৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুন ১৬২০১৭
 
 ১৬/০৬/২০১৭  Posted by

সূত্রভাঙা দ্বিতীয়প্রহর আর সংগিতকালের দৃশ্যছায়া
– মাসুদ মুস্তাফিজ

 

সত্যিকালে অদৃশ্যের পৃথিবীতে অপরাহ্ণের সকাল আর সকালের ঈশ্বর দুপুরে চেতনার মানুষ…

কোনো এক দুপুরবেলা আমার পার হয়ে যায়
এক অপার্থের নগ্ন পৃথিবীতে সকালের নীল ডাকে বেড়ে ওঠা অভিমানি অপরাহ্নের দুপুর প্রেমিকসময়
স্মৃতির অভিমান- নিষ্পাপ উদাসীনতা আর নিঃসঙ্গতাগুলো
অরণ্যের আকাশ দেখে
ভাঙচুর দিন
মাতাল আদ্র
জলভরা স্বপ্নের অতর্কিত বাতাস
দুপুরের আলস্য খোঁজে অমিমাংসিত স্বপ্ন খারিজ করে পাতলা হচ্ছে বাতায়নের সভ্যতা…
হাওয়াদের আয়নামহল
এখন আহার্য সমাধার দিন… সমাগত দুপুর- তবুও আলোগুলোকে আয়নায় মুখ দেখালাম
আজকে পরিসরহীন অপ্রকাশ প্রকাশিত ইশারায় আড়াল করছে শব্দলোক
জীবনের কোলাহল ওড়ে

চোখের পকেট খুলে কিনে নিই সমস্ত অভিমান
আমি নাব্যপ্রেমিক দুপুরের মন… আমার আয়ুর ভেতর সূর্য ওঠে আর কিছু নক্ষত্রভাবনার কিশোরী মার্বেলগুলো শব্দ হোয় প্রবালশরীরে

আমাদের সময়ের হাতে হাতকরা পরে
প্রতিহারী ফন্দিতে রোদ্দুর ছিঁড়ে পরে- প্রসন্ন রিতিদুপুরে
স্বপ্নচোখ জুড়ে প্রত্নশিলার ঘুম আসে
পাখিশব্দে শ্রাবণমেঘের নকশা আকাঁ দিন-
নিদ্রামগ্ন শহর জুড়ে কালেররোদ
হঠাৎ মেধাবি রং মেঘের বৃষ্টি- মনস্বিতা দুচোখে সূর্যের উৎসব

আমার অরবজীবন থেকে বাহাদুর বাজারের অনন্ত কলরোল শোচনাকথা
পারাপার কোরে নীরক্ত চুম্বনস্বর এভাবেই চলতি শীতে সময়গ্রন্থি দুপুরসঙ্গীত
দূরত্ব যতোই হোক ঘুমের ভেতর পাখিখেলা
করা যায়!
এই বুনো পথে-
মেঘের সাথে কথা বলছিলাম অ-ফোটা চোখে অচেনা রহস্যে
অথচ যবন নয়-
বনের ধারাপাত কিংবা বৃক্ষশাখার রোদের পক্ষপাত
ঘাসপাতার বিপন্ন শহরে আমার চোখ যাতায়াত কোরে
মানুষের ভেতর ভিড় দ্যাখি-
মনের বাতিঘর বয়সের আগুনে পুড়ে যায়

ক ১

আমি কী বেলফুল
ঘোড়ার মূত্রধানে দীর্ঘহিসাবরক্ষক
নাব্য সংকটে তাই ইন্দ্রলোকে যুবতীবৃক্ষের নজরকাড়া লাবণ্যআঁধার দুপুরের দিন
বন্ধু মনে আছে দ্বৈপায়নের কলহ
তবুও গল্প থাকে বৃক্ষপাঁপড়ির প্রযত্নজ্ঞানে
আমার যাপিত জীবনের পরম বন্ধু-

অগোচরে কিছু মুগ্ধতা ফেরে এই তীব্র মধ্যদুপুরে
আকণ্ঠ ছেঁড়াবাতাসের শুদ্ধ নির্বাসন
আমিতো প্রায়ান্ধ ঘোড়া
মর্মরতায় বিছানো আজ দিগন্তরেখা- দূরের দিগন্ত শাদা…………………
মুখোমুখি হবার অনাঘ্রাতার চূড়ান্তনন্দন

