৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ১৯২০১৬
 
 ১৯/১০/২০১৬  Posted by
কবি মাসুদ মুস্তাফিজ

কবি মাসুদ মুস্তাফিজ

কবি পরিচিতিঃ

মাসুদ মুস্তাফিজ। জন্ম ২২ নভেম্বর ১৯৬৯ খ্রি: বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরের মাধববাটি গ্রামে। স্কুল-কলেজ বিমুখ ছাত্রটি আপাদমস্তক কবি হয়ে ওঠেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে, যুক্ত হয়েছেন সমকালীন কাব্যচিন্তায় এবং প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজস্ব কাব্যবাহন। বাংলাদেশসহ ভারতের কিছু সাহিত্যকাগজ লিটলম্যাগ, প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যপত্রিকা এবং জাতীয় দৈনিকে লিখে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে পরিচিত হয়েছেন। শিক্ষকতা করেন-  মূলত কবিতা লিখেন, কিন্তু গদ্যচর্চায় তাঁর আগ্রহ প্রবল। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিনিধিত্বশীল-গবেষণামূলক পত্রিকায় তাঁর গদ্য সাড়া জাগিয়েছে। বর্তমানে তিনি এ প্রজন্মের কবিতার প্রবণতা: বিয়য় ও বিনির্মাণশৈলি নিয়ে কাজ করছেন। গদ্যফর্মের নতুন আঙ্গিকের কাব্য-প্রকরণ আর নিজস্ব স্টাইলের মুক্তভঙ্গিতে সুখহালের জীবনাবলি রচনা করে চলেছেন এবং অন্তরবন্দি হয়েছেন নবনিতা শব্দকলির প্রাণে। প্রিয় শব্দকলি তাঁর আজীবন আরাধ্য। কবির আত্মজ- অনুভব মুস্তাফিজ, নিঝুম মুস্তাফিজ।

প্রকাশিত গ্রন্থঃ

কাব্যগ্রন্থঃ ‘বিষ্টির প্রহর গুনতে গুনতে’ (২০১০); ‘ব্রিজ পেরোচ্ছি না স্বপ্ন পেরোচ্ছি’ (২০১১); ‘কিছু সমুদ্র কিছু বিষণ্ণতা’ (২০১২); ‘জলবাতায়নে রঙঘুড়ি’ (২০১৩); ‘স্বভাবদুর্বৃত্ত বাতাসে কুয়াশার কৃষ্ণতীর্থ’ (২০১৫); ‘মাতালরোদে মেঘে অরণ্য’ (প্রকাশিতব্য ২০১৭, কোলকাতা বইমেলা)।

প্রবন্ধঃ ‘সাহিত্যচিন্তা ও বৈচিত্র্যপাঠ (২০১২)’;  ‘অবমুক্ত বৃত্তায়ন’ (২০১৫)।

সম্পাদনাঃ নাক্ষত্রিক, অগ্নিসেতু।

সম্মাননাঃ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সাহিত্য পদক (২০১২)।

মাসুদ মুস্তাফিজ -এর কবিতাভাবনাঃ কবিতা একটা প্রেমের টান…

হারিয়ে যাওযা মন আর জীবন অনুসন্ধানের নাম কবিতা । মনের যেমন কোনো ব্যাখ্যা নেই- ব্যাখ্যাতীত অনুভূতির শির শির নাড়া আমাকে কাপিঁয়ে রাখে সারাক্ষণ। প্রতিদিন নতুন পথের ভাবনার নেশা মনকে মাতিয়ে তোলে : কিছু একটা বলতে চায় কিন্তু বলতে যে আবেগ ও কল্পনার আড়াল তার ভেতর শিল্পের বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তার প্রকাশ ঘটানোই হলো কবিতা।

নারীর কাছে যাওয়া- নারীতে আশ্রয় কিংবা নারীর রমনীয় মোহনীয়তা আমাকে কবিতা শেখায়, সেখানে কোনো সংশয় আর সন্দেহের ঘর নেই- এই অদৃশ্যের ঘোর অন্তহীন ঘর তৈরি করে যার নির্মাণ পৃথিবীর সব শ্রেষ্ঠ নিমার্ণের সেরা। কবিতা অনেকটা সময়ের নিয়ামক এবং মনের নিরামক। আমি মূলত নিজেকে লিখি- তা কবিতা না ববিতা আমিই জানি না …। কবিতা লিখা বলা যায় না তা শুধু লিখাই যায় হয়তো। ধরা যাক, তুমি কোনো দূর্গম পাহাড় বা ঝর্নাসিঁড়ি থেকে ছিটকে পড়েছো, সমুদ্রের কোলাহল, পাখির কলতান, ফুলের গন্ধ, জোয়ারের গর্জন, মেঘের ছায়া, মানুষের ডাক সবই শুনতে পাচ্ছো অথচ না উঠতে পারছো না উঠতেই হবে নইলে তুমি বাঁচবে না এই বেঁচে থাকাটাই কবিতা। কবিতা টিকে থাকার কথায় আমাকেই কবিতার কাছে টিকে থাকতে হয়।

