২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
নভে ১২২০১৭
 
 ১২/১১/২০১৭  Posted by

কুমার দীপ

কিঞ্চিৎ কবিতাকথন

কবিতার কুসুমে কুসুমে আমি অতি ক্ষুদ্রতর এক মধুমক্ষিকা। কবিতাহীন দিন-রাত, আমার কাছে চিনি ছাড়া চা-এর মতো। যারা লেখা-পড়া জানেন অথচ কবিতা পড়েন না বা পড়বার মতো আগ্রহ অন্তরে লালন করেন না, এমনকি কবিতার পাতা খোলা পেলেও চোখের সামনে তুলে ধরেন না, তাদেরকে ডায়বেটিস রোগীর মতোই মনে হয় অনেকখানি। জীবন আছে, কিন্তু জীবনকে নান্দনিকভাবে ভোগ করবার উপায় কিংবা আকাক্সক্ষা যাদের নেই তাদের জীবনটাই তো অপূর্ণ। বৈচিত্র্যহীন। যে ব্যক্তি অনেকটা লেখা-পড়া শিখেছেন, বাংলাভাষার মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেন, অথচ চণ্ডীদাস-বিদ্যাপতির পদাবলী পড়েননি, পড়ে গুনগুনিয়ে গাইতে পারেননি; ‘মেঘনাদ বধ কাব্যে’র বলিষ্ঠতাকে বুকে ধরেন নি; রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দদের সোনাঝরা কবিতাসমূহ উপভোগ করেননি; শামসুর-শঙ্খ-শক্তি প্রমুখের দু-চারটা পঙ্ক্তিপাঠে অনুরণিত হননি; তাকে ঠিক শিক্ষিত বাঙালি বলে মনে নিতে পারি না।
অনেকে হয়তো বলেন, কবিতা কী দ্যায় আমাদেরকে, যে কবিতা পড়তে হবে ? তার পিছনে অর্থ ও সময় নষ্ট করতে হবে? তাদের উদ্দেশ্যে বিনীতভাবেই বলি, আকাশে চাঁদ উঠলে তাকিয়ে থাকেন ক্যানো? বলেন ক্যানো, বাহ্ কী সুন্দর! গোলাপের কাছে গিয়ে আপন মনেই বলে ওঠেন ক্যানো, ওহ্ কী মিষ্টি গন্ধ! মাঝে মাঝে নদী কিংবা অনাবিল সবুজ অরণ্যানির কাছে গিয়ে হারিয়ে যান ক্যানো? প্রকৃতির সৌন্দর্যমুগ্ধ হয়ে যখন প্রহরের পর প্রহর কাটান, তখন কি সময় নষ্ট হয় না? ওগুলোতে কি পয়সা রোজগার হয়? … …. ভালো লাগে! চমৎকার। কবিতাও তো ওই দলেরই। ভালোলাগার। ভালোবাসার। ওর জন্য একটু সময় দিতে পারবেন না? আর পয়সা নষ্টের কথা বলছেন? জীবনে কতো পয়সাই তো হাওয়ায় উড়িয়ে দিলেন, ধোঁয়ায় পুড়িয়ে দিলেন, অর্থহীন অপব্যয়ে মোহিত হলেন… …। তার সহস্র ভাগের একভাগও কি কবিতার পিছনে ব্যয় করেছেন? সেইটুকু করতে পারলে তো এ্যাতোদিনে আপনিও কবিতার ভক্ত হয়ে যেতেন, আমাকেই বলতেন কবিতা পাঠ করতে। বাংলা কবিতাও আপনার বা আপনাদের মতো পাঠকের দ্যাখা পেতো।