আমার এই ভাঙাচোরা
ছেঁড়াখোড়া খানাখন্দক হৃদয়চোষা প্রাণনাথপুর
আমার নিজস্ব শহর রাজবাটি-কান্তজিউ মন্দিরের ভরের সাগরে রামসাগর
রাজা রামনাথের দিনাজপুর
বেহুলা লখিন্দরের অর্জিত দুপুরসকাল
আমার কালিতলার বিষণ্ণ দুপুর
সুইহারি নিমতলার কাপালি দুপুরবেলা…
চারুবাবুর মোড়- দিনাজপুরি ধূঁমল আড্ডা

জলমগ্ন পৃথিবীর কাছে
আমি জল ছেড়ে নতুন জলে নামি
মনে হোয় পূর্ণিমার খাতায় বয়স পুড়ে যায় কবিতার সংসারে
জলের প্রাচীন ঢেউয়ে পৃথিবী নড়ে ওঠে বীরপ্রসূ রমণী হোয়ে

স্বপ্ন-সঙ্গম অনুরাগে সত্তা স্বর্গের অন্তরীক্ষে বিক্ষত কোরে আপাতপুষ্ট স্বপ্নের মধ্যাহ্ন
মধ্যাহ্নের জানালা আপাতদৃশ্যে খোলা বৈকল্য মনের ভুলের শরীরে
তুমি সে ভুলের রসিক ফুল ঘাসবনের শিল্প,বাসরশিল্প
ভীষণ রহস্যে অন্ধকার হও- আমার বেদনার বাড়িতে

দিনাজপুরি অনামিকায় ফুটে থাকে আজ সকাল-
ফাল্গুনী বন্ধনে আবেগিমালাগুলো অধরা মাতাল
বিরলের ধানী শব্দে মনমগ্ন শেকলপরা যৌবনের নূপুর-দুপুর
আর অন্তহীন ঝরাপাতার পোড়ামনে হারানো সুর
সরণের বিভাজ্য কুয়াশাদ্বীপ- খননের আঁধার পার কোরে
বিমূর্ত কারণে চিনে ফ্যালি আমার পবিত্র মিথ্যেসমূহ
শব্দভ্রমণে সতর্ক হোয় আমার উষ্ণতার লাল অনুবাদ
জীবনই পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো ক্ষমা
অথচ বিষ্টিদুপুরের আলোর উর্বরতা বাড়তে থাকে
এই বেনিয়া সময়- নদীর মনে

ক ২

আমার পিচ্ছিল নির্জনতার এলাচরাতের মোহন গোপনীয় ঘুমের খাঁদ টপকে পেরোলেই
বহুযুগ পাবার অন্ধশিমুলগাছ তোমার অপরাহ্নের ছায়া যতোদুর…
ততোদুরেই যাই ছায়াবিন্দু থেকে
এই আলোকশয্যার সূর্যসংগিতে যুবকের বিবর্ণ চোখ শুভ্রতার উত্থিত ধুলিমেঘে জলবাতায়নে রঙঘুড়ি উত্তালদৃশ্যের আগুনে অবোধ্য জীবনবোধে আসন্ন কাঁচের ঘেরাটোপ কিংবা রঙিন খোঁয়াড়ে ভেসে যাওয়া…
অদৃশ্যের তত্ত্বঘড়ির সাথে আমাদের আমিত্ব ওড়ে পূর্বসন্ধ্যা থেকে
পশ্চিম সন্ধ্যার কিছু বাদামি সংকেত নিয়ে
আর মর্মর উত্তাপে বাতাসের ধুলোসহ মর্মরের বিশ্বাস পান করি

আর বাবুর চায়ের দোকানের ভাবাতুর মৌনতার বিকেল পেরিয়ে
ভরপুর বিশ্বাসের রাতপাখি হোয়- প্রিয় কবি আর কিছু মুহুর্তের উন্মত্ত কাব্যবাসরে

আজকাল এই অদ্ভুত গ্রহের দুপুরসন্ধ্যায় বেঁচে থাকি
আমি বুঝতে পারি না কখন কোথায় যাচ্ছি-
আগামিকাল কী আমাদের অনেকটা দেরি হতে পারে

কিছু ব্যাক্তিগত বিশ্বাসমাখা স্বভাব আমাকে ইতস্তত কোরে প্রতিদিন
আর লঙ্ঘন করে চলেছে আমাদের প্রতিদুপুরে
এই দুপুর দরজায় এভাবেই কড়া নাড়ে বাস্তবের স্বপ্ন

দুপুরের পূর্ণচাঁন বিকিরণ সরিয়ে নিচ্ছে দুরাশার অন্ধকার কেটে
সমাগত রোদের হাত ধরে খণ্ড খণ্ড সময়ের পাথুরে জমাট প্রখর
স্মৃতির অনুভূতিগুলো