কবিতা নারী-পুরুষের সর্ম্পক- নিজের ভেতর পুষে রাখা- পুতে রাখা আরেক মন। গুটি পোকার সুতোর মতোন সৃষ্টির সাথে জীবনের সর্ম্পক। নিজেকে চিনতে চিনতে আর মিলিয়ে নিতে নিতে আবিস্কারের মূর্ততায় পথ চলা-
আমি কবিতার কাছে যাই আবার কবিতা আমার কাছে আসে নতুন পরিচয়ে। রাতদিনের ভালো-মন্দের সাথে মিশিয়ে মিথস্ক্রিয়া যে রসায়ন বোধ করি অনুরণ আর  ভাবাতুর অনুভূতির বদল করি এবং নির্জনতার অনুবাদে নিজেকে এভাবেই লিখে চলেছি।
কবিতা শব্দের মুগ্ধতায় আর মমন সংবেদে এক বোবা মেয়ের সাথে কথা বলুক জীবনের ভাষায় প্রেমে বিভোর হয়ে ঊঠুক আমার সমস্ত সত্তা জুড়ে!

মাসুদ মুস্তাফিজ -এর কবিতা


মাসুদ মুস্তাফিজ

এবং আমার মৃত্যুর সাথে জন্ম নিলো প্রত্নকালের মেঘের মন-মনোনিত আঁধারালোর চিরমন্থনকাল কিংবা আঁধারের ঘড়ি পথের ভগ্নাংশ ছিঁড়ে সংশয় হাঁটে আকাশের কাছে জলগণিতে আমি ফিরে তাকাই অর্ধসত্যের আবহ নিয়ে বাসা বাঁধে আমার মন আমার মৃত্যু এবং আমি দূরের কোনো স্বপ্নসত্যের দিকে ঘুম রচনা করি মেঘের স্তরে স্তরে আসলে জাগতিক নিঃশ্বাসের রঙতুলিতে এভাবে ঐকিক জীবন কুয়াশানগ্ন জীবনানন্দ

অথচ অন্ধকার ছায়ার আশতাব্দী পৃথিবী-যুগল প্রজাপ্রতিবিড়ালের আসন্ন মাছসন্ধা অথবা ফেরি করা অনূভূতির ফাঁকিবাজি এভাবেই নিঃশ্বাসের কুশল বেয়ে উঠে আসেন গাছ-বৃক্ষমহাশয় যখোন উড়ে যাচ্ছি সংশয়ী শয্যায় সাম্প্রতিক সমম্বয়ে উড়ে যায় কল্পনার পালক-দিন চলে যায় প্রৌঢ়ত্বে ! বালিশের নিচ থেকে বের করি আপাঠ্য আধাঁর-শরীরীছায়া ছায়া শব্দের অর্থ হয় শূন্যবাস্তবতা আর বাস্তবতা হলো পিগম্যালিয়ানের ছায়া ! এখন সমুক্ষে মধ্যরাত্রি ফুলের পাজঁর হারানো ঘুম অথচ নিকটস্থ চোখে ভেসে ওঠে প্রতিদিন আত্মপক্ষের আলো ! পুরুষমেঘে খেলা করে স্পর্শ-বিবিধ প্রশ্নের নকল ধারাপাত আসলে এগুলো কী ! আয়নার যোগফল !
অথচ আমি গোধূলিমগ্ন পথিক এ্যাক আলোর পথিক-দিগন্তের রঙিন পাণ্ডুলিপি ক্রমশ: দোলে ওঠে পথে

আবার মৃত্যু আমার মৃত্যুর পর জেগে থাকে জেগে ওঠে হৃদয়চাঁদ আর চাঁদের শহরে মিশে থাকি এ্যাক-মাসুদ মুস্তাফিজ