কবিতা- যদিও অনেক রকমের, তথাপি আমার কাছে মনে হয়, সবরকমেরই কবিতা হয়ে উঠবার জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। হৃদয়ে স্পন্দন সৃষ্টিকারী অবিকল্পপ্রায় শব্দগুচ্ছ, নান্দনিক চিত্র-অনুচিত্রকল্প, অতুলনীয় সব উপমা-উৎপ্রেক্ষা এবং এগুলোর মিথস্ক্রিয়ায় তৈরি হয় অনন্য কাব্যভাষা। পদ্যের ঢঙে হোক আর গদ্যের ঢঙে হোক, ভেতরে এক ধরনের ছন্দস্পন্দ এবং বক্তব্যে নান্দনিক অভিনবত্ব না থাকলে আমার কাছে কবিতাকে ঠিক কবিতা বলে মনে হয় না। যারা ছন্দ কিংবা কবিতার অন্যান্য আলঙ্কারিক বিষয়গুলোকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিতে চান, তাদের অনেকেই যে জিনিসটার মর্ম বোঝেন না, সে আমি অনেক দেখেছি। তাদের উদ্দেশ্যে শুধু এটুকুই বলি, নিয়ম ভাঙার আগে নিয়মটাকে ভালোভাবে জানুন। জেনে তার প্রয়োগ করে দেখুন। নিয়মে সিদ্ধি অর্জন করতে পারলেই তবে নতুন নিয়মের দিকে যাওয়া সহজ হয়। কিছু না জেনে কেবল আবেগকে কিছু অসম্বন্ধপ্রায় শব্দগুচ্ছে অস্বচ্ছ ভাবে প্রকাশ করলেই কবিতা হয় না। এ নিয়ে বিস্তারিত লিখবার আছে। কিন্তু সে অন্যসময়। অন্যখানে।
আর কবিতা রচনা? যখন-তখন যেখানে-সেখানে একটা-দুটো পঙক্তি কিংবা উপমা-চিত্রকল্প আসতে পারে, কিন্তু কবিতা নয়। কবিতার জন্য অখ- একাকীত্ব চাই। জীবনানন্দ দাশ যে বলেছেন, ‘খণ্ড-বিখণ্ডিত এই পৃথিবী, মানুষ ও চরাচরের আঘাতে উত্থিত মৃদুসম সচেতন অনুনয়ও একসময় যেন থেমে যায়, একটি পৃথিবীর অন্ধকার ও স্তব্ধতায় একটি মোমের মতন জ্বলে ওঠে হৃদয়, এবং ধীরে ধীরে কবিতাজননের প্রতিভা ও আস্বাদ পাওয়া যায়।’— এ বিশ্বাস আমারও। কবিতাকে আহ্বান করে শঙ্খ ঘোষ যে লিখেছেন, ‘যখন বিষণ্ণ তাপে প্রধূম গোধূলি তার করুণাসন ফেলে সূর্যমুখী পৃথিবীকে ঢাকে, কঠিন বিলাপে কাঁপে উপশিরা-শিরা, জ্যোতিষ্কলোকের রূপসীরা একে একে ছিন্ন করে দয়িত আকাশ, যখন প্রেমের সত্য ভুবনে ভুবনে ফেরে করুণ লেখায়, আমি থরো থরো শীতে যন্ত্রণার শিখা মেলি আতপতির্যক, যখন পৃথিবী কাঁপে মৃতভেজা মুঠোতে আমার — — তখন কবিতা মিতা, প্রিয় থেকে প্রিয় সখী, সুহৃদ সুন্দর!’ সেই আহ্বানের সাথে একাত্ম হতে আমারও মন চায়।

কবিতা লিখতে বসি হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে। ক্ষতগুলোকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে পুনঃ পুনঃ রক্তাক্ত করে যখন লেখাটা সমাপ্ত করি, ক্ষতগুলোকে ক্যামন গোলাপের মতো মনে হয়। লাল টকটকে গোলাপ। কবিতা– সেই অনির্বচনীয় লাল গোলাপের সাধনা।

কবিতাগুচ্ছ


পা

যেন-বা পায়ের নিচে জল; থকথকে ফেন-কাদা
এতটুকু টেনে হাঁটতে গেলেই পিছলিয়ে যাবে
শীর্ণ পথ, ভগ্ন; পাশেই ড্রেন- বন্ধপ্রবাহ বুকে
কতো রকমের আবর্জ্যরে সাথে বিষ্ঠাও মিলাবে

হয়তো অগ্রহায়ণ, মাঠে মাঠে পড়ে আছে ধান
ধানের গন্ধে বিভোর হৃদয়, দেহটাও পিছু না
ঘাসে-শিশিরে সাঁৎলে সামনে এগিয়ে গেছি যেই
অচিন কাঁটায় বিদ্ধ হলো বুক, কাঁদলো দুটো পা