ক ৩

অনন্তের শাদা চোখ-
সুবর্ণ প্রশ্নের স্তন্যময় রোদের পাঠশালা

বিচিত্রদিনের আটপৌঁড়ে হাসিকান্নাগুলো পাগলের শিশ্নের শেষ সম্বল
অগোছালো প্রতিভায় গণজাগরণ মাতিয়ে তোলে- কবিতারনন্দন
জলরঙে সিঁড়ি বেয়ে দেশহারানো ঘাসবেলার অবুজ সূর্যোদয়
বদলে যায় নতুন সম্ভ্রমে

দূরে কুহক
অদূর বিশ্বাসে বৃত্তের বাইরে জ্বেলেওঠা বিষাদের গোপন ফসফরাস
বাদামি আত্মার গলনাঙ্ক নেমে
ঘুম আসে- এক অলৌকিক ঘুমের প্রতিসরণে

এই বিবস্ত্র দুপুরের সকল লীলাবতী শব্দগুলো সংসারযত্নে তুলে রাখি কুয়াশার নোটবুকে
আমার কথাগুলো অনাহুত-তোমার পাশে বসে থাকা প্রেম
আর সকালের নিবির্ষ রোদ দুপুরের যৌবনকাল
আমি বসে থাকি কুআশার জানালায় কুয়াশাতাড়িত মনে
আমার জন্মের পঞ্চরিপুর সঘনমননে আবেগের প্রাবল্যে পুড়ে
যে রহস্যসৃষ্টি তাকে যৌবন বলে ডাকি
এই শীতে অলস সকালগুলো ফিরে আসে বিবর্ণ বিকেলের
বিষণ্ণ প্রবলবৃষ্টিসন্ধ্যায়

বিড়ালের পথভোলাদিন
মোহনের অনির্দিষ্টতা থেকে পৃথিবীর পথে ফিরি
এই আত্মহননের পথে হাঁটা
হাঁটতে হাঁটতে মনে হোয় এটা কোনো পথ নয়
পথের বিশ্বাসধারনা পাল্টে যায়
হাঁটার আসলে কোনো বয়স নেই-
দুপুর ভূগোলে হাঁটতে হাঁটতে বুঝি সত্যিকারের হাঁটার পথ বলে কিছু নেই
তাহার কোনো শেষ নেই-

শহরে দারুণ ভয়
অরক্ষিত ঘোর কাটানো হেমলক প্রেম
নিজের ছায়াকে ভয় পাই,যদি বোলে ওঠে- তুই আসল নস
ছায়াই আসল
হৃদপোকা পোড়াতে পোড়াতে,কাঁদতে শিখে ফ্যালি-
বিবাহিত রোদগুলো নীলমেঘ হোয় আর রোদ-রঞ্জিত কিশোর হোয়ে উঠছি
পাখি বন্দনায় নিজের হাত কুড়িয়ে নিই
গ্রামের শহরে শালিক আসে অতিথি হোয়ে
বেঁেচ থাকার অবসরে বিড়ালের চোখে দিন ফিরে আসে
চোখের ঘামে ভিজে যায় স্মৃতি আর স্বপ্নের হলুদে

ক ৪

মধ্যদুপুরের পর আমাদের গ্রাম
জেগে থাকা নীল হাওয়া… মাটির দীর্ঘ মমতা ঘিরে কুহকবেলার কচুরিপানার রহস্য খোঁজে
নাগরিক পলাতক মন

সকালের সবজি বিক্রেতার এই সকাল এখন বটগাছের নিচে দুপুরবেলা
সকালের সবজি বিক্রেতার এই সকাল বড়মাঠের নিলামদরের সারি সারি দোকান

ব্যক্তিগত সকালবেলা যুবকের দরকষাকষির সারাদুপুর
যাপিত জীবনের মর্মরে ঋজু দুপুরের রোমাঞ্চকর মুহুর্তে
কাকে খুঁজতে তুমি রান্নাঘর থেকে বেড়িয়ে এসো শাহানা

কারো বাপের দুপুর নয়
দুপুর তোমাকে খোঁজে অথবা তুমি দুপুরকে খোঁজো…
রাতচর প্রাণান্তকর ভাবনার মাতাল সকাল গড়িয়ে আমাদের একটি ই-কারের জন্যেই
ঈ-কারের জি বাংলা
জী বাংলা!