অন্ধকারগুলো ভেঙেচুরে সরে যাচ্ছে

ঘুমের ভেতর অন্ধকার থাকে না-
প্রিয়তম সৌন্দর্যের মধুময় পরিণতি ঘটলে- পৌঁছে যেতে পারি নিজের বাইরের অন্ধকার আলোয় আর ভেতরে ভেতরে আমাকে টানে গভীরভাবে টানে ঘোরলাগা নেশা; ক্ষতবিক্ষত কোরে  আমার উদাসী সাহসী সময়মন
এই ক্ষত কোনো মানুষের সৃষ্টি নয়-
এবং সংগত কারণে এ দাবি কেউই করবে না
অতঃপর আমরা প্রত্যেকেই প্রিয় পথে হাঁটি আর ঘৃণাগুলো ঋজুতার সাথে পরিস্কার করছি কিছু কাঁচের মোমের আলো জ্বালিয়ে এভাবে হেঁটে হেঁটে কী অন্ধকার পার হওয়া যায় ! যে গ্যাছে তার দাঁড়ানো পরিকল্পনা সত্যিই প্রকৃত অর্থহীন
তবে ঢেকে দাও ঘুম-
ঢেকে দাও মন; বিরহের স্মৃতিপূর্ণ দৃশ্যগুলো লুকিয়ে থাকুক ওই লালচিহ্ন নিয়ে-পথ যতোই বাঁকা হোক আজ কিংবা কাল আমাদের বেছে নিতেই হবে
প্রতিদিনের টুকরো টুকরো অন্ধকার জড়ো করে ভরিয়ে দেবো সেই আলোয় কিন্তু জেনো রেখো নেশা আমি তোমাকে কোনোভাবেই ভুলে থাকতে পারি না !


শাদাচাঁদের দহন

পা সড়িয়ে রাখি বুঝি এই তুমি-অবশেষে ফিরে যেতে হবে
ঘরে মন নেই কেউ নেই জেনেও চেতনা গভীর হয় আর রাতের জন্মে নিজেকে খুঁজি শেকলবাধা স্রোতে পায়ের জীবন হামাগুড়ি খেতে খেতে সমুদ্রসূর্যের শাদাচাঁদের মন্থনে মেঘের দহন ভাঙে
তুমি সমুদ্রবাগান চুরি করো মনের দড়ি ছিঁড়ে-আবেগের সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে অভিমানীচোখ আর পোষা দীর্ঘশ্বাসের প্রকৃতিতে
মন আর রাতের সাথে বদলে যাও তুমিও-
একান্ত নিঃশব্দের বাতিঘরে ব্যাক্তিগত কাক শৈশব কাছে ডাকে নিজনামে নিরিন্দ্রীয় আগুনস্মৃতিকাতর চোখে


লাল ওড়নায় জীবনানন্দীয় মন ওড়ে

হাতের নির্জনে তুমি একা- একাই হেঁটে চলো
স্বপ্নের ছায়া ভেঙে
স্পর্শের অতীত ধরে
চিঠি আসে
কথা আসে
হৃদয় কেটে-স্বপ্নের ছায়া নড়ে
গোপনে অবুঝপাখি বাঁজায় বাঁশি
আর-
বিনয়ের মৃম্ময়ীচোখে বয়স্ক অনুভূতি নিয়ে মানুষের ইতিহাস পোড়ে- পোড়ে বিচ্ছিন্ন প্রকৃতি জীবনানন্দীয় মন…


মাতালরোদ

মেঘ কাঁদে না ফোড়ে না ওড়ে ঐ মাতাল রোদ জানে
মেঘালয়ের পরিব্রাজনা অন্তরমনের প্রান্ত ছোঁয় বিরহের রঙিণ অঙুলঘ্রাণে সে ঘ্রাণ জলহীনমনে নাচে আর মেঘমল্লার ঋতু হোয় গরলরোদের বেহুলাস্নানে আলোর বাতাসে আমার মন কথাক্রান্ত-কথাক্লান্ত সে কথা হয়তো ঐ মাতালরোদ বোঝে
দীর্ঘজীবী ছায়ার প্রতীতির অস্তিত্ব মেখে আমি আদিম স্রোতে ভেসে যাই আর আলোর সংহার-সংরাগ রোদমুখ-রোদসুখে ধূঁসর নির্জনকাল পাথরপ্রহরের আবেগে ভেজে চৈত্রের বিরহমেঘে তোমার হরিণমন ঐ রোদ্দুরছায়ায় ঘামে না থামে ওই অলীকজলের মায়ারোদ  হয়তো বোঝে
রুপসি রোদের দ্যোতনায় জলের মন পোড়ে উড়ন্তবাতাসে মেঘের অরণ্যের মনবনে তুমি হেমন্তের বিকেলে সুন্দরি হয়ে নামো বিকেলের নরোম ভেজা চুলে
জলের ভেতর জল নড়ে না গড়ে  সে হয়তো ঐ মাতালরোদ  বোঝে