চৈত্রের ধুলোই হবে হয়তো, সবিস্তর ধোঁয়াটে
পাতা দুটো খুলতেই বুজে যাচ্ছে চোখ- আজনবি
পায়ের সুতো বেয়ে পৌঁছে যাচ্ছে চুলে; ধ্বস্ত মগজে
বর্ম পরে নিচ্ছে বিস্রস্ত নাক; লুকোচ্ছে মুখচ্ছবি

না মৃত্তিকা, না জলধি- হয়তোবা কোনোটাই নেই
পায়ের তলাটা শূন্য; শূন্যেই বেড়াচ্ছি ভেসে ভেসে
যে-কোনো সময় লুটোবো কোথাও; সুতো কাটা ঘুড়ি
ধুলো, কাদা নাকি অতল জলাশয়- কে নেবে শেষে ?

হতে পারে- এসবই ভুল; ভুল ভাবনার নদী
ভুল ভাবের নাও উজিয়ে অবেলায় যাচ্ছি দেখে
আকাশ-কুসুম ছবি। এমনও তো হতেই পারে…
পারে কি- হয়তো এটাই খুব সত্য; অনিবার্য যে-

এপথে হাঁটবার জন্যে, আমার কোনো পা-ই নেই
বুকে ভর দিয়ে চলছি- এক আনত সরীসৃপ।
পথে পথে হস্ত্যারোহী, আচানক বিপদ এমন
থেঁতলিয়ে যেতে পারি পদতলে; যখন-তখন।

——-
৩রা নভেম্বর, ২০১৭; সরুই, বাগেরহাট


বন্ধক সংক্রান্ত অভিজ্ঞান

আমাদের গ্রামের গরিব চাষী নগেন মোড়ল
ভিটেটা বন্ধক রেখেছিল মেয়েটাকে বিয়ে দিতে;
ছাড়াতে পারেনি

ওপাড়ার বিধবা খায়রুন নাহার
বন্ধক রেখেছিল সোনার নোলকটি; ছেলেকে পড়াতে চেয়ে;
ছাড়াতে পারেনি

গোত্রহীন অনীশ গায়েন
হৃদয়টাই বন্ধক রেখেছিল- কিছু না থাকায়;
ছাড়াতে পারেনি

নগেন উদ্বাস্তু
খায়রুন বাগানছাড়া গাছ
বন্ধকপ্রাপ্তার বুকের কাছে বসে কবিতা লিখছে অনীশ ।

আশ্লেষে বলছে :
‘শোনো মনোময়,
এই হৃদয় ব্যতীত অন্য কিছু বন্ধক রাখাটা-
খুব বোকামীর পরিচয়।’


০৮/০৪/২০১৭; জুঁই, বাগেরহাট


বধিরতা

সকলেই যার যার মতো চিৎকার করে চলেছে অবিরাম

শালিক-পেঁচা-হাঁস-মুরগী
ছাগল-গরু-ভেড়া-মহিষ
শেয়াল-শকুন-কুকুর-বিড়াল
বাঘ-ভালুক-সিংহ-হায়েনা…

সকলের কলরবে মুখরিত হচ্ছি-
সকাল থেকে রাত্রি অবধি।

কেবল মানুষেরই কোনো হাঁক-ডাক শোন যাচ্ছে না কোথাও !


গুরু সমাচার

কোনো কোনো সাধনায় নাকি গুরু দরকার হয়
গুরুই সুতো-টুতো পরান; পলকা করেন ঘনো
গুরু যদি নিতে হয়, নেবো
কিন্তু, হে ধীমান ব্যাস, কান খুলে শোনো-

গুরু না হয়েও যিনি দক্ষিণায় কেটে নেন সোনার আঙুল
আমি যতো সামান্য একলব্যই হই
যতো হই অভিশাপে ক্ষয়
তার কাছে কোনোদিন– দেবো না দেবো না পরিচয়।

সব সত্য স্বীকার্য নয়; সব গুরুও নন পূজ্য !
কোনো কোনো আকাশ থাকে মনে, লুকনোতেই সূর্য !