রোদ উঠুক আর না উঠুক আজ পাখিদিন আমাদের অনার্য শরীরে
কাকভোর সরিয়ে এখন হীরেদুপুর
আজ ফুলের কোনো নাম নেই-
দুর্লভ মুগ্ধতায়
দুলতে দুলতে
বিভোর মৌমাছিমাঠে তোমার কাছে এসেছি
রোদ নামবেই- এই দৃশ্যভোরের ঘুমচোখে
আমি অবাধ্যতার আকাশে তোমাকে খুঁজি-

রৌদ্রমাখা গহিনের রূপ ছুঁয়ে আরো দীর্ঘ হচ্ছে দুপুরের পথ
দুপুর এ্যাক রহস্যের নাম- তৃষ্ণার্ত বর্ষণে বর্ষণে কার্গো সুখ, আহা…
দিগন্ত প্রসারী শাদাদুপুর-

পুড়ে যাওয়া দৃশ্যরোদে অষ্টপ্রহরে নদীজোস্না নামে
দাঁড়াও মধ্যদুপুর, ভেঙো না নদী ভেঙো না স্মৃতিবুক
কড়াইবিলের কাঁকরমাটিতে হেঁটে যায় বছর পূবাল বাতাসের অমাবস্যার দিন
পথিকের চোখে সকাল-সন্ধ্যা

নিশ্চিত হরিণবোধ
ভুলে থাকি অপূর্ণতার কৃষ্ণপক্ষ একা দাঁড়িয়ে স্বপ্নের প্রজাপতি
রৌদ্রের করপুটে অন্তহীন অভিমান এখন তন্দ্রাছন্ন বাতাসে ওড়ে
তাই পথের দূরত্ব কমাতে রোদসমুদ্রে সাতাঁর কাটি
মন মেঘের সাথে ঘনিষ্ঠ হোয় নিঃসঙ্গতার সুর
চিরকাল স্মৃতিবুকে একাকিত্বের দুর্ভিক্ষের সমান দুপুর

ক ৫

এই দুপুরেই পারে মুছে দিতে রাতের কর্কশ মৌরিসন্তাপের দুঃখগুলো
মৌনতাগুলো আর স্তব্বতার সংগোপনে
শেষরাতের কান্নাগুলো মুছে যাক শতবর্ষের অশ্রু নিয়ে
আর অপরাহ্নের হাওয়ায় গোধূলি নামলে
পরিপার্শ্বে ঝরে পড়ে অগণন প্রজাপতির পালক…

ভালোবাসা পণ্য হয়ে যায় নি-কর্পোরেট পুঁজিবাজারে
আটকে গেছে জীবন তোমার আমার নতুন ফেরারি বসন্তে-
হৃদয়ের বিমুখ প্রান্তরে তাই দুপুরে প্রেমের বন্যা
কোনো কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা কখনো চড়াদামে কিনতে পারবে না
দুরন্ত বাতাসে আমাদের সর্বক্ষণ মুখোমুখি থাকা শব্দকলির স্নানঘ্রাণে-

আমার চোখে সর্বময় এখন অমৃতের বিষ! মধ্যদুপুরে সীমান্ত পেরিয়ে
তম্বীরাত চুপিচুপি দীর্ঘ হচ্ছে আর যুবক হয়ে উঠছে
তুমি অন্ধকারে অন্তলীন শীতল হোয়ে মিশে থাকো বাতাসের শরীরে

রোদের ঝিকিমিকি জামা পড়ে বৃক্ষের কী আশ্চর্য ছায়ায় রোদনভরা
কান্নাগুলো এইখানে বসে থাকে-ঘাসের নিচে মিশে যাবে কখোন
সকল অহংকারে-জীবন ক্রমাগত বিলিন হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে চৈতন্যের নিরব ছায়া

তুমিময় নগ্নতার জানালা খোলা
ট্রাফিকচোখে চড়কগাছের মন
ডিলিটকরা পুরোনো চুম্বনস্বর
অনচ্ছ জীবনে সুগন্ধির নতুন পাসওয়ার্ড
আর অরাজক মনের সম্ভাবনার বহুমাত্রিকতা

বিরাষ্ট্রীয় মন
আমার ইচ্ছের সবকাজ পড়ে থাকে বিমর্ষ অবশেষ মনে
পথে পথে বারবার আমার চুরি হয় নরমালো এক ধরনের ক্ষণপ্রভা
চোখের শৈশব মননে
দ্যাখো বনে বনে বসন্ত জাগাতে আর অরণ্য নেই… সূর্যরঙে হাজার
বছর পার হয়ে যাবে জলের দহন পায়ে
উৎসব থেকে কালো মেঘগুলো সতর্ক হোতে থাকে বেহুলাসূর্যস্নানে

এখন অসমাপ্ত সূর্যের নিচে তাই নির্লিপ্ততা টের পাই
টের পাই অগভীর ঘাস দিবসের সঞ্চয়- আর আমার অর্ন্তবর্তীকালিন অতীত!

