিতে চায়-
নিঝুম শহর দ্যাখো
অমাবস্যার ভোরে…..
অমৃতের আলো হাতে
ঈশ্বর বিলিয়েছে প্রেম দু’হাতে….
কোথা সে র্নিমল চৈতন্য আজ???


মা

তোমার পদধ্বনির সাড়া পাই মা,
দিগন্তের রূপোলি রেখায়
অন্তিম কালের মত চিত্র—
নিঃস্ববাক কেবল চেয়ে থাকে মূহুর্তেরা,
করলগ্ন আলো নেই—
উন্মুক্ত প্রান্তরে হাঁটি একা বিভীষিকা সম৷
প্রেমের প্রতিমা তবু অলখ দৃষ্টিতে৷
প্রেম স্থিত৷৷
কুসুমাকীর্ণ সৌরভে মেদুর হাওয়া,
আবেশ ঘনায়৷
দু’চোখে নিবিড় খুঁজি লুপ্ত প্রতিভাস৷
নূপুর পায়ে তোমার আগমনী।
বন্ধ্যা শাখে ফোটায় ফুলরাশি।
বিরত সংলাপে গভীর অরণ্য অপেক্ষমান—
আঙ্গিকের নিখুঁত কৌশলে৷৷


কমল কোরক

জীবনাভিলাষী আমি—
ভুলে গেছি সমস্ত বিষাদ আর বিরহ।
বৈশাখের সুতীব্র দহনে
ভালবাসার কচি কাশলয়
পুড়ে হল নিঃসাড়৷

নিবিড় র্নিজনে
এক ক্লেদাক্ত প্রেম—
হৃদয় দরজায় সংগোপনে চেয়েছিল _
এক টুকরো আশ্রয়।

বিচ্ছিন্ন মেঘ
আজ অরণ্যের হাওয়ায়
দোলা দিল।
অরণ্যের উদাত্ত কন্ঠস্বরে
রক্তিম প্রেমের ছায়া৷
অন্ধকার প্রতীক্ষিত ভোরে
দীপ্ত হলো অন্তরের
উজ্বল অনুরাগ৷


হে প্রেম!

বসন্ত এসেছে নীরবে জীবন-মালঞ্চে।
ফুলেরা প্রস্ফুটিত দেখো ঊর্বশীর সাজে।
আশার আশ্রয় খোঁজে বিষণ্ণ প্রেমিক৷
ফুলের পুঞ্জে ভ্রমর মৌমাছির আন্দন গান—
আলোর মদিরা হাতে
বাগিচায় ভোরের পাখিরা উচ্ছসিত দেখো,
কলকন্ঠে অমৃত কথা ঝরায়—
নিপুণ শিল্পীর মত
বসে আঁকি, সাদা ক্যানভাস জুড়ে—
যৌবন-চেতনায়, অপরূপ আনন্দ রঙে৷
সমস্ত বাঁধন ছিঁড়ে সঞ্চয়ীর মত….
তুলে রাখি সোহাগের দাগ!
আকাশের কাছে চেয়ে নিই
চিত্র -আধারিত সে
সৌন্দর্য সুখ!


ফরমান

মদির  বৈশাখী রাতে
মোহময় পরশ তোমার,
মধুর চন্দ্রিমায় নির্জনতা
জ্যোৎস্নার উষ্ণ আলিঙ্গন—

নিস্পন্দ বিশ্ব চরাচরে
প্রেমের সংগীত ঝরে
আমার খোলার বিছানায়
জ্যোৎস্না স্নাত মাধবীর নন্দিত রূপ……৷

অনেক বছর আগে

আমি তাকে বলেছিলাম
তোমাকে চিত্রিত করবো আমি —
প্রাজ্ঞল প্রেঃমের ছবি এঁকে….


অভিসার

শূন্য প্রহরগুলো সঞ্চয় করে আজ আমি জেনে গেছি শতাব্দীর কল কোলাহল
আকাশের রঙ বদলায় কত—বারেবারে—
কত ঝরাফুল হৃদয়ে জড়িয়ে নিভৃত নির্জনে
সে মায়াবিনীর
কোমল পরশ৷

এক যুগে বাদে —
বাৎসল্যের নিরিবিলি প্রবেশ৷
অন্ধকার দরজায়
বোবা কান্নার গুমরানি
‘পিছনে চেয়োনাকো,
হৃদয় মেলে দাও
গানের সুরে৷

যেখানে আড়ালে
পুষ্পিত কান্নারা
প্রহর গোণে৷

১০
পূর্বী

কোনো এক পাখি-ডাকা ভোরে স্বপ্নের জোয়ার ভাঙ্গে অকস্মাৎ, আমি হেঁটে চলেছি বিষাদাকীর্ণ
কোনো তেপান্তরের মাঠে৷
প্রাগূষায় সিঁদুর মাখা ভোরের সোহাগী আলোকিত ছায়া দল৷

আস্তৃত নির্সগে দেখি প্রথম
প্রেমিকের শুদ্ধ  আবির্ভাব
আনন্দ বিষাদে ভরা
সুগন্ধী কাঁটা ফুলে ঘেরা নিভন্ত স্মৃতি সুক্ষ কাঁটাগুচ্ছে সজ্জিত….

প্রেম হাঁটে নিরন্তর ইপ্সিতের খোঁজে
ছবি হওয়া কথাদের ভিড়ে …
আমার ভৈরব চোখে
আলোর পৃথিবী নাচে৷
পাখিদের নিরন্তর ছন্দিত মধুর ধ্বনি
বারবার ডেকে নিয়ে যায়
সে সুখময় অলৌকিকতায়৷
ক্যানভাসে অন্তরঙ্গ
নিবিড় ঘটনা….

ফুল সাজিয়ে চলেছি প্রেম পাত্র ভরে ষোড়শোপচারে
আহা! আঁধারে নিহিত স প্রেম উজ্জীবিত আজ
জবা কুসুমের সৃষ্টি -সবিতায়৷

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E