আমি মন পরবাসী হচ্ছি-
ও দিকে রাধা-কৃষ্ণের মান-অভিমানের মেঘরঙে চুলে বিষ্টি নামে অনিন্দিত আলোয় আর বাঁকাচোরা আলোগুলো মঙ্গলবাতাসে ভাবের উদ্ভিদবোধের সীমানা  খোঁজে অঘোরে মনের অন্দরে বিশ্বাসী দিন দ্যাখে না অবিশ্বাসী  আকাশে কাঁদে না হাসে ঐ মুন্দুরিকামের মহূয়ারোদ জানে সে হয়তো ঐ মাতালরোদ বোঝে
সব পাখি উড়ে গ্যাছে ক্লান্তির হাওয়ায় দমমাড়ানো রোদমুদ্রায় প্রজাপতির অনুজ্ঞা প্রেমে  জীবন ভাগাভাগি করে বেঁচে থাকি শব্দকলি তোমাতে পাখিডাকা রোদে আর  নীলবসন্তের সূর্য গলে গলে পড়ে না ডোবে
ঐ শাদা স্বপ্নরোদবোধ জানে ঐ মাতালরোদই হয়তো বোঝে সবই বোঝে…


ব্যক্তিগত বৃষ্টির বিরহপাঠ

এই বালিকা শহরে বৃষ্টিকে প্রথম যেদিন বুঝেছি কবিতা না বোঝা মেঘকন্যারা লজ্জায় মুখ লুকোতো আর মেঘের সবুজমনে ফরিঙঘোড়া দাপিয়ে দাপিয়ে আমি মেঘের ইন্দ্রজালে হারিয়ে যেতাম উড়ে যাওয়া মেঘের অন্তর্বাস খুলে বাতাসে ভাসিয়ে উর্বশী চাঁদের বৃষ্টিবিরহে স্বপ্নের ঘর তৈরি করতো
আমরা সূর্যের  রসিক অভিমান নিয়ে গুড়িয়াল বাতাসে হারিয়ে যেতাম রিনিঝিনি বাদলদিনের মগ্ন আবেগে অথচ  সেই মেঘের স্তন ছিঁড়ে  আর বৃষ্টি নামে না প্রিয় এখন বৃষ্টির ব্যক্তিগত ছায়ায় অতীতের শ্রাবণভারে তাই তোমার কাছে আসতে পারি না শব্দকলি
আজ মনবাতাসের জলে বৃষ্টির বিষণ্ণ ঘ্রাণ মেখে মেখে মেঘ-বৃষ্টির যৌবনে চোখের আড়াল হতে হতে এখন আমি বহুদূর চলে যাই…


কথামুখ কথাসুখ

ভুল বানান আর ভুল হাসিতে সতর্ক থাকি না
আসলে নিজের ঘরে বন্দি নিজেকে মানি না

পথে সম্মান পথেই ব্যাকুল-সকল
তালাবন্দি জীবন চাবিই নকল

পাপ-পূর্ণ্যরে হিশেব  করি না
পৃথিবীর কাছে ঋণি হোয়েছি
তোমাকে ছাড়া কিছু বুঝি না


রাতের মেঘ ছুঁয়ে

শিশুপথে বুদ্ধিহীন দিনের আগমন
রাতের মেঘ ছুঁয়ে দেখেছি-কিছু উড়ন্তবাতাস মারিয়ে শাদাচাঁদ আকাশে বৃক্ষের ঘ্রাণ ওড়ে বাসন্তি সুখানুভূতি মেঘের  স্মৃতিমনে বেচাকেনা -তুমি যেনো মনের বান্ধবি !
রাতের  শাসন মেনে তুমি চুপি চুপি চলো স্মৃতির খয়েরি রঙে-উড়ন্তপুকুরে আমি মন শিকারী কবি সবুজ জালের অন্ধভিখেরি
মৃত্যুপ্রাণচোখে জীবনের ছায়া চুরি করি
ইজমের অলৌকিক অনুভুতি ফ্রিজের ভেতর পরিচিত দীর্ঘশ্বাসে প্রতিদিন বংশ বাড়িয়ে  পৌঁসে যায় হৃদয়ের পরবাসি আভিমানী গ্রহণবাড়িতে

এখন মিথ্যেসুরে বাশিঁ বাজিয়ে আমরা নাগরিকচোখের নিচে দাঁড়াই আর বিবর্তনের ছায়া ভেঙে অশ্রু ঝরে সুন্দরির  ছেঁড়া নীল আগুনে