বিস্ফোরিত চোখগুলো শুকিয়ে ফুল হচ্ছে চেনা শহরে বকুলসন্ধ্যায়
অতল হাওয়ার দুপুর
জীবনের গভীর উৎসবে আশ্চর্য তপ্ত নির্ণয়ের আগেই
ফিরে আসি অবোধকালে

ক ৬

তোমাকে মনে পড়ে!
মনে পড়ে দূর অরণ্যের হিরণ্য নকশী অস্তিত্বের দুহাত
একটি অবাধ্য স্বপ্ন জাগাতেই আজ জমে ওঠে এই দুপুরকাল
পরিমাপহীন সৌভাগ্যের চুমুতে
শীতের অবরোধ তুলে নাও
আজ দিনজোসনার সকালে

তাই বিস্মৃতির আলোয় সবুজসমুদ্র এতো উন্মাতাল!
দূরত্বের দৃষ্টিখঁচিত উন্মুখ দু চোখ আমার
শৈলি বাতাসে ঘুমিয়ে যায়
প্রথম দেখা স্বপ্নের ভেতর
আগুনের রঙ নেই বলে তুলসীতলায় মাটির প্রদীপে জ্বালো
আগুনের প্রহর ধূসঁর বিবর মোহনীয় রঙে মাতাল হই
আমার ভয় করে
আগুন জ্বেলো না – আমার ভয় করে
জন্মের পেছনে আগুনের তাড়া
মৃত্যুর ভালোবাসায় তুমি আগুনের রাজকন্যা
আমার পেছনে হাঁটে আজন্ম ভয়

কুয়াশাবাক্যে আজো লিখি বর্ধিষ্ণু বিদ্যার মুগ্ধ বালকতা
অকস্মাৎ অভিমানীরোদে সকাল আসে
ছায়ার রাত্রি নামে
দোলে ওঠে আধাঁর রোদছায়া
আয়নার বিভাজন পাঠ করি
সকল রবীন্দ্রনাথ সকাল- সন্ধ্যাকে হত্যা করে জরাগ্রস্ত অলীক দুপুরবেলা
ঈশ্বর যুবতি হচ্ছে-
মেধাবি সময়ের হাতে
কিছু গোপন স্পর্শ আর দৃশ্যের আলোড়িত ধূলি উপাখ্যানে

হয়তো ধূলোয় ক্লান্ত হচ্ছি
মাতাল অনুভূতি স্বপ্নে
অচেনা জলের বিবিধ সমীকরণে
মন্থিতরোদ জেগে থাকে পিপাসায়-
দিনের সুবাসে ক্রশকাঠ খুলে
তাড়তামুখর রঙজোসনায় ব্যক্তিগত খোলা মাঠে

অবশেষে আত্মপক্ষের আলো
কল্পনামোহন চোখের দিঘি!
বার বার নদী হোয়ে যায় অপেক্ষার স্বপ্ন- অলৌকিক মহাশুন্যতা
সূর্য ওঠার দিন
আমাদের দুপুরশব্দের ভরাট গাঙে মেধাবী মিথ ভেঙে
উদ্বায়ু জলের আড়ালে বেহূলার ব্যাকুল মন এখন নিয়তি মরমি

ক ৭

আজ সৌভাগ্যের আত্মসংহারী মহাযুদ্ধ!
তীরসয়লাবে অবরুদ্ধ… বোধ-প্রেম-কাম
ওগো মাঠের রৌদ্রপাত
তোমার মর্ত্যজ বন্ধনের লজ্জাঘুম

ছায়াসূর্যের পরবাসে নির্ঘুমগাছ দূরন্ত দুপুরকে নিয়ে যায় হারিয়ে যাওয়া প্রাপ্তরের
রোদেলা পুরুষে- কুয়াশার গন্ধে আজ জীবনের রসায়ন ভিজে যায়
বিলম্বে আসা কিছু অপ্রয়োজনের দুপুরছায়া-পুরুষছায়ার
রৌদ্ররক্ষিত দিনের দুপথের কী অপূর্ব বটগাছ!