সেলাইকল যতই থাক

অধিকাংশ মানুষের ভেতরে বসবাস করে
এক-একজন রন্তিদেব
বুকের মাটিতে
গঙ্গা নয়
গলিত লাভার আধিপত্যে বয়ে চলে চর্মবতী।

সেলাইকল যতোই থাক
যতোই নির্মিত হোক- লাখো লাখো অধুনা পোশাক
কোনোদিন পড়বে না ঢাকা
মানুষের নখ-দাঁত-জিভ…


দ্যাখা

মাঠ চিৎ হয়ে আছে আকাশের গায়
আকাশটা কাছিম; উপুড় হয়ে হাঁটে
ওই কলাপাতা, নাকি কিষাণের বউ?
কে বেশি সবুজ আজ, বিকেলের মাঠে?


নদীরাও মাঝে মাঝে থেমে যায়

নদীরাও মাঝে মাঝে থেমে যায়– বুকের ভেতরে

বুকের ভেতরে অস্পন্দ্য পাথর জমে
পাথরে কিরণ জ্বেলে ঝরনা গড়িয়ে
হারিয়ে যাওয়া মানুষেরা
কোথাও কোনো মেঘ রাখে না
তবু বৃষ্টি নামে
বৃষ্টি নামে এই কূহকী উপত্যকায়
দুঃখ ভিজে যায়
ভিজে যায় কোনো কোনো উদোম বিকেল
রাত্রি নামে সুদূরের ধূপছায়া গাঁয়।

হয়তো কাছের নয়
কোনোদিন ভুলেও ভুল নামটি ধরে
ডাকবার অবকাশে পেলাম না যারে
তার জন্যে বয় ক্যানো, চম্পাবতী নদী?
তার জন্য উপদ্রুত ক্যানো উপকূল?
এথেনা, তারই জন্য ক্যানো ঝরে– বুকের বকুল?

——
১৬/০৩/২০১৭; রাত্রি-৯টা, ভৈরবতীর, বাগেরহাট


আবহাওয়ার পূর্বাভাস

মেঘলা আকাশ
সারাদিন থেকে থেকে বৃষ্টি
সাগরে গভীর নিম্নচাপ লক্ষণীয়
উপকূলজুড়ে দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ঝুলছে
যে-কোনো সময় বয়ে যেতে পারে তীব্র ঘূর্ণিঝড়
তুমুল তুফানে ভেসে যেতে পারে ঘর-গেরস্থালী…

এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস
তোমার মুখের আকাশে; ভীষণ দৃশ্য
সুন্দরও বটে
আমিতো আগেই সমর্পিত প্রণয়ের ওই তটে !

 


দাঁড়িয়ে থাকবার কৌশল

ছেলেগুলো উন্মাদ মহিষের মতো বাইক চালাতে চালাতে
রাস্তাতেই বিছানা নিয়েছে;
মেশিন-ভ্যানটা যখন ট্রাকের বুকের থেকে বেরিয়ে এলো,
মনে হলো ভ্যানেরও প্রাণ আছে ঢের;
যে মেয়েটা খুব সকালে বই হাতে বেরিয়েছিলো,
রাতেই ফিরেছে তার লাল স্যালোয়ার;
তিন মাস হলো
ছেলেটার ডাকের আশায়
পথের কুকুর হয়ে বসে আছে কাজলের বাপ।

কোনো এক অব্যক্ত কান্নায় চোখ মুছতে মুছতে
প্রৌঢ়া জননীর হাত ধরে
সীমান্তের কালিন্দী নদীটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে
হরসিত দাস।

মোড়ের বটগাছটা এসবই দেখে চলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।

ওঁর মতন আমিও শিখে নিতে চাচ্ছি
এরকম দাঁড়িয়ে থাকবার কৌশল
বুকের ঘা-গুলোকে গোলাপ বানাবার
অনবদ্য ছল !