দেহভঙের স্বপ্নমূর্ছনা

দেবীকে স্নানের জন্যে নগ্ন করে না ঈশ্বর- নগ্নজিতা কোনো অস্তিত্ব..অনিত্য
কেননা মাহবীর যৌনতার ঈশ্বর দেবীর চিহ্ন মুছে সে পালকে নেয় গতিপথ
যৌনতাই ঈশ্বরি-
দৈব্যের সাথে বিরোধী মৌনতা ভাঙে মদমহুয়া আর অর্বাচীন স্বর্গ পুড়িয়ে মানবের রুধিরানন্দের-সূত্র ও পুত্রে

দেহ ভেঙে শুধু আমিই যৌন হতে পারি না

১০
ক্ষণকাল অপেক্ষায় আছি

এবার যাচ্ছি স্পর্শাতীত চুম্বনচিত্রের অধীর ঠোঁটে
হৃদয়পথ খোলা আছে
আমি ক্ষণকাল অপেক্ষায় আছি-
হে বেদনাদীর্ণ আত্মা আমার-তুমি আবার নেমে এসো পূর্ণদীর্ঘজলে
তোমার আগমন ধ্বনি শোনামাত্রই আমি প্রার্থনায় অন্তর্গত হবো
মর্মের হৃদরেখায় নিস্তল জলে গভীর হবো
আমি নবীন বাল্মীকি
‘দরদী সেই জানপহেচান’-জীবনের অনুশীলন গৃহে সামান্যপ্রাণ
বৈশাখী ফুলে জীবনের রুপকথা নিয়ে বেঁচে থাকি বৃষ্টি অর্থে

১১
অলৌকিক স্টেশন

একটি জাগতিক বাড়িতে আমরা কিছু বাস্তবতা আর কিছু নিরবতা নিয়ে বাস করছি জমা করছি ক্রমবিকাশের ঘ্রাণ প্রতিদিনের এক একটি ঘুম-রসনার্ত স্ত্রীলোকের ঋতুস্রাবের স্নায়ু আত্মাভ্রমণ পাখিদের অতীত তুমুলগান
এই মহাজাগতিক আকারবিহিন বাড়িতে পৌঁছলে হাড়ের গহীনে সময়ের দুন্দুভি বেঁজে ওঠে
আর আগুনের রোদে অসংখ্য ফুলের বিরহে বিশুদ্ধ নগ্ননারীরা হেঁটে যায়

আসলে সময়ের চেয়ে
রঙিনমেঘের অভিজ্ঞান বলে কিছু নেই

১২
পোড়োমাটির চাঁদ-সমুদ্র

জন্মের ঋণে আমি পৃথিবীকে চিনেছি-
আর তোমার মেঘচোখের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আমি প্রতিদিন ডুবে যাই ওই রোদমনের রঙিন সমুদ্রে-কালের ভেতর সূর্যের শাদা হাওয়ার দিন ফিরে আসে
আর অন্যদিকে তোমার অবিরল কথা ফুরিয়ে গ্যালে অথবা না রাখা কথাগুলোর দুস্তরজনের অবাধ্য হাতে বুকের কাঁপন তোলে আর কিছু পূর্বের মেঘালু বাতাসের লুকোনো আলোয় বিশ্বাস আমার দীর্ঘশ্বাসে মাটির যৌবনে সূর্যচোখ বিঁধে যায়
চিনচিন করা অধরা তোয়াক্কা ছায়াগুলো দলবাঁধা ঘোলা শব্দের রাত্রিযাপনে জড়িয়ে ধরে সাহসী ভোরের বিশ্বাসীজলসত্রে

আমি তো যাচ্ছিই- কেবলি যাচ্ছি
জীবনের সকল ঘুর্ণন বেয়ে মনের পূর্ণিমার উঠোন জুড়ে হীরকহৃদয় খুঁড়ে খুঁড়ে তোমার ভাবনার পোড়ো মাটির চাঁদ-পাথুরে রক্তের দূর-বিষণ্ণ সমুদ্রে

আজ রাতের বৃষ্টির রঙ লাল-
তাই ফুলদানীর পাশে নিশচুপ শুয়ে থাকা থোকা থোকা অন্ধকার আর জমে যাওয়া রাত্রির বয়স বিজুলিকার্যে বেড়েই চলেছে ক্রমশ অথচ মঞ্জুরিসুখে তোমাকে উৎসর্গ করা মন আমার উড়ে যায় বেহুলাস্বপ্নে প্রতীতি আকাশে ভালোবাসার পরানদীঘির ঝিনুকজলে ….

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E