তুমি আমার বোধের নিবিষ্টরাত্রি… দূরত্বজলের দূর-
দূরের জড়তা নেই – দূর এক পুরুষের নাম আতপকান্ত পুরুষ এক

আবেগের শরীর মিশে যায়- মনমিতি স্মৃতিতে
ঘুমেরও স্বপ্ন থাকে শীতারণ্যে কিছু সুচতুর আলো আমার শরীরে বীজ বোনে প্রতিদিন
আমাদের বেঁচে থাকা গল্পে রোদপাখির প্রতীক্ষায় শীতের স্বপ্নদুপুর!

ধুলির ভাঁজে সম্পর্কের চোখে রং- বিবর্ণ হলে
প্রিয় শব্দগুলো সময়ের ডানায় অন্ধকার হোয়
যান্ত্রিক মারপ্যাচে ঘুরপাক খাচ্ছে- জীবনের স্বাদ

এ আমার আনত চোখ
আর রোদের ছলনায়- তাকিয়ে দ্যাখি জলমহলে অন্ধ বাতাসের ধারাপাত
আমাদের প্রেমি অন্ধকার উষ্ণতার প্রতিযোগি বাতাসে সংসারীচোখ
প্রমত্তমেঘে অনিকেত স্বপ্ন-ফানুস

ভেবে দ্যাখো-
পথ কোনো প্রহর নয়
উদাসীন মধ্যাহ্নের নৃ-দুপুর, অপ্রসন্ন নিঃসঙ্গতা পুড়িয়ে বহূদুরের প্রশ্ন-খেয়া ভাঙে
অথচ প্রতিদিন ভাবনার মেঠোপথে শব্দের চাষাবাদ বাতাসের প্রচ্ছদে মুখরিত ফেরারি
শহরতলির অন্তিম ধুলোগুলো প্রাণনাথের ঘাসফড়িং আর রোম্যাঞ্চকর বিকেলমগ্নতা

ঈশ্বরপাঠের পাখিদিন- আমার পরমায়ুর অশেষ কবিতা
স্বর্গের মতবাদ ভেঙে বিশ্বাসের নান্দীঘর
কেঁপে ওঠে জন্মের নূপুর
প্রতিদিন লুব্ধকের চোখ স্বপ্ন কুড়োয়
দূরের বিকেল ধুলোর শাদা অরণ্যের মনপ্রহর
আর বিরহ- অনুপ্রাসে মনছায়ায় নেচে ওঠে সম্পর্ক
ফিরে আসি নবনিতা শব্দকলির অমোঘ রূপসি সত্যের শিল্পদৃশ্যে
অনন্তের দুপুরসমূহ চোখের জানালা খোলে
ঘুম সঞ্চারিত জরুরি দীর্ঘশ্বাসে-

ক ৮

কেয়ামতগণের শব্দসকল
শিশুচুম্বনের স্মৃতি নিয়ে অসিসঞ্চালন- মুহুর্তেই ঈগলচষ্ণুপ্রতিমানসিকতা
নির্ঘোষসহ প্রপাতের স্বজনহত্যা- কর্তব্যের জিহবা ছিঁড়ে যায়

সবচেয়ে ভাল হয়
হিমায়ত জীবনের উন্মাদনার দৌড়-আর দৌড়…

আমার প্রতিটি গল্প হাতের তালুতে শুয়ে থাকে-শক্তিশালী আগুনের চেতনায়
কাজের নির্দয় সময় বোঝে ওঠে না মন দিনকাল-
আমি উন্মুখ হয়ে নিজের আকাশ দ্যাখি- দীর্ঘক্লান্তি নিয়ে বাকুলি উৎসুকে
উষ্ণতার বিজ্ঞাপনে কালো পিঁপড়েরা পূর্ণিমা খোঁজে দিনদিন
গাছের জরায়ু ছিঁড়ে মহাবৃক্ষের ফল চুরি হয় শরম ঢাকিবার তরে
আমৃত্য আমি তোমাকে তাপি- তোমাকে পোহাই শব্দকলি আমার
হৃদকমলে সুখের উৎসমূলে-
আমিতো তোমার কাছে চিরভিখেরি বাৎসায়নের ছাত্রজীবনে

আমার ত্রিশ বছর আগের সময়ের অন্ধকার মুখরিত হয়
রক্ষিত বিপরীতভাবনার সময়ে
সময় গড়িয়ে নামে
আমাদের শুদ্ধতার ভিড় ঠেলে ইচ্ছেমৃত্যুর রোদেলাশয্যায়
সাতচল্লিশের হাত মেঘ নাড়ে…

