৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
নভে ১৭২০১৬
 
 ১৭/১১/২০১৬  Posted by
কোয়েলী ঘোষ

কোয়েলী ঘোষ

কবি পরিচিতি
কোয়েলী ঘোষ। জন্মতারিখ — ১৯৬১ সালের ১৮ই মে, স্থান — দুবরাজপুর, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। ঠিকানা — দীপক কুমার ঘোষ, মেফেয়ার সুদামা, ৩ং রামসীতা ঘাট স্ট্রীট, ভদ্রকালী, জেলা –হুগলী, পিন –৭১২২৩২। দুবরাজপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা। হেতমপুর কৃষ্ণচন্দ্র কলেজে বাংলায় অনার্স। পাশাপাশি ছিল সঙ্গীতসাধনা। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু। এখন নানা পত্র-পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়। সংসারের কাজের মাঝেই লিখেন।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ স্বপ্ন অন্তহীন (মে, ২০১৪)।
প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থঃ মৃত্তিকা (ডিসেম্বর, ২০১৬)।

কোয়েলী ঘোষ -এর কবিতা ভাবনা

রাঙামাটি আর বাউলের সুপ্রসিদ্ধ জনপদ বীরভূমের দুবরাজপুরে লালিত পালিত। রাঢ় ভূমির মাটি, প্রকৃতির মাঝে মন হারায় আর জন্ম দেয় কবিতার। স্বপ্ন জগতে উড়ে চলে মন, আদি অন্তহীন আকাশ ভরে ওঠে অপার্থিব মায়ায়, সুরেলা কণ্ঠে গান গেয়ে যায় পাখি, মন ভরে ওঠে সে সঙ্গীত মূর্ছনায়, ফুল ফুটে ওঠে — জন্ম দেয় কবিতার।  

          সে স্বপ্নের জগত থেকে নেমে আসি যখন, দেখি জটিল সঙ্কীর্ণতার ঘূর্ণাবর্ত। যত জাতপাত, অহঙ্কার, গর্ব সব মাটিতে মিশে যাক। যুদ্ধ, মৃত্যু, ধ্বংস শোকস্তব্ধ করে, কবিতা তখন পথ দেখায় সৃষ্টির। মাটি সহনশীল হলেও কেঁপে ওঠে ভুমিকম্পে! বাস্তব চেতনার উদ্যত ফনা জন্ম দেয় কবিতা। কবিতা এক আশ্রয়, কবিতা আমার এক নিজস্ব জগত, এক মুখরিত আর্তি, বোধ, চেতনা, দর্শন। আজন্মকাল এই মাটিকে ভালবেসে আমার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ –” মৃত্তিকা ” প্রকাশের অপেক্ষায় ।

          আত্মপ্রচারবিমুখ আমি, তবুও অনেক কথা বলা হয়ে গেল । কবিতা যদি কবিতা হয়ে ওঠে, পাঠক-পাঠিকার মনে স্থান পায় তবে সেই আমার পুরস্কার। সেই আনন্দেই লিখে চলা, সমস্ত প্রতিকুলতাকে জয় করা। যে সমস্ত সাহিত্য প্রেমিক বন্ধু, কবি, স্বজন সাথে থাকেন তাঁদের কৃতজ্ঞতা, শুভেচ্ছা, ভালবাসা।

কোয়েলী ঘোষ -এর কবিতা


সেই গাছের তলায়

          সেই গাছের তলায় —
গাছটা আমাকে ছায়া দেয়,
আমিও যত কান্না উজাড় করে দি —
গাছটা কথা বলে না।
ওর কোন অনাবশ্যক কৌতূহল নেই!
নির্জন কোনও এক রাত্রে,
সেই গাছের তলায় গিয়ে দাঁড়াই,
টুপটাপ ঝরে পড়ে পাতার জল।


বৃষ্টির দিনে

আকাশপ্রিয়া, তোকেই দিলাম চিঠি
তোর গানেতেই মন যে ভরে যায়!
ঝাপসা করে ভরাস নে আর দিঠি,
বৃষ্টি, তুই মিষ্টি হয়েই আয়!


মেলে আছি দৃষ্টি

যা কিছু সুন্দর রেখে যাব তাই
সকালের আলো, পাখীর ডাক,
সবুজ মাঠ, সোনার বাংলা।
প্রাণের যত ভালবাসা,
আর বেঁচে থাকার রসদ।

সব রেখে যাব আমি তোর জন্য,
শুধু তোরই জন্য।


জ্বালব আলো

যাবার আগে শুধু দীপ জ্বেলে যেতে চাই
একটি থেকে আর একটি —
তারপর আরও,
অম্লান শিখায় জ্বলে উঠবে!
সব অন্তরলোক।


আলোর পথে

তুমি সব অন্ধকার ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়েছ
এসেছে আলোকোজ্জ্বল সকাল।
তুমি অনির্বাণ দীপ্তিতে পূর্ণ করেছ,
প্রজ্বলিত এ হৃদয়!

তুমি সাথে আছ তাই এ উপলব্ধি,
উজ্জ্বল আলোর পথে উত্তরণ,
দাও সে আলোকদৃষ্টি —
নিষ্কম্প দীপশিখা!
যাব সেই অনন্ত অখণ্ড আলোক স্বরূপে।


যদি তুমি সাথে থাকো

যদি তুমি সাথে থাকো, প্রিয়
আমিও পেরিয়ে যেতে পারি কত শত দীর্ঘ পথ।
যেতে পারি সেই সাগরের বালুচরে, তুমি আর আমি
স্রোতে ভাসবে কত নিবিড় কথা, আমার চোখে দেবে ধরা
নীল স্বচ্ছ শরতের মেঘ। ঝিরঝিরে বাতাসে উড়ন্ত চুল।
যাবে অভিসারে, হৃদয়ের সব রঙ উজাড় করে নিয়ে
যদি ভালবাসা পাই আরও একবার ধুসর পাহাড়ে
ঝর্নার জলে মেটাবো আকণ্ঠ তৃষ্ণা। কোন পাহাড়িয়া গ্রামে
চাঁদের জ্যোৎস্নায় ভিজবো সারারাত। অরণ্যের বুকে,
নিভৃতে কুজনে লিখে দেবো নাম। যদি তুমি সাথে থাকো
আমরণ শুধু ভালবেসে যাব —
প্রতি মুহূর্ত, প্রাণের নিভৃতে ।


অনুকবিতা

১)
তোর জন্য রেখে যাব
আমার বুকের যত স্বপ্ন
বিকেলের ক্লান্ত ছায়ায়,
তুই খুঁজে নিস –সেই
হীরে-মানিক, রত্ন।

২)
কবি চলে যায় অখণ্ড আলয়
যেতে যেতে পিছু ফিরে চায়,
রেখে গেলাম — আমার আমিকে।

৩)
এ ঘর নয়, ও ঘর
ও ঘর নয়, সে ঘর
কোন ঘরই আমার নয়।

তুমিও আমার নও
আমিও তোমার নই,  
তবু বন্ধন বড় মায়াময়।

৪)
কেন বেঁধে রাখতে চাও আমায়
বাঁধা পড়ি শুধু ভালবাসায়।

আবার সেই পুরনো পথে
খুঁজি প্রেম, অব্যক্ত কথা!
নিস্পন্দতা ছুঁয়ে নির্ঝর নিঃসঙ্গতা।

 

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E