৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
মার্চ ২২২০১৭
 
 ২২/০৩/২০১৭  Posted by
মাসুদার রহমান

মাসুদার রহমান

মাসুদার রহমান-এর কবিতা

ঘুম ও বাঁশি সংক্রান্ত

দুপুর ভাঁজতে ভাঁজতে হাওয়ায় গা ছড়িয়ে একজন ঘুমিয়ে পড়েছে ওই মাঠের কিনারে। ইক্ষুমদ ধারক ধাতবপাত্র, জং খাওয়া কার্তুজ পিস্তল; অবরুদ্ধ নুনে ভাসে প্রশ্নহীন যৌন সর্বনাম। মেঘের প্রচারগাড়ি ইত্যকার এই তথ্যসহ যখন পৌঁছেছে এস্কিমো পাড়ায় পাড়ায়। আগুনে পুড়ে গেছে ইগলুর ভাষাশীত। গন্ধক পোড়ান ধোঁয়ায় জন্ম নিচ্ছে সিলিকান্ত গানের মোমবাতি। বীজধ্বনির গ্রাম আমাদের লাজুক পাকস্থলিতে পাক দিচ্ছে। লেখাগন্ধে ভরে যাচ্ছে শালিকের ঠোঁট। শ্যাওলা পেরিয়ে পৃথিবীর ভাঙা রেডিওবাড়িতে লেপে দিচ্ছে কৃষিকথা, মাঠ ও মাঠের কিনারে গজিয়ে উঠছে যতো সব ঘাস কাগজের ফুলঝুরি। ব্যাপার মোড়ান হাওয়া কীভাবে আনছে ডেকে রোদ সকালের মুস্কান। আমাদের হরমোনে সামুদ্রিকতা ফাঁসিয়ে হাড়ে হাড়ে পাক দিচ্ছে নাটবল্টু; এসো আমরা সিন্দুক খুলে পৃথিবী দেখব। আর মাঠের কিনারে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে একজন তার হাড় বাঁশি করে ছড়িয়ে দিচ্ছি সুর এস্কিমো পাড়ায় পাড়ায়। তার সাথে উড়ে যাচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে লিরিক্যাল পাখি

গ্রন্থসমালোচক মর্যাদার একজন মহিলাকে

নিবিড় ঝুকে পড়ে তুমিই দেখেছো মুদ্রার শরীরে লুকানো হলোগ্রাম; ঠোঁটে অস্পষ্ট তিলের আভাস। বারান্দায় দাঁড়ালে কখনো বুঝতে পারি; তুমি এখন কিচেনে কড়াইয়ের গরম তেলে ছুঁড়ে দিচ্ছ সবজির টুকরোগুলো, নাগিনীর ফোঁস ফোঁস। উচ্ছন্ন কবির জীবন; তাকে চিড়ে চিড়ে অনিরাময়যোগ্য পাপ ও দূষণে; ডেটল ও ব্যান্ডেজ লাগিয়ে তোমার কি লাভ ! একান্ত শুভাকাক্সক্ষী দু’একজন গোপন ও প্রকাশ্য প্রমিকা যা কখনো করেনি
আমি জানি, আমাকে তফাৎ থেকে তুমি আর আমার গ্রন্থসমালোচক ছাড়া নিজে থেকে কোনদিন দেখতে পাবো না

বিদ্যালয়

হাওয়ায় উড়ছে রঙিন বাহারি এতো গ্যাস বেলুন; পাখিদের উইথ হোস্টেল। তার বহুতল ভবনের বারান্দা হতে লাফিয়ে নামছে তুলো তুলো বিড়াল শাবক। দেবদূত ঘন্টায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন টি-ব্যাগের লিকার ভরা সন্ধ্যা; গোলাপি সাবান মাখা চাঁদ। দিদিমুনি বললেন; বইগুলো ভাসিয়ে দিই, ওরা হোক উজানের ডানকানা মাছ। আমরা মোহনা মুখে স্নান দিতে নামি

পাঞ্জাবি পরা পাখি

সাদা পায়জামা ও পাঞ্জাবি পরিহিত পাখি; ওর লম্বা গলা বাড়িয়ে দিলো। তখনও মাসিমা রাগি চুঁড়ার মাথায় ফিতে দুটি সেপটিপিনে গাঁথছেন। তখনও খোলা আছে মার্বেল গড়িয়ে যাওয়ার মতো নাভীর গর্ভ…
সেই অবলঙ বাড়িয়ে দেওয়া গলা; আর যায় কোথায়
ঈশানে কালবোশেখি ঝড়ের পটভূমিকায় সাদা বক উড়ে যাচ্ছে বাঁশবাগানের দিকে

আরণ্যক

বাংলোটি বনের ভিতরে। বারান্দায় বসে মনে হল; গাছের প্রশস্ত ডালে চেয়ার পেতে বসে আছি। সবুজ গাছবাড়ির উপরে মেঘ করে আসা আকাশ। কোথাও কেউ নেই। একা কিশোর এক জামগাছে মিশে আছে; সেও ওই জামগাছ! কালো রঙ জামগুলো মুখে দিচ্ছে টুপাটুপ
ঝুলে আছে কেমন বাদর
বাজ ডেকে উঠলো কোথাও- বৃষ্টি এলো তারপর
জামগাছ থেকে নেমে ছোট একটি জামগাছ বৃষ্টিমাথায় দৌড়; উঠে এলো বারান্দায়
ডাক এলো আরণ্যক হতে-
-মা-সু-দা-র… ঘর থেকে গামছা নিয়ে এসো; ছোট জামগাছের মাথা মুছে দিই

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E