১০
সোনার চাবির খোঁজে

ঘূর্ণাবর্ত এই জীবনের
কোথাও একটা হিরণ্ময় চাবি লুকোনো রয়েছে।

ধী-ওষ্ঠে উচ্চারিত খুচরো বিদ্যারা মাঝে-মধ্যেই
বিরাট হা-হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে সামনে।
কেউ কেউ বলে:
ওটা একটা জীয়নকাঠি, সঞ্জীবনী
একবার হাতে পেলে- কেল্লাফতে;
কোনো তালাই যে তখন আর তালা হয়ে র’বে না !

সেই থেকে সাবানের বলের মতো গলিয়ে চলেছি নিজেকে
যদি চাবিটার দ্যাখা পাই…

সকলেই কি সেই চাবির দ্যাখা পায় ?
এমনও তো হতে পারে, চাবিটা আমি পেলামই-
কিন্তু তখন আমার খুলবার মতো কোনো দরজাই নাই !

হায়, বোধিদ্রুম !
এভাবেই পরভৃত জীবন কাটাই।

 


কুমার দীপ

কুমার দীপ

কুমার দীপ। সার্টিফিকেট অনুযায়ী ১০ই সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ (বাবার নোটবুকে লেখা অনুযায়ী ২৬-এ মার্চ ১৯৭৮)-এ জন্ম। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া গ্রাম- স্থায়ী নিবাস। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (১৯৯৯) ও স্নাতকোত্তর (২০০০)। এম ফিল শুরু করলেও শেষ করা হয়নি (রাবি)। বর্তমানে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, বাগেরহাট-এ শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

মাধ্যমিক স্কুল থেকেই সাহিত্যের প্রতি অনুরাগবশত গল্প-কবিতার চাষাবাদ প্রবণতা। বিশ ও একুশ শতকের সন্ধিলগ্ন থেকে বিভিন্ন ছোটকাগজে কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য হাতে হাজির হতে থাকা কুমার দীপ বর্তমানে বিভিন্ন মাসিক, ত্রৈমাসিক সাহিত্যপত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকের সাহিত্যপাতাতেও লিখে চলেছেন। কবিতা ও প্রবন্ধের পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে লেখেন গান ও গল্প (প্রথম তারুণ্যে উপন্যাস লিখলেও তা আলোর মুখ দ্যাখেনি)। উপযুক্ত বই পড়া এবং প্রকৃতির অনুষঙ্গপ্রিয় এই লেখক ইতিহাসচেতনা, সংস্কৃতিবোধ, মুক্তবুদ্ধি এবং বিজ্ঞানমনস্কতাকেই জীবনের সারসত্য হিসেবে মানেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ :
কাব্য : কোথাও কোনো মানুষ নেই ( গ্রন্থমেলা ২০১০, চিহ্ন)।
ঘৃণার পিরিচে মুখ ( গ্রন্থমেলা ২০১৫, দেশ পাবলিকেশন্স)।
রটে যাচ্ছে আঁধার (গ্রন্থমেলা ২০১৭, বেহুলা বাংলা)।

প্রবন্ধ : নান্দনিক শামসুর রাহমান ( গ্রন্থমেলা ২০১২, শব্দকোষ )
আধুনিক বাংলা সাহিত্য : পাঠ ও প্রতিকৃতি ( গ্রন্থমেলা ২০১২, নন্দিতা)।
অনন্য শামসুর রাহমান ( কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, জানুয়ারি ২০১৫, সোপান)।
বাংলা কবিতায় ঐতিহ্য ও অন্যান্য অনুষঙ্গ (গ্রন্থমেলা ২০১৬, অনুপ্রাণন)।

গল্প : ভালোবাসার উল্টোরথে ( গ্রন্থমেলা ২০১৪, মূর্ধন্য)

সম্পাদিত পত্রিকা : অর্চি ( কবিতার ভাঁজপত্র, একটি সংখ্যাই বের হয়েছিলো ২০০১ সালে)।

পত্রিকার পাতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও বিজয়ী হওয়া কুমার দীপ বাগেরহাট অংকুর সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পেয়েছেন ‘অংকুর সম্মাননা ২০১৪’। গীতিকবিতার জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক – ডেইলি স্টার কর্তৃক পেয়েছেন ‘সেলিব্রেটিং লাইফ এওয়ার্ড ২০১৫ ও ২০১৬।

ই-মেইল : kudeep2050@gmail.com

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E