তোমাকে বোঝার ছলনা করি আমার পূর্ণিমা দুপুরে
কিছু গাঙচিল ওড়ে সোনালি-রূপোলি ঘনিষ্ঠতায়
ফর্শা অন্ধকারে দিনের নক্ষত্র জ্বলে-

আগামি ভোর নিশ্চিত তোমার উষ্ণতায় দীর্ঘ হবে
পাথরের দিনে শুন্যাস্তিত্বের হাত ভরে যাবে
স্বর্গচ্যূত দ্যুতিময় তুমিময় প্রিজম আলোতে

নেমে আসে আকাশ অনন্ত প্রহরের আমার আঁধিদুপুরমন
দহনদুপুরে স্বপ্নের ঘর তৈরি হোয়
বুকে ধ্রুপদি আনন্দসঙ্গীত কুয়াশালীন পথে হাঁটি
বাতাস দিয়েই বৃক্ষকে ভাবি- মাতাল রোদ্দুরে

এখন দিন আলো ভরা
সময় তাড়িয়ে ফেরে স্মৃতি
দুহাতে দিনমাখা
সূর্যলোক স্থিত হলে গাছের শয্যায় অপবাসে থাকি
অতঃপর নক্ষত্র অভিমানগুলো বিবিধরঙে সেলাই করি

ক ৯

ওগো আততায়ী শীত তুমি আর এসো না
নিরবিকার আধুনিক হাসিকান্নার এই যাত্রাঘুমে

মহাকাল আজ অজানাভাষ্যের চিন্তাসূত্র
একবার ফিরে তাকাই অনন্তগ্রামের যাত্রাবৃক্ষে
কোথায় শুরু করেছি
অন্ধকারে
আলোকে বললাম
তুমি বদলে যাও-
তুমি বললে নিরবতা
কোথায় সে আমার বাতাসের মাতল কে জানে
সারাদিন কানাঘুষা ঘুমে দুপুরসংগিত

মহূর্তে আমাদের ছায়াপথ বিলিন হোয়ে যায়
এবং বাতাসের আবেগে বিচিত্র প্রজাপ্রতি ওড়ে-
কবির মনে প্রশ্ন জাগে; ‘জোয়ান অব আর্ক কী’
অনুরাগী বাতাসের ঘরে ভেতর ঘর যে ঘরে প্রবীণ হোয়ে উঠি
জীবনের রসায়ন খুলে অন্তরক্ষরণে শব্দকলি খুঁজি-
আসলে মন যাযাবর
আন্ধামনে আন্দামন আনন্দমন খোঁজে-

ভাবি ফেরার কথা
ভাবতে পারি না- মন কোথায় চলে যায় নদী অভিমানবোধের মনবর্ষার রামশহরে
চোখে নদী- আত্মক্ষরণের এ্যাক যাপিতজীবন
আপাত অন্যমনস্কতাগুলো নির্জন মানুষে জীবনের সমস্ত আবেগে
আজ বাস্তব আকাক্সক্ষায় আদিবাসি কেনো!
মনের বিস্তৃত দৃশ্যাবলি গোপন কিছু সত্যে মনবতি প্রেমে ঘুমিয়ে থাকে
নতুন আবেগে পুনঃরায় তোমাকে দ্যাখি-

তোমার আবেগপ্রবণ রোদগুলো সংস্কারমুক্ত আনন্দে সাময়িক মন হোয়
তৃপ্তিদায়ক অরণ্যে হারিয়ে ফ্যালি অনুভবের সমুদ্র
এ্যাই খুচরো রোদে দৃশ্যের রূপায়ণে ভাঙে চোখ-মন-প্রাচূর্যের বিবেক
সীমানার সীমাবদ্ধতা ভুলে যাই
বিশুদ্ধ অক্সিজেনের সবুজচেতনাসমূহ ফুলের মানবিক বিজ্ঞাপনের উৎসব
সময় জড়তা সরিয়ে বিবেকের আত্মবিশ্বাসে হাঁটি-
তবু পা চলে না- চেতনার বিবর্তন ঘটে
চোখের উদ্ভাসপটে স্বপ্ন দ্যাখি
আর সহজ সরল অনাড়ম্বর পরিকাঠামো গড়ি
যৌবনের দাড়ঁভাঙা রোদে ব্যক্তিগত কথাগুলো ঘুরতে ঘুরতে আর ঘুমোতে ঘুমোতে
ভাবচিত্রে পুনর্জন্মে বিশ্বাসীচোখে আটকে থাকে

ক ১০

অনন্তঘড়ির দ্বিতীয় প্রহরের সূত্রভাঙা শঙ্খরোদের বিষণ্ণতায়
দুপুরের কী আসে যায় !
আমি আর কতো একাকিত্বের রোদ কুড়োবো
স্বপ্নময় আলোর হাত ধরে বিকেলমগ্নতার সূর্য আসে

এখন সময়ের আয়না ভেঙে আমরা বিশ্রামের বর্ণমালায় চন্দ্রপারমর্শ করি
রোদের কুহক এখন অপরাহ্নের শাদামেঘ আমাদের যুগল শহরে
খালি দুপুরের একটানা দম নিতে নিতে
যথেচ্ছার মৌনতার শীত আর কুয়াশার সংসারে অসহায়ত্বের রোদ আসে স্বর্গের
পাশঘেষে নতুন পৃথিবীতে

মফস্বলে রচিত এই কবিতা আমার মহাপ্রাণধ্বনি তুলে গ্রামের আলপথ থেকে
নেমে এসে এখন ক্ষেতের বাতাসে গলে পড়ে
হৃদমেঘের বেহুলা বাতাসে

যে তুমি আমার ভেতর সন্দেহে আর স্বার্থ পার্শ্বব্যথাময়…
আমাদের নামের ভেতর আর কোনো সূর্য অস্ত যায় না-

গোরুহারাকালে ঘরের মেয়েরা এখন জলনাচের সংসারে
সুখেরআতর ধুঁনো জ্বেলে পৃথিবীকে সঙ্গম কোরে

 


কবি পরিচিতিঃ

মাসুদ মুস্তাফিজ

মাসুদ মুস্তাফিজ

মাসুদ মুস্তাফিজ। জন্ম ২২ নভেম্বর ১৯৬৯ খ্রি: বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরের মাধববাটি গ্রামে। স্কুল-কলেজ বিমুখ ছাত্রটি আপাদমস্তক কবি হয়ে ওঠেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে, যুক্ত হয়েছেন সমকালীন কাব্যচিন্তায় এবং প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজস্ব কাব্যবাহন। বাংলাদেশসহ ভারতের কিছু সাহিত্যকাগজ লিটলম্যাগ, প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যপত্রিকা এবং জাতীয় দৈনিকে লিখে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে পরিচিত হয়েছেন। শিক্ষকতা করেন- মূলত কবিতা লিখেন, কিন্তু গদ্যচর্চায় তাঁর আগ্রহ প্রবল। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিনিধিত্বশীল-গবেষণামূলক পত্রিকায় তাঁর গদ্য সাড়া জাগিয়েছে। বর্তমানে তিনি এ প্রজন্মের কবিতার প্রবণতা: বিয়য় ও বিনির্মাণশৈলি নিয়ে কাজ করছেন। গদ্যফর্মের নতুন আঙ্গিকের কাব্য-প্রকরণ আর নিজস্ব স্টাইলের মুক্তভঙ্গিতে সুখহালের জীবনাবলি রচনা করে চলেছেন এবং অন্তরবন্দি হয়েছেন নবনিতা শব্দকলির প্রাণে। প্রিয় শব্দকলি তাঁর আজীবন আরাধ্য। কবির আত্মজ- অনুভব মুস্তাফিজ, নিঝুম মুস্তাফিজ।

প্রকাশিত গ্রন্থঃ

কাব্যগ্রন্থঃ ‘বিষ্টির প্রহর গুনতে গুনতে’ (২০১০); ‘ব্রিজ পেরোচ্ছি না স্বপ্ন পেরোচ্ছি’ (২০১১); ‘কিছু সমুদ্র কিছু বিষণ্ণতা’ (২০১২); ‘জলবাতায়নে রঙঘুড়ি’ (২০১৩); ‘স্বভাবদুর্বৃত্ত বাতাসে কুয়াশার কৃষ্ণতীর্থ’ (২০১৫); ‘মাতালরোদে মেঘে অরণ্য’ (প্রকাশিতব্য ২০১৭, কোলকাতা বইমেলা)।

প্রবন্ধঃ ‘সাহিত্যচিন্তা ও বৈচিত্র্যপাঠ (২০১২)’; ‘অবমুক্ত বৃত্তায়ন’ (২০১৫)।

সম্পাদনাঃ নাক্ষত্রিক, অগ্নিসেতু।

সম্মাননাঃ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সাহিত্য পদক (২০১২